সুজন সখা - পর্ব-১

সুজন সখা – পর্ব-১

সুজন সখা
#কলমে_কুণাল_ (একলব্য)

বৃষ্টি থেমে গেছে অনেকক্ষণ। ভাদুরে মেঘও উধাও। ঠেলে ঠুলে একটা চাঁদও উঠেছে। কিন্তু নন্দিনীর চোখে-মুখে কালো মেঘের ছায়া। ঘন ঘন পাঁজর ভেদ করা গভীর দীর্ঘশ্বাস। চার দেওয়ালের মধ্যে বাড়ছে নিম্ন-চাপ। চোখের পাতা দুটো যেন আর পারছে না, উপ়্চে আসা জলটা-কে আটকে রাখতে। বুকের ভেতর দলা পাকানো কান্নাটা বেরিয়ে আসতে চাইছে। ক্রমশঃ সমস্ত সত্তা জুড়ে এক গভীর একাকিত্ব বোধ জেগে উঠছে। …. আবিরের সঙ্গে সম্পর্কটা আর টিকিয়ে রাখা গেল না। তিন বছর কোন রকমে জোড়া-তালি দিয়ে চালিয়েছিল নন্দিনী। কী জানি ?… হয়তো যা হয়েছে … ভালোই হয়েছে। আদৌ কী এই সম্পর্কে ভালোবাসার অস্তিত্ব কোনোদিনও ছিল? … নাকি পুরোটা-ই একটা মোহ … ইনফ্যাচুয়েশান? ….ধন্দের মাঝেই ভিড় করা প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছে নন্দিনী। জানালার ধারে দাঁড়িয়েই, টেবিলে রাখা সিগারেটের প্যাকেট আর লাইটারটা তুলে নিল আনমনে। একটা সিগারেট বের করে ধরাল লাইটারের নীল আগুনে।

-‘স্মোকিং ইজ ইনজুরিয়াস টু হেলথ! ….ম্যাডাম!’ – পেছন থেকে ভেসে আসা গম্ভীর ভরাট স্বরে চমকে তাকিয়েছিল নন্দিনী। ক্ষণিকের জন্য দৃষ্টি আটকে গেছিল ছেলেটার দিকে। বয়স ঊনত্রিশ কী বড়ো জোর তিরিশ। ….লম্বা ঘাড়। ফর্সা মেদ-হীন পেশীবহুল চেহারা। তীক্ষ্ণ চোখ-মুখ। এক-মাথা ঘন কোঁকড়া চুল। আকাশী ডেনিম জিন্স আর কালো টি-শার্টে পাক্কা মেয়ে পটানো চেহারা! ….কিছুক্ষণ ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকার পর, মুখে একটা মেকি বিরক্তির রেখা টেনেই বলেছিল নন্দিনী – ‘এক্সকিউজ মি ! আমরা কী একে অপরকে চিনি ?…. আই মিন ….’

-‘আরে নন্দিনী ! ….আলাপ করিয়ে দি … এ হল আমার দূর সম্পর্কের পিসতুতো দাদা আবির … আবির চক্রবর্তী! ….আর আবিরদা ও হল নন্দিনী … নন্দিনী চ্যাটার্জি ! ….আমার ছোট্ট বেলার বন্ধু ! …বলতে পারো আমার বেস্ট-ফ্রেন্ড!” – উৎসাহী কণ্ঠে আলাপ করিয়েছিল সূর্য। ওর জন্মদিনের পার্টিতে। সূর্য, মানে সূর্য শেখর চৌধুরী নন্দিনীর বাড়ির তিনটে বাড়ি পরেই থাকে। বিখ্যাত আইনজীবী আদিত্য চৌধুরীর একমাত্র ছেলে। ক্লাস ওয়ান থেকেই নন্দিনীর বন্ধু। পেশায় একজন ফ্রিল্যান্সার ক্রাইম রিপোর্টার।

-“জানো আবিরদা! … নন্দিনী আই.পি.এস কোয়ালিফাই করে এখন ট্রেনিংএ আছে। খুব শিগগিরই এ.ডি.এস.পি হবে! …. বাই দি ওয়ে … তোমরা কথা বলো ! … আমি একটু অন্য গেস্টদের এটেন্ড করছি !” – বলেই সূর্য চলে গেল!

আবির নিস্পলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল বছর ছাব্বিশের দীর্ঘাঙ্গী, ফর্সা, ছিপছিপে তন্বী নন্দিনীর দিকে ! হয়তো ভাবছিল এই মেয়েটি কদিন বাদে এ.ডি.এস.পি হবে ? … নাকি হারিয়ে গেছিলো মেয়েটির টানা টানা ভ্রূর নিচে নীলাভ চোখ দুটোর গভীরে।

একটু গলা ঝেড়ে নন্দিনী বলে উঠেছিল -‘আপনি কী করেন?”

– ‘আমি ? …. আমি ডাক্তার ! … মেডিনোভা নার্সিং হোমে আছি … এজ এ আর.এম.ও.। সাথে মাস্টার্স করছি কার্ডিওলোজিতে!’ – চমকে উঠে উত্তর দিয়েছিল আবির।

তারপর দুজনের মধ্যেই গল্প বেশ জমে উঠেছিল। আবিরের চন়্মনে ব্যবহার আর মনোগ্রাহী কথাবার্তায় নন্দিনীও গভীর ভাবে আপ্লুত হয়েছিল। বেশ পছন্দ হয়ে যাচ্ছিল আবিরকে। ডাক্তার বলতেই যেমন ভার ভাত্তিক ব্যক্তিত্ব বোঝায়… ও তেমন নয়। যেন একটু ভিন্ন-ধর্মী। নন্দিনীর দেহ-লাবণ্যের জৌলুস আর স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব চূড়ান্ত আকৃষ্ট করেছিল আবিরকেও। গুটি কেটে বেরোনো প্রজাপতির মতোই …. হয়তো দুজনের অন্তরেই প্রেমের সুপ্ত বাসনা পাখা মেলছিল। আসলে নন্দিনী বা আবির, দুজনের কেউই এযাবৎ ক্যারিয়ার ছাড়া অন্য কোনো দিকে মনঃসংযোগ করে নি। সেদিনের আলাপে হয়তো দুজনের জীবনেই, হঠাৎ বসন্তের ছোঁয়া লেগেছিল।

মুঠোফোনের রিংটোনটা হঠাৎই কানে ঝাপ্টা মারল নন্দিনীর। স্ক্রিনে সূর্যের নামটা ভাসছে। নন্দিনী দেওয়াল-ঘড়িটার দিকে তাকাল। পোনে দুটো। বহুদিন বাদে এতো রাতে সূর্য! ….যদিও একটা সময় এমনও ছিল, কিছু মনে এলেই ওরা একে-অপরকে নির্দ্বিধায় ফোন করত। দিন বা রাতের কোনো সীমাবদ্ধতা থাকতো না তখন।

-‘ঘুমোস নি !’- ফোন ধরতেই ওপার থেকে শীতল কণ্ঠ ভেসে এল!

-‘নাহঃ!’ – কান্না চেপেই ঢোক গিলে উত্তর দিল নন্দিনী!

-‘কাঁদছিস?’- কণ্ঠে চাপা উদ্বেগ সূর্যের।

নন্দিনী উত্তর দিতে পারল না … কান্না ভেঙে এল।

-‘সকালে নিউজ পেপারে তোর সাসপেন্ড হবার খবরটা পড়েছি! …কাঁদিস না! …এটা ভেঙে পড়ার সময় নয়! …তোর এই বন্ধুটা এখনও মরে যায় নি …আমি আছি তো ….তোর পাশে!’ – একটা চাপা অভিমান যেন ছল়্কে উঠল সূর্যের কণ্ঠস্বরে।

– ‘জানি তোঃ!’ – বুজে আসা গলায় বলল নন্দিনী।

-‘শোন … কান্নাকাটি না করে এখন ঘুমো তো! …আমি কাল সকালে তোর কাছে যাবো …কথা হবে ডিটেলস এ! ….এখন রাখি!’ – একটু শাসনের সুরেই বলল সূর্য।

ফোন রেখে, একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নন্দিনী নিজের মনেই বলে উঠল -‘আবিরের সঙ্গে ব্রেক-আপের ব্যাপার-টা তো এখনও সূর্য জানেই না!’

নন্দিনীর প্রতিটা জন্মদিনেই, ভোরে ঘুম ভাঙত সূর্যের ডাকে। সূর্য এসে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাত সবার আগে। ভোরের প্রথম সূর্যকিরণের মতোই! সেই ছোট্ট বেলা থেকেই! হাতে থাকত নন্দিনীর প্রিয় ক্যাডবেরি সেলিব্রেশন প্যাঁক। ছোট বেলা থেকেই সূর্য ছিল নন্দিনীর ‘প্রদীপের দৈত্য’। ওর সমস্ত ইচ্ছে পূরণই যেন ছিল সূর্যের একম-অদ্বিতীয় কর্তব্য। নন্দিনীও অবশ্য হৃদয়ের সূক্ষাতিসূক্ষ্য অনুভূতিও সূর্যর সঙ্গে বিনিময় না করে থাকতে পারে না। ক্লাস ওয়ান থেকে গ্র্যাজুয়েশন, ওরা একই স্কুলে, এমন কি একই কলেজে পড়েছে! দুজনেই অসম্ভব মেধাবী। নন্দিনী যেহেতু নাচ-গান, খেলা-ধুলো, ক্যারাটে ক্লাস… এসব নিয়ে একটু বেশিই ব্যস্ত থাকত, সূর্যর তৈরী করা নোটসই ছিল ওর প্রতিটা পরীক্ষার একমাত্র ভরসা। ওরা দুজনেই উচ্চ-মাধ্যমিক অবধি সাইন্স নিয়ে পড়েছিল। গ্র্যাজুয়েশানের সময় পরামর্শ করে, দুজনেই ইকোনোমিক্স অনার্স নিয়েছিল। এর পরে অবশ্য সূর্য পড়ল জার্নালিজম নিয়ে। আর নন্দিনী সিভিল সার্ভিসের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত হল। নন্দিনীর বাবা প্রসূন চ্যাটার্জি হাই কোর্টের জাজ। আদিত্যবাবুর বিশেষ বন্ধু। ইউ.পি.এস.সি পরীক্ষায় দ্বিতীয়বারও যখন অসফল হল, …খুব ভেঙে পড়েছিল নন্দিনী। ওর বাড়ি থেকে চাপ দিচ্ছিল বিয়ের জন্য। অস্পষ্ট হয়ে গেছিল আই.পি.এস এর স্বপ্ন-টা। সেই মুহূর্তে তার পাশে দাঁড়িয়ে, হাতটা শক্ত করে ধরেছিল সূর্য। নন্দিনীর মনের জোর জোগানোর থেকে আরম্ভ করে ওর মা-বাবা কে বুঝিয়ে বিয়ের কথাবার্তা ধামা চাপা দেওয়া …. সবটার পেছনে-ই ছিল সূর্য।

কিন্তু, বিগত তিন বছরে সূর্য, কেমন যেন বদলে গেছে। নন্দিনী যেদিন সূর্যকে বলেছিল -‘জানিস! আবির আমাকে প্রপোজ করেছে!’ সূর্য একটু চমকে গিয়েই প্রশ্ন করেছিল – ‘তোর কি মত?’ নন্দিনী একটু ভেবে বলেছিল – ‘মনে হয় আমিও ওকে ভালোবেসে ফেলেছি!’ শুনে সূর্য যেন হঠাৎ কেমন গুম মেরে গেছিল। বেশ কয়েক মুহূর্ত নিস্পলক দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল নন্দিনীর দিকে। হয়তো সে দৃষ্টি নিঃশব্দে কিছু বলতে চেয়েছিল। নন্দিনীর চোখে তখন আবিরের মোহের রঙিন চশমা। হয়তো সেই মুহূর্তে সেই নির্বাক়্ দৃষ্টির ভাষা পড়ার ক্ষমতা ওর ছিল না। তারপর থেকেই ধীরে ধীরে সূর্য কেমন যেন গুটিয়ে নিল নিজেকে। তখন অবশ্য ও ক্রাইম রিপোর্টার হিসেবে সবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেছে। কাজের ব্যস্ততা দেখিয়ে নন্দিনীকে এড়িয়ে যেতে লাগল। নিজে থেকে আর ফোন করত না। …. নন্দিনী ফোন করলেও সহজে ধরত না। যদিও বা ফোন ধরত ‘হ্যাঁ’ বা ‘হু’ তেই উত্তর দিতো। অনেক-বার নন্দিনী এই নিয়ে ভেবেছে। ওর কোনো ব্যবহারে কী সূর্য আঘাত পেয়েছে?… কিন্তু কোনো কুল-কিনারা করতে পারেনি। এমনকি সূর্যকে সে কথা জিজ্ঞেস করেও কোনো সঠিক উত্তর মেলে নি। ট্রেনিং সম্পূর্ণ করে যেদিন এ.ডি.এস.পি-র পদে জয়েন করল, খুব আশা করেছিল, নিশ্চই সূর্য সকালে ওর সঙ্গে দেখা করতে আসবে। সূর্য এল না। নন্দিনী অফিস যাওয়ার পথে সূর্য-দের বাড়িও গেছিল। ও ছিল না। খুব ভোরেই কাজে বেরিয়ে গেছিল। বড্ড কষ্ট হয়েছিল নন্দিনীর। অফিস থেকে ফিরে, সন্ধ্যেবেলায় অনেক বার ফোন করেছিল সূর্যকে। ও ফোন ধরে নি। শেষে থাকতে না পেরে, রাতে নন্দিনী ওদের বাড়ি গেছিল। সূর্যের বাবা-মায়ের উষ্ণ অভ্যর্থনা পার করে, যখন ওর ঘরে ঢুকল, ল্যাপটপে মুখ ডুবিয়ে বসেছিল সূর্য। নন্দিনী সরাসরি জানতে চেয়েছিল এভাবে এড়িয়ে যাওয়ার কারণ। সূর্য বলেছিল ওর কাজের খুব চাপ।

নিজের সব থেকে কাছের মানুষটা এভাবেই ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়িয়ে নিয়েছিল। বুকটা ফেঁটে যেত নন্দিনীর।

-‘হোয়াট রাবিশ! সব সময় সূর্য … সূর্য …আর সূর্য! ও ছাড়া কী তোমার আর কোনো টপিক্স নেই?…. একটু মিষ্টি প্রেমের কথা …আচ্ছা ছাড়ো ! এট লিস্ট আমাদের ফিউচারের প্ল্যানিং…!’- অসহিষ্ণু কণ্ঠে বলেছিলো আবির।

-‘তুমি এরকম ভাবে বলছো কেন ? … আমি তো জাস্ট এটাই বলছিলাম যে, আমার কোনো ব্যবহারে সূর্য কী …! আচ্ছা ছাড়ো! … এতে এত রিয়াক্ট করার কী আছে বলতো … ও আমার সব-চেয়ে কাছের….!’ – অবাক হয়েই বলে উঠেছিল নন্দিনী।

-‘রিয়াক্ট? …আমি রিয়াক্ট করছি? ….আমার তো একেক সময় মনে হয় তুমি আমাকে না …সূর্যকেই ভালোবাসো !’ – কথা কেড়ে নিয়েই, গলায় আগুন ছড়িয়ে দিয়েছিল আবির।

-‘স্যাট আপ … আবির!’- বলে, রাগে কাঁপতে কাঁপতে উঠে চলে গেছিল সেদিন নন্দিনী। ও আসলে এরকমই। চট করে মাথা গরম হয়ে যায়। বিশেষতঃ সূর্যকে জড়িয়ে কেউ কিছু বললে, তার আর রক্ষা নেই। এরপর সাত দিন যোগাযোগ করেনি আবিরের সঙ্গে। শেষে হাত জোর করে ওর মান ভাঙিয়ে ছিল আবিরই।

ছোট-খাটো ব্যাপারে দুজনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। আসলে নন্দিনীর চাকরি করা-টা হয়তো আবিরের ভালো লাগত না। স্পষ্ট করে না বললেও, হয়তো সে চাইত নন্দিনী সব ছেড়ে ছুড়ে, ওকে বিয়ে করে সংসারী হয়ে যাক। বেশ কয়েক বার সেরকম ইঙ্গিতও দিয়েছে আবির। তাতে আমল না দিলেও, নন্দিনীর বেশ রাগ হতো। ওর সব থেকে অস্বস্তিকর লাগত, আবিরের আদর করার ভঙ্গি-টা। সুযোগ পেলেই ওর শরীরের নানান বিপজ্জনক জায়গায় হাত দেওয়া বা ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা-টা নন্দিনীর ভালো লাগত না। যৌনতা যে ওর ভালো লাগে না তা নয়। তবে এর জন্য একটা মানসিক প্রস্তুতিরও দরকার। একেক সময় মনে হতো আবির কী কেবলই ওর শরীরটাকেই ভালোবাসে?

সব থেকে বিশ্রী ব্যাপার হয়েছিল, যখন নন্দিনী রঘুনাথ-পুর থেকে দুদিনের ছুটি নিয়ে কলকাতায় এসেছিল। এসেই আবিরের সঙ্গে দেখা করতে ওর বাড়ি গেছিল। সেদিন বাড়িতে ও এঁকাই ছিল। তিন-মাস বাদে দুজনের দেখা। আবেগে দুজনেই পরস্পরকে জড়িয়ে ধরেছিল নিবিড় ভাবে। অপ্রত্যাশিত ভাবেই ওর ঘাড়ে নিজের ঠোঁট গুঁজে দিয়েছিল আবির। অতর্কিতে থাবা বসিয়েছিল নন্দিনীর সুগোল উত্তুঙ্গ দুই স্তনে। স্তম্ভিত হয়েই নন্দিনী বলে উঠেছিল – ‘কী করছো আবির! ….ছাড়ো!’

-‘আমাদের তো বিয়েই হবে! … তাহলে তোমার আপত্তি কোথায়?’- বলেই আবির ওর সুডৌল স্তন-দুটো মুচ়্ড়ে ধরে, ওর ঠোঁটে ঠোঁট ডোবানোর চেষ্টা করেছিল। নন্দিনী প্রাণ-পণ চেষ্টা করছিল নিজেকে ছাড়ানোর। আবিরের শরীরে তখন যেন অসুরের শক্তি জেগে উঠেছিল। কোনো রকমে ওকে ধাক্কা মেরে বেরিয়ে এসেছিল নন্দিনী। সেদিন বাড়িতে ফিরে বালিশে মুখ গুঁজে খুব কেঁদেছিল। মনে হয়েছিল সম্পর্কটা শেষ করে দেবে। পর দিনই ফিরে গেছিল রঘুনাথ-পুরে। ডিউটিতে জয়েন করে, পোনেরোদিন আবিরের ফোনই ধরে-নি সে। নারীত্বের অপমান তো ও একেবারেই সহ্য করতে পারে না। শেষে নিজের ভুল বুঝতে পেরে আবির ছুটি নিয়ে রঘুনাথ-পুর গেছিল। অনেক বুঝিয়ে নন্দিনীর রাগ ভাঙিয়েছিল। বিয়ের আগে শারীরিক মিলন যে, নন্দিনীর কাছে অপরাধ মনে হয় …তা নয় ! তবু যেন আবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে নন্দিনীর বাঁধত। হয়েতো ওর শরীরের প্রতি আবিরের অমোঘ আকর্ষণই, ওর মনে একটা বিপরীত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করত। ……ক্রমশঃ (পরের পর্ব আগামী মঙ্গলবার)

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 3   Average: 3.7/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।