সময়

গল্পসময়
লেখা– শুভজিৎ সরকার

 

মেয়েটার নাম রুমা। বয়স একুশ এর কাছাকাছি। ছোটো বেলা সে মা-বাবা হারিয়ে আজ সে কুলহীন । পড়াশোনা জানা নেই রুমার কিন্তু নিজের নাম টা কোনো ক্রমে লিখতে পারে । মামাবাড়ি থেকেই রুমা বড়ো হয়েছে।
তার পর রুমার মামা দায়িত্ব নিয়ে ভালো ঘরে রুমার বিয়ে দেয় । ছেলে একজন সরকারি কর্মকর্তা। কিন্তু গত বছর ম্যালেরিয়ায় মারা যায় রুমার স্বামী।
রুমার স্বামী মারা যাওয়ার পর রুমা কিছুদিন মামা বাড়ি ছিল।
বতর্মানে রুমার এক ছেলে আর এক মেয়ে আর রুমা এই তিন জনের সংসার।
মামার পক্ষে তিন জন এর মানুষের ভার বহন সম্ভব নয় তাই মামা ও
একদিন রুমাকে সেখান থেকে বের করে দিলো। এখন রুমা নিরুপায় । কি করবে বুঝতে না পেরে শশুর বাড়ী ফিরে যায়।

 




তারপর ……..

রুমা একটা ধনী বাড়িতে ঝি -এর ( কাজের মাসি) কাজ করতে শুরু করে।
রান্না, বাসনমাজা, কাপড় ধোঁয়া, ঘর মোচা প্রায় সব কাজ করতে হতো রুমা-কে ।
আর রুমার জীবনে শুরু হয় একটা নতুন অধ্যায়।

রুমাকে সেই বাড়ির লোক গুলো মানুষ বলে মনে করে না। তারা মনে করে গরিব মানুষ হলো অমানুষ পুশু। তারা সবসমায় রুমাকে খারাপ চোখে দেখে। রুমাকে নানা ভাবে অপমান করে ।
এগুলো দেখে রুমা অনেক কষ্ট পায় কিন্তু

রুমা দুবেলা দুমুঠো খাওয়ার জন্য অনেক কষ্ট করে কাজ করতে থাকে ।
যখন রুমা মানুষের বাড়িতে কাজ করতে যায়। তখন ধনী মানুষের মাথায় অনেক বুদ্ধি করতে থাকে আজ তাদের কি করে অপমান করা যেতে পারে । সারাদিন কষ্ট করে কাজ করেও তাদের মন ভরাতে পারে না রুমা। একটু কাজের ভুল হলেই অনেক অপমানের শিকার হতে হয়।

সকাল থেকে কষ্ট করে গায়ের ঘাম ঝরিয়ে কাজ করে দুপুরের নাস্তা খেতে ধনীদের বাড়িতে তখন তাদের মনে অন্য রকম একটা ক্ষোভ আসে যে এসেছে গলা ভর্তি ভাত খেতে।
বাড়িতে মাছ মাংস রান্না হলেও রুমার পাতে জোটে ডাল আর ভাত।
তবু রুমা ডাল ভাত খেয়েই আবার কাজে লেগে পরে।
রুমা মুখ বুজে সব মেনে নেয়।
কারন যে গরিব তাকে কষ্ট সহ্য করে কাজ করে সংসার চালাতে হয়।

 




 

সেই ধনী নিষ্ঠুর লোক গুলোর ওপর ভরসা করেই থাকে রুমা তাদের ছেলে মেয়ে-র কে রুমা স্কুলের ফিস দেয়। আজ নিজের সন্তানকে পেট ভরে ডাল ভাত খেতে পারে
। সেজন্য রুমা মুখ বুঝে সব কষ্ট সহ্য করে কাজ করতে থাকে ।
গ্রীষ্ম কালে ( গরমে ) কাজ করার সময় রুমা অনেক কষ্ট হয় সেজন্য রুমা একটু পাখা চালিয়ে বসেছিল । কিন্তু সেই আরাম ধনী রা সহ্য করতে পারে না। মালিক রুমাকে ধমক দিয়ে বলে,
টাকা নেওয়ার সমায় তো একটাকা কম বোঝো না। আর কাজে ফাঁকি দিছো কেন ????
কোন আরাম হবে না অনেক কাজ পড়ে আছে যাও কাজ করো।
তখন রুমা কিছু না বলেই গরমে মাঝে কাজ করতে থাকে।

সকাল থেকে রুমা রক্ত জল করে খেটে সন্ধা বেলা বাড়ি যায় তখন ও রুমাকে রোজ শুরু হয় নানা কথা। সারাদিন কাজ করেও তাদের মন ভরাতে পারেনা রুমা ।
কষ্ট করে কাজ শেষে ক্লান্ত শরীল নিয়ে পড়ন্ত বিকেলে রুমা বাড়ি ফিরে যায়। পরের দিন আবার সে কাজ এ আসে ।
এভাবে কেটে যায় একটা মাস।
এক সময় রুমাকে কথা শুনতে শুনতে খুব কষ্ট হয় ।
ভাবতে থাকে এখানে আর কাজ করবে না সে কিন্তু তার ছেলে -মেয়ের কথা ভেবে সে কাজ টা ছাড়তে পারে না।
রুমার চোখের কোনো জল গড়িয়ে পড়তে থাকে।
রুমা কষ্ট সহ্য করে টাকা নিয়ে বাজারে গিয়ে খরচ করে তাদের ছেলে মেয়েদের মুখে খাবার তুলে দেয়।

শুভজিৎ




গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 1   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।