Home Horror Story Bengali Horror Story- Horror Story in Bengali - Bangla Vuter Golpo -ওই...

Bengali Horror Story- Horror Story in Bengali – Bangla Vuter Golpo -ওই কাঁচের বােতলটা

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don’t have sufficient time for going to the library and reading the storybooks In this age of the Internet. But, if we can read the story on this internet, then it is very interesting. So we have brought a few collections of Bengali story for you. Hope you will enjoy the stories in this busy lifestyle. In this post you will find the latest Bengali Horror Story, You can read here  Horror Story, download  Bengali Horror Story PDF, Hare you found top Horror Story in Bengali.

ওই কাঁচের বােতলটা

 কৃষ্ণেন্দু মুখােপাধ্যায়

 

ফিস থেকে বাড়ি ফিরে দরজার চাবিটা খুলতে যেতেই সিঁড়ির উপর থেকে বাড়িওয়ালা।

সন্দীপনবাবুর গলা পেল অনুষ্টুপ, “এই যে, আগে এদিকে একটু শুনে যাও।”

অনুষ্টুপ সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠে এল। সন্দীপনবাবু বেশ গম্ভীর মুখ করে সিঁড়ির মুখেই দাঁড়িয়ে আছেন। 

হাতে একটা বড়সড় পার্সেল। অনুষ্টুপ সামনে আসতেই পার্সোটা হাতে ধরিয়ে দিয়ে রীতিমতাে 

কড়া গলায় ধমকে যালে উঠলেন, “শােনাে, দুপুরবেলায় একটু বিশ্রাম নিই,

বুঝেছি। তোমাদের এই রায় দেয়। দুপুরে অনলাইনে কেনা জিনিস ডেলিভারি

করতে এসে ঠিক টক্ক  করে বেল বাজিয়ে। জ্বালাতন করবে, এ আমি আর সহ্য করব না ।

হয় তোমরা বাড়ি ছেড়ে দাও, না হয়। অনলাইনে কেনাকাটা বন্ধ করাে।”

পার্সেলটা তার আকারের তুলনায় একেবারে হালকা। মনে হচ্ছে যেন ফাঁকা

একটা বাক্স। পার্সেলটা হাতে নিয়ে মাথা নিচু করে অনুইপকে কথাগুলাে 

শুনতে হল। যদিও ওর কোনও দোষই নেই। সন্দীপনবাবুর বাড়ির একতলায় 

পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকে রাহিল আর যসজিতের সঙ্গে। তিনজনেই চাকরি 

করে। এর মধ্যে রাহিলের অনলাইনে জিনিস কেনা একটা বাতিকের মতাে হয়ে

গিয়েছে। টুথপেস্ট, মশা মারার ব্যাট থেকে শুরু করে মােবাইল, ল্যাপটপ সব

কিছুই রাহিল অনলাইনে কোনে। তাই রােজই কিছু না-কিছু ডেলিভারি আসে।

সন্দীপনবাবুর গজগজালিকে তাই দোষদেওয়া যায় না।

Bengali Horror Story- Horror Story in Bengali – Bangla Vuter Golpo

 




কড়া কথাগুলো শুনিয়ে সন্দীপনবাবু বাড়ির মধ্যে ঢুকে গিয়ে মুখের উপর  

করে দরজাটা বন্ধ করে দিলেন। সিড়ি দিয়ে নামতে-নামতে রাহিলের উপর বেজায় 

রাগ হল অনুষ্টপের। সারাদিন অফিসে  হাড়ভাঙা খাটাখাটনির পর ক্লান্ত শরীরে

বাড়ি ফিরতেই কথাগুলাে শুনতে হল। ঘরে ঢুকে রাহিলের খাটের উপর পার্সেলটা

ছুড়ে ফেলে দিয়ে রাহিলকে মােবাইলে ফোন করল। ফোনটা বেজেই গেল।

অবশ্য রাহিল অফিসের ডেস্কে থাকলে ফোন ধরতে পারে না। কথা বলতে

না-পেরে অনুপের রাগটা আরও বাড়ল। যজিতও নেই এখন। কয়েকদিনের

জন্য বাড়িতে গিয়েছে। রাগটা কমাতে মনের কথাগুলাে হােয়াটসঅ্যাপে লিখে

পার্সেলটার একটা ফোটো তুলে রাহিলাকে পাঠিয়ে দিল।

মিনতিমাসি এসে রােজকার মতাে। জলখাবার আর রাতের রান্না করে দিয়ে 

গেল। টিভিটা চালিয়ে ভারত-অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে-দেখতে একটা

বিজ্ঞাপনের বিরতিতে মােবাইলটা খুলে হােয়াটসঅ্যাপে রাহিলের উত্তর পেয়ে

বেশ অবাক হল অনুটুপ। রাহিল লিখেছে, “তুই শুধু-শুধু রাগ করছিস আমার উপর।

প্রথমত, সন্দীপনবাবু আপত্তি করার পর আমি এখন অনলাইনের সব ডেলিভারি

অফিসে নিই। আর দ্বিতীয়ত, এখন আমার আর কিছু ডেলিভারি আসার নেই। তুই

পার্সেলের যে ফোটোটা পাঠিয়েছিল সেটা ভাল করে দাখি, তাের নামই লেখা আছে।’

অনুপের প্রথমে বিশ্বাস হল না।

 নিজে তাে কখনও অনলাইনে অর্ডার দেয় আগে খেয়াল করেনি। যে ফোটোটা 

তুলে রাহিলকে পাঠিয়েছিল সেটা জুম করে দেখল রাহিল সত্যি কথাই লিখেছে। 

পার্সেলের লেবেলে স্পষ্ট লেখা আছে।

নিজের নাম অনুষ্টুপ বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশ্য ফোটোটা জুম করে দেখার দরকার ছিল

না । পাশের ঘরে রাহিলের খাটের উপর পড়ে রয়েছে পার্সেলটা।

নিজের চোখকে আর-একবার বিশ্বাস করানাের জন্য রাহিলের খাটের উপর

থেকে পার্সেলটা তুলে লেবেলটা ভাল করে দেখল। নাহ! কোনও ভুল নয়। সঙ্গে

আবার একটা সতর্কবাণী। কাঁচের র জিনিস। যত্ন করে খুলুন।

খুব কৌতূহলী হয়ে সাবধানে বাক্সটা খুলল অনুষ্টুপ । তারপর আরও অবাক হয়ে

গেল। ভিতরে প্রচুর থার্মোকলের কুচির মধ্যে একটা ফাঁকা, স্বচ্ছ কাঁচের  বােতল।

বােতলটা বের করে ঘুরিয়েফিরিয়ে দেখল অনুষ্টুপ। ঝকঝক করছে। বােতলের

ক্যাপটার উপর একটা সেলােটেপ লাগিয়ে সিল করা আছে। বাক্সর ভিতরে বিলটাও

আছে ১৮০ টাকা। বিলটাতেও তার নিজের নাম লেখা আছে এবং যে ক্রেডিট

কার্ড দিয়ে দাম মেটানাে হয়েছে তার নম্বরের শেষ চারটে সংখ্যা দেওয়া আছে।

এই নম্বরগুলাে অনুষ্ঠুপের নিজের কার্ডের নয়। নিশ্চয়ই অনলাইন কোম্পানির

কোথাও কিছু একটা ভুল হয়েছে। এরকম দু’-একবার শুনেছে। অর্ডার না-করা

জিনিস অন্য লােকের কাছে পেীছে গিয়েছে।

বােতলটাকে খাবার টেবিলের উপর বসিয়ে আর-একটা ফোটো তুলে

রাহিলকে হােয়াটসঅ্যাপে পাঠাল অনুষ্টুপ।

Bengali Horror Story- Horror Story in Bengali – Bangla Vuter Golpo

 




রাহিল উওরে লিখল, সীতা, একটু সময় পেলেই এদের ইমেল করে জানার চেষ্টা

করছি । তােকে আর একটা জিনিস। জানিয়ে রাখি। আজ ডবল ডিউটি করছি।

নাইট শিফট করে কাল সকালে বাড়ি ফিরব। বেশ কিছুক্ষণ ভারত-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ

দেখে রাতের খাবার খেতে বসল অনুষ্টুপ। তখন আবার চোখে পড়ল বোতলটা।

ব্যাপারটা যতক্ষণ জানা না যাচ্ছে, একটা অস্বস্তি হচ্ছে। তার মধ্যেই কানে এল

সিডিতে একটা ভারী চনির আওয়াজ। তারপর  ঠিক সাড়ে দশটা বাজল  । সন্দীপনবাবু

এই সময় নীচে নেমে সদর দরজাটা বন্ধ করে দেন। এই বাড়ির নিয়ম হচ্ছে সাড়ে দশটার

 আগে বাড়ি ফিরতে হবে। আজ অবশ্য আর কোনও অসুবিধে নেই। যসজিতও নেই।

রাহিলও রাতে বাড়ি ফিরবে না।

খেয়ে উঠে হাত ধুয়ে বােতলটা নিয়ে। আবার বাক্সে ভরে রাখবে ঠিক করল

অনুষ্টুপ। কালকে রাহিলকে বলে বােতলটা ফেরত পাঠাতে হবে। কিন্তু বােতলটা হাতে

নিয়ে আর একটা কৌতুহল হল। ফাঁকা বােতলের ক্যাপটা সেলােটেপ দিয়ে সিল

করা আছে কেন? এই কৌতুহল মেটাতেই সেলােটেপটা তুলে ক্যাপটা খুলল অনুষ্টুপ।

হাল একটা গন্ধ নাকে এসে ঠেকল। বােতলটা উঠিয়ে নাকের কাছে নিয়ে 

এল। যেটা হালকা গন্ধ মনে হচ্ছিল সেটা আসলে একটু কড়া। অনেকটা কপূরের

মতাে। আর মনে হল বােতলের ভিতর থেকে একটা ঠান্ডা হাওয়া বেরিয়ে এসে

মুখের উপর ছড়িয়ে পড়ল।

 ঠক এই সময়েই মােবাইলে পরপর কয়েকটা মেসেজ আসার আওয়াজ হল। বােতলটা

রেখে ফোনটা তুলে দেখল একই

মেসেজ চার-পচবার পাঠিয়েছে রাহিল, “তুই এক্ষুনি বােতটা বাড়ির বাইরে গিয়ে

মৈফলে দিয়ে আয়।’

অনুষ্টুপ লিখল, “কেন?”

“তুই শিগগিরি আগে ফেলে দিয়ে আয়। তারপর তােকে বলছি কেন।

বাড়ির বাইরে তাে আর যাওয়া সম্ভব নয়। সন্দীপনবাবু কোলাপসিবল গেটে

তালা দিয়ে দিয়েছেন। জানলার প্রিলের ফাঁক দিয়ে গলিয়েও বােতলটা ফেলা

যাবে না।

‘ইশ! যদি আর একটু আগে জানাতে পারতাম তােকে! ঠিক আছে, তুই কিন্তু

কোনওভাবেই বােতলের সিল করে রাখা ক্যাপটা খুলবি না।’

ক্যাপটা যে ইতিমধ্যেই খুলে ফেলেছে সেটা আর না-লিখে অনুপ লিখল,

কেন? ভাইরাস আছে নাকি?’ ‘ভাইরাসের চেয়ে অনেক বেশি

সাংঘাতিক জিনিস। আমি তাের পাঠানাে ফোটোটার লেবেল থেকে প্রডাক্ট আই

ডি সার্চ করে বােতলটার ভিতর কী আছে জানতে পেরেছি।আত্মা।

‘আয়া! যাহ, তাই আবার হয় নাকি?” ‘তাের বিশ্বাস না হলে ইন্টারনেটে সার্চ

করে দেখে নে। অনেক সময় অভূতভাবে লােকের বাড়িতে ডেলিভারি হয়ে যাচ্ছে।

রাহিলকে আর কিছু লিখল না অনুষ্টুপ। ভূত-প্রেতে সেরকম বিশ্বাস না-

থাকলেও ব্যাপারটা বেশ অস্বস্তিজনক। বােতলের ভিতর থেকে কপূরের গন্ধ আর

ঠান্ডা হাওয়াটাকে অস্বীকার করা যায় না। ব্যাপারটা নিয়ে ভাবতে-ভাবতে আলাে।

নিভিয়ে শুয়ে পড়ল, কিন্তু অস্বস্তিটা গেল না। রাহিলের অনেক রকম কুসংস্কারে

বিশ্বাস আছে। কিন্তু সত্যিই কি এভাবে বােতলে ভরে আত্মা পাওয়া যায়?

শুয়ে শুয়েই মােবাইলে ইন্টারনেটে খোঁজ করে তাজ্জব হয়ে

গেল অনুষ্টুপ। অনলাইনে সত্যিই বােতলে ভরা আত্মা কিনতে পাওয়া

যায়। বেশ কয়েকটা সাইট আছে। তার মধ্যে ওর নামে পার্সেল এসেছে যে

কোম্পানি থেকে, তাদের সাইটেও পাওয়া যায়।

Bengali Horror Story- Horror Story in Bengali – Bangla Vuter Golpo 

 




শুধু তাই নয়, এরকম বােতলে ভরা। আ যারা কিনেছে, তারা সেই আত্মার

গুণাগুণ এবং ক্ষমতা সম্পর্কে অনেক। অভিজ্ঞতার কথা লিখেছে।

গা-টা ছমছম করে উঠলেও এক পুর্নিবার আকর্ষণে সেই অভিজ্ঞতাগুলাের

কথা পড়া ছাড়তে পারল না অনুটপ। একটা করে অভিজ্ঞতা পড়ে মােবাইলটা।

বন্ধ করে বালিশের পাশে রেখে দিয়ে একটু পরে ছটফট করে উঠে আবার

ফোনটা খুলে আর-একটা অভিজ্ঞতা পততে থাকল।

এভাবেই একবার ফোনটা বন্ধ করে বালিশের পাশে রেখে সাতপাঁচ চিন্তা।

করে আর-একবার ফোনটা খুলতে যাবে, এমন সময় একটা আওয়াজ শুনতে পেল,

‘টুপ.. টুপ.. টুপ…’

মন দিয়ে কিছুক্ষণ আওয়াজটা শুনল অনুষ্টুপ। জল পড়ার আওয়াজটা আসছে

বাথরুমের ভিতর থেকে। বাথরুমে দরজার তলায় একটা সরু আলাের রেখা। ভিতরে

আলাে জ্বলছে । স্পষ্ট মনে আছে আলোটা নিভিয়েই বাথরুম থেকে বেরিয়েছিল।

চোখটা সম্মােহিতের মতাে আটকে গেল আলাের রেখাটার উপর। ভিতরে

কিছু একটা নিঃশব্দে নড়াচড়া করছে। অনুষ্ঠুপের মনে হল হাত-পা পুরাে অবশ

হয়ে যাচ্ছে।

 বালিশের পাশ থেকে ফোনটা তুলে রাহিলকে একবার জানানােরও

ক্ষমতা নেই। খুট করে একটা আওয়াজ হল।

আলােটা নিভে গিয়ে ঘুটঘুটে অন্ধকার হয়ে গেল। তার মধ্যে ক্যাঁচ করে একটা

আওয়াজ। বাথরুমের দরজাটা খুলল। একটু পরেই বসার ঘরে টিভিটা চালু

হল। কিন্তু মিউট করা। কোনও আওয়াজ আসছে না। টিভির একটুখানি স্ক্রিন শুয়ে-

শুয়েই দেখা যায়। তাতে মনে হচ্ছে খুব অস্থির হয়ে কেউ রিমােট দিয়ে চ্যানেল

পালটে-পালটে কিছু একটা খুঁজছে। কিছুক্ষণ পর একটা চ্যানেলে এসে

ব্যাপারটা থিতু হল। স্ক্রিনের বাঁদিকের যেটুকু অংশ দেখা যাচ্ছে, তাতে অদ্ভুত

একটা দৃশ্য। একটা জঙ্গলের মতাে জায়গা দিয়ে কেউ একজন হেঁটে যাচ্ছে। তার হাতে

খুব অবহেলায় ঝুলিয়ে রেখেছে একটা। ভয়ংকর দেখতে পুতুল। কিন্তু স্ক্রিনটা 

পুরােটা দেখা যাচ্ছে না বলে কার হাতে পুতুলটা আছে কিছুতেই দেখতে পাচ্ছে

না। ভিতরে-ভিতরে পুরাে ঘেমে উঠতে থাকল অনুষ্টুপ। চেষ্টা করেও কিছুতেই

আর চোখটা কুঁচকে বন্ধ করতে পারছে না। শরীরের কোনও অঙ্গই আর নিজের

নিয়ন্ত্রণে নেই।

 সিঁড়ি দিয়ে একটা আওয়াজ শুরু হল। কেউ ভারী জুতাে পরে দোতলায় যাচ্ছে।

তার পরেই সন্দীপনবাবুর দরজার কলিং বেল বাজার আওয়াজ স্পষ্ট শােনা গেল।

পরপর তিনবার। এবার সন্দীপনবাবুর খুব রাগান্বিত গলার আওয়াজ পাওয়া গেল।

কথাগুলাে খুব স্পষ্ট শােনা যাচ্ছে না। তবে কিছু একটা তর্ক হচ্ছে। তারপরেই

সন্দীপনবাবুর গলার আওয়াজটা দুম করে থেমে গেল। তার একটু পরে টিভিটাও বন্ধ

হয়ে গেল।

Bengali Horror Story- Horror Story in Bengali – Bangla Vuter Golpo

 



অনুষ্টুপ কাঠের মতাে শুয়ে আছে। একটু পরে একটা টর্চের আলাে গায়ে

এসে পড়ল। সেই আলাের আভায় সন্দীপনবাবুকে দেখে অনুপের যেন

ভিতরে প্রাণ ফিরে এল। কিন্তু সন্দীপনবাবু ভিতরে এলেন কীভাবে? দরজা তাে

ভিতর থেকে বন্ধ করা।  “আপনি ভিতরে এলেন

কীভাবে?” অনুষ্টপের গলা দিয়ে প্রথমেই এই প্রশ্নটা বেরল।

সন্দীপনবাবু ভীষণ রেগে উঠে বলেন, “মাঝরাতে ঘুম ভাঙিয়ে তুলে

মশকরা হচ্ছে? নিজে গিয়ে বেল বাজিয়ে বললে, “শিগগিরি নীচে আসুন ঘরের।

মধ্যে কেউ একটা এসেছে আর কোনও আলাে জ্বলছে না। মনে হয় সে ফিউড়া বন্ধ

করে দিয়েছে আমাকে ডেকে নিয়ে এসে নিজে চাদরমুড়ি দিয়ে আবার শুয়ে আছ?

ওঠো। উঠে দাঁড়াও। এক্ষুনি আমার বাড়ি ছেড়ে চলে যাও |”

অনুষ্টুপ ওঠার চেষ্টা করল। কিন্তু কিছুতেই পারল না। অসহায় হয়ে বলল,

“বিশ্বাস করুন, আমি কিছুতেই উঠাতে পারছি না।”

“তােমার করার একটা সীমা থাকা উচিত। এক্ষুনি তুমি উপরে আমাকে

ডাকতে গিয়েছিলে ‘আর এখন বলছ বিছানা ছেড়ে উঠাতে পারছ  না?”

“বিশ্বাস করুন, কেউ একটা ভিতরে ঘুরেফিরে বেড়াচ্ছে। তাকে আমি দেখতে

 কিন্তু সে আছে।” কে? কোনও চোর ঢুকেছে?”

“চোর নয়, আত্মা।”

 “আত্মা,” হাে হাে করে হেসে

উঠালেন সন্দীপনবাবু, “তা, আত্মাটা এই বাড়ির মধ্যে এল কীভাবে? ওই

বােতলটায় করে বুঝি?

সন্দীপনবাবু টর্চের আলােটা খাবার টেবিলের উপরে ফেললেন। ঝকঝক করে

উঠল খালি কাঁচের  বােতলটা।

“বিশ্বাস করুন…”

অনুষ্টুপ কথা শেষ করতে দিলেন না সন্দীপনবাবু। বলে উঠলেন, “আর আত্মাটা

সঙ্গে করে কী নিয়ে এসেছে? এইটে বুঝি?” সন্দীপনবাবু নিজের বাঁ হাতের উপর

আলােটা ফেললেন। সেই হাতে ধরা আছে সেই বীভৎস দেখতে পুতুলটা, যেটা একটু

আগে টিভিতে দেখা যাচ্ছিল। সন্দীপনবাবু পুতুলটা অনুষ্টপের বুকের উপর বসালেন।

বুকে অসম্ভব চাপ লাগতে থাকল । সব কিছু কেমন যেন ঝাপসা হয়ে অন্ধকার

হয়ে গেল।

চোখটা খুলল একসঙ্গে দুটো আওয়াজে। কলিং বেলটা বাজছে

আর বালিশের পাশে মােবাইলটাও। মােবাইলে রাহিল। ফোনটা ধরতেই

বলল, “মিনতিমাসি অনেকক্ষণ ধরে বেল বাজাচ্ছে। তুই উঠে দরজা খুলছিস না দেখে

আমাকে ফোন করেছে। 

Bengali Horror Story- Horror Story in Bengali – Bangla Vuter Golpo

 




যা, দরজাটা খােলা।  তারপর আমার হােয়াটসঅ্যাপ মেসেজটা

পড়ে নিস।”

 চারদিকে রােদ ঝলমল করছে।

অনুষ্টুপ তাড়াতাড়ি বিছানা ছেড়ে উঠে গিয়ে দরজাটা খুলল। বাইরে মিনতিমাসি আর

সন্দীপনবাবু। সন্দীপনবাবুর হাতে টুথব্রাশ। মুখে টুথপেস্টের ফেনা সামলে বলতে শুরু

করলেন, “কী ব্যাপার কী? মিনতি কখন থেকে ট্যাঁ ট্যাঁ করে বেল বাজাচ্ছে। গােটা

পাড়া জেনে গেল। এসব আমি সহ্য করব হয় তােমরা বাড়ি ছেড়ে দাও, না । হয়

সকালে ঠিক সময়ে ঘুম থেকে ওঠো।”

সন্দীপনবাবুর কাছে ক্ষমাটমা

চেয়ে নিয়ে সােফায় ধপ করে বসে মােবাইলে হােয়াটসঅ্যাপে রাহিলের

মেসেজটা খুলল অনুষ্টুপ । ভাের পাঁচটায় মেসেজটা করেছে রাহিল, ‘বােতলটা

আমিই তােকে পাঠিয়েছিলাম উপহার। তােকে অনেকদিন ধরে বলছি তাের ওই

প্লাস্টিকের জলের বােতলটা ব্যবহার করা বন্ধ কর। প্লাস্টিক যেমন পরিবেশের জন্য 

ভাল নয় সেরকমই দীর্ঘদিন ধরে একই প্লাস্টিকের বােতলের জল খাওয়া শরীরের

জন্য ভাল নয়। তােকে বারবার বলেছি। কাঁচের  বােতল ব্যবহার করতে।

 কিন্তু তুই পাত্তা দিসনি। তাই তােকে উপহারটা দিলাম। সঙ্গে বোতলের মধ্যে আত্মার

গল্পটা ফ্রি গিফট । আমি ইচ্ছে করে ভুতের গল্পটা তােকে সাড়ে দশটার পর পাঠিয়েছি

যাতে সন্দীপনবাবু কোলাপসিবল গেটটা। বন্ধ করে দেওয়ার পর বােতলটা আর তুই

বাইরে ফেলে না-আসতে পারিস। তাের চরিত্র আমি এই ক’মাসে হাড়ে হাড়ে চিনে

গিয়েছি। কৌতূহল মেটাতে বােতলের ঢাকাটা তুই নিশ্চয়ই খুলেছিলি আর

কপূরের গন্ধ পেয়েছিস। ওটা ডিসইনফেক্ট করার সলিউশনের গন্ধ। আর তাের মাথায়

একবার যেটা ঢোকে সেটা নিয়ে রাতে ইন্টারনেটে পড়তে-পড়তে ঘুমিয়ে

পড়ে সেটা নিয়েই স্বপ্ন দেখিস। আশা করি কাল রাতেও জব্বর একটা স্বপ্ন

দেখেছিস। 

গুডডে।

মেসেজটা পড়ে আরও কিছুক্ষণ গুম হয়ে বসে থাকল অনুষ্টুপ। জানলা দিয়ে

রােদ ঢুকে টেবিলের উপর বােতলটার গায়ে পড়ে চিকচিক করছে। মিনতিমাসি চায়ের

কাপ এনে নামাল। অনুষ্টুপ বলল, “আমার প্লাস্টিকের ওয়াটারবটলটা ফেলে দিয়ে

আজ থেকে ওই কাঁচের  বােতলটায় জল ভরে দিয়াে।”

সমাপ্ত

 


 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Must Read

Bengali Sad Story – তোমায় ছাড়া বেঁচে থাকি কি করে

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...

Bengali Detective Story – কঠিন শাস্তি

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...

Bangla Rupkothar Golpo –  রাখাল ও পরীর

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...

Bengali Rupkothar golpo -অত্যাচারী বাদশাহ 

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...

Bangla vuter golpo – পেত্নীর প্রেম

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...