সব চরিত্র কাল্পনিক নয়

।। সব চরিত্র কাল্পনিক নয় ।।

। কলমে : দেবজিৎ ঘোষ ।

আমার নাম রনজয় বোস। আজ আমি যে গল্প, না ঠিক গল্প নয় স্বীকারোক্তি আপনাদের বলবো তা শুনে আপনাদের বিশ্বাস হবে কিনা তা আমার জানা নেই। কিন্তু শুধু এটুকু বলতে পারি আমার সাথে গত এক মাস যাবৎ যে অলৌকিক ঘটনা ঘটে চলেছে তা সবটাই আমার অনুভুতিতে স্পষ্ট, সেটা কোনো মাদক বা কল্পনার প্রভাব ভাবলে অত্যন্ত ভুল করবেন। যাইহোক আমার সময় শেষ হয়ে আসছে, হয়তো আজকেই আমার শেষ রাত্রি। তার আসার সময় হয়ে যাচ্ছে, এই এক মাস ধরে রোজ সে আসে। জানেন আজকে বেঁচে থাকতে খুব ইচ্ছে করছে। বাবা মা আর ছোট ভাইটার কথা খুব মনে পড়ছে, তারা আমার জন্য গ্রামের বাড়িতে অপেক্ষা করে আছে। জীবনে এখনও অনেক কিছু করার ইচ্ছে ছিল, পৃথিবীর সৌন্দর্য দুচোখ ভরে দেখার জন্য আমার প্রাণ আকুল হয়ে আছে কিন্তু দেখুন আগামীকালের সূর্যোদয় আমার ভাগ্যে আছে কিনা তা ঘোর অনিশ্চিত। আরে দেখুন তো কিসব বলে যাচ্ছি, আসল কথাটা এবেলা চটপট সেরে ফেলি।

আমি পেশায় একজন লেখক। আমার লেখা ভূতের গল্পগুলো ইদানিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে আমার সদ্য প্রকাশিত ভৌতিক সিরিজটা ছোটো বড় সবারই বেশ পছন্দ হয়েছে। আমার অলৌকিক ঘটনা তথা ভূতপ্রেতে তেমন বিশ্বাস কোনোদিনই ছিল না তবে ছোট থেকেই দাদুর কাছে নানান ভূতের গল্প শুনে বড় হওয়ায় আমারও ভৌতিক গল্প লেখার প্রতি আকর্ষণ বাড়ে। আর সেই গল্প যদি লোকপ্রিয় হয় তাহলে লেখার ইচ্ছেটা আরো বেড়ে যায়। কিন্তু এই ভূতের গল্পের থেকেই সবকিছুর সূত্রপাত। অমানিশার কালো ছায়া নেমে এসেছে আমার জীবনে। রাত হলেই এই গোটা পৃথিবী যেন হা করে গিলে খেতে আসে আমায়, অদ্ভুত পৈশাচিক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হই আমি।

যেদিন থেকে এসব কিছুর সূচনা হয়েছিলো সেদিনটার কথা আমার এখনও স্পষ্ট মনে আছে। যে স্টাডি টেবিলে বসে আমি এখন ডায়রি লিখছি সেখানেই বসে ছিলাম সেদিন। সেই রাতটাও ছিল আজকের মতোই পূর্ণিমা। রূপালী চন্দ্রলোকে ভেসে যাচ্ছিল চারিদিক। কিন্তু তার মধ্যেও যে এক কালো ছায়া আমার ঘরে প্রবেশ করেছিল তা টের পায়নি। আমি এক মনে মোমবাতির আলোয় লিখছিলাম হঠাৎ ঘাড়ের কাছে এক ঠান্ডা নিঃশ্বাসে সচকিত হয়ে পিছনে ফিরে তাকাই, মোমবাতির আধো আলো আধো অন্ধকারে মনে হল একটা কালো ছায়া দ্রুত সরে গেল, আমি মোমবাতিটা নিয়ে ভালো করে দেখলাম কিন্তু না কেউ নেই। মনের ভুল ভেবে লেখায় মন দিলাম। একটু পরে আবার সেই একই কাণ্ড, পিছনে কারোর উপস্থিতির প্রমাণ। এবার আমি একটু ভয় পেয়ে গেলাম কিন্তু কিছুই দেখতে পেলাম না। হঠাৎ মোমবাতির শিখাটা দুবার দপদপ করে নিভে গেল, কেউ ফুঁ দিয়ে নেভালে যেমন হয় ঠিক তেমনি। এবার আমি স্পষ্ট উপলব্ধি করলাম যে আমি ঘরে একা নেই, আরও একজন কেউ আছে আমার সাথে। এতক্ষণ খেয়াল করিনি কিন্তু আলোর অনুপস্থিতিতে এখন লক্ষ করলাম সারা ঘর চাঁদের স্নিগ্ধ আলোয় ভরে আছে। সেই আলোয় টেবিলের সামনে নজর যেতেই হৃদপিন্ডের গতি বহুগুণ বেড়ে গেল আমার। চাঁদের আলোয় প্রথম দেখেছিলাম তাকে সেদিন, টেবিলের অদূরে একটা ছায়া আমার দিকেই তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

“কে?” কোনোরকমে ঢোঁক গিলে জিজ্ঞাসা করলাম। নিজের গলার আওয়াজ নিজের কাছেই কেমন অচেনা লাগলো।

ছায়ামূর্তি চুপ, কোনো উত্তর নেই। নিজের হৃদস্পন্দন স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি আমি। এক সেকেণ্ড দুই সেকেণ্ড করে মিনিটখানেক কেটে গেল। কিন্তু না ছায়ামূর্তির কোনোরকম উত্তর আমি পেলাম না। এদিকে আমি প্রচন্ড ভয়ে রীতিমত ঘেমে উঠেছি। হঠাৎ একটা বিকট হাসির শব্দে শিউরে উঠি আমি। একটা ভাঙা ভাঙা গলার স্বর ভেসে এল।
“কি হল মশাই, ভয় পেয়ে গেলেন নাকি ? আপনি না ভূতের গল্পের লেখক, আপনার ভয় পেলে চলে! বেশ তো গল্পে আত্মহত্যা করিয়ে মেরে ফেললেন আমায়। তখন কি একবারও ভেবেছিলেন আমার কতোটা কষ্ট হয়েছিল, কতোটা ভয় পেয়েছিলাম আমি ?”

আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল, কোনোরকমে বললাম, “কে আপনি? আমার কাছে কি চান?”

আবারও সেই ভয়ানক কণ্ঠে বলে ওঠে সে, “এখনো চিনতে পারলেন না আমায় ? আমি রতন বেরা, সেই যে আপনার গল্পের হতভাগ্য ব্যবসায়ী। কি যেন লিখেছিলেন, ও হ্যাঁ ব্যবসায় অনেক ক্ষতি হয়ে যাওয়ায় সেই দুঃখে আমি গলায় দড়ি দিয়ে নিজের জীবন দিয়ে দি আর তারপর আমার অতৃপ্ত আত্মা আমার সকল শত্রুদের বিনাশ করে। আচ্ছা এরকম বুজকুরি লিখতে লজ্জা করে না আপনার…….”

আর আমার কিছু মনে নেই। যখন জ্ঞান ফেরে তখন সকাল হয়ে গেছে, সবকিছু স্বাভাবিক। রাতের কথা মনে পড়তেই সবটা এক দুঃস্বপ্ন বলে মনে হল আমার। কিন্তু স্বপ্ন কি এত স্পষ্ট এত জীবন্ত হয়। এখনও যেন সেই কন্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত হচ্ছে আমার কানে। এইসব নানা ভাবনায় সারাটা দিন কেটে গেল, লেখায় মন বসাতে পারলাম না এতটুকু। সন্ধ্যের দিকে মনটা একটু শান্ত হতে লিখতে বসলাম। কিন্তু তখনও কি জানতাম সেদিন আমার জন্য কি ভয়ংকর অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করে আছে।

বেশ রাত হয়ে গিয়েছিল, লিখতে লিখতে সময়ের কোনো হিসেব ছিল না। বিভোর হয়ে লিখছি, আচমকা এক দমকা হাওয়া এসে কাগজপত্র সব লন্ডভন্ড করে দিল। ঠিক আগের রাতের মত মোমবাতিটা দুবার কেঁপে নিভে গেল কিন্তু ঝড় তো নেই তাহলে এরকম হাওয়া কোথা থেকে এল। তারপরেই অন্ধকার টেবিলের সামনে তার উপস্থিতি টের পেলাম, আজও এসেছে সে। আচ্ছা আবার আমি স্বপ্ন দেখছি না তো।

“না স্বপ্ন নয়, আপনি বিলক্ষণ জেগে আমায় দেখছেন লেখকবাবু।”

আমি বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছি, মুখ দিয়ে কোনো কথাই বের হল না আমার। চুপচাপ তাকিয়ে রইলাম ছায়ামূর্তিটির দিকে। সারা ঘর ঘুরে বেড়াতে লাগলো সে। গতকাল উত্তেজনার বশে খেয়াল করিনি কিন্তু আজ দেখলাম তার ঘাড়টা বাঁদিকে হেলানো। ঠিক যেমন ফাঁসীর পরে মৃত আসামীর হেলে থাকে কিংবা কেউ যদি গলায় দড়ি দেয় তাহলেও এরূপ হয়। এ যে মানুষ নয় কোনো অশরীরী প্রেত তা আমি ততক্ষণে বেশ ভালোই বুঝতে পেরেছি।

“কেন মারলেন আমায়? আমি আপনার কি ক্ষতি করেছিলাম? এখনও আমার কত কিছু করার ছিল দেখার ছিল কিন্তু আপনি সব শেষ করে দিলেন, কেন করলেন এমন, বলুন কেন ?”
ছায়ামূর্তির কন্ঠে হতাশা,ক্ষোভ আর হঠাৎই সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়ার তীব্র যন্ত্রনা ঝরে পড়ছে।

তার প্রশ্নবাণে আমি জর্জরিত, কিন্তু তাকে কিভাবে বোঝাই যে নিছক গল্প লেখার তাগিদে এবং সেখানে রহস্যের ভয়াবহ জাল বুনতে এই মনগড়া আত্মহত্যার অবতাড়না করা। আর তাছাড়া গল্পের সব চরিত্রই যে কাল্পনিক।

“না সব চরিত্র কাল্পনিক হয় না লেখকবাবু। এটা আপনাদের বিকৃত মনের পাগলামো ব্যতীত আর কিছুই নয়। আপনারা মানে লেখকেরা নিজেদের ইচ্ছে মতো নানা চরিত্র সৃষ্টি করেন, তাদের জীবন দেন, হাসি কান্না সুখ দুঃখ সবকিছু মিলিয়ে এক পরিপূর্ণ সত্ত্বার জাগরণ ঘটে। অতঃপর গল্পের স্বার্থে তাদের ঠেলে দেন মৃত্যুর দিকে, আর শেষে ‘সব চরিত্র কাল্পনিক’ এই উক্তিতে সকল দায় সেরে নেন আপনারা। এসব রোমহর্ষক গল্প পাঠকদের বিস্তর মনোরঞ্জন করে। কিন্তু একবারও আমার মত হতভাগ্য চরিত্রদের কথা ভাবেন না আপনারা। যারা অন্যের আনন্দের জন্য আপনাদের লেখনীতে প্রতিদিন মৃত্যুবরন করছে তাদের কথা ভুলে যান। কোনো চরিত্র একবার সৃষ্টি হলে সে কি এত সহজেই মিথ্যে হয়ে যায়? যতক্ষণ আপনি এর সঠিক উত্তর দিচ্ছেন মুক্তি পাবেন না, আমি আপনাকে মুক্তি দেব না।”
কথাগুলো বলে ছায়ামূর্তি অদৃশ্য হয়ে গেল, কিন্তু আমি জানি ওর হাত থেকে আমার নিস্তার নেই আবার কাল আসবে সে। চোখদুটো জড়িয়ে আসছিল আমার, ধীরে ধীরে চেয়ারে বসেই ঘুমিয়ে পড়ি আমি।

এরপর টানা একমাস রোজ সে এসেছে, জিজ্ঞাসা করেছে কেন আমি তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছি, একদিনও ব্যতিক্রম হয়নি তার। কিন্তু এই প্রশ্নের যথার্থ উত্তর যে আমার কাছেও নেই। অনেক চেষ্টা করেছি তাকে বোঝানোর কিন্তু আমি পারিনি। পারবোই বা কিভাবে বলুন, এরূপ ঘটনার কি কোনো যুক্তি ব্যাখ্যা দেওয়া যায়। আমি হলফ করে বলতে পারি পৃথিবীর কোনো গল্পকারকে আমার মত এরকম অদ্ভুত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়নি। সেই প্রেতের হাত থেকে পালাতেও চেষ্টা করেছি অনেকবার, এইতো সপ্তাহদুয়েক আগেই আমার এক আত্মীয়ের বাড়ি চলে গিয়েছিলাম, ভেবেছিলাম অনেক লোকজনের মধ্যে বোধহয় সে আসবে না। কিন্তু না সে আমার পিছু ছাড়েনি। যেখানেই রাত্রিবাস করেছি সেখানেই পৌঁছে গেছে সেই কালো ছায়া। আমি ছাড়া অন্য কেউ তাকে দেখতে পায়না, কেবলমাত্র সৃষ্টিকর্তাকেই সে দেখা দেয় তার করুণ পরিণতির কারণ অনুসন্ধানে।

প্রতি রাতে তার প্রশ্নের অত্যাচারে আমার জীবনীশক্তি ফুরিয়ে আসছিল ধীরে ধীরে। এক তীব্র মানসিক অবসাদ গ্রাস করছে আমায়। গল্প লেখা তো কবেই মাথায় উঠেছে,আজকাল খেতেও ইচ্ছে করে না, ঘুম আসে না আর।  সারাদিন এই চেয়ারে বসে কাটাই, অপেক্ষা করি রাতের কখন আবার সে আসবে। এই যন্ত্রনা আর সহ্য করতে পারিনা, এভাবে আর বেশিদিন নয়। ওকে দেখানো পথেই আমারও চিরসমাপ্তি ঘটবে, হয়তো আজকেই সেই রাত। সব চরিত্র কাল্পনিক নয়, তাদের মধ্যে কেউ কেউ বাস্তবের সাথে মিশে গিয়ে জীবনের গতি রূদ্ধ করে, টেনে নিয়ে যায় অতলস্পর্শী মৃত্যুখাদের মর্মান্তিক পরিণতিতে।

ডায়রির লেখা এখানেই শেষ। ডায়রি বন্ধ করে পুলিশ ইন্সপেক্টর হাজরাবাবু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অনন্ত বোসের দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালেন। আজকে সকালে প্রতিভাবান এবং বিখ্যাত ভৌতিক গল্পকার রনজয় বোস নিজ গৃহে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ওনার কাজের লোকটি ওনাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। লাশ ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে হাজরাবাবু ঘরের তল্লাশি করার সময় টেবিলের ওপর এই ডায়রিটা আবিষ্কার করেন। ঐ টেবিলের ড্রয়ারে কিছু ওষুধ এবং অনন্তবাবুর প্রেসক্রিপশন দেখে ওনার চেম্বারে চলে আসেন ইন্সপেক্টর।

সব শুনে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন ডাক্তার অনন্তবাবু। আক্ষেপের সুরে বলেন, “হুম উনি আমার পেশেন্ট ছিলেন। আমি কিঞ্চিৎ আন্দাজ করেছিলাম এরকমটা হবে। আমি ওনাকে মানসিক চিকিৎসালয়ে ভর্তি হতে পরামর্শ দিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি রাজি হন নি। একটা কথাই শুধু বলে যেতেন যে তিনি যেখানেই যাবেন একজন কেউ নাকি সেখানেই পৌছে যাবে। ওনার মানসিক ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল ধীরে ধীরে, নজরবন্দী করে রাখলে এই অঘটন ঘটত না। উনি আমাকেও ঐ ডায়রির কথাগুলো বলতেন। আমার যা মনে হয় তা আপনাকে বলছি ইন্সপেক্টর। রনজয় বাবু ভূতের গল্প লিখতে লিখতে গল্পের ভিতরে এতোটাই ঢুকে যেতেন যে উনি গল্পের চরিত্রগুলোকে বাস্তবে দেখতে পেতেন। যার কথা বারবার বলা আছে ওনার ডায়রিতে আসলে সেটা ওনার হ্যালুসিনেশন। এটা এক প্রকার মানসিক রোগ বলতে পারেন যেখানে রুগী বিভিন্ন অপ্রাকৃত বিষয় বা ঘটনা হ্যালুসিনেট করে এবং তার প্রভাবে কল্পনার জগতে বিচরণ করে নিজের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সম্পূর্ণ ভুলে যান। আর কিছুদিন পরে সহ্যের সব সীমা অতিক্রম হয়ে গেলে তার পরিণতি হয় এই আত্মহত্যা।”
কথাগুলো বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন ডাক্তার অনন্ত বোস, তার মনটাও ভারী হয়ে উঠেছে ।

সব শুনে ডাক্তারবাবুকে ধন্যবাদ জানিয়ে উঠে পড়েন ইন্সপেক্টর। সবটা বুঝলেও ডায়রিতে রনজয়বাবুর লেখা একটা কথা কিছুতেই মন থেকে সরাতে পারছেন না তিনি। গাড়িতে উঠতে যাবেন হঠাৎই কেউ যেন ওনার কানে ফিসফিস করে বলে যায়………”সব চরিত্র কিন্তু কাল্পনিক নয়” ।।

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 6   Average: 3.8/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।