সুরহারা বাঁশি

সুরহারা বাঁশি

সুরহারা বাঁশি
✒️কলমে “মেঘা”

পাকা রাস্তায় উঠেই সাইকেলের স্পিডটা বাড়িয়ে দিলো সংকল্প। গন্তব্য সম্রাট সান‍্যালের বাড়ি। সংকল্পর গানের গলা শুনে উনি নিজেই সংকল্পর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন আর বলেছেন সংকল্পর গলা খুব ভালো। ঊনি সংকল্পর সঙ্গে একটা চুক্তির কথাও বলেছেন। এই চুক্তি অনুযায়ী সম্রাটবাবু প্রথমে আ্যডভান্স হিসেবে কুড়িহাজার টাকা দেবেন। কিন্তু তার বদলে সংকল্পকে দুই বছরের জন্য ওনার কোম্পানিতে গান করতে হবে। সংকল্প অনেক ভেবে দেখলো কুড়িহাজার টাকা যদি হাতে পায় তবে দেনাগুলো সব মিটে যাবে আর বাবার চিকিৎসাটাও করা হয়ে যাবে। এইসব কথা ভেবে সংকল্প চুক্তিতে রাজি হয়ে যায়। আর আজকে সেই চুক্তি ফাইনাল করতেই সম্রাটবাবুর বাড়ি যাচ্ছে। এইসব ভাবতে ভাবতে কখন যে মাঝরাস্তায় এসে পড়েছে তা খেয়ালই নেই সংকল্পর। গাড়ির হর্ন শুনে কল্পনার জগৎ থেকে বেরিয়ে আসে। কিন্তু হঠাৎ করে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটা বেপরোয়া ট্রাক এসে জোরে ধাক্কা মারে সংকল্পর সাইকেলে। ট্রাকটা তো থামলোই না বরং সংকল্পর রক্তাক্ত শরীরটাকে আরও দুমড়েমুচড়ে দিয়ে তার ওপর দিয়ে স্পিডে বেরিয়ে গেল। কিছুক্ষণ সবাই ইশউশ করলো, আ্যম্বুলেন্স ডেকে ওর বাড়ির লোককে খবর দেওয়া সব করলো। তারপর আবার সবাই নিজেদের কাজে ব‍্যস্ত হয়ে গেলো। শুধু রাস্তায় পড়ে রইলো রক্তের একটা কালো দাগ আর দোমড়ানো মোচড়ানো সাইকেল। ওই কিছুক্ষণের চুকচুক শব্দেই শেষ হয়ে গেল তাদের মানবিকতা, আর কেউ মনেই রাখলো না যে সংকল্প নামে একটা ছেলের প্রতিভা অকালেই হারিয়ে গেল। গানে ভুবন ভরিয়ে দেবার আগেই তার বুকে তীর বিঁধল।। হারিয়ে গেল অতলের অন্ধকারে। কুঁড়ি ফুটে ফুলে পরিণত হওয়ার আগেই তা ঝরে গেল।
মানুষ হয়তো আর মনেই রাখবে না সেই কালজয়ী গান “গানে ভুবন ভরিয়ে দেবে ভেবেছিল একটি পাখি,
হঠাৎ বুকে বিঁধল যে তীর স্বপ্ন দেখা হল ফাঁকি…..”

*****************সমাপ্ত*******************

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 0   Average: 0/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।