সুখের ঝড় ( অন্তিম পর্ব )

।। সুখের ঝড়।।

। কলমে : দেবজিৎ ঘোষ ।

। অন্তিম পর্ব ।

মানুষের জীবন কত বিচিত্র তাই না, একটা কাজ যা আপাতদৃষ্টিতে আমাদের কাছে অসাধ্য মনে হয় কিন্তু সেটাই খুব সহজে করে ফেলে চিন্তা করতে বসি “কীভাবে করলাম কাজটা!” বিশ্বাস করতেই কষ্ট হয় যে ঐ কাজটা আমরাই করেছি। আসলে সবাই সব কাজই করতে সক্ষম, শুধু বিশ্বাস আর ইচ্ছার ঘাটতি অনুভূত হয় আমাদের মধ্যে। সেটা যারা অতিক্রম করতে পারেন, তারাই সাফল্যের শিখরে উত্তীর্ণ হন।

নবাগত শরতের এক সকালে ছাদের রেলিং টায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে এসবই ভাবছিল উজান। তার পঁচিশ বছরের পাহাড়ি জীবনে সেও তো কোনোদিন ভাবতে পারেনি কলকাতায় এতো বড় একটা চাকরি করবে সে। তার বাবা একটা চা বাগানের কর্মী ছিলেন। উজান দেখেছে তার বাবা অহরাত্র পরিশ্রম করেও হাসিমুখে তার সকল আবদার পূরণ করেছে।

“সময় যতই তোমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করুক, কখনও আশাহত হবে না, আত্মবিশ্বাস হারাবে না। হাল না ছেড়ে সময়কে সাথে নিয়েই এগিয়ে যাও, সাফল্য অর্জন করবেই তুমি একদিন।”

বাবার এই কথাগুলো সর্বদা অক্ষরে অক্ষরে মেনে আজ সে প্রতিষ্ঠিত। বাবা মায়ের শেষ জীবনটা সুখ ও শান্তিতে ভরিয়ে দিতে পেরে তৃপ্তি পায় সে।

কিন্তু বাস্তবিক, যুক্তিবাদী জগতের আড়ালে জীবনের রঙ্গমঞ্চে এমন অনেক অনুভূতি মনকে নিয়ন্ত্রণ করে চলে, যে তাদের প্রভাবে মানুষের আমূল পরিবর্তন ঘটে যায়। তাদের মধ্যে প্রধান হল প্রেম। কথায় আছে না, এই পৃথিবীর সকল জীব ভালোবাসার কাঙাল। আর সেই কাঙ্ক্ষিত ভালোবাসার অমোঘ টানে প্রকৃতি তথা মানুষের বিবর্তন অবশ্যম্ভাবী।




উজানের মধ্যেও গত কয়েক মাসে সেই পরিবর্তন পরিস্ফুট হয়েছে। সে নিজেও কি তার এই অভাবনীয় রূপান্তরের কথা কোনোদিন ভেবেছিল, সে কল্পনাও করেনি রূপসা তাকে এতোটা নিজের করে নেবে। এই কদিনে সে সত্যিই রূপসাকে ভালোবেসে ফেলেছে, যাকে বলে হাবুডুবু খাচ্ছে এক রকম । এক মুহুর্তও কথা না বলে থাকতে পারে না, কাজের সময়টা কোনো রকমে কাটিয়েই মেসেজে করে “কি করছো”।

রূপসাও অপেক্ষা করে থাকে উজানের, তার চেয়ে বেশি ওকে যে কেউ বোঝেই না। এই সদাহাস্য, সুপুরুষ যুবকটির প্রতি একটা আকর্ষণ সেও অনুভব করে। রেজাল্ট বেরোনোর দিন মিষ্টি নিয়ে গিয়েছিল উজানের ফ্ল্যাটে, উজান তার বাবা মায়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল, ওনারাও প্রাণভরে আশির্বাদ করেছিলেন সদ্য স্নাতকোত্তর রূপসাকে। তারপর মাঝে মাঝেই সে উজানের ফ্ল্যাটে যায়, উজানের বাবা মাও এই মিষ্টি মেয়েটাকে খুব পছন্দ করেন, ছেলের মনের কথা তারা ভালোই বোঝেন। অপরদিকে রূপসার মা মালতী দেবীও উজানের ব্যাপারে জানেন, কিন্তু মেয়ে খুশি আছে দেখে তিনিও কোনো বাধা দেন না। ইতিমধ্যে চৌধুরী গিন্নিও কয়েকবার এসে বিয়ের ব্যাপারে খোঁজ করে অপারগ হয়ে ফিরে গেছেন আর রূপসা যে কিরকম হিরের টুকরো ছেলে যেচে হারাচ্ছে তাও শুনিয়েছেন। কিন্তু এসবে রূপসার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই, সে এখন স্বপ্ন দেখে এক সোনালী ভবিষ্যতের, এবার তার স্বাবলম্বী হওয়ার পালা, ভালো চাকরি করে মা ও ভাইয়ের সকল দুঃখ মোচন করার পালা।

উজান এদিকে মনে মনে বেশ অস্থির হয়ে উঠেছিল। তার ও রূপসার সম্পর্কের একটা সুন্দর পরিণতি চায় সে, কিন্তু সবটা শুনলে রূপসার কি প্রতিক্রিয়া হবে! যদি ওকে মেনে না নেয়, রাগের মাথায় ওর সাথে সব বন্ধুত্ব শেষ করে দেয়, আর কোনোদিনও কথা না বলে, তাহলে তো ও সেটা সহ্য করতে পারবে না, তার জীবনের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে এক লহমায়। একদিকে রূপসাকে মনের সকল কথা বলার তীব্র ইচ্ছে অপরদিকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার গভীর বেদনা – স্বপ্ন ও বাস্তবের এই দ্বৈত অভিঘাতে প্রতিনিয়ত পীড়িত হতে থাকে সে।

ইতিমধ্যে উজানের জন্মদিন এসে পরে। জন্মদিনের সপ্তাহখানেক আগে এক রবিবার ঘুরতে গিয়ে রূপসা উজানকে জিজ্ঞেস করে, “মশাই, কি উপহার নেবেন আমার থেকে?”

“আপনাকে”, বলে রূপসার মুখের দিকে তাকিয়ে হেসে ওঠে উজান ।

এরকম উত্তরে লজ্জা পেয়ে যায় রূপসা। “ভালো হবে না কিন্তু তবে রে,” বলে একটা চাটি মেরে দেয় উজানের মাথায়।




উজান মাথায় হাত দিয়ে বাচ্চাদের মত কাঁদতে শুরু করলে রূপসা আদর করে দেয়। উজান ওর হাতটা খপ করে ধরে নিয়ে আবেগতাড়িত কন্ঠে বলে ওঠে,
“তুমি সাথে আছো এটাই আমার সব চেয়ে বড় উপহার, আমার আর কিছু চাই না গো।”

“ঢং দেখে বাঁচি না, কদিন পর তোমার বিয়ে হয়ে গেলে আমায় তো ভুলেই যাবে।” হাতটা ছাড়িয়ে উত্তর দেয় রূপসা।

“কোনোদিনও না, বিয়ে আমি করবোই না। তোমার সাথেই কাটিয়ে দেব সারা জীবন।”

রূপসা দৃষ্টি নিবদ্ধ করে মাটির দিকে। রক্তিমাভা ফুঁটে ওঠে তার মুখ জুড়ে। তাদের খুনসুটি চলতে থাকে।

এদিকে উজানের মনে এতদিনের চলতে থাকা দ্বন্দ্ব যেন কিছুটা স্থগিত হয়, একটা যেন পথ খুঁজে পায় নিজের মনের কথা রূপসাকে জানানোর। জন্মদিনের আগের রাতে উজান রূপসাকে কল করে,

“তুমি সেদিন বললে না যে আমার উপহার চাই কিনা, তো আমি যা চাইবো তুমি ঠিক তাই দেবে তো আমায়?”

রূপসা খানিক চিন্তা করে বলে, “একদম ঠিক, কী চাই বলো তো আগে।”

“ঠিক আছে, কালকেই বলবো। ছুটি রেখো, ঘুরতে যাবো কিন্তু কাল।” বলে ফোনটা কেটে দেয় উজান।

ফোনের অন্যদিকে রূপসার তখন হৃদস্পন্দন বেড়ে গেছে, সে ভাবতে থাকে, “কি এমন চাইতে পারে উজান যে সেটা ফোনে বলা গেল না। এই প্রথম কিছু চাইলো ও, আমি ঠিক দিতে পারবো তো।” এইসব ভেবে সেই রাতে দুচোখের পাতা এক করতে পারলনা রূপসা।

অপরদিকে কালকে রূপসাকে কী কী বলবে সেসব ঠিক করে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অভ্যেস করতেই রাত ভোর করে ফেলল উজান, সে বুঝতে পারে তার বুকে ক্রমাগত দামামা বেজে চলছে।

পরের দিন বেলা আন্দাজ চারটে নাগাদ ক্যাথিড্রালের সামনে দুরুদুরু বক্ষে অপেক্ষা করছিল রূপসা। উজান আর রূপসা একসাথেই বেরিয়েছিল, কিন্তু কি একটা কাজ হঠাৎ মনে পরে যাওয়ায় এখানে ওকে দাঁড়াতে বলে উজান কোথায় যে গেল কিছুই বুঝতে পারলনা রূপসা, দু তিনবার কল করেও ব্যর্থ সে। একে ঐ উপহারের চিন্তা তার ওপর আজ সকাল থেকে উজানের চুপচাপ অথচ অস্থির হয়ে থাকাটা অসহনীয় করে তুলেছে রূপসাকে। ও এলে একপ্রস্থ বোঝাপড়া করে নেবে এই মনস্থির করে যেই আর একবার কল করতে যাবে অমনি উজানকে দেখতে পেলো ও, সাথে রূপসার প্রিয় লাল গোলাপের বেশ বড় একটা তোরা। ওকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই উজান এক হাতে কান ধরে ক্ষমা চেয়ে নেয় তার দেরীর জন্য, তারপর রূপসাকে অবাক করে দিয়ে সিনেমার কায়দায় ডান হাঁটু মুড়ে ওর সামনে বসে পড়ে আর গোলাপের তোরাটা এগিয়ে দিয়ে বলতে শুরু করে,

“রূপসা, আমি অনেকদিন ধরেই তোমাকে কিছু কথা বলব ভাবছিলাম কিন্তু তুমি কি ভাববে সেটা মনে করে বারবার পিছিয়ে এসেছি। কিন্তু আজ তুমি যাই মনে করো কথাগুলো আমাকে বলতেই হবে, এরপর তুমি যা ভালো বোঝো করো।”




কিছুটা দম নিয়ে রূপসাকে তোরাটা দিয়ে ওর হাত ধরে আবার বলতে শুরু করে, “রূপসা, আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি, হয়তো নিজের থেকেও অনেকটা বেশি। তুমি ছাড়া আর কাউকে আমি ভরসা করতে পারিনা, তোমার মত আর কেউ যে আমাকে এত ভালো বোঝেনা। তাই আমি তোমার কাছে আমাদের এই সম্পর্কের স্বীকৃতি উপহার হিসেবে চাই।”

সদ্য কেনা সোনার আংটির বাক্সটা বুক পকেট থেকে বের করে রূপসার সামনে তুলে ধরে প্রোপোজটা করেই ফেলে, “বিয়ে করবে আমায়? আমি তোমার সব কথা শুনবো, খুব ভালোবাসবো আর কখনো কোনো কষ্ট পেতে দেব না। যা সমস্যা আসবে একসাথে তার মোকাবিলা করবো। দেবে এই উপহার আমায়, করবে আমায় তোমার জীবনসাথী! করবে বিয়ে? “একটানা কথাগুলো বলে মাটির দিকে তাকিয়ে থাকে উজান, রূপসার মুখের দিকে তাকানোর সাহস তার হয় না।

রূপসা আর কি বলবে, তার সব কিছু ওলটপালট হয়ে যায়। এসব সে এতোদিন গল্প শুনেছে বন্ধুদের কাছে, তার যে এরকম স্বপ্ন ছিল না তা নয় কিন্তু এ তো তার ভাবনাতীত। তবে ও কোনোদিনই দামি জিনিস চায়নি, সে বিলাসিতায় অভ্যস্ত নয়। ও মনে করে কোনো দামি উপহারের থেকেও প্রিয় মানুষটির সময়, গুরুত্ব কোনো সম্পর্কে সব চেয়ে বেশি জরুরি। আজ ওকে খুশি করতে গিয়ে উজান আংটি কিনতে চলে গেছিলো এতে অবহেলিত হতে হয়েছে তাকেই। উজান যদি তার সাথে থেকে শুধু ওকে এই কথাগুলো বলতো তাহলে হয়তো ওর অসুবিধেই হতো না, যেটা ওর সামনে উজানের হাতে ধরা ঐ সোনার আংটিটা দেখে হচ্ছে। উজান যে ওকে ভালোবাসে তা ও আগেই বুঝতে পেরেছিল কিন্তু ওর ভালোবাসার প্রকাশ যে ওই সোনার আংটির মতো বস্তুকেন্দ্রিক, শৌখিন তা সে বুঝতে পারেনি। ভবিষ্যতে তো এর পুনরাবৃত্তি হতেও পারে, তাদের ভালোবাসা দায় সাড়া হয়ে পড়বে না তো ঐ দামি উপঢৌকনের আতিশয্যে।

রূপসা আস্তে আস্তে সরে আসে উজানের সামনে থেকে। কিছু ঠিক করতে না পেরে দৌড়ে চলে যায় চার্চের উপাসনা কক্ষে, গোলাপের তোরাটা খ্রিষ্টের পায়ের কাছে রেখে বসে পড়ে সামনে, অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে তার মুখ। একটু পরে কাঁধে এক চেনা হাতের স্পর্শে হুঁশ ফেরে তার, পেছনে তাকিয়ে দেখে উজান। তার বেশভূষা অবিন্যস্ত, অশ্রুধারা নেমে এসেছে দুই গাল বেয়ে। পাগলের মত যে ওকে খুঁজেছে তার ছাপ স্পষ্ট। রূপসাকে খুঁজে পেয়ে তার পাশে বসে পরে তাকে জড়িয়ে ধরে উজান। না তার এই কান্না অকৃত্রিম, নির্ভেজাল। উত্তেজনার বশে একি করতে চলেছিলো রূপসা, নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষটাকেই কিনা সে ভুল বুঝে দূরে ঠেলে দিয়েছিলো। আংটি বাদ দিলে বাকি তো উজান কিছু ভুল বলেনি, সে যা করেছে সব তো ওর জন্য আর সেই কীনা এসব ভাবছে। সেও তো ভালোবাসে ওকে।




কাঁদতে কাঁদতে উজান বলে ওঠে, “ভালোবাসো না সেটা বলে দিতেই পারতে, তাই বলে এরকম ছুটে চলে আসতে হয়। কোথায় কোথায় তোমায় খুঁজেছি জানো, সামনে তোমায় দেখতে না পেয়ে আমার কি অবস্থা হবে সেটা একবারো ভাবলে না!”

উজানের চোখের জল মুছিয়ে দেয় রূপসা, কান্নাজড়িত কন্ঠে বলে,
“এইতো আমি, এরকম ছোটোদের মতো কাঁদতে আছে না কি।”

এরপর দৃঢ়ভাবে বলে,
“আমি ছোটো থেকে খুব কষ্ট করে বড় হয়েছি, আমার কাছে তোমার সময়, ভালোবাসা ওই আংটির থেকে অনেক বেশি দামি। আমাকে কথা দাও কোনোদিন দামি জিনিসে আমাদের সম্পর্ক বিচার করবে না, এরকম একলা করে চলে যাবে না। তুমি ওই আংটি তোমার কাছে রেখে দাও, আমি এমনি তোমাকে খুব ভালোবাসি, কিন্তু মেয়েরা যে সবটা বলতে পারেনা, কিছু কথা বুঝে নিতে হয়।”

এরপর একটু থেমে বলে,
“কিন্তু এখনি বিয়ে করা আমার সম্ভব নয়, আগে আমি একটা ভালো চাকরি করে আমার বাবার স্বপ্ন পুরণ করতে চাই। তুমি কি এ কদিন অপেক্ষা করতে পারবেনা আমার জন্য!”

“পারবো, তুমি বললে সারা জীবন অপেক্ষা করবো তোমার জন্য, শুধু আজকের মত তুমি আমাকে ছেড়ে কোনোদিন চলে যাবে না কথা দাও।”

“কথা দিতে পারি যদি আমায় তুমি এখন বিরিয়ানি খাওয়াও, প্রচন্ড খিদে পেয়েছে।” চোখ মুছে উঠে দাঁড়ায় রূপসা, টেনে তোলে উজানকে।

উজান যেন তখনও বিশ্বাস করে উঠতে পারেনি, সবকিছু হারিয়ে দিকভ্রান্ত অবস্থায় হঠাৎ অনেককিছু ফিরে পেলে যেরম হয়, তার অবস্থা ঠিক তাই। রূপসার ধাক্কাতে খেয়াল হয় ওর, আবারো জড়িয়ে ধরে ওকে, তারপর রূপসার হাত ধরে আস্তে আস্তে এগিয়ে যায় এক নতুন জীবনের দিকে যার সন্ধান এইমাত্র পেয়েছে সে, গোলাপের পাপড়িগুলো সাক্ষী থেকে যায় এই মান অভিমান পর্বের আর প্রভু যীশু আশির্বাদ দেন ওই দুই পাগল প্রেমিক প্রেমিকাকে।




একটা রেস্টুরেন্টে সামনাসামনি বসে উজান আর রূপসা, সামনে বিরিয়ানি। হঠাৎই রূপসার মাথায় দুষ্টুবুদ্ধি খেলে যায়, সে উজানের দিকে না তাকিয়েই বলে, “আচ্ছা তখনকার প্রোপোসের ব্যাপারটা তো মাটি হয়ে গেলো, তা এখন যদি আপনাকে করতে বলা হয়, আপনি কী করবেন মি. সেনগুপ্ত?”

বিমূঢ় ভাবটা তখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি উজান। “ম্যাডাম, আপনি কি আমাকে সারা জীবন আপনার সাথে এই বিরিয়ানির আলু ভাগ করে খাওয়ার সুযোগ দেবেন?” কিছু না পেয়ে সামনের বিরিয়ানির আলুটাই তুলে ধরে বলে ওঠে উজান। এরকম অভিনব ব্যাপার দেখে ওখানের বাকি লোকেরাও হাততালি দিয়ে ওঠে আর রূপসা ওর হাতটা ধরে নেয়,
“উফফ তুমিও না সত্যি!”

এরপর বছর দুই কেটে গেছে, ওরা এখন অবিচ্ছেদ্য হৃদয়, একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছে। রূপসা একটা ব্যাঙ্কে চাকরি পেয়েছে, এতে উজান ওকে খুব সাহায্য করেছে। এক শুভদিনে চার হাত এক হয়ে যায়, পানপাতার উল্টোদিকে রূপসার সুন্দরী মুখটা দেখে উজানের নিজেকে এই পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান পুরুষ মনে হয়। দুই পরিবারও খুব খুশি, মন ভরে আশির্বাদ দেন এই নবদম্পতির সুখকর জীবনের প্রার্থনায়। কয়েকমাস পরে ছুটিতে ওরা মধুচন্দ্রিমায় যায় মুসৌরি। রূপসা এই প্রথম বেড়াতে এসেছে পাহাড়ে, প্রাণভরে রস, রূপ, গন্ধ আস্বাদন করতে থাকে আর উজান সে রূপসার প্রেমে এতোটাই নিমজ্জিত যেন তার রূপসাতেই শুরু আর রূপসাতেই শেষ। সেদিন ছিল পূর্ণিমার রাত, খুব সুন্দর করে সাজে রূপসা। আজ সে উজানকে খুব কাছের থেকে, একদম নিজের করে পেতে চায়। উজান ওকে দেখে থ হয়ে যায়, এত সুন্দর রূপসা! ওকে কাছে টেনে নেয় উজান, তারপর ওর গোলাপি ঠোঁটে নিজের ঠোঁট মিশিয়ে দেয়। একরাশ ঝোড়ো হাওয়া জানলার পর্দা উড়িয়ে ওদের ছুঁয়ে চলে যায় আর ওরা উপলব্ধি করে সব ঝড় দুঃখের হয় না, কিছু ঝড় হয় প্রেমের, ‘সুখের ঝড়’। ঘরের মিউজিক সিস্টেমে বেজে চলে,

“সেই রাতে রাত ছিল পূর্ণিমা
রঙ ছিল ফাল্গুনি হাওয়াতে
সব ভালো লাগছিল চন্দ্রিমায়
খুব কাছে তোমাকে পাওয়াতে।।”

।। সমাপ্ত ।।

 

সুখের ঝড় ( দ্বিতীয় পর্ব )




সুখের ঝড় ( প্রথম পর্ব )

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 2   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।