সেক্সস্লেভ

সেক্সস্লেভ

গল্পের নামসেক্সস্লেভ

লেখক—ভিক্টর ব্যানার্জী

 

 

কুশ তলা ফ্ল্যাটের টপ্ ফ্লোরে মিস সেনগুপ্ত তার একমাত্র আদরের মেয়ে টিনাকে নিয়ে থাকে। স্বামী চাকরিসূত্রে বিদেশে থাকে। মিস সেনগুপ্ত একটা নামী বিউটি পার্লারের মালিক। ভীষন ব্যস্ততা, সারাদিনে এতটুকু সময় বের করতে পারেন না মেয়ের জন্য। কোনো কোনো দিন আবার রাতে বাড়ি থাকতে পারেন না। দিল্লী, মুম্বই থেকে তার নাকি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডাক পড়ে। তাই টিনাকে একা রেখেই বেরতে হয়।
টিনা মাইক্রোবায়োলজি তে অনার্স নিয়ে কলেজে পড়ে। রূপের কথা বলতে গেলে টিনা এক কথায় অপরূপা সুন্দরী। মিস সেনগুপ্তাও এই বয়সে কম সুন্দরী নন। আসলে কলকাতার সফিস্টিকেট আদব কায়দাতে রূপচর্চা না হলে ঠিক চলে না, তার ওপর আবার বিউটি পার্লারের মালকিন!
সেদিন মিস সেনগুপ্ত একাই বাড়িতেই ছিলেন। টিনা কলেজে গেছে। এমন সময় কলিং বেল টা বেজে উঠল। মিস সেনগুপ্ত দরজার আইহোলে চোখ লাগিয়ে দেখলেন-‘ হেলমেট মাথায় দাঁড়িয়ে কুনাল।’

 




 

কুনাল সম্পর্কে বলে রাখি। কুনাল ছেলেটি প্রায়ই ফ্ল্যাটে আসে। কেন আসে তা অবশ্য ফ্ল্যাটের কেউ জানেনা। আর এই সব সোসাইটি তে কেউ কারো হাঁড়ির খবর রাখে না। সিকিউরিটি কে বলা থাকে—আর তাছাড়া সিকিউরিটিও মুখ চিনে গেছে।
কুনাল ভেতরে আসতেই মিস সেনগুপ্ত বলে ওঠে,“ডার্লিং আজ এত দেরি যে। তোমায় মিস করছিলাম সোনা।”
কুনাল হেসে বলে—“আর বলো কেন, রাস্তায় যা জ্যাম। বাইকের অাদ্ধেক তেল পুড়ে গেল।”
কুনাল ঘরের সোফায় হেলমেটটা রেখে হেলান দিয়ে বসে পড়ল। মিস সেনগুপ্ত কুনালের পাশে বসে তর্জনী দিয়ে কপালে হালকা করে স্পর্শ করে বলল—“এই বাবু বিয়ার খাবে?”

কুনাল চোখের ইশারায় ইঙ্গিত দিতে তিনি ফ্রিজ থেকে দু গ্লাস বিয়ার নিয়ে টেবিলে রাখলেন। তারপর কুনালের কোলের কাছে বসলেন।
মাঝবয়সী এই মহিলা কুনালকে রেখেছেন শরীরী খেলায় মেতে ওঠার জন্য। মোটা টাকা পে করেন এই যুবকে। বিনিময় কুনাল মেটায় তার মনের চাহিদাটুকু।
কলকাতার এখানে সেখানে এসকর্ট সার্ভিস অনেকদিন ধরেই চলছে। মিস সেনগুপ্ত তেমন এক সেন্টার থেকে কুনালকে নিয়ে আসে। টিনা কিন্তু এসব ব্যাপারে কিচ্ছু জানেনা। কারণ টিনা বাড়িতে না থাকলে তখনই কুনাল আসে। ঠিক কলেজের সময়টুকুতেই মিস সেনগুপ্তা ওকে ডাকে।
কুনাল বিয়ারে চুমুক দিতে দিতে বলল,“আচ্ছা সোনা তোমার মেয়েকে কোনদিনও দেখালে না তো?”
মিস সেনগুপ্ত মুছকি হেসে বলে,“শালা ওর দিকে নজর কেন?”
কুনাল বলে,“আহা, ভুল বুঝোনা তো। তোমার মেয়েকে তো কখনও দেখলাম না”
মিস সেনগুপ্ত খলখলিয়ে হেসে ওঠে। বলে,“ইউ আর অ্যান ইডিয়ট।”তারপর কুনালের ঠোঁটের ওপর হাত রেখে বলে,“ইস্ বোকার মতো কথা বলিস না জান! ও এসব জানলে আমি কোথায় যাই বল তো?”
এরপর দুজনের শরীরী খেলা শুরু হয়।

 

 

এদিকে টিনা অনেকদিন ধরেই কলেজের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু অনির্বাণের সাথে রিলেশনসিপে ছিল। যদিও মিস সেনগুপ্ত এসব ব্যাপারে কিছুই জানেনা। তাকে ইদানীং আর তেমন কিছু শেয়ার করে না টিনা। মা পার্লারে চলে গেলে সে মোবাইলে ঘন্টার পর ঘন্টা তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে ব্যস্ত হয়ে যায়। অনির্বাণ গ্রামের ছেলে। মেসে থেকে পড়াশোনা চালায়। কিন্তু বাইরে থেকে দেখে অনির্বাণকে বোঝার উপায় নেই। ভীষণ স্টাইলিশ,কথাবার্তায় কলকাতার হাই-ফাই ছেলেরা তার কাছে হার মেনে যাবে
সেদিন অনির্বাণ টিনার ফোনে কল করল।

 




 

—“হ্যালো টিনা? কি করছ বেবি?”
টিনা ওপার থেকে বলে ওঠে,—“তুমি কখন আসবে? সেই কখন থেকে ওয়েট করছি।”
—“আজ আমার মনে হয় যাওয়া হবে না। বাইকের একসেলটরের তার ছিঁড়ে গেছে। সারাতে এসছি। তুমি ক্লাসে চলে যাও।”
এই বলে অনির্বাণ ফোন কেটে দেয়। টিনার মনটা খারাপ হয়ে যায়। সে বিরক্ত হয়ে। ক্লাসের দিকে হাঁটতে থাকে।
এদিকে একুশতলায় তখন শুধুই তৃপ্তির আনন্দ। কুনাল মিস সেনগুপ্তাকে মেকি ভালোবাসায় ভরিয়ে দেয়। মিস সেনগুপ্তা কুনালকে দিয়ে বিভিন্নরকম ভঙ্গিমায় মেতে ওঠে। এইরকম চরম আনন্দের সময় হঠাৎ কলিংবেলটা বেজে ওঠে। মিস সেনগুপ্ত অতি দ্রুত নিজের অন্তর্বাস,ব্লাউজ,শাড়ী সমস্ত ঠিক করে ফ্ল্যাটের দরজার কাছে চলে আসে। মনের ভুলে দরজার আইহোলে দেখতে ভুলে যায় যে বাইরে কে? একরকম ভয় মেশানো তাড়াহুড়োতে দরজা খুলে দেয়। বাইরে দাঁড়িয়ে আর কেউ না—টিনা। তখন মন খারাপ হওয়ায় ক্লাসে না গিয়ে বাড়ি চলে এসেছে। তাকে দেখে মিস সেনগুপ্ত ভূত দেখার মত চমকে ওঠে।

 




 

বলে—“কি রে তুই? চলে এলি যে?”
টিনা কথা না বলে একরকম চট করে ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়ে। তারপর বেডরুমের দিকে যেতেই তার চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়।
একি! এতো অনির্বাণ! তার মায়ের বেডরুমে চাদর চাপা দিয়ে শুয়ে টিভি দেখছে। আর টিভি পর্দায় ভেসে উঠেছে একটা নীল ছবি।
অনির্বাণ টিনাকে দেখে হতচকিত হয়ে যায়। তারপর বলে—“তুমি!”
সব পরিষ্কার টিনার কাছে। তার গর্ভধারিনী মা যে এত নিচে নামতে পারে সে স্বপ্নেও কখনো ভাবেনি। সে রক্তাভ চোখে মিস সেনগুপ্তের দিকে তাকিয়ে বলে “তোমায় মা বলে ডাকতে ঘেন্না হয়।”
আর তার স্বপ্নের পুরুষ তার ভালোবাসা কিনা তারই মায়ের সাথে বিছানার রক্তিম সুখে নিমগ্ন। একেই কি সে এতকাল ভালোবেসে এসেছে। সমস্ত আকাশটা যেন তার মাথায় ভেঙে পড়ে। রাগে ঘেন্নায় চিৎকার করে টিনা বলে—“ছিঃ অনির্বাণ ছিঃ, তুমি এত নিচ!”
অনির্বান জানে অর্থের অভাবে কুনালের মতো থুড়ি অনির্বাণের মত কত ছেলে মিস সেনগুপ্তদের মতো মানুষের ক্রীতদাস হয়ে যায়। অর্থ হয়তো উপার্জিত হয় কিন্তু আত্মসত্তা প্রেম ভালোবাসা বিক্রি হয়ে যায়। একটাই পরিচয় নিয়ে এরা তখন সমাজে বেঁচে থাকে—“সেক্সস্লেভ।”

————-

১৩ই চৈত্র ১৪২৬
সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত © ভিক্টর ব্যানার্জী




গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 0   Average: 0/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।