সেসেরা – দ্বিতীয় পর্ব

সেসেরা

লেখকঃ রিদয়

 

 

 

দ্বিতীয় পর্ব

 

রিদয় ভাবতেছে, সবার
ভিতরে ভালবাসা থাকলেই কী, সেটা কি
সবার জীবনে পরিপূর্ণতা পায়? অনেকের ভাল
লাগা গুলো, ভাল লাগাই থেকে যায়। সেটা
ভালবাসায় পরিণত হয় আর কত জনের?
.
রিদয় তখন নিজে নিজেই প্রতিজ্ঞা বদ্ধ
হল…সে আর কখনোই সানজিদাকে ডিস্টার্ব করবে
না। প্রতিদিন সকাল বেলা সানজিদার
জানালার পিছনে যাবে না। যদি, সানজিদা
নিজেই কোন দিন রিদয়ের ভালবাসা বুঝতে
পারে, তাহলেই তাদের মাঝে কথা হবে।
নয়তো, আর কখনোই তাদের কথা হবে না।
.
অন্যদিকে, সানজিদা ও কী রিদয়কে ছাড়া খুব
ভাল আছে? না,…..আজকে সে যা যা বলেছে,
সব শুধু মাত্র রিদয়ের হাত থেকে বাঁচার জন্য।
দিন শেষে সানজিদা ও রিদয়ের মনের
অবস্থাটা বুঝতে পেরেছে। সানজিদা ভাবছে,
তার হয়তো আজ এতো বেশি করাটা ঠিক হয় নি।
“প্রতিদিন সকালে রিদয়কে না দেখলে যে,
সানজিদার ও ঠিকই খারাপ লাগত। রিদয়কে বকা
দিয়ে সানজিদা নিজেই চুপ চাপ হাসতো। সেটা
কখনোই রিদয়কে সে বুঝতে দেয় নি।” কিন্তু,
আজ হঠাৎ করে, পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে
রিদয়কে মিথ্যা বলতে হয়েছে সানজিদার।
,,
পরের দিন সকাল বেলা, সানজিদা জানালার
পার্শ্বে বসে অপেক্ষা করতেছে কখন আসবে
রিদয়? কখন তার সাথে ঝগড়া করবে! তাকে
বকা দিয়ে, জানালা বন্ধ করে নিজেই চুপ চাপ
হেসে যাবে!!
কিন্তু, ঐ দিন সানজিদা রিদয়কে পেল না। আর,
রিদয়ই বা কেনো তাকে ডিস্টার্ব করতে
আসবে? সে যে নিজে নিজেই প্রতিজ্ঞা বদ্ধ!
.
এমন ভাবে কেটে গেল ছয় দিন, তবুও রিদয়ের
কোন খোঁজ নেই। সানজিদার মনটাও অনেক
খারাপ। প্রত্যেকটা দিন সানজিদা অনেক
খুঁজেছে, কিন্তু কোন লাভ হয় নি। রিদয়কে এক
পলক দেখার জন্য হেতে আজ অনেকটাই অস্থির।
কিন্তু, কোথায় পাবে সে রিদয়কে ?
রিদয়ের বাসার ঠিকানা, ফোন নাম্বার
কোনটাই তো সে জানতো না।

 




 

.
সানজিদার মাথায় সব সময় এখন একটা বিষয়ই ঘুর পাক
খাচ্ছে, তাকে যে ভাবেই হোক রিদয়ের
সাথে দেখা করতে হবে। কিন্তু, কিভাবে
দেখা করবে সে?
রিদয়কে নিয়ে ভাবতে ভাবতে আরও দুই/তিন
দিন কেটে গেল। একদিন সকাল বেলা সানজিদা
আন মনা হয়ে জানালার পার্শ্বে বসে আছে।
তার হঠাৎ করেই মন হল, কেউ এক জন তার
জানালার পাশ দিয়ে গেল এবং সে তাকে
চিনে। সানজিদা একটু চিৎকার দিয়েই বলল………
– এই ছেলে, এই দিকে আসো তো?
– হুম,,,বলেন।
– তোমাকে কোথায় যেন দেখছিলাম বলো
তো?
– আরেহ্…. আফা..আমাকে চিনতে পারছেন না?
– আফা কী??? আপু বলো…..
– ওকে, আপু।
– এবার বলো, কোথায় দেখছিলাম তোমায়?
– এইতো, এইখানে একদিন আমি রিদশ ভাইয়ের
সাথে আম পেড়ে দিতে আসছিলাম।
– opps! তো তোমার রিদয় ভাই কোথায়?
তাঁকে আর দেখা যায় না কেনো?
– কেনো! রিদয় ভাই তো বাসায়।
– আমায় একটু ওর বাসার ঠিকানা দিবে?
– হুম।
.
ছেলেটার কাছ থেকে রিদয়ের বাসার
ঠিকানা নিয়ে সানজিদা তখনই রিদয়দের
বাসায় চলে গেল। বাসায় গিয়ে নক করতেই
ভিতর থেকে রিদয়ের আম্মু দরজাটা খুলে
দিল…….
– কে তুমি?
– আমি সানজিদা। আপনি রিদয়ের কে হন?
– কেনো! আমি রিদয়ের আম্মু।
– আন্টি রিদয় কই?
– কি করেছে রিদয়?
– না কিছু করে নি আন্টি। কই সে??
মেয়েটা রিদয়ের জন্য এরকম পাগল হয়ে
গেছে যে, তার কাছে আর কোন কিচ্ছুর মূল্য
নেই। শুধুই রিদয়কে তাঁর চাই।
– এই যে, পাশের রুমটাতে রিদয়। আজ অনেক
দিন হয়ে গেল, রিদয় রুম থেকে বের হয় না।
ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করে না। কিছু
জিজ্ঞাস করলে, বলতেও চায় না কিছু!
.
সানজিদা দৌড়ে রুমের মধ্যে ঢুকলো। রুমটাতে
ঢুকতেই, অন্ধকার ছিল। রুমের লাইট জ্বালাতেই,
রিদয় সানজিদাকে দেখেই অবাক হয়ে
গেল……….
– সানজিদা তুমি???
– ঠাসসসস……….
– (রিদয় চুপ করে আছে)
– তুমি কী মানুষ? সব সময় শুধু নিজের দিকটাই
চিন্তা করো?
– ( রিদয়ের মুখে কোন কথা নেই)
– এব বারও ভাবলে না সানজিদা কতটা কষ্ট
পাবে?
– তুমি তো আমাকে ভালবাসো না, তাহলে কষ্ট
পাবে কেনো?
– কে বলেছে? আমি তোমাকে ভালবাসি না?
– তুমি নিজেই তো সেদিন বললে, তুমি অন্য
একটা ছেলের সাথে রিলেশন করো!
– ঐ দিন যা বলছিলাম সব মিথ্যা।
– মিথ্যা বললে কেনো?
– শুধু মাত্র তোমার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার
জন্য।
– তাহলে আজকে, এইখানে আসছো কেন?
– এখন আমার ভিতরেরটা যে, সব সময় রিদয়কেই
চায়!
– যাহ্ পাগলী! রিদয়কে নিয়ে কী করবে?
– সেটা তোমার বুঝতে হবে না। শরীরের এই
অবস্থা করে ফেলছো কেন?
– খাওয়া দাওয়া ঠিক মত করি না।
– ঠিক মত খাইতে কে নিষেধ করেছে?
– সানজিদা……. হি হি হি।
– একদম হাসবে না। চুপ। ভালবাসো আমাকে?
– হুম…..অনেক।
– তাহলে, কপালে একটু চুমু দাও!
– কার কপালে???
– সানজিদার কপালে….
– এ ছিঃ ছিঃ। আম্মু এসে দেখলে কী বলবে?
– আসবে না। তোমাকে দিতে বলছি, দাও………
রিদয় সানজিদার কপালে ছোট্র করে একটা চুমু
এঁকে দিয়ে, সানজিদাকে বাহুডরে জড়িয়ে
নিলো।

#Single Boy Hridoy

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 1   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।