Home Detective Story Bengali Story-Detective Story-Bengali Detective Story-Detective Story in Bengali -আমার গােয়েন্দাগিরি

Bengali Story-Detective Story-Bengali Detective Story-Detective Story in Bengali -আমার গােয়েন্দাগিরি

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don’t have sufficient time for going to the library and reading the storybooks In this age of the Internet. But, if we can read the story on this internet, then it is very interesting. So we have brought a few collections of Bengali story for you. Hope you will enjoy the stories in this busy lifestyle. In this post you will find the latest Detective Story in Bengali, You can read here  Detective Story, download  Bengali Detective Story, Hare you found top Detective Story in Bengali.

 

আমার গােয়েন্দাগিরি

হেমেন্দ্রকুমার রায়   

 

ববিবারে রবিবারে প্রশান্তবাবুর বৈঠকখানায় বসত একটি তাস-দাবা-পাশার

আসর। দুপুর বেলার খাওয়া দাওয়ার পর, সভ্যরা একে একে সেখানে গিয়ে দেখা

দিতেন। তারপর খেলা চলত প্রায় বেলা পাঁচটা পর্যন্ত।

বলা বাহুল্য খেলার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে নানা প্রসঙ্গ নিয়ে আলাপ আলােচনা চলত।

বাজারের মাছের দর ও বক্তৃতামঞ্চে চড়ে জহরলাল নেহরুর লম্ফঝম্প, গডের মাঠের

ফুটবল খেলা ও বিলিতী পার্লামেন্টে চার্চিলের বাক্যবন্দুক নিনাদ, বাংলা রঙ্গালয়ের

অভিনেতা শিশির ভাদুড়ী ও পণ্ডিচেরী আশ্রমের ঋষি অরবিন্দ-অর্থাৎ জুতাে-সেলাই

থেকে চণ্ডীপাঠ পর্যন্ত কোন কিছুই বাদ থাকে না আমাদের উত্তপ্ত আলােচনার বাইরে।

সেদিন তখনও খেলা শুরু হয়নি। এমন সময়ে পুলিশ কোর্টের একটা মামলার কথা

উঠল। সম্প্রতি এক সঙ্গে তিনটে নরহত্যা হয়েছিল এবং ইনস্পেক্টর সুন্দরবাবু ‘কেসটা

হাতে নিয়ে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আসামীকে আদালতে হাজির করেছেন।

একজন শুধােলেন, মানিকবাবু, এ মামলাতেও আপনাদের হাত আছে তাে?

আমি একটু বিস্মিত হয়ে বললুন, তার মানে?

—লােকে তাে বলে, সুন্দরবাবুর সব মামলার পিছনে থাকেন আপনি আর আপনার

বন্ধু জয়ন্তবাবু।

–লােকের এ বিশ্বাস ভ্রান্ত। অবশ্য কোন কোন মামলায় সুন্দরবাবু আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করতে আসবেন বটে। পরে সে-সব ক্ষেত্রে জয়ন্তই হয় পরামর্শদাতা, আমি

তার সঙ্গে সঙ্গে থাকি মাত্র।

হঠাৎ পিছন থেকে জিজ্ঞাসা শুনলুম, জয়ন্তবাবুর সঙ্গে থেকে গােয়েন্দাগিরিতেও

আপনার বিঞ্চিৎ ব্যুৎপত্তি জন্মেছে তাে মানিকবাবু?

ফিরে দেখি নরেন্দ্রবাবু-সুবিখ্যাত ডাক্তার নরেন্দ্রনাথ সেন। বিলাতফেরৎ। যেমন

তার হাতযশ, তেমনি তার পশার।

আমি হেসে জবাব দিলুম, হ্যা নরেন্দ্রবাবু, জয়ন্তর সঙ্গে আমার তুলনা চলে না বটে,

কিন্তু গােয়েন্দাগিরিতে সাধারণ লােকের চেয়ে আমি কিছু বেশি জ্ঞান অর্জন করেছি

বৈকি!

Bengali Story-Detective Story-Bengali Detective Story-Detective Story in Bengali

নরেন্দ্রবাবু একখানি চেয়ারে নিজের অঙ্গভার ন্যস্ত করে বললেন, তা হলে ছােট্ট

একটি মামলার কথা শুনবেন?

আমি বললুম, আমার বন্ধু জয়ন্তর মতে, ‘গােয়েন্দাগিরিতে ছােট বা বড় মামলা

বলে কোন কথা নেই। একমাত্র দ্রষ্টব্য হচ্ছে মামলাটা চিত্তাকর্ষক কিনা ? এই দেখুন না,

পুলিশ কোর্টের যে মামলাটা নিয়ে আজ গােয়েন্দাগিরির কথা উঠেছে, এক দিক দিয়ে

সেটা বড় যে-সে মামলা নয়। এক সঙ্গে তিন তিনটে খুন। কিন্তু অপরাধী ঘটনাক্ষেত্রে

এত সূত্র রেখে গিয়েছিল যে, ধরা পড়েছে অতি সহজে। আবার এমন সব মামলাও

আছে, যেখানে অপরাধ হয় তাে তুচ্ছ, অথচ অপরাধীকে গ্রেপ্তার করবার মত সূত্র

পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। এমন সব মামলাতে সফল হলেই গােয়েন্দার প্রকৃত কৃতিত্ব

প্রমাণ পায়।

নরেন্দ্রবাবু বললেন, আমি যদি এইরকম কোন মামলারই ভার আপনার হাতে দিতে

চাই, আপনি গ্রহণ করতে রাজি আছেন কি?

বললুম, আমার আপত্তি নেই। মনে মনে ভাবলুম, একবার পরীক্ষা করে দেখাই

যাক না জয়ন্তর কোন সাহায্য না নিয়েই বুদ্ধির জোরে মামলাটার কিনারা করতে পারি

কিনা।

ঘরের অন্যান্য লােকেরা প্রশ্ন করতে লাগলেন, কিসের মামলা ডাক্তারবাবু? খুনের

না চুরির, না আর কিছুর ?

নরেনবাবু বললেন, এখন আমি কোন কথাই ভাঙব না। আসুন মানিকবাবু। আমার

সঙ্গে আমার বাড়িতে আসুন।

                                                         ॥ দুই ॥

নরেনবাবুর বাড়ি একখানা মাঝারি আকারের ঘর। একদিকে দেওয়াল ঘেঁষে

একখানা গদীমােড়া বড় চেয়ার, তার সামনে একটি টেবিল। টেবিলের উপরে দোয়াতদানে।

লাল ও কালাে বালির দোয়াত। কলমদানে দুটি কলম! ব্লটিংয়ের ‘প্যাড’ তার উপরের খানিকটা অংশ লাল কালি মাখা। একটি টেলিফোন-যন্ত্র। টেবিলের তিন পাশে খানকয়েক

কাঠের চেয়ার।

এই সব লক্ষ্য করছি, নরেনবাবু বললেন, এই ঘরে বসে প্রত্যহ সকালে আর সন্ধ্যায়।

আমি রােগীদের সঙ্গে দেখা করি। পরশু সন্ধ্যায় এইখানেই একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটে।

গেছে।

—কি রকম ঘটনা?

–মােহনতােষবাবুর এক বন্ধুর নাম বিনােদবাবু। বিনােদ লাল চ্যাটার্জি। ভদ্রলােক

কন্যাদায়ে পড়েছিলেন। মােহনতােষবাবুর বিশেষ অনুরােধে তাকে আমি পাঁচ হাজার

টাকা ধার দিয়েছিলুম।

–কে মােহনতােষবাবু।

—তিনি আমার প্রতিবেশী বটে, রােগীও বটে। কিন্তু তার আর একটা বড় পরিচয়

আছে। আপনি কি সৌখীন নাট্যসম্প্রদায়ের বিখ্যাত অভিনেতা মােহনতােষ চৌধুরীর

নাম শােনেননি?

-কারুর কারুর মুখে শুনেছি বটে।

Bengali Story-Detective Story-Bengali Detective Story-Detective Story in Bengali

–পরশু সন্ধ্যার সময়ে আমি এই ঘরে বসে আছি এমন সময়ে বিনােদবাবু এসে

তার ঋণ পরিশােধ করে গেলেন। পাঁচখানি হাজার টাকার নােট (সেই সময়ে হাজার

টাকার নােট প্রচলিত ছিল) আমাকে দিলেন। ঠিক তারই মিনিট পাঁচেক পরে ফোনে

আমার একটা জরুরি ডাক এল। বসন্তপুরের মহারাজা ব্লাড প্রেসারের দরুন অজ্ঞান

হয়ে গিয়েছিল। আমাকে সেই মুহর্তেই যেতে হবে। তখনই যাত্রা করলুম। তাড়াতাডিতে

যাবার সময়ে নােট পাঁচখানা ব্লটিংয়ের প্যাডের তলায় ঢুকিয়ে রেখে গেলুম। রাজবাড়ি

থেকে যখন ফিরে এলুম রাত তখন সাড়ে নয়টা। এসে সেই ঘরে ঢুকে দেখি, প্যাডের

উপর লাল কালির দোয়াতটা উল্টে পড়ে রয়েছে। আর প্যাডের তলা থেকে অদৃশ্য

হয়েছে হাজার টাকার নােট পাঁচখানা।

আমি বললুম, নিশ্চয় চোর যখন প্যাডের তলা থেকে নােটগুলাে টেনে নিয়েছিল,

সেই সময়ে হঠাৎ তার হাত লেগে লাল কালির দোয়াতটা উল্টে পড়ে গিয়েছিল।

পুলিশকে খবর দিয়েছেন?

-কেন?

-কেলেঙ্কারির ভয়ে। আমি বেশ জানি পুলিস এসে আমার বাড়ির লােকেদেরই

টানাটানি করবে। আমার পক্ষে সেটা অসহনীয়। কারণ আমার খুব বিশ্বাস, বাড়ির

কোন লােকের দ্বারা একাজ হয়নি—হতে পারে না। অন্দরমহলে থাকেন আমার বৃদ্ধা

মাতা, পত্নী, আমার দুই বালিকা কন্যা আর শিশুপুত্র। তালের কাররই এঘরে আসবার কথা নয়। বাড়ির প্রত্যেক দাসদাসী পুরানাে আর বিশ্বস্ত। নােটগুলি যখন ‘প্যাডের

তলায় রাখি, তখন তাদের কেউ যে এ অঞ্চলে ছিল না, এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত।

সুতরাং তাদের কেউ ‘প্যাড’ তুলে দেখতে যাবে কেন?

—বাইরের কোন জায়গা থেকে কেউ কি আপনার কার্যকলাপের উপরে দৃষ্টি রাখতে।

পারে না?

Bengali Story-Detective Story-Bengali Detective Story-Detective Story in Bengali


—মানিকবাবু, পরশু দিন সন্ধ্যার আগেই এই দুর্দান্ত শীতেও হঠাৎ বেশ এক পশলা

বৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল, মনে আছে কি ? দেখুন, এই ঘরের উত্তর দিকে আছে চারটে জানলা।

আর পূর্ব দিকে আছে দুটো জানলা আর দুটো দরজা। দক্ষিণ আর পশ্চিম দিক একবারে

বন্ধ। রাস্তায় দাঁড়িয়ে উত্তরের জানালাগুলাের ভিতর দিয়ে এই ঘরটা দেখা যায় বটে

কিন্তু বৃষ্টির ছাট আসছিল বলে উত্তর দিকের সব জানালাই বন্ধ ছিল। খােলা ছিল খালি

পূবদিকের জানলা-দরজা। ওদিকে আছে আমার বাড়ির উঠোন, তারপর আরাে সাত

ফুট উঁচু পাঁচিল, তারপর মােহনতােষবাবুর বাড়ি। আমার বাড়ির উঠোনে আলাে জ্বলছিল,

আমি সেখানে জনপ্রাণীকেও দেখতে পাইনি। বৃষ্টি আর শীতের জন্যে মােহনতােষবাবুর

বাড়ির জানালাগুলাে নিশ্চয়ই বন্ধ ছিল, নইলে ও বাড়ির ঘরের আলােগুলাে আমার

চোখে পড়ত। সেদিন আমি কি করছি না করছি, কেউ তা দেখতে পায়নি।

—আপনি রাজবাড়িতে গেলে পরে সেদিন অন্য কোন রােগীর বাড়ি থেকে আর

কেউ কি আপনাকে ডাকতে আসেনি?

এসেছিল বৈকি! হরিচরণের মুখে শুনেছি, পাঁচজন এসেছিল।

—হরিচরণ কে?

—সে বালক বয়স থেকেই এ বাড়িতে কাজ করে এমন বিশ্বাসী আর সৎ লােক।

আমি জীবনে আর দেখিনি।

–হরিচরণ কি বলে?

—সেদিন পাঁচজন লােক আমাকে ডাকতে এসেছিল। তাদের মধ্যে তিনজন লােক

আমি নেই শুনেই চলে যায়। একজন লােক ঠিকানা রেখে আমাকে কল দিয়ে যায়।

কেবল একজন লােক বলে আমার জন্য অপেক্ষা করবে। হরিচরণ তখন তাকে এই

ঘরে এনে বসিয়ে নিজের অন্য কাজে চলে যায়। কিন্তু মিনিট দশেক পরে ফিরে এসে

লােকটিকে আর দেখতে পায়নি। তবে এজন্য তার মনে কোন সন্দেহ হয়নি। কারণ।

এখানে কোন মূল্যবান জিনিষই থাকে না। আর বাইরের লােকের আনাগােনার জন্যে

এ ঘরটা সর্বদাই খােলী, পড়ে থাকে। হরিচরণের বিশ্বাস, আমার আসতে দেরি হচ্ছে।

দেখে লােকটি আর অপেক্ষা না করে চলে গিয়েছিল।

—সে নাম-ধাম কিছু রেখে যায়নি?

না।

—তার চেহারার বর্ণনা পেয়েছেন?

–পেয়েছি। তার দোহারা চেহারা, শ্যামবর্ণ, দীর্ঘ। শীতের জন্য সমস্ত দেহটাই

আলােয়ানে জড়িয়ে রেখেছিল। দেখা যাচ্ছিল কেবল তার মুখখানা। তার চোখে ছিল

কালাে চশমা, মুখে ছিল কঁচা-পাকা গোঁফ আর ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি।

—লােকটির চেহারার বর্ণনা কিন্তু অসাধারণ। আপনার কি তারই উপরে সন্দেহ

হয় ?

—একটু সন্দেহ হয় বটে, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে এও মনে হয় যে, কোন একজন বাইরের

লােক আমার টেবিলের প্যাড তুলে দেখতে যাবে কেন?

-সেটা ঠিক।

Bengali Story-Detective Story-Bengali Detective Story-Detective Story in Bengali

আমি চিন্তা করতে লাগলুম। জয়ন্ত বলে, কোন নতুন মামলা হাতে পেলে গােয়েন্দার

প্রধান আর প্রথম কর্তব্য হচ্ছে, সকলকেই সন্দেহ করা। কিন্তু খানিকক্ষণ চিন্তা-ভাবনার

পর আমার সন্দেহ ঘনীভূত হয়ে উঠল, দু’জন লােকের উপরে। কে ঐ আলােয়ান মুড়ি

দেওয়া রহস্যময় আগন্তুক? নরেনবাবুর প্রস্থানের পরেই ঘটনাক্ষেত্রে তার আবির্ভাব

এবং কেমন করেই বা জানতে পারলে প্যাডের তলায় আছে পাঁচ হাজার টাকার নােট ?

আর দ্বিতীয় ব্যক্তি কে? নিশ্চয়ই হরিচরণ। তার সাধুতা আর বিশ্বস্ততা সম্বন্ধে

নরেনবাবুর কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু মানুষের মন এমন আশ্চর্য বস্তু যে সত্যিকার

সাধুও সময়ে সময়ে হঠাৎ অসাধু হয়ে ওঠে। হ্যা, হরিচরণ, ঐ হরিচরণ। কালাে চশমা

পরা মুর্তিটার সৃষ্টি হয়েছে তারই উর্বর মস্তিষ্কের মধ্যে। হরিচরণকে ডেকে এনে খানিক

নাড়াচাড়া করলেই পাওয়া যাবে মামলার মূলসূত্র।


                                                     ॥ তিন ॥

হঠাৎ বাইরে জয়ন্তর কণ্ঠস্বর শােনা গেল। তাড়াতাড়ি উঠে ঘরের দরজার কাছে

গিয়ে দেখি, উঠোনে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে জয়ন্ত। বলল, তুমি এখানে?

নরেনবাবুর সঙ্গে জয়ন্তর পরিচয় করিয়ে দিলুম। তিনি তাকে সাদরে ঘরের ভিতরে

নিয়ে এলেন।

জয়ন্ত শুধােলে, ডাক্তারবাবু আপনি হঠাৎ আমার মানিক অপহরণ করে নিয়ে এলেন।

কেন?

আজ্ঞে মানিক বাবুর হাতে আমি একটি মামলার ভার অর্পণ করেছি।

-বটে। মানিকও তাহলে আজকাল স্বাধীন ভাবে গােয়েন্দার ভূমিকা গ্রহণ করতে

চায়।

আমি লজিত ভাবে বললুম, না, ভাই জয়ন্ত, আমি তােমার উপযুক্ত শিষ্য হতে

পেরেছি কিনা, সেটাই পরীক্ষা করছে এসেছি।

জয়ন্ত বলল, বাঃ, তােমার বিয়ের অন্ত নেই। কিন্তু মানিক, মামলাটার মধ্যে তুমি প্রবেশ করতে পেরেছ তাে?—মনে হচ্ছে পেরেছি। বলেই আমি মামলাটার আদ্যপ্রাপ্ত

জয়ন্তকে বললুম। জয়ন্ত উঠে দাঁড়াল। তার পর টেবিলের সামনে গিয়ে ডাক্তারবাবুর

নিজস্ব চেয়ারের উপরে বসে পড়ল। পূর্বদিকের জানলা দিয়ে বাইরের দিকে কিছুক্ষণ

তাকিয়ে রইল নিষ্পলক নেত্রে। তারপর মুখ নামিয়ে টেবিলের প্যাডের দিকে দৃষ্টি।

নিক্ষেপ করলে। তার মুখ সম্পূর্ণ ভাবহীন। কিন্তু আমি বুঝতে পারলুম তার মন এখন

অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

হঠাৎ সে জিজ্ঞাসা করলে, ডাক্তারবাবু, আপনি যখন বাইরে যান, তখন টেবিলের

প্যাডের উপরে কোন কাগজপত্র ছিল।

না  ।

—তা হলে মানিক যে ভেবেছে চোর যখন প্যাড়ের তলা থেকে নােটগুলাে টেনে

নিচিছল তখনই লালকালির দোয়াত উলটে গিয়েছিল, সেটা ঠিক নয়।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কি করে বুঝলে!

-দেখ । প্যাডের উপরে ছড়ানাে লাল কালির মাঝখানে রয়েছে একটা চতুষ্কোণের

মত সাদা জায়গা। ও জায়গাটায় কালি লাগেনি কেন?

—ওখানে বােধ হয় কোন কাগজপত্র ছিল। কালির ধারা তার ওপর দিয়েই বয়ে

গিয়েছে।

এতক্ষণে তােমার বুদ্ধি কিছুটা খুলেছে।

নরেনবাবু বললেন, প্যাডের ওপর কোন কাগজপত্র ছিল না।

Bengali Story-Detective Story-Bengali Detective Story-Detective Story in Bengali


জয়ন্তবাবু, আপনিও ঠিক কথাই বলেছেন ডাক্তারবাবু। তবু ঐ সাদা অংশটার সৃষ্টি

হল কেন শুনুন। চোর টেবিলের উপরে ঝুঁকে পড়ে প্যাডের তলা থেকে নােট গুলাে

বার করে নেয়। তারপর সেগুলাে প্যাডের ওপরেই রেখে গুণে দেখে। ঠিক সেই সময়েই

তার গায়ের আলােয়ান বা অন্য কিছু লেগে লাল কালির দোয়াতটা হঠাৎ উলটে যায়।

আমি বললুম, তা হলে লালকালি পড়েছিল নােটগুলির ওপর ?

জয়ন্ত আমার কথার জবাব না দিয়ে বললে, ডাক্তারবাবু, নােটগুলাের নম্বর নিশ্চয়ই

আপনার কাছে নেই।

—না। তবে বিনােদবাবুর কাছে পাওয়া যেতে পারে।

জয়ন্ত উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, এখনই খবর দিন। নম্বরগুলাে পেলেই আমার কাছে

পাঠিয়ে দেবেন। এখন যাচ্ছি। শীগগিরই আপনার সঙ্গে দেখা করব। এটা চিত্তাকর্ষক

হলেও সহজ মামলা।

রাস্তায় এসে জয়ন্তকে জিজ্ঞাসা করলুম, কে চোর, তুমি কিছু আন্দাজ করতে পেরেছ?

জয়ন্ত রাগত ভাবে বলল, তবে এটুকু আন্দাজ করতে পেরেছি, তুমি একটা আস্ত

গাধা!

আমি একেবারে দমে গেলুম।


                                                 ।। চার ।।

সােমবারের সন্ধ্যা। জয়ন্তর পেছনে পেছনে গুটি গুটি যাত্রা করলুম নরেনবাবুর

বাড়ির দিকে। জয়ন্ত কাল বিকেল থেকে রাত দশটা পর্যন্ত এবং আজ সকাল থেকে

বৈকাল পর্যন্ত সে বাড়ির বাইরে বাইরেই কাটিয়ে দিয়েছে। তার কার্যকলাপ সম্বন্ধে

একটি ছােটখাট ইঙ্গিত পর্যন্ত আমাকে দেয়নি। আজও তার মুখ এত গম্ভীর যে কোন

কথা জিজ্ঞাসা করতেও ভরসা হল না।

নরেনবাবু বসে ছিলেন আমাদেরই অপেক্ষায়। সাগ্রহে শুধালেন, “কিছু খবরাখবর

পেলেন নাকি?

পকেট থেকে একখানা খাম বার করে জয়ত্ত বললে, এই নিন। খামের ভেতর

থেকে বেরুল পাঁচখানা নােট।

জয়ন্ত বললে, দেখছেন ডাক্তারবাবু? প্রত্যেক নােটের উপরই কিছু না কিছু লাল

কালির দাগ লেগে আছে। একখানা নােটে একদিকের প্রায় সবটাই লাল কালি মাখা।

এখানা ছিল সব-উপরে। চোর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলবার চেষ্টা করেছিল। তাই লাল

কালির দাগ ফিকে লাগছে।

—কিন্তু চোর কে ?

জয়ন্ত বললে, ক্ষমা করবেন, চোরের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছি তার নাম প্রকাশ করব

না | কেবল এইটুকু জেনে রাখুন, সে আপনার বাড়ির লােক নয়।

বাইরে এসে জিজ্ঞাসা করলুম, ভাই জয়ন্ত, আমার কাছেও কি তুমি চোরের নাম

প্রকাশ করবে না ?

Bengali Story-Detective Story-Bengali Detective Story-Detective Story in Bengali

জয়ন্ত বললে, চোরের নাম মােহনতােষ চৌধুরী। জিজ্ঞাসা করলুম, তাকে তুমি

কেমন করে সন্দেহ করলে।সেদিন পূর্বদিকের দরজা জানালা দিয়েই দেখতে পেলাম

কেবল মােহনতােষবাবুর বাড়ির ঘর। এই হল আমার প্রথম সন্দেহ। ফ্রেঞ্চকাট দাড়িও

সন্দেহজনক। অভিনেতা মানুষ। হয় তাে তার বাড়িতেও ছদ্মবেশ ধারণের উপকরণ

আছে। এই হল আমার দ্বিতীয় সন্দেহ। বিনােদবাবু যে ঘটনার দিন সন্ধ্যাবেলা নরেনবাবুর

টাকা শােধ দিতে আসবে মােহনতােষ তা জানতে পেরেছিল। এটা আমার তৃতীয় সন্দেহ।

সে ছিল বিষম জুয়াড়ী। বাজারে তার কয়েক হাজার টাকা দেনা।

একটু থেমে জয়ন্ত বলল, মানিক সব কথা আর সবিস্তারে বলবার দরকার নেই।

ইনসপেক্টর সুন্দর বাবুকে সঙ্গে নিয়ে আজ আমি মােহনতােষের সঙ্গে দেখা করেছিলাম।

এই তার প্রথম অপরাধ। আমাদের দেখেই ভয়ে তার মুখ শুকিয়ে গেল। যখন জানালাম

যে নােটের নম্বর আমরা পেয়েছি, এখন এই কালিমাখা নােটগুলাে ভাঙাতে গেলেই

ধরা পড়বে, তখন সে আত্মসমর্পণ করল।

Bengali Story-Detective Story-Bengali Detective Story-Detective Story in Bengali

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Must Read

Bengali Horror Story – ভূতের সঙ্গে গল্পসল্প

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...

Thakurmar Jhuli Golpo – চাষা ও চাষাবউ

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don’t have sufficient time for going to the library and...

Bengali Sad Story – তোমায় ছাড়া বেঁচে থাকি কি করে

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...

Bengali Detective Story – কঠিন শাস্তি

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...

Bangla Rupkothar Golpo –  রাখাল ও পরীর

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...