Home Short Story Bengali Short Story - একুশ নম্বর ঘর

Bengali Short Story – একুশ নম্বর ঘর

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don’t have sufficient time for going to the library and reading the storybooks In this age of the Internet. But, if we can read the story on this internet, then it is very interesting. So we have brought a few collections of Bengali story for you. Hope you will enjoy the stories in this busy lifestyle. In this post you will find the latest Bengali Short Story,  You can read here  Bengali Short Story, download  Bengali Short Story, Hare you found top  Bengali Short Story

একুশ নম্বর ঘর
মোনালিসা চৌধুরী দাস
:এক::
বর্ধমান শহর থেকে দু- কিলোমিটার দূরে রাস্তার ধারে বেশ নিরিবিলিতে  বিশাল জায়গা জুড়ে আর অনেক উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা এই আশালতা মানসিক হাসপাতাল ।কলকাতার বিখ্যাত মানসিক রোগের চিকিত্সক  অনাদি রায় প্রায় তিরিশ বছর আগে নিজের   স্ত্রীর মৃত্যুর পর ওনার নামে এই মানসিক হাসপাতাল তৈরী  করেছিলেন  । তবে সাধারণ হাসপাতালের সঙ্গে এইরকম মানসিক রোগের  হাসপাতালগুলির কিছু পার্থক্য এখনও রয়ে গেছে ।একবার এই হাসপাতালে পেশেন্ট ভর্তি করে চলে গেলে তারপর তাদের বাড়ির লোকজনদের আর বিশেষ  পাত্তা পাওয়া যায়না ।অনেক মেন্টাল  পেশেন্ট আবার  পুরোপুরি সুস্থ হবার পরেও ওদের সেই পাগল মনে করে আর বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়না ।  মাস গেলে নামমাত্র কিছু করে টাকা দিয়ে সবাই নিষ্কৃতি পেতে চায় এদের থেকে । ব্যতিক্রম শুধু  আজ প্রায় কুড়ি বছর ধরে এই হাসপাতালে চিকিত্সাধীন একুশ নম্বর ঘরের পেশেন্ট চারুলতা ।
অন্য দিনের মতো আজও সকালের একটা খাবার  মুখে তোলেনি চারুলতা ।দেওয়ালের দিকে পিছন ফিরে একমনে সাদা কাগজে হিজিবিজি কেটে চলেছে সে ।
” এই পাগলি খাবারটা খাওয়ার জন্য তোকে কি এবার  নেমন্তন্ন করতে হবে নাকি??খাবারের থালাটা নিতে এসে চারুলতার উদ্দেশ্যে কথাগুলো বলল সুমিতা ।
এই হাসপাতালে সাতদিন হল নতুন কাজে জয়েন  করছে সে ।
কথাগুলো কানে যেতে ডাক্তার অনাদি রায় সুমিতা কে কাছে ডেকে  বললেন
” তুমি জানো উনি কে ?
কি ওর পরিচয়?
আমাদের সময়ের স্বনামধন্য লেখিকা উনি
 চারুলতা সেন ।”

 Bengali Short Story – Short Story – Short Story in Bengali

 




 :: দুই::
কফি মগটা হাতে ধরে ড্রয়িংরুমে এল চারুলতা । সেন্টার টেবিলে রাখা সাহিত্য জগতের নতুন লেখিকা কমলকলির সদ্য প্রকাশিত বইটা একবার দেখে নিয়ে তাচ্ছিল্যের সঙ্গে সে বলল
 ” ডিজ্গাস্টিং ,দু দিনের উঠতি লেখিকা আমাকে চারুলতা সেন কে টক্কর দেবে ? জাস্ট ইম্পসিবল!!
পাশের ঘর থেকে জয়ন্ত বলল  ” ভুল করছ চারু ।এর লেখা অন্যদের থেকে একেবারে আলাদা ।বই ছুঁড়ে ফেলে না দিয়ে একবার পড়ে দেখ।মেয়েটার লেখনীতে একটা অদ্ভুত ব্যাপার আছে, কি সাংঘাতিক ধার লেখার!!
” জাস্ট সাট্ আপ জয়ন্ত ।চারুলতা সেন কোনও এলেবেলে পাতি লেখা পড়েনা যদি পড়তে হয় তবে তুমি পড়।এত বছরে অনেক লেখিকাদের দৌড় দেখলাম কিন্তু চারুলতা সেন বেস্ট ছিল এবং থাকবে ।অহংকারের সুরে কথাগুলো বলে সটান বাথরুমে ঢুকে গেল চারুলতা ।সুন্দরী চারুলতার
বয়স পঞ্চাশের কোঠায় তবে নিজেকে মেন্টেন করেছে সে সুনিপুণ ভাবে ।লেখিকা হিসেবে নাম অর্থ সবকিছু সে পেয়েছে ।এখন বালীগঞ্জে নিজস্ব বাড়ি গাড়ি ওর ।
অভাবের সংসারে জন্ম চারুলতার ।মাত্র আঠারো বছর বয়সে নিজের চেয়ে প্রায় বারো বছরের বড় ওর বাংলার শিক্ষক, যার হাত ধরেই চারুর লেখালেখির হাতেখড়ি তাকে ভালোবেসে ঝোঁকের মাথায়  বিয়ে করে সে ।তবে
এই বিয়ে টেকেনি বেশি দিন ।কয়েক বছরের মধ্যেই প্রথম  স্বামী কে ডিভোর্স দিয়ে সদানন্দ পাবলিশার্স এর মালিকের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধে চারু ।
কানাঘুষো শোনা যায় নিজের ভবিষ্যত সিকিওর করতে নাকি এই বিয়ে ।কারন ততোদিনে লেখালেখিটা পুরোদমে শুরু করে দিয়েছে সে। চারুলতার লেখা সব বই তখন ছাপা হতো সদানন্দ পাবলিশার্স থেকে ।এরপর
ধীরে ধীরে সাহিত্য জগতে নাম হতে থাকে চারুর ।একের পর এক পুরস্কার, সম্মান  চারুলতার ঝুলিতে ।পুজোসংখ্যায় ওর লেখা পাওয়ার জন্য বাড়ির  দোরগোড়ায়  তখন পাবলিশার্স দের লম্বা লাইন ।
নিজের লেখার মধ্যে বৈচিত্র্য আনতে তখন চারুলতা একাকী কখনও সাগর পাড়ে আবার কখনও পাহাড়ের নির্জনতায় সময় কাটাচ্ছে ।আর শোনা যায় ঠিক এইরকম একটা সময় সুদর্শন মামুলি মানের লেখক জয়ন্তর সঙ্গে আলাপ লেখিকা চারুলতার ।প্রথমে আলাপ তারপর প্রেম ।
সে অর্থে সংসারী চারুলতা  কোনও দিনই ছিলনা ।তাই যা হবার তাই হলো ।দ্বিতীয় বিয়েটাও টিকল না ভেঙে গেল ।
 এরপর জয়ন্তর সঙ্গে একসাথে থাকা শুরু করে চারুলতা ওর এই বালীগঞ্জের বিশাল  ফ্ল্যাটে ।
একবার এক সাক্ষাত্কারে চারুলতা কে বলতে শোনা গেছিল  এই বৈচিত্র্যময় জীবনই নাকি তার লেখার রসদ । সাদামাটা জীবন, সংসার, স্বামী , সন্তান এসব নিয়ে আর যাই হোক বড় লেখিকা হওয়া যায়না ।
এর জন্য প্রয়োজন নারী পুরুষের প্রেম তাকে ঘিরে  আবেগ , মোদ্দা কথা সম্পর্কের ব্যাপ্তি ।

 Bengali Short Story – Short Story – Short Story in Bengali

 




::তিন::
” মা, রে এবার খেয়ে নিবি আয়।ঘড়িতে দেখেছিস কটা বাজে “?
” আসছি বাবা, আর দু লাইন ব্যাস তাহলেই শেষ ” ।
মেয়ের অপেক্ষায় না থেকে শুভময় নিজেই ভাত মেখে থালা হাতে দাঁড়ালো এসে জানলার কাছে লেখার টেবিলের পাশে ।
খাওয়াতে খাওয়াতে  চলল রোজকার মতো  বাবা মেয়ের গল্প ।
” জানিস তো রে মা, তোর
 মা ও ঠিক এমনই ছিল তোর মতো লেখা পাগল, লিখতে লিখতে  কতদিন এমন হয়েছে যে নাওয়া খাওয়া ভুলে সে লিখেই  চলেছে ।দিন পেরিয়ে রাত হয়েছে আবার রাত পেরিয়ে দিন হয়েছে কিন্তু ওর লেখা থামেনি ” ।  কথাগুলো লেখার টেবিলের ওপর গুছিয়ে রাখা চারুলতার লেখা  বইগুলোর দিকে তাকিয়ে ছলছলে চোখে বলল
 শুভময় ।
” ওই মহিলা আমার মা নন,উনি শুধুমাত্র একজন স্বনামধন্য লেখিকা চারুলতা সেন ।যার লেখা বই পড়ে আমি বড়ো হয়েছি ।যাকে চিনেছি জেনেছি ওই সাদা পাতার উপর ছাপা কালো অক্ষর গুলো থেকে ।যে নিজের ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনে  একের পর এক মানুষকে শুধুমাত্র  ব্যবহার করে গেছে তিনি আর যাই হোক আমার মা নন । তুমিই  আমার সবকিছু বাবা “
এই বলে শুভময়ের গলা জড়িয়ে ধরল লেখা ।
 শুভময় এবং চারুলতার একমাত্র সন্তান লেখা ।ভালো করে নিজের মায়ের কথা মনেও পড়েনা  ওর, কারন লেখার যখন সাড়ে তিনবছর বয়স তখন বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যায় চারু ।এখনও শুভময়ের কানে বাজে চারুর বাড়ি ছেড়ে চলে যাবার আগের শেষ  কথাগুলো
 ” এই অভাবের সংসারে বেশি দিন থাকলে আমি পাগল হয়ে যাব শুভ ,সংসারে ঘানি টানতে টানতে এই জীবনটা আমি শেষ করে দিতে পারবনা তাই আমি চলে যাচ্ছি ” ।মেয়ে লেখার ছোট্ট হাতে টেনে ধরে থাকা নিজের শাড়ির আঁচল কে ছাড়িয়ে নিয়ে বেরিয়ে গেছিল চারু ।আর কোনও দিন পিছনে ফিরে তাকায়নি সে ।নিজের স্বামী মেয়ে কেমন আছে আদৌ বেঁচে আছে কিনা  সেটা জানারও চেষ্টা করেনি কখনও ।

 Bengali Short Story – Short Story – Short Story in Bengali

 



::চার::
 এইভাবে কেটে গেছে মাঝে কটা বছর ।অসংযত জীবন যাপনে অভ্যস্ত চারুলতার সাহিত্য জগতে নাম যশ প্রতিপত্তি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে ।
একদিন যার লেখা বই তাচ্ছিল্যের সঙ্গে সরিয়ে দিয়েছিল চারু আজ নিজের লেখনীর জোরে সেই কমলকলি সকল সাহিত্য প্রেমীর মনে নিজের জায়গা করে নিয়েছে ।
 এই বছরের সাহিত্যের সেরা পুরস্কার পেতে চলেছে লেখিকা কমলকলি ফোনে খবরটা চারুলতা যখন পেল তখন সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আলমারি থেকে  একবার নীলচে জামদানি  একবার গোলাপি বালুচরি আর একবার সবজে কাঁথাস্টিচ গায়ে ফেলে দেখতে  ব্যস্ত ছিল । কালকের  পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রতি বছরের মতো এইবছরেও শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার হাতে ওকে কোন শাড়িতে বেশি আকর্ষণীয় লাগবে তাইজন্য ।কিন্তু খবরটা পাবার পর প্রচন্ড রাগে চিৎকার করে সমস্ত শাড়ি ছুঁড়ে ফেলে দেয় চারুলতা ।
এদিকে দুদিন পরে সাহিত্যের সেরা পুরস্কার হাতে বাবা শুভময় কে পাশে নিয়ে লেখিকা কমলকলির প্রথম  ছবি বের হয় সমস্ত নিউজ পেপারে ।আর এই সত্যটি জানতে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি চারুলতা কে,যে সাহিত্য জগতে লেখার ছদ্দনামই  হল কমলকলি আর এই কমলকলি হল ওর এবং শুভময়ের একমাত্র সন্তান ।নিজের মেয়ের কাছে এইভাবে পরাজিত হয়ে অহংকারী চারুলতা ক্রমশ যেন   উপলব্ধি করতে থাকে নিজের ভুলগুলো  ।
একদিন যে দুধের শিশুকে ফেলে রেখে সে বেরিয়ে পড়েছিল সুখের খোঁজে আর সেই  সুখ সাচ্ছন্দ খুঁজতে গিয়ে সম্পর্ক ভাঙা গড়ার খেলায় মেতেছিল সে কিন্তু এই খেলায় আজ সে পুরোপুরি ভাবে নিঃস্ব ।
নিজের অংশ নিজের সন্তানের  কাছে এই পরাজয় মেনে নিতে পারেনি চারুলতা ।এই ঘটনার পর লেখা বন্ধ করে দেয় সে প্রায় ঘরবন্দি করে ফেলে নিজেকে ।বহু দিনের সঙ্গী জয়ন্ত ফিরে যায় নিজের আগের স্ত্রীর কাছে ।এরপর মানসিক ভাবে পুরোপুরি  ভেঙে পড়া চারুলতা নেশার পরিমাণ আরও  বাড়িয়ে দেয় ।
তবে শোনা যায় নিজের প্রথম স্বামী শুভময়ের হঠাত্ মৃত্যুর খবর পেয়ে নেশার ঘোরে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় একটা দুর্ঘটনায় মাথায় চোট পায় সে ।আর এরপর  মানসিক ভারসাম্য হীন হয়ে তার ঠাঁই হয় এই মানসিক হাসপাতালের একুশ নম্বর
 ঘরে ।
::পাঁচ::
কথা শেষ করে নিজের কাজে মন দেয় অনাদি বাবু ।
একটা গাড়ির আওয়াজে দোতলার জানলা দিয়ে উনি দেখেন কুড়ি বছর ধরে
প্রতি সপ্তাহের মতো আজও এই যুগের স্বনামধন্য লেখিকা জ্ঞানপীঠ পুরস্কারে সম্মানিত  কমলকলি, হাসপাতালের গেট দিয়ে ঢুকে সোজা সিঁড়ি বেয়ে ওপরের  দক্ষিণের একুশ নম্বর ঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় আর সজল চোখে  অস্ফুটে ডেকে ওঠে
 মা ।।।

 Bengali Short Story – Short Story – Short Story in Bengali

সমাপ্ত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Must Read

Bengali Sad Story – তোমায় ছাড়া বেঁচে থাকি কি করে

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...

Bengali Detective Story – কঠিন শাস্তি

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...

Bangla Rupkothar Golpo –  রাখাল ও পরীর

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...

Bengali Rupkothar golpo -অত্যাচারী বাদশাহ 

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...

Bangla vuter golpo – পেত্নীর প্রেম

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...