Bangla golpo – এই বছরে সেরা বাংলা গল্প গুলি – মিস করবেন না

Bangla golpo

Bangla golpo is a very popular story in Bengali. Hare, you found top Bangla golpo. Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don’t have sufficient time for going to the library and reading the storybooks At this age of the Internet. But, if we can read the story on this internet, then it is very interesting. So we have brought a few collections of Bengali story for you. Hope you will enjoy the stories in this busy lifestyle. In this post you will find the latest Bengali golpo, You can read here Bangla golpo, download Bangla golpo PDF.

 

 

 

ইন্তেকাম 

– সায়ন্তনী পলমলু ঘােষ

 

ইন্তেকাম একটু তন্দ্রা মতাে এসে গিয়েছিল। মুঠোফোনে অনুপম রায়ের ডাকে উঠে বসলাম। লম্বা একটা হাই তুলে ফোনটা তুললাম। ঘুম জড়ানাে স্বরে বললাম ” হ্যালাে।” অপর প্রান্ত থেকে জবাব এলাে, ” হ্যালাে, দেব আমি বিশাল বলছি। সরি টু ডিস্টার্ব ইউ বাট আই রিয়ালি নীড় ইওর হেল্প। “” ইটস ওকে। বল কি হয়েছে।” বিশাল উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বললাে, ” আমি এখন ঝুমারপুরায় আছি। এখানে আমার নানাজির ঘর আছে। নানাজি আচানক বহূত বিমার হয়ে গেছে। লােকাল ডক্টর কিছু করতে পারছে না আর নানাজিকে শিফট করার কন্ডিশনও নেই।

তুই ধানবাদ এসেছিস শুনলাম তাই তাের কাছে রিকোয়েস্ট করছি একবার যদি নানাজিকে দেখে যেতিস।” আমি একটু হিসেব করে দেখলাম কাল দুপুর বারােটা নাগাদ আমার কাজ শেষ হয়ে যাবে তাই বিশালকে বললাম, ” আমি কাল দুপুরের পর থেকে ফ্রী কিন্তু জায়গাটা কোথায় বুঝতে পারছি না।” বিশাল উচ্ছ্বসিত গলায় বলল,” তুই আসবি শুনে আমার আধা পরেশানি দূর হয়ে গেল। জায়গাটা দুমকার কাছে। তােকে টেনশন নিতে হবে না। আমি গাড়ি নিয়ে যাবাে।” বিশাল পান্ডে আমার ছেলেবেলার বন্ধু। একই পাড়ায় বাড়ি আমাদের। খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব না থাকলেও ভালােই সম্পর্ক আছে।     Bangla golpo

ওরা আদতে বিহারের মানুষ হলেও তিন পুরুষ ধরে কলকাতার বাসিন্দা। ওদের বাড়ির সবাই তাই মােটামুটি বাংলা বলতে পারে। আমি ডক্টর দেবকুমার সেন একদম খাঁটি বাঙালী। বাবা,মা,বউ,বাচ্চা আর বােনকে নিয়ে আমার সংসার। ধানবাদে ডাক্তারদের একটা কনফারেন্স ছিল সেখানেই যােগ দিতে এসেছি।

দুপুর দেড়টার সময় বিশাল আমাকে নিতে এলাে একটা কালাে রঙের বােলেরাে নিয়ে। নিজেই ড্রাইভ করে এসেছে। যেতে যেতে বিশাল জানালাে যে ওর নানাজি মানে মামাদাদু দেওধর সিং ঝুমারপুরার জমিদার বংশের সন্তান। খুবই প্রতাপশালী লােক ছিলেন দেওধর। শিকারী হিসেবেও নামডাক ছিল বেশ। এখন বৃদ্ধ হয়েছেন। একলাই লােকজন নিয়ে থাকেন ঝুমার পুরায়।বিশালের দুই মামাই বিদেশে থাকেন।

একজন দুবাইতে আর একজন জার্মানিতে তাই দাদুর দেখাশােনার ব্যাপারটা বিশাল আর ওর ভাই বিক্রান্ত সামলায়। ওনাকে অনেক বলা সত্ত্বেও কলকাতায় এসে থাকতে রাজী হননি। গতকাল দেওধরের খাসলােক পবন ফোন করে জানায় দেওধর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। খবর শুনেই বিশাল ছুটে এসেছে। বিশাল জানালাে দেওধরের বয়স প্রায় আশি ছুঁই ছুঁই কিন্তু দেখলে বােঝা যেত না। এখনও যথেষ্ট শক্ত-সামর্থ্য ছিলেন। দাপটের সঙ্গে থাকতেন। হঠাৎ করে যে কি হয়ে গেল বােঝা যাচ্ছে না।

Bangla golpo

গাড়ীতে যেতে যেতে যেটুকু দেখলাম তাতেই বুঝলাম ঝুমার পুরার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভােগ করার মতাে। জঙ্গল আর পাহাড়ের মিলনক্ষেত্র। এই অঞ্চলের চরিত্র অনুযায়ী প্রকৃতির মধ্যে রুক্ষতা থাকলেও সেই শুষ্কতারও আলাদা একটা বৈচিত্র্য আছে। দেওধর সিংয়ের হাভেলী দেখে আমি তাে যাকে বলে বাকরুদ্ধ। পেছনে জঙ্গল আর সরু রুপােলি ফিতের মতাে নদীর পটভূমিতে কয়েক বিঘা জায়গার ওপর মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে। আছে বড়া হাভেলী। এ অঞ্চলের লােকেদের কাছে এই হাভেলী বড়া হাভেলী নামে পরিচিত।

এবার আমি বুঝতে পারলাম দেওধর সিং কেন কলকাতায় কংক্রিটের জঙ্গলে গিয়ে থাকতে চান না। আমরা গাড়ী থেকে নামতেই তিনজন লােক ছুটে চলে এল আমাদের খিদমত করতে। আমি বিশালের বন্ধু তারওপর ডাক্তার তাই খাতিরদারিটা একটু বেশিই হচ্ছে। বিশাল হলঘরে বসে পাথরের গ্লাসে শরবত খাচ্ছি। হলঘরটায় ঢুকলে আন্টিকের শাে রুম বলে ভ্রম হবে। ফার্নিচার থেকে শুরু করে দেওয়ালে টাঙানাে তরােয়াল,মুখােশ, তৈলচিত্র সব কিছুতেই প্রাচীনতার ছোঁয়া তবে জিনিসগুলাের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হয় সেটা বেশ বােঝা যাচ্ছে।                            Bangla golpo

এঘরের সবচেয়ে আকর্ষণের জায়গা হলাে স্টাফ করে রাখা পশুদের শরীরগুলাে। প্রকান্ড আকারের দুটো বাঘও আছে। তার মধ্যে। একটা শিকার করেছিলেন দেওধর আর একটা তাঁর বাবা রামদেব। দেওধর এবং তাঁর পূর্বপুরুষরা যে। শিকারে যথেষ্ট আগ্রহী ছিলেন এগুলাে তারই সাক্ষ্যবহন করছে। শরবত শেষ করে বিশালকে বললাম, ” চল তাের দাদুকে দেখি এবার।” দেওধর দোতলায় আছেন। গােটা বাড়িটা কেমন যেন থমথমে। হয়তাে মালিক অসুস্থ বলেই এরকম। হালঘরের ডানপাশ দিয়ে ওপরে ওঠার সিঁড়ি। পুরােনাে দিনের বিরাট একটা মেহগিনী কাঠের পালঙ্কে দেওধর শুয়ে আছেন। এই অসুস্থতার মধ্যেও চেহারার বলিষ্ঠতা তাঁর দাপুটে স্বভাবের পরিচয় বহন। করছে। লােকাল ডাক্তার সেখানেই উপস্থিত ছিলেন নাম নীতিন ঝা। Bangla golpo

 

Chotoder golpo – ছোটোদের মজার মজার গল্প গুলি এবার বাংলাতে

 

স্যালাইন চলছে। আলাপ-পরিচয় পর্ব সাঙ্গ হতে ডাক্তার ঝা আমাকে জানালেন যে তিন দিন আগে ভােরবেলা যখন ওনাকে ডেকে আনা হয় উনি এসে দেখেন গায়ে ধুম জ্বর। কোনও হুঁশ নেই পেশেন্টের। সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত জ্বরের ওষুধ খাওয়ালে জ্বর একটুখানি কমছে কিন্তু একটু পরে আবার তিন-চার ডিগ্রি পর্যন্ত উঠে যাচ্ছে, ভুল বকা শুরু হচ্ছে। দুমকার। ভালাে প্যাথলজি সেন্টার থেকে রক্তের বেশ কিছু টেস্ট করিয়ে এনেছেন কিন্তু সব কিছু স্বাভাবিক। এখন শুধু ব্লাড প্রেশারটা বেশি আছে। ডাক্তার ঝা খােলাখুলি জানালেন যে ওনার বিদ্যের দৌড় শেষ।

অসুখটা কি উনি আন্দাজও করতে পারেননি। রােগী এমনই বেহুঁশ হয়ে থাকছে যে কোনােও নার্সিং হােমে সরাবার সাহসও পাননি উনি। এখান থেকে দুমকা গাড়িতে পঁয়তাল্লিশ মিনিটের পথ। এই পথের ধকলটা দেওধর নিতে পারবেন কিনা। কে জানে। এই মুহূর্তে ঘরের মধ্যে আমি, ডাক্তার ঝা, বিশাল আর দেওধরের খাসলােক পবন উপস্থিত এমন সময় একজন কাজের লােক এসে পবনের উদ্দেশ্যে জানাল, ” হুজুর লাখন আয়া হ্যায়।” ” ঠিক হ্যায় চল।” পবন বেরিয়ে গেল। পবনকে হুজুর বলছে মানে এবাড়িতে পবন বেশ ক্ষমতাশালী। বিশালও কিছু একটা দরকারে ঘরের বাইরের যেতেই ডাক্তার ঝা শশব্যস্ত হয়ে আমার একদম কাছে সরে এসে ফিসফিস করে বললেন, ” ডক্টর সেন, আপক এক বাত বাতা রাহা ৷

Bangla golpo

Bangla golpo
Bangla golpo

 

দেওধর জি কে বিমারি কে পিছে জারুর কুহু আলাগ বাত হ্যায় জো ছুপায়া জা রাহা হ্যায়। আই থিংক দেওধর জি কে রাইট হ্যান্ড পবন কো সব মালুম হ্যায়। জব ভি বুখার বাড় রাহা হ্যায় দেওধরজি ও মুঝে মার ডালেগি, ও ইন্তেকাম লেগি, রানী মুঝে ছােড় দে এসব বড়বাড়া রাহে হ্যায়। মুঝে লাগ রাহা থাকে ‘ইনকে দিমাগ মে কোই খউফ বৈঠ গ্যায় হ্যায় ইসলিয়ে ম্যায়নে পবন সে পুছা কে রানী কৌন হ্যায় পর উসনে উল্টা মুঝে ধামকাকে আপনা কাম ঠিক সে কারনে কো বােলা। ম্যায় ইস ইলাকে মে রাহাতা ইসলিয়ে…. আই থিংক আপ সমঝ রাহে হ্যায়। আপ বাহার সে আয়ে হ্যায়, বিশাল কে দোস্ত ভি হ্যায় সায়েদ আপ কুছ কর সকে। আগর বিশাল কো কুছ পাতা হ তাে আপক আসানি হােগি। আপভি ডক্টর হাে আউর ম্যায় ভি ইসলিয়ে এসব বাতায়া প্লিজ কিসি কো বাতানা মত।”

ডক্টর ঝায়ের কথাগুলাে মাথায় ঘুরছিল। ওনার কথাই সত্যি। আমাকে কথাগুলাে জানিয়ে দিয়েই সাত তাড়াতাড়ি উনি বেরিয়ে গিয়েছিলেন। আমার মনে হয়েছিল উনি বড়া হাভেলী থেকে পালিয়ে বাঁচলেন। কিছুটা সময় আমি দেওধরের সঙ্গে একলা ছিলাম। তখনই ঘটনাটা ঘটে। দেওঘরের জ্বর ক্রমশ বাড়তে থাকে আর চোখদুটো বন্ধ। অবস্থাতেই উনি চিৎকার করে ওঠেন, ” মুঝে মাত মার। রাণী তু মুঝে মাফ কর। রিংগাে মুঝে মাফ কারাে।” তারপর গাে গো করতে থাকেন। আমারও রুগী দেখে মনে হচ্ছে ডক্টর ঝায়ের ভাইগনসিসে কোনও ভুল নেই। ” দেব, মেডিসিন এসে গেছে।” বিশালের ডাকে আমার চিন্তাসূত্র ছিন্ন হলাে। কিছু ওষুধ আনতে দিয়েছিলাম।। ড্রাইভার গিয়ে দুমকা থেকে নিয়ে এসেছে।

একটা ইনজেকশন পুশ করলাম। আপাতত এটাতেই কাজ চলবে মনে হচ্ছে। বিশাল বললাে,” তাের যদি এখন এঘরে থাকার জরুরাত না থাকে তাহলে চল ডিনার সেরে নিই। সাড়ে নয়টা পার হয়ে গেছে। পবন দাদা নানাজির কাছে থাক।” পবন তাে সর্বক্ষণই অতন্ত্র প্রহরীর মতাে দেওধরের কাছে থাকছে দেখছি নেহাত দরকার ছাড়া বেরােচ্ছেই না ঘর থেকে। খেতে বসে বিশালকে জিগ্যেস করলাম, ” বিশাল, রানী আর রিংগাে কে তুই জানিস?” বিশাল হতাশ গলায় বললাে, ” আই ডােন্ট নাে ইয়ার। নানাজি এই নামগুলাে নিচ্ছে আমি জানি বাট এই বেপারে কোনাে ইনফরমেশন নেই আমার কাছে।” তারপর। একটু থেমে গলা নামিয়ে বললাে,” দেব, তােকে একটা সাচ বাত বলছি।

একজন জামিন্দারের যা যা ব্যাড হ্যাবিটস থাকতে পারে আমার নানাজির সব কিছুই ছিল এক সময়। এখানের মাইলটাই ডিফারেন্ট। ছােটবেলায় আসতাম মজা করতাম ঠিক আছে বাট বড় হওয়ার পর যখন তখন লােককে ধরে এনে চাবুক মারছে এসব ভালাে লাগতাে না তাই আসা কম করে দিয়েছিলাম। লােকে নানাজিকে ভক্তি কম ভয় জাদা করে।এখন। নানাজির দেখভাল করার জন্য আসি মাঝে মাঝে।” পবন কিছু জানতে পারে?” জিগ্যেস করলাম আমি। ” তুম, হি ইজ দা পারফেক্ট ম্যান। ফিফটি ইয়ারস হয়ে গেল নানাজির সাথে আছে। দাঁড়া ডাকছি ওকে।” দীর্ঘদেহী পবন এসে দাঁড়াল আমাদের কাছে। লােকটাকে দেখলেই কেমন একটা অস্বস্তি বােধ হয়। সব সময় প্রয়ােজনের অতিরিক্ত গম্ভীর থাকে।

” বিশাল বাবা, বুলায়া মুঝে?” গম্ভীর কণ্ঠে প্রশ্ন করলাে পবন। বিশাল কোনও ভনিতা না করে সােজাসুজি প্রশ্ন করলাে,” এ রানী আউর রিংগাে কৌন হ্যায় জিন সে নানাজি ভর রাহে হ্যায়?” হিসহিসিয়ে উঠলাে পবন, চোখগুলাে জ্বলে উঠলাে” হামারে হুজুর কো ভরায়ে দুনিয়া মে এইসি কই চিজ হি নাহি।” তারপর আমার দিকে ঘুরে বলল,” হামক মালুম হ্যায় ও শালা ডাগদার নে আপকি দিমাগ খায়ি হ্যায় পর ইতনা ইয়াদ রাখনা হামারে হূজুর পর আগর কই উজলি উঠায়ে গা তাে হাম ও উংলি কাট দেনগে।” আমাদের কোনও কথা বলার সুযােগ না দিয়ে পবন চলে গেল। ওর বলিষ্ঠ পদক্ষেপ দেখে মনে হবে না ওর বয়স সত্তর। Bangla golpo

Rupkothar Golpo – ১০টি সেরা ছোটোদের মজার মজার রূপকথার গল্প

 

রাত প্রায় এগারােটা। দেওধর সিংয়ের ঘরের পেছনে লাগােয়া একটা বারান্দা আছে। আমি সেখানেই দাঁড়িয়ে আছি। ঘরের মধ্যে পবন আর বিশাল আছে। অবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে। সেই আতঙ্কিত চিৎকার চলছেই। ইনজেকশন দিয়েছি একটা তাই একটু থেমেছে। পবন কি একটা মাদুলি এনে হাতে বেঁধে দিল। আমরা কিছু বলিনি ওকে। আমি মুগ্ধ হয়ে প্রকৃতিকে উপভােগ করছিলাম। পূর্ণিমা রাতে এই পাহাড়-জঙ্গলের শােভা দেখে কবিরা বােধহয় পাগল হয়ে যাবে। সাদা জোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছে চারিদিক। নদীর জল রুপােলি তলােয়ারের ফলার মত চকচক করছে। অপূর্ব এ দৃশ্য। হঠাৎ মনে পড়ল আজ আবার চন্দ্র গ্রহণের যােগ আছে। দেখতে দেখতে গ্রহণ শুরু হলাে। গােল থালার মত চাঁদটা আস্তে আস্তে ক্ষয় হতে আরম্ভ করলাে। ” দেব, চল একটু কফি খেয়ে আসি নীচ থেকে। এই রুম থেকে একটু বাহার যাই। প্রচুর মেন্টাল প্রেশার হয়ে যাচ্ছে।”

সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে কেমন একটা অস্বস্তি করছে। এমনিতেই এখানে ভােল্টেজ খুব কম তারওপর কম পাওয়ারের একটা বাল্ব জ্বলছে। সিঁড়িটা প্রায় অন্ধকার। সিঁড়ির শেষ ধাপে এসে থমকে দাঁড়ালাম। আমার বাস্তবঅবাস্তব বােধ সব হারিয়ে যাচ্ছে। বিশাল আমার কাঁধটা খামচে ধরেছে। চোখের সামনে যা দেখছি তা সত্যি না দৃষ্টি বিভ্রম! স্টাফ করা বাঘের মধ্যে থেকে একটা বাঘ তার নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড থেকে নেমে নীচে দাঁড়িয়ে আছে। চোখ দুটোয় আগুন। ধীরে ধীরে সে এগিয়ে আসছে সিঁড়ির দিকে। আমার পা দুটো পাথরের মত ভারী মনে হচ্ছে।” ভাগ দেব ভাগ।” বিশালের চিৎকারে সম্বিৎ ফিরল আমার কিন্তু পালাব কোথায় সামনেই সে। বাধ্য হয়ে আমরা এক ছুটে দোতলায় ফিরলাম। দেওধরের ঘরটাই প্রথমে পড়ে। Bangla golpo

 

Golpo

 

আমরা দরজা লাগিয়ে হাঁপাতে লাগলাম। আমাদের এই অবস্থায় দেখে পবন উদ্বিগ্ন হয়ে জিগ্যেস করলাে,” ক্যায়া হুয়া বিশাল বাবা। ক্যায়া হুয়া?” আমরা উত্তর দেবার আগেই দেওবরের আতঙ্কিত চিৎকার,” ও আ গায়ি। ও ইন্তেকাম লেনে আ গায়ি।” প্রায় সঙ্গে সঙ্গে শুনতে পেলাম বুকের ভেতর পর্যন্ত কাঁপিয়ে দেওয়া গগনবিদারী এক পাশবিক নাদ। গর্জনটা যে ঠিক এই ঘরের দরজার বাইরে থেকে আসছে সেটা বুঝতে আমাদের দেরি হলাে না। আতঙ্কে আমরা বাকশক্তি রােহিত হয়ে গেছি। পবনের চোখে মুখে চরম বিস্ময়। সে বিড়বিড় করে বলে চলেছে, ” নেহি এ নেহি হাে সকতা। হুজুর আপ চিন্তা মত করনা পবন হ্যায় আপকে সাথ।” ঘরের দরজায় সে প্রবল আক্রোশে আঁচড়াচ্ছে। পুরােনাে দিনের ভারী দরজা কিন্তু আমার মন বলছে তাকে আটকানাের সাধ্য নেই আমাদের। একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটল, তিন দিন ধরে বেহুঁশ হয়ে থাকা দেওধর চোখ খুললেন।                              

বিস্ফারিত হয়ে আছে চোখদুটো, মৃত্যু ভয় সেখানে স্পষ্ট। দরজাটা ভেঙ্গে পড়ল। স্বল্প আলােয় দেখলাম তাকে, হলদে কালাে ডােরাকাটা শরীর, চোখে প্রতিশােধের আগুন। রাজকীয় ভঙ্গিমায় সে ঘরে ঢুকলাে। আমি আর বিশাল আলমারির গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছি। পবন দেওয়ালে আটকানাে বন্দুকটা খুলে নিয়েছে প্রতিরােধের উদ্দেশ্যে। পরপর ফায়ার করছে পবন। এত কাছ থেকে একজন শিক্ষানবিশেরও লক্ষ্যচ্যুতি ঘটে না আর পবন তাে শুনেছি একজন দক্ষ বন্দুকচালক কিন্তু সেও আজ ব্যর্থ। নাহ পবন লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি কিন্তু বন্দুকের গুলি দেহধারী শরীরীদের ক্ষতি করতে পারে, মরণের ওপার থেকে ফিরে আসা অশরীরিদের নয়। সমগ্র চরাচর কাঁপানাে এক হুঙ্কার ছেড়ে সে লাফ দিল দেওধরের পালঙ্কের ওপর। বীভৎস সে দৃশ্য। খাটে শায়িত দেওধরের বুকের ওপর অশরীরী বাঘ। নখের আঁচড়ে ফালাফালা হয়ে যাচ্ছে জমিদার দেওধর সিংয়ের দেহটা।                                Bangla golpo

দেওঘরের আর্তনাদ আর বাঘের তর্জন একাকার হয়ে যাচ্ছে। আমরা আতঙ্কে স্থবির হয়ে গেছি। এক সময় দেওধর চিরকালের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলেন কিন্তু তার প্রতিশােধ বােধহয় শেষ হয় নি। এবার তার শিকার পবন। প্রবল আক্রোশে ঝাঁপিয়ে পড়ল পবনের ওপর। মানুষ আর অশরীরী অমানুষের মধ্যে শুরু হলাে অন্তিম যুদ্ধ যে যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারিত। রক্তের নদী বয়ে চলেছে ঘর জুড়ে। এতক্ষণ রক্তক্ষরণ হচ্ছিল দেওধরের শরীর থেকে এবার তার সাথে যুক্ত হলাে পবনের রক্ত। বিশালদেহী পবনের বুকটা ক্ষতবিক্ষত। প্রতাপশালী জমিদার আর তার বিশ্বস্ত অনুচর দুজনেই আজ পরাজিত। এবার সেই অশরীরী। অমানুষের আক্রমণের লক্ষ্য আমরা। সে এবার পবনের দেহ ছেড়ে আমাদের দিকে ঘুরে তাকালাে। হঠাৎ বিশাল আমার হাত ধরে টান মারল। পবনের দেহ থেকে আমাদের দূরত্ব প্রায় হাত পনেরাে। আমাকে টেনে নিয়ে বিশাল ছুটে চললাে দরজার দিকে। Bangla golpo

 

Bhuter Golpo – ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প -পড়ার পর গা ছমছম করবে

 

অত্যন্ত দ্রুত গতিতে নীচে নেমে পেছনের একটা দরজা দিয়ে বেরিয়ে বাড়ির পেছনের একটা ছােট গেট দিয়ে বেরিয়ে ছুটতে শুরু করলাম আমরা। কোথায় যাচ্ছি আমি জানি না। শুধু বিশালকে অনুসরণ করছি। পেছনে মূর্তিমান মৃত্যু ধাওয়া করছে আমাদের। একটু গিয়েই বিশাল যেখানে ঢুকলাে সেটা যে একটা মন্দির দেখেই বােঝা যাচ্ছে। মন্দিরের পাশের একটা ছােট ঘরের দরজায় বিশাল পাগলের মতাে ধাক্কা দিচ্ছে আর বলছে,” গুরুজী হামে বাঁচাইয়ে। হামে বাঁচা লিজিয়ে।” দরজা খুলে গেল। দরজায় গেরুয়া  বসন 

পরিহিত এক সন্ন্যাসী। আমাকে নিয়ে বিশাল ছুড়মুড় করে ঘরে ঢুকে পড়ে সন্ন্যাসীর পা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে আরম্ভ করলাে,” হামে বাঁচাইয়ে গুরুজী।” “ম্যায় বাঁচানে বালা কই নেহি বেটা সব উপর বালে কা হাত মে হ্যায়।” জলদ গম্ভীর কণ্ঠে বললেন সন্ন্যাসী। তারপর আমাদের অভয় দিলেন এই বলে যে এখানে আমাদের কোনও ভয় নেই। জল খেয়ে একটু ধাতস্থ হয়ে পুরাে ঘটনাটা বলতে বলতে বিশাল কেঁদে ফেললাে। চোখের সামনে দাদুর এমন ভয়ানক মৃত্যু দেখেছে। ” রাে মত বেটা। দেওধর কো উসকি পাপ কি সাজা মিলি হ্যায়।” আমাদের জিজ্ঞাসু দৃষ্টি দেখে সন্ন্যাসী বললেন, ” মুঝে পাতা হ্যায় তুম লােগাে কি মন মে বহুত সওয়াল হ্যায়, তাে শুন।” এরপর সন্ন্যাসী যা বললেন তার বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়, আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে দেওধর তখন নিতান্তই লাগামহীন ঘােড়ার মত বেপরােয়া এক যুবক।

দেওধরের বাবা তখন জীবিত কিন্তু তিনিও তাঁর পুত্রের লাগাম টানার কোনও চেষ্টা করেন নি। তখনও দেশে শিকার করা বা সার্কাসে পশুদের খেলা দেখানাে নিষিদ্ধ হয় নি। একবার কোনও একটা মেলা-উৎসব উপলক্ষে এখানে সার্কাস বসেছিল। লােকের খুব পছন্দ হয়েছিল। বিশেষ করে বাঘের খেলা। রানী নামে একটা বাঘিনী ছিল সার্কাসে। রানী আর রিং মাস্টার রিংগাের জুটি ছিল অনবদ্য। রিংগাে রানীকে বলত তার মেয়ে আর রানীও মেয়ের মতােই বাধ্য ছিল তার। সেদিনও ছিল আজকের মতাে পূর্ণিমা আর চন্দ্রগ্রহণ একসাথে। সেদিনের সাথে আজকের তিথি নক্ষত্রের যােগ একদম এক। রাত্রে ইয়ার বন্ধুদের সঙ্গে মদ্যপান করার পর দেওধরের শখ হয় তখনই রানীর খেলা দেখবে।

সার্কাসের তাঁবুতে পৌঁছে দেওধর আর তার সঙ্গীরা হল্লা শুরু করে। রানীর খাঁচার কাছে গিয়ে তাকে বিরক্ত করতে আরম্ভ করে। ম্যানেজার ভয়ে কিছু না বললেও রিংগাে প্রতিবাদ করে। পরিষ্কার জানিয়ে দেয় পশু হলেও ওদেরও ইচ্ছে অনিচ্ছে আছে এত রাতে রানী খেলা দেখাবে না। তার এই ধৃষ্টতার শাস্তি স্বরূপ পবনের বন্দুকের গুলি শেষ করে দেয় তাকে রানীর সামনেই। রানী প্রবল গর্জন করতে থাকে কিন্তু তাকেও স্তব্ধ করে দেওয়া হয়। মদ্যপ দেওধর শেষ করে রানীকে। ক্ষমতার জোরে দেওধরের যে কোনও শাস্তি হয় নি তা বলাই বাহুল্য। রানীকে এনে স্টাফ করে নিজের বাড়িতে সাজিয়ে রাখে দেওধর। সবাইকে নিজের শিকারের নিদর্শন হিসেবে দেখায়।

আজ এত বছর পর একই তিথি-নক্ষত্র যােগ পেয়ে রানীর অতৃপ্ত আত্মা প্রতিশােধ নিতে ফিরে এসেছিল। সেদিন ঠিক গ্রহণ শুরুর সময়ই রানীর মৃত্যু ঘটেছিল। গ্রহণ শেষ হয়ে গেছে তাই আর আমাদের ভয় নেই। সন্ন্যাসীর বলা শেষ হলে আমি প্রশ্ন করলাম, আপক ইতনা সব ক্যায়সে পাতা?” সন্ন্যাসী মৃদু হেসে বললেন,” উসি ঘটনা না মেরে জিন্দেগী কি রাহা বদল দি। ম্যায় ভি থা দেওধর কি দোস্ত পর আঁখ কি সামনে এসব দেখ কর মেরে রূহ কাঁপ উঠা, মন বদল গ্যায়া আউর ম্যায়নে সংসার ছােড় দি।” নিস্তব্ধ হয়ে বসে আছি। বিশাল দুহাতে মুখ ঢেকে কাঁদছে মৃত দাদুর শােকে না দাদুর কৃতকর্মের লজ্জায় জানি না। হঠাৎ হৈ হল্লা শােনা গেল। একজন লােক টর্চ হাতে ছুটতে ছুটতে এসে সন্ন্যাসীকে বললাে,” গুরুজী বড়া হাভেলী মে আগ লাগ গায়ি হ্যায়।” সন্ন্যাসী বললেন,” রানী নে আপনা ইন্তেকাম পুরি তার পুরা কিয়া।”

 

সমাপ্ত

 


 

 

নবজন্ম

শুভম

 

(প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যে)

আজ বড় গুমােট। হিউমিডিটি এতাে বেশি যে ঘেমে ঘেমে আমার রঙীন শার্ট সাদা হয়ে গেছে। তার মধ্যে আজ অফিস থেকে বেরােতেও লেট। মােক্ষম সময়ে কাজ ধরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে বসের পিএইচডি আছে। তাে সেই সব শেষ করে বেরােতে বেরােতে রাতই হােলাে। বাড়িতে সঙ্গীতাকে ফোন করে বলে দিলাম “খেয়ে নিও  খােকনকেও ঘুম পাড়িয়ে দিও। মনে হচ্ছে 10টা বাজবে।”

ভাগ্যিস অফিসের গাড়ি ড্রপ করে দিয়ে যায়। নাহলে কি যে হতাে! তাে সে যা হােক, ac গাড়ি তাে নয়। আর আজকাল রাস্তায় ট্রাফিক এতাে বেশি না, উফ্ফ। সেসব মহাসমুদ্র পার করে এসে যখন ফ্ল্যাটের সামনে আসতে পারলাম, তখন ঘড়ি বলছে 11:10l ওরে বাপ রে। ফ্ল্যাটের সামনের করিডােরে কি সাংঘাতিক গরম। যেন হিট ওয়েভ চলছে। সেই কবে শেষ কালবৈশাখী এসেছিলাে। সেও বােধহয় মাসখানেক হােলাে। ওই বাইরে একটু হাওয়া দিচ্ছে বটে। কিন্তু তাই বলে তাে আর বাইরে রাত কাটানাে যায় না!                                          Bangla golpo

ফ্ল্যাটের একটা চাবি আমার কাছেই থাকে  দরজা খুলে ঢুকে মনে হােলাে কেমন যেন সব চুপচাপ  সঙ্গীতা নির্ঘাৎ ঘুমিয়ে পড়েছে। খােকনও । কিন্তু তাই বলে এমন অন্ধকার করে রেখেছে কেন ? খালি একটা টিমর্টিমে নাইট বাল্ব জ্বলছে। সেই আলােতে ঘরের আসবাবপত্রগুলাে কেমন একটা দানবের মতাে লাগছে। দরজা বন্ধ করলাম আওয়াজ করে, ইচ্ছে করেই খানিকটা… এতক্ষণে বেডরুম থেকে সাড়া পেলাম। “কি গাে? তুমি এলে ?”সঙ্গীতার গলা। আমি বললাম “হ্যাঁ, ফাইনালি! -রাস্তায় জ্যাম ছিলাে? -আর বলাে না… -ফ্রিজে খাবার আছে। গরম করে নিতে পারবে ? না আমি উঠবাে। -না না থাক…খােকন ঘুমিয়েছে ? সব চুপ  কোনাে সাড়াশব্দ নেই সঙ্গীতার অবশ্য এরকম অদৃভূত অভ্যেস আছে। অনেক সময়েই দেখেছি কথা বলতে বলতে বেমালুম ঘুমিয়ে পড়ে। আমি শার্ট প্যান্ট খুলে স্রেফ একটা পায়জামা পরে ফেললাম। তারপর খেয়ে নিয়ে আলাে নিভিয়ে গুছিয়ে বসলাম সােফায়  ঘুম পরে, আগে একটা অন্য কাজ । এরকম সুযােগ খুব একটা পাওয়া যায় না। Bangla golpo

Bangla golpo
Bangla golpo

চ্যাট! ডেটিং সাইট ! এ এক অমােঘ আকর্ষণ !এ যেন প্রতিনিয়ত আমায় টেনে যাচ্ছে কোনাে লােলুপ মােহনার দিকে। দুর্নিবার সেই টান। অফিসে কাজের ফাঁকে বা, কখনও কখনও গভীর রাতে বিছানায় বসে অল্পবয়েসী মেয়েদের সঙ্গে চ্যাট। মাঝেমধ্যে ফেসবুকে ঋজু নামক ফেক প্রােফাইল থেকে অনলাইন হয়ে দুনিয়ার সুন্দরী মেয়ের প্রােফাইল ঘাঁটা। তাদের ছবিতে রসালাে কমেন্ট  মেসেঞ্জারে দু তিনটে কামােত্তেজক বার্তা  আজও অফিসে থাকতে থাকতেই কথা হয়েছিলাে নেহা আর রিয়ার সাথে মেসেঞ্জারে । রাত্রে তারা অনলাইন থাকবে বলেছে। অতএব, শুভস্য শীঘ্রম!

ফেক প্রােফাইলটা খুলে প্রথমেই মাথাটা দুম করে গরম হয়ে গেলাে। এই এক মাগী রয়েছে। সর্বক্ষণ ছবি এঁকে, কবিতা-গল্প লিখে বেড়ায়। আর তার নােটিফিকেশন আমার টাইমলাইন নােংরা করে। মুখটা সুন্দর দেখে ফ্রেন্ড। রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিলাম এই সােপান নামের মেয়েটিকে। ভেবেছিলাম ওর শরীরের সােপান বেয়ে দূরের পাহাড়, উপত্যকায় পৌছে যাবাে… তখন কে জানতাে ভাই, ইনি খাজুরাহাে নয়, নালন্দা,অজন্তা-ইলােরা এইসব নিয়ে ইন্টারেস্টেড! Bangla golpo

 

Love Story in Bengali – ১০টি সত্য ভালোবাসার গল্প

 

সােপানের প্রােফাইলে মাত্র দুটো না তিনটে ছবি। মুখটা দেখে চেনা লাগতাে। মনে হতাে কোথায় যেন দেখেছি। চেনা মেয়ের দিকে ছোঁকছোঁক করাতে সমস্যা আছে। তবে আমার যদিও ফেক প্রোফাইল। এবং উদ্দেশ্যও ছিলাে মহৎ I দেবে কিনা ?দিলে কত তাড়াতাড়ি?  শারীরিক তাড়নার চোটে ওসব ঝামেলার কথা মাথায় খুব একটা জাঁকিয়ে বসেনি। প্রথম প্রথম ছবিতে কমেন্ট দিতাম হট বড়’, ‘সেক্সি বেব’৷ একটা রেসপন্স দিতাে না শালী। পরের দিকে একটু মাত্রা চড়ালাম। মেসেঞ্জারে লিখে দিলাম “সেন্ড মি ন্যুডস” ওহ্ তেরি, ব্লক করে দিলাে ! তবে কি মনে করে ফেসবুকে আনফ্রেন্ড করেনি।

আজ আবার একটা লেখা দেখছি। আমায় ছাড়া আরাে পাঁচ ছজন কে ট্যাগ করা। বিরক্ত হলাম। কিন্তু ডেটিং সাইটের চ্যাটে আমার রাতপরীরা এসে হাজির হয়নি এখনও। তাই পড়তে শুরু করলাম। প্রথমে ‘ফিলিং হার্টব্রোকেন’ দিয়ে শুরু। তারপর লেখাটা এরকম…সােপান লিখছে…

“আপনারা কি আদৌ পড়েন ?আমার কোনাে লেখা ? একেবারে ওপর থেকে নীচে অবধি ?না পড়েন না। ওগুলাে তাে বস্তাপচা লেখা, তাই না ?আসল মজা তাে সুন্দরী মেয়েদের ছবিতে নােংরা কমেন্ট দিয়ে ?”। মনে একটা পুলক অনুভব করলাম  বেড়ে তাে! এতাে শালা আমারই কথা। দেখি দেখি…আবার পড়তে শুরু করলাম।

Bangla golpo

*.একটা অর্ধনগ্ন মেয়ের ছবিতে গুচ্ছ গুচ্ছ লাইক দেন  নাল টপকিয়ে পড়ে। আর একটা কষ্ট করে হাতে আঁকা ছবিতে লাইক দিতে এতাে কষ্ট আপনাদের? আটভাট মিম পড়েন সারাদিন সাময়িক মস্তি পেয়ে হা হা করতে থাকেন অথচ একটা ভালাে লেখা পড়তে আপনাদের সময় নেই। আসলে বিনােদন নেই যে! বিনােদন তাে আপনারা দেহের খাঁজ ছাড়া খুঁজে পান না। কিন্তু লেখায় ভুল ত্রুটি, grammatical mistake, বানান ভুল খুঁজে লেখককে দুষতে আপনারা সর্বদা তৎপর !…”

আবার একটু মজা পেলাম  বাপ রে ! এতাে মনে হচ্ছে আমাকেই ঠুকছে । এই কদিন আগেই ওর একটা কবিতায় আমি যা তা লিখেছিলাম। ফ্রাস্ট্রেশন থেকে অবশ্যই  আমার সাথে ইনটুপিট করলে হয়তাে করতাম …যা গে…

আবার পড়তে লাগলাম।

 

.যাঁরা এইভাবে আমায় অবজ্ঞা, অশ্রদ্ধা করছেন তাদের জানিয়ে দি। আমি কুইট করছি। আপনারা একটু কষ্ট করে পড়লে আমায় হয়তাে আজ এটা করতে হতাে না । লিখতে অনেক কষ্ট, সেসব কি বােঝেন ? আজ আপনারা না পড়েন,আমি পড়বাে। ওপর থেকে নীচে  অনেক ওপর থেকে অনেক নীচে  আমার লেখা পড়তে আপনাদের যতটা সময় লাগে তার থেকে অনেক কম সময়ে। শরীর চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যাবে। আর তারপর, কোনাে এক গভীর রাতে যখন আবার আপনারা নােংরামি করবেন, আপনাদের ঠিক পিছনে এসে বসে থাকবাে। কাঁধে হাত দিয়ে ডাকবাে আপনি যখন খিল্লি করে কমেন্ট করবেন তখন ফিসফিস করে আপনাদের কানে কানে বলবাে…”    Bangla golpo

এই অবধি পড়ে আর ইচ্ছে করলাে না। স্ক্রল করে গেলাম  ফালতু ট্র্যাশ লেখা সব  দুদিন ফেসবুকে লিখে এরা নিজেদের রবীন্দ্রনাথ ভাবে!

সােফায় রিমােটটা পড়ে ছিলাে। টিভির পাওয়ার অন দেখছি। টিভিটা চালালাম। না,এই রাত বারােটায় অবশ্যই কোনাে প্রােগ্রাম দেখতে নয়। একটা অস্বস্তি থেকে বাঁচতে  ফোনটা রেখে দিয়েছি কিন্তু কথাটা মাথা থেকে যাচ্ছে না৷ ওই যে লাস্ট লাইনটা। এ আবার কেমন কথা! আর লেখাটা সুইসাইড নােট নয়তাে! আত্মহত্যা করে ফেরত আসবে কিভাবে ?একটা অজানা ভয় মনটাকে আচ্ছন্ন করে তুললাে। যদিও আমি খুব যে ভূত বিশ্বাস করি তা না, তবে এ ব্যাপারটা স্বতন্ত্র। লেখাটার প্রতি হুএ যেন আমাকেই উদ্দেশ্য করে লেখা। লেখাটায় কেমন যেন অশুভ ঈঙ্গিত আছে। একবার পিছনে তাকিয়ে ও নিলাম  সােফার পিছনে অন্ধকার । বেডরুমের দরজা ভেজানাে  কি করবাে !শুয়ে পড়বাে ? সঙ্গীতার যা ঘুম, কথা বলে ভয় কাটানােরও উপায় নেই। নাকি ওয়েট করবাে নেহা, রিয়ারা কখন অনলাইন হবে… গা ছমছম করছে। সােফা থেকে উঠে যে আলাে জ্বালাবাে, তাও বেশ কিছুটা দূরে সুইচ।

আর এই টিভিও তেমন। দুনিয়ার জঘন্য সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমায় ভর্তি। না, এই তাে। অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দোলাচ্ছে এক নায়িকা। আহ এই তাে চাই  সাউথের হিরােইনগুলাে চম্পা পুরাে । বুকে বাঁ হাত বােলাতে শুরু করলাম। ডান হাত পায়জামার ভিতরে চলে গেলাে। মুহূর্তে মন থেকে ভয়ের ভাবনাটা দূর হয়ে গেলাে। Bangla golpo

 

Bengali Love Quotes

 

কিন্তু পরক্ষণেই ফিরেও এলাে। এবং দারুণভাবে। এই মুখ, এই নায়িকার মুখ কোথায় যেন দেখেছি ! আমার পেটের ভিতরটা কেমন চিনচিনে ব্যথা করতে লাগলাে। এ মুখ আমি চিনি। শুধু চিনি না, ভালমতন চিনি। এতাে সােপান ! মানে সােপানের যা যা ছবি আছে ফেসবুকে অবিকল 

এক মুখ! মানে ? এ আমার পরিচিত গণ্ডীর কেউ নয়। যার প্রােফাইল সে বেসিক্যালি একটা ফেক প্রােফাইল চালাচ্ছে !

আবার ফোনটা হাতে নিয়ে ফেসবুক খুললাম। সােপানের লেখাটা খুঁজতে শুরু করলাম। টুং টাং শব্দ হােলাে। রিয়া অনলাইন। মেসেজ এসেছে। গ্রাহ্য করলাম না। লেখাটা কই?কোথায় লেখাটা? হ্যাঁ এই তাে… “আপনি যখন খিল্লি করে কমেন্ট করবেন তখন ফিসফিস করে আপনাদের কানে কানে বলবাে…”

কই এর পর তাে আর লেখা নেই! Bangla golpo

 

New Bangla golpo

 

আমার হাতটা কেঁপে উঠলাে। আমার ঠিক পিছনে কে যেন এসে দাঁড়িয়েছে। পা টিপে টিপে কোনাে শব্দ পাই নি। আমি বুঝতে পারছি সে অশরীরী নয় ! তার নড়াচড়ার আভাস পাচ্ছি। টিমটিমে নাইট ল্যাম্পের আলােয় তার দীর্ঘ ছায়া আমার মাথার ওপর দিয়ে টিভি অবধি পৌছে গেছে। তার নিঃশ্বাস যেন আমার নিঃশ্বাসের থেকে ধীরে। পিছনে তাকিয়ে দেখার প্রবল ইচ্ছে হচ্ছে। কিন্তু শরীর যেন পাথর হয়ে গেছে। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখার সাহস হচ্ছে না। সে এক যেন মূর্তিমান অমঙ্গল! অপেক্ষায় আছে আমার শেষ দেখার জন্যে। অপেক্ষা করছে আমার অসতর্কতার!একটা চীৎকার গলার কাছে এসে আটকে আছে যেন… কাঁধে একটা ঠাণ্ডা হাতের স্পর্শ! সে হাতের নখ বেশ লম্বা! আমার চোখটা প্রায় বুজে এসেছে। এক্ষুনি হয় হুমড়ি খেয়ে পড়বাে নয় অজ্ঞান হয়ে যাবাে…এমন সময়… কেউ চেঁচিয়ে উঠেছে। একি! এতাে খােকনের গলা ! কি বলে চেঁচাচ্ছে ও?..বাবা, বাবা..      Bangla golpo

আমার কানের কাছে কেউ একজন মাথা ঝুঁকিয়ে ফিসফিস করছে। সােপান! কি করে সম্ভব? তবে কি ওর আত্মা সত্যিই এসে দাঁড়িয়েছে আমার পিছনে!কি বলছে সােপান? আমি থরথর করে কাঁপছি! ও ফিসফিস করেই যাচ্ছে। বারকয়েক শােনার পর পরিষ্কার হােলাে। হ্যাপি বার্থ ডে ! হ্যাপি বার্থ ডে সুমন। চমকে দিয়ে ঝাড়বাতিটা জ্বলে উঠলাে। খােকন লাফাচ্ছে ঘরের মধ্যে । উল্লসিত  চোখে মুখে নিস্পাপ হাসি। “বাবা ভয় পেয়েছে, বাবা ভয় পেয়েছে! হ্যাপি বার্থ ডে বাবা!” আমার তখন প্রায় দাঁতে দাঁত লেগে যায়। সঙ্গীতা তখনও ফিসফিস করে বলছে “হ্যাপি বার্থ ডে সুমন!সােপানের প্রােফাইলটা আমারই ফেক প্রােফাইল। যেমন ঋজুরটা তােমার। কিন্তু ওটা আমি লেখালেখির কাজেই ব্যবহার করি…তােমার মতাে ফালতু.. -স…স..সরি !! তােতলাতে তােতলাতে বললাম। -কিসের সরি ! ছিঃ লজ্জা করে না… -না প্লিজ…শােনাে… -তুমি শােনাে যা বলছি। তুমি খুব জঘন্য খেলায় নেমেছে। তবে সেকেন্ড চান্স সবার প্রাপ্য। যা করেছাে, করেছে।  ঘরে নাও আজ তােমার নতুন জন্ম হােলাে। এরপর খােকন এরকম আনন্দের সঙ্গে তােমায় আর উইশ করবে কিনা, আদৌ তােমায় বাবা বলে সম্মান দেবে কিনা…সেটা তােমারই হাতে।

আমি এরপরেও বেশ কিছুক্ষণ বসে থাকলাম থম মেরে। সােপান…এই সরি সঙ্গীতা এসে হেসে বলে গেলাে একদিন রাতে বাথরুমে গেছিলে ফোনটা ফেলে, তখনই দেখলাম এই ঋজুদার কীর্তি ‘বাই দ্য ওয়ে, আমার লেখাটায় একটা ‘হা হা’ রিয়্যাকশন দেবে নাকি ?দেখাে লেখাটা আপডেট করেছি।” ফেসবুক খুলে লেখাটা আবার পড়লাম। দেখলাম লেখাটায় এখন আমি ছাড়া আর কেউ ট্যাগড নেই। শেষে সেই লাইনটা। “আপনি যখন খিল্লি করে কমেন্ট করবেন তখন ফিসফিস করে আপনাদের কানে কানে বলবাে…” তারপর লেখা..

“শুভ নবজন্ম! শুভ বুদ্ধির উদয় হােক!

 

* সমাপ্ত *

 


 

বুকের বাম পাশে তুমি

শারমিন আক্তার

 

একটি ঠিকানা বিহীন চিঠি….

বুকের বাম পাশে তুমি..

প্রিয় । প্রথম যেদিন তােমাকে দেখেছিলাম, সেদিন সত্যিই আমার ধারনা পাল্টে গিয়েছিলাে। তুমি শ্যম বর্ণের। এ রংএ ও মানুষকে কতটা মায়াবী লাগতে পারে তা তােমাকে না দেখলে বুঝতেই পারতাম না। আমি ছিলাম নবম। শ্রেনীতে পড়া এক কিশােরী, সবার চোখে অপ্সরা ছিলাম। এ বয়সের একটি মেয়ে কল্পনায় একজন সুদর্শন রাজপুত্রের জন্যই অপেক্ষা করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তােমাকে দেখে কি যেন হলাে, বুকের বামপাশটায়। একটা চিন চিনে ব্যাথা অনুভব করলাম।

কোচিং সেন্টারে সেদিন প্রথম ক্লাসে তুমি এসেছিলে। কি গম্ভীর একটা কণ্ঠস্বর। বিজ্ঞানের প্রথম চ্যাপ্টার।কি সব পড়ে আসতে বলেছিলে। আমার কানে কিছুই প্রবেশ করেনি। শুধু চোখ কাজ করছিলাে। কিছুটা লজ্জাও লাগছিলাে। কেন জানি না চোখে চোখ পড়লেই অন্যদিকে চোখ ফিরিয়ে নিতাম। যেন আমি কিছু দেখিই নি।

পরদিন যখন আবার এসে বললে সবাই পড়া করে এসেছাে তাে? তখন আমার হুশ এলাে। হায়রে এবার পড়া না পাড়লে তাে অপমানিত হতে হবে।। সেদিন প্রথম তুমি আমার নাম জানতে চাইলে। আমি একটু আস্তে করে বললাম রুপা। আমি রুপা।পড়া। করেছে জানতে চাইলে। আমি চালাকি করে বললাম একবার রিভিশন করি হয়ে যাবে। আর তখনই পড়া তৈরি করলাম ভয়ে ভয়ে। হয়েছিল পড়াটা।বুঝে গেলাম তুমি আমার খুব কাছের কেউ যে পাশে থাকলে সব সহজ,সব সম্ভব। Bangla golpo

Bangla golpo
Bangla golpo

 

ধীরে ধীরে আমার মনে অনেকটা জায়গা করে নিলে। কেমন যেন সবসময়ই তােমাকে মনে পড়ে। তােমার কথা ভাবতে ই ভালাে লাগে। এত ভদ্র শান্ত কি করে তুমি। তােমাকে নিয়ে না ভাবলেই মনে হয় কি যেন হয়নি।

অন্য একদিন ক্লাশে তুমি হৃদপিণ্ড নিয়ে বােঝাতে ছিলে। অন্য সবাই বলছিলাে আজ এটা বুঝবে না অন্যদিন। শুধু আমিই বলেছিলাম স্যার সমস্যা নেই এটাই বুঝবাে। কারন যদি তুমি চলে যাও তবে তােমাকে হয়তাে দেখতে পাবাে না। তখন সহপাঠি দুটুমেয়ে ফারা বলেছিলাে স্যার আপনি রুপাকেই হৃদপিণ্ড দিন, আমাদের লাগবে না। যদিও কথাটা মিন করে বলেনি তবুও সবাই কথাটা শুনে থমকে গেছিলাে। আমি কিছুটা লজ্জা পেয়ে নিচের দিকে মুখ করে ছিলাম।                                                                        Bangla golpo

যেদিন তুমি কোচিং এ আসােনি আমি অসৃহির হয়ে গেছিলাম। কি হলাে তােমার। কিছু পরে অনিক মুখ ভার করে এলাে। তােমার আম্মা আর নেই। সত্যিই তােমার কষ্টগুলাে আমি যেন অনুভব করছিলাম।তখন মনে হচ্ছিল যদি তােমার মাথায় একটু হাত রেখে সান্ত্বনা দিতে পারতাম। তােমার কষ্টের কিছুটা আমার বুকে নিয়ে আসতে পারতাম। মাকে তুমি কতটা ভালবাসতে তা তােমার মুখে অনেক শুনেছিলাম, তােমার সব কিছুর পাসওয়ার্ড তােমার মা। সেদিন যেন তােমার প্রতি টান অনেক গুন বেশি অনুভব করেছিলাম।  Bangla golpo

 

দশম শ্রেনীতে তােমার অনেকটা কাছে আসার সুযােগ হয়ে গেল। কিন্তু যানতাম আমার এ অনুভূতি তুমি কখনই জানতেও পারবেনা। তােমার কাছে প্রাইভেট পড়তাম আমরা ৪/৫ জন। জানা পড়াগুলাে বুঝে নিতাম বারবার কিন্তু তা তাে কথা বলার অজুহাত। একটা বিষয় আমি বুঝতাম তুমি অন্য কাউকে পড়ালে আমার ঈর্ষা হতাে।

একদিন তােমার ভাগ্নীর জন্মদিনে দাওয়াত দিলে, সেদিন বেশি রাত হয়েছে বলে আমায় বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়েছিলে। বারবার মনে হতাে তুমিও কি আমার মত করে ভাবাে? আবার নিজেই নিজেকে উত্তর দিতাম আরে

তুমি দিবা স্বপ্ন দেখছাে রুপা। তােমার সৎ সসতা সম্পর্কে আমি বেশ ভালােই জানতাম শিক্ষক হয়ে ছাত্রীকে কখনােই তুমি আলাদা নজরে দেখবে না এটাই তােমার সততা আর আমার বিশ্বাস।কিন্তু আমার পােড়া মন। তােমাকে চোখের আড়াল করতে চাইতাে না। বারবার তােমার হৃদয়কে স্পর্শ করতে চাইতাে। একদিন বাসা থেকে তােমার কথা ভাবতে ভাবতে বের হলাম এর মধ্যেই দেখলাম তুমি যাচ্ছ।কিছুটা দূরে। ডাকলাম শােনােনি। দ্রুত পায়ে হেটে বারবার ডাকলাম। অবশেষে আমার ডাক শুনলে। আমি তােমার সাথে একসাথে হাটার একটা সুযােগ পেয়ে গেলাম আর আল্লাহকে মনে মনে শুকরিয়া জানাচ্ছিলাম।

 

Bengali Golpo

 

তুমি হয়তাে জানােই না কতদিন তােমাকে অপরিচিত মােবাইল থেকে কল দিয়ে চুপ করে থেকেছি শুধু তােমার কন্ঠস্বর শুনবাে বলে, তােমার নিঃস্বাসের শব্দ শুনবাে বলে, যদি বেশি রেগে যাও তাই দ্রুত কল কেটে দিতাম। এই ক’মাস বেশ ভালােই কেটেছিলাে।।

হঠাৎ একটা ঝড় এলাে। কোচিং সেন্টারে কিছু লােক তােমার নামে কুৎসা রটালাে। হয়তাে কোন বড় চালাকি। আমি ভিতরে ভিতরে পুরে যাচ্ছিলাম। তুমি নাকি বিবাহিত!!! তােমার নাকি যুথি নামের কোন মেয়ের সাথে । অবৈধ সম্পর্ক!!! যদিও এসবের কিছুই আমি বিস্বাস করিনি। কিন্তু খুব কষ্ট পাচ্ছিলাম। কারন যে ক্ষত কাউকে দেখানাে যায় না তার ব্যথা শুধু নিজেকেই ভােগ করতে হয়।

তারপর আর তুমি এলে না।শুধু মিস করতাম। কেন এমন হলাে, অন্তত চোখের সামনে তাে ছিলে। মাঝেমাঝে নিজের পরিচয় দিয়েই কথা বলতাম। তােমার যে আগ্রহ থাকতাে না বেশ বুঝতাম।

এরপর একদিন শুনলাম তুমি অসুস্থ। আমি ভিতরে ভিতরে ছটফট করতে লাগলাম। যার মা নেই সে তাে। অসহায়। তাই কেউ কিছু বুঝতে না পারে সেভাবে কয়েকজন কে রাজি করে তােমার বাসায় তােমাকে দেখতে গেলাম। ছাত্রী হিসেবে তাে যেতেই পারি। কিন্তু আমি তাে গিয়েছি আমার প্রিয় মানুষটাকে দেখতে। কতটা দুর্বল আর অসহায় লাগছিল তােমাকে। তােমার নাকি বুকে পানি জমেছিলাে, রােগটা না বুঝলেও বুঝতাম তােমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমি যদি তােমার পাশে একটু থাকতে পারতাম, তােমার সেবা করতে পারতাম। কিন্তু তেমন কোন অধিকার তাে আমার ছিলাে না।

বাসায় এসে খুব কাঁদলাম। নামাজ পরে আল্লাহর কাছে বলেছিলাম তুমি যেন পুরােপুরি সুস্থ হয়ে যাও। আমার ভালােবাসার পূর্নতা চাই না শুধু চাই তুমি সুস্থ থাকো, ভালাে থাকো। তারপর খােজ নিতাম, ফোন দিতাম। তুমি সুস্থ হয়ে তিন চিল্লা করতে চলে গেলে। তখন আর তােমাকে পাওয়া যেত না। ফোন নাকি তােমার কাছে রাখতে পারতে না। খুব কষ্ট পেতাম।তুমিই হঠাৎ কোনদিন কল করতে।

আমার টেস্ট রেজাল্ট এর পরদিন একটা ছােট দূর্ঘটনার সম্মুখীন হলাম। তখন কোন কাজই পারতাম না।ডিম ভাজতে গিয়ে তেল ছিটকে বামচোখে পড়লাে। কি কষ্টের মুহূর্তে যে ছিলাম। ভাবলাম এই বুঝি চোখ শেষ।ডঃ বলল চোখের বাজে অবস্থা। তুমি খবর পেয়ে দেখতে এসেছিলে।নতুন রুপে তুমি, মুখভর্তি দাড়ি, অসাধারন। লাগছিলাে। সেদিন আমি দেখেছিলাম তােমার চোখের কোনে পানি লুকোনাের মিথ্যা চেস্টা।আমার ব্যথায় তুমি ব্যথিত? আমি তােমার হৃদয় পেয়েছিলাম তুমি হয়তাে জানতেও পারােনি। তুমি তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে পড়েছিলে হয়তাে তুমি সহ্য করতে পারছিলে না।

মাত্র ১৫ দিন পর চোখ সেরে উঠলাে। এরপর পড়াশােনা নিয়ে খানিকটা ব্যস্ত হয়ে পরি। তুমি প্রায়ই ল্যান্ড ফোন দিয়ে কল করতে এবং অনেক সময় ধরে কথা হতাে আমাদের।   Bangla golpo

 

Valobasar Golpo – কাউকে ভালবাসতে হলে এমন ভাবে ভালবাসতে হয়

 

এস,এস,সি পরীক্ষা দিলাম। রেজাল্ট বের হলে।কলেজে ভর্তি হলাম।

তােমার আমার মধ্যকার জড়তা খানিকটা কমে এসেছিল। তুমি বুঝে গেছিলে ততদিনে তােমাকে ভালাে লাগার মাত্রাটা।

রমজান মাস। ততদিনে তােমার আমার মনের সন্ধিটা হয়ে গেছিলাে।নিউমার্কেটে নিয়ে গেছিলে তােমার কোন ভাবিকে দেখাতে।আমার কি যে লজ্জা লাগছিলাে বলে বােঝাতে পারবাে না। তারপর তােমার সাথে গিয়েছিলাম। তােমাদের বাসায়। ইফতার করেছিলাম তােমার সাথে আর ছিলাে তােমার বাবা এবং অতি আদরের ছােট বােনটি। তােমার বাবা আমাকে হয়তাে ততটা পছন্দ করেনি যখন শুনেছিলাে আমার গ্রামের বাড়ি বরিশাল। যখন তােমার বাসার সিড়ি দিয়ে নামছিলাম খুব অসহায় লাগছিলাে নিজেকে। তুমি যদি একটু আমার হাতটা ধরতে।আমার মাথায় তােমার হাতটা অনেক প্রয়ােজন ছিলাে।কিন্তু পবিত্রতা বজায় রেখেছিলে তুমি।আমিও তােমার এই পবিত্র হৃদয়কে সারা জীবন সম্মান করবাে। সেদিনও আমাকে বাসায় এগিয়ে দিয়েছিলে।

কয়েকদিন পর আমাকে একটা গিফট দিলে, অসাধারন একটি থ্রিপিস। রং টা আমার প্রিয় রং কালাে। সত্যিই জীবনের পরম পাওয়া ছিলাে ঐ টা।

চাঁদ রাতে দেখা করতে এসেছিলে।। ঈদের দিন সন্ধ্যায় তুমি এসেছিলে আমাদের বাসায়,আমি ভয় পাচ্ছিলাম কারন ভাইয়া বাসায় ছিলে যদি কিছু মনে করে। কিন্তু সবাই শিক্ষক হিসেবে ব্যপারটা স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছিলাে। শুধু ভাবি ছাড়া। পরের দিন ভাবি ঠাট্টার ছলে বলেছিলাে ডাল মে কুছ কালা, আমি শুধু হেসেছিলাম।

এরপর আমার জন্য একটা বিয়ের প্রস্তাব আসে। আমি চিন্তায় পরেছিলাম কি করবাে। তােমাকে জানালে কি ভাববে যে কদিনের মধ্যেই আমাকে বিয়ের জন্য তাড়া দিচ্ছি কিনা তাই আর বললাম না কোন রকম টেনশন তােমাকে দিতে চাইনি বলে।এর মধ্যেই আমার পেটে ব্যাথা। ডঃ বলল এপেন্ডিসাইটিস,সার্জারী (অপারেশন) করতে হবে। করলাম অপারেশন। বিয়ের কথা আপাতত বন্ধ, ভাবলাম মনে হয় বাদ হয়ে গেছে। কিন্তু আমি এটা জানতাম না যে ডঃ তিন মাসের আগে বিয়ে দিতে নিষেধ করেছে। তুমি সেবারও আমায় দেখতে এসেছিলে। কিন্তু তুমি আমাকে তােমার কষ্ট লুকাও। কেন করেছিলে আমি জানি না। তার কদিন পরেই তুমিও অসুস্থ হয়ে।

হসপিটালে ভর্তি ছিলে আমাকে জানাও নি বরং তােমাকে ফোন দিলে রিসিভ করতে না। তােমার কাজিনের। কাছে জানতে পারলাম সবটা। তারপর ভাবিকে সঙ্গে নিয়ে তােমাকে দেখতে গেছিলাম যদিও তখন আমাকে ডঃ বেডরেস্ট দিয়েছিলাে। হাটতে কষ্ট হতাে তবু তােমার কষ্টের কাছে কিছুনা। তাই চলে গেলাম দেখতে। তােমার। পাশে বসেছিলাম,একটু সাহস করে তােমার মাথায় হাতটা রেখেছিলাম যদিও সবাই লক্ষ্য করছিলাে তাই একটু ইতস্তত লাগছিলাে। বেশিক্ষণ বসতে পারছিলাম না তাই বাসায় চলে গেছিলাম। বাসায় এসে খুব অসুস্থ হয়ে পরি কারন গাড়িতে ঝাকুনি আর সিড়ি বেয়ে ওঠা নামার কারনে ব্যথা বেড়ে গিয়েছিলাে। তােমাকে জানাইনি কারন তুমি তােমার কষ্ট বলাে না আমিও আর বলবাে না।    Bangla golpo

তুমি যােগাযােগ শিথিল করে দিলে। আমাকে দোষ দিতে আমি নাকি গুরুত্ব দেই না। আর আমি ভাবতাম তুমিই চাও না।

তিনমাস পর আমাকে আম্মু বললাে যে প্রস্তাব এসেছিলাে তারা দেখতে আসবে। আমি না করি। বলেছিলাম এখন না,আগে ইন্টার পাশ করি তারপর। তখন বলেছিলাে শুধু দেখবে, দেখলেই তাে বিয়ে হয়ে যায় না। কিন্তু দেখার পর সাথে সাথেই ঘরােয়া ভাবে বিয়ে পড়ায়। আমি কি করবাে বুঝতে পারছিলাম না। তুমি তাে যােগাযােগ বন্ধ করে দিয়েছাে হঠাৎ করে যদি বলি বিয়ে হয়ে যাচ্ছে কি করতে তুমি,তুমি তাে সম্পর্কটা কে শক্ত করতে চাওনি। আমি কিভাবে জোর করি।

আমি হতাশ হয়ে পরেছিলাম, এতটুকু সময় কী আমার জন্য ফ্যামিলির কাছে ছিলাে না।আমি হয়তাে বােঝা হয়ে গেছিলাম।

যেখানে, যেভাবেই আছি বুকের বাম পাশে তুমি আছাে, ছিলে,থাকবে।।।

 

                                                                                                          ইতি “রুপা”

 

 

* সমাপ্ত *

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *