Home Thakurmar Jhuli Bangali Thakurmar Jhuli - এক দুষ্ট ভূতের গল্প 

Bangali Thakurmar Jhuli – এক দুষ্ট ভূতের গল্প 

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don’t have sufficient time for going to the library and reading the storybooks In this age of the Internet. But, if we can read the story on this internet, then it is very interesting. So we have brought a few collections of Bengali story for you. Hope you will enjoy the stories in this busy lifestyle. In this post you will find the latest Thakurmar Jhuli, You can read here  Bangali Thakurmar Jhuli, Download Thakurmar Jhuli PDF, Hare you found top Thakurmar Jhuli Golpo.

এক দুষ্ট ভূতের গল্প 

 

ভূত আছে কি নেই – এ তর্কের মধ্যে না গিয়ে বরং আছে একথা
মেনে নিলে গােল মেটে। মানুষের মধ্যে যেমন ভাল-মন্দ দুইই আছে,
ভূতেদের মধ্যেও তেমনি। ভাল ভূতেরা মানুষের কোনও ক্ষতি করে না ;
বরং কোন কোন সময় দেখা গেছে, তারা মানুষের অনেক উপকার করেছে।
কিন্তু মন্দ ভূতেরা মানুষের ভাল তাে করেই না, বরং সব সময়েই তাদের
চেষ্টা থাকে কি করে মানুষের ক্ষতি করা যায়। মন্দ ভূতেদের মাথায় সব
সময় দুষ্টবুদ্ধি কিলবিল করছে। ভূতেদের চেহারা কেমন তা কেউ জানে
। তারা যেকোন সময় ইচ্ছে করলেই মানুষ, জানােয়ার কিংবা পাখির
মত চেহারা ধারণ করতে পারে। তবে ভূতের মাথায় যতই দুষ্টুবুদ্ধি থাকুক,
আসলে তাে ভূতই। তাই অনেক সময় মানুষের সঙ্গে বুদ্ধির দৌড়ে দুষ্টু
ভূতেদেরও হার মানতে দেখা গেছে। এ গল্প এক দুষ্টু ভূতের পরাজয়ের
গল্প।
বহু দিন আগে হিমাচলের কাংড়া অঞ্চলের চম্পাবতী গ্রামে শ্যামলাল
নামে একটি লােক বাস করত। একদিন সে কিছুদূরের লক্ষ্মীনগর গ্রামে তার
শ্বশুরবাড়ি যাবার জন্য সেজে-গুজে তৈরী হল। শ্যামলালের মনে খুব ফুর্তি।
এবার সে তার বউকে বাপের বাড়ি থেকে নিয়ে আসতে চলেছে। একটা
লাঠির ডগায় কাপড়ের পুটলীর মধ্যে সে তার বউ আর শ্বশুরবাড়ির লােকেদের
জন্য হরেক রকম জিনিস নিল। শ্যামলালের মা তাকে বলেছিল— গাঁয়ের
পণ্ডিতের কাছে গিয়ে যাত্রার শুভ সময়টা জেনে নিতে। কিন্তু শ্যামলালের

Bangali Thakurmar Jhuli – Bangali Thakurmar Jhuli Cartoon



আর দেরি করতে মােটেই ইচ্ছে ছিল না। সময় শুভ-অশুভ বিচার না
করেই সে পুটলী-বাঁধা লাঠিটা কাধের ওপর নিয়ে শ্বশুরবাড়ির দিকে যাত্রা
করল। শ্বশুরবাড়ীর গাঁয়ের কাছাকাছি তিন রাস্তার ঠিক মােড়ের মাথায়
একটা বিরাট শিমূল গাছ ছিল। সেই গাছের মগডালে ছিল একটা দুষ্টু ভূতের
বাসা। সে তার বাসার মধ্যে বসে বসে সব সময় লক্ষ্য করত পথ দিয়ে কে
কোথায় যাচ্ছে। শিমূল গাছের কাছাকাছি আসতেই শ্যামলালকে দেখতে
পেল সেই দুষ্টু ভূতটা!

ভূতেরা যেমন তড়িঘড়ি চেহারা পাল্টাতে পারে, তেমনি তাদের আরও
একটা ক্ষমতা আছে। মানুষের হাঁড়ির খবর তাদের একেবারে নখের ডগায়।
ভূতটা তার সেই ক্ষমতার বলে জানতে পারল শ্যামলাল কোথায় যাচ্ছে।
আর সেই সঙ্গে জানতে পারল শ্যামলাল সে সময় যাত্রা করেছিল সে-
সময়টা ছিল বারবেলা। বারবেলায় যাত্রা করলে মানুষদের ভূতেরা নাকি
সহজেই কাবু করতে পারে। ভূতটা এমনিতে তাে দুষ্ট ছিলই, তার ওপরে
ছিল ভীষণ হিংসুটে। সে মনে মনে বলল- দাঁড়াও, তােমার শ্বশুরবাড়ি
থেকে বউ নিয়ে আসা বার করছি। এই বলে চোখের নিমেষে ভূতটা
অবিকল শ্যামলালের রূপ ধারণ করল। তারপর শিমূল গাছের বাসা থেকে
নেমে এসে ছায়ার মত সে শ্যামলালের পিছু ধরল।

শ্যামলাল প্রথমে এসব কিছু বুঝতে পারেনি। শ্বশুরবাড়ি পৌঁছানর
পর তার বউয়ের চোখে পড়ল ব্যাপারটা। হুবহু তার স্বামীর মত দেখতে
আর একজন সব সময় যেন স্বামীর সঙ্গে ছায়ার মত লেপ্টে রয়েছে। তার
স্বামী যা করে, সঙ্গে সঙ্গে লােকটাও তাই করে। কে যে তার আসল স্বামী,
কিছুতেই সে তা বুঝে উঠতে পারে না। সে বলে তােমাদের মধ্যে কে
আমার স্বামী?

আসল শ্যামলাল তার বউয়ের কথায় পেছনে ফিরে তাকিয়ে সত্যিই
অবাক হয়ে গেল। সে রেগে গিয়ে ভূতটাকে প্রশ্ন করল, তুমি কে?
ভূতও সঙ্গে সঙ্গে শ্যামলালের মত রাগ দেখিয়ে বলল, তুমি কে?
শ্যামলাল বলল, আমি চম্পাবতী গাঁয়ের শ্যামলাল। এটা আমার
শ্বশুরবাড়ি। তুমি এখানে কেন ?

Bangali Thakurmar Jhuli – Bangali Thakurmar Jhuli Golpo




শ্যামলাল যা বলল ভূতটাও হুবহু সেই একই কথা বলল। শ্যামলাল
ভীষণ ভয় পেয়ে গেল। সে তখন তার বউকে বলল- তুমি তৈরী হয়ে
নাও। আমরা এখনি রওনা হব। শ্যামলাল যা যা বলল ভূতটা ঠিক তাই-তাই
বলল। শ্যামলালের ভালমানুষ বউটা পড়ল মহা সমস্যায়। যা হয় দেখা।
যাবে। এই ভেবে সে চম্পাবতী গাঁয়ে যাবার জন্য তৈরী হল, সেই দুষ্ট
ভূতও তাদের সঙ্গে সঙ্গে চলল।

আবার সেই শিমূল গাছের কাছাকাছি এসে শ্যামলাল ডানদিকে তার
নিজের গ্রামের দিকে যাবার জন্য বৌয়ের হাত ধরে টানতেই, ভূতটাও বউয়ের
আর এক হাত ধরে টানাটানি করতে লাগল। শ্যামলাল যত বলে তুমি।
আমার বউকে ছেড়ে দাও। ভূতটাও সেই একই ভাবে শ্যামলালকে বলে-
তুমি আমার বউকে ছেড়ে দাও। টানাটানির চোটে বেচারা বউটার নাজেহাল
অবস্থা! তবে বউটার বুদ্ধিসুদ্ধি ছিল। হঠাৎ তার মাথায় একটা মতলব এসে
গেল। সে বলল দেখ, টানাটানি করে আমায় মিছেমিছি কষ্ট দিচ্ছ কেন?
তার চেয়ে চল আমরা রাজার কাছে যাই। তিনিই বিচার করে বলে দেবেন
আমি কার সঙ্গে যাব?

আসল শ্যামলাল বলল— ঠিক কথা।।
নকল শ্যামলালও তার সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল— ঠিক কথা!
রাজামশাই পাত্রমিত্রদের নিয়ে রাজসভায় বসে আছেন। এমন সময়
দুই শ্যামলাল বউটাকে নিয়ে সেখানে এসে হাজির হল। আসল শ্যামলাল
বলল— রাজামশাই বিচার করুন।।
নকল শ্যামলালও সেই একই রকম ভাবে বলে উঠল— রাজামশাই
বিচার করুন।

রাজা তাে অবাক। তার সঙ্গে অবাক পাত্রমিত্ররাও। রাজা মন দিয়ে
দুজনের কথা শুনলেন। রাজা ছিলেন খুবই বুদ্ধিমান। তিনি বুঝলেন-এদের
মধ্যে একজন নকল শ্যামলাল আছে। তার মনে হল -নকল শ্যামলালটা
নিশ্চয় ভূত। তা না হলে একেবারে হুবহু একই রকম চেহারা দুজনের হতে
পারে না। তিনি মনে মনে একটা ফন্দী আঁটলেন। তার এক ভৃত্যকে দিয়ে
একটা মাটির কুঁজো আনালেন।

ভৃত্য কুঁজো নিয়ে এলে পরে তিনি দুজনকে উদ্দেশ করে বললেন-
দেখ বাপু, তােমাদের সমস্যাটা যেমন জটিল তেমনই সূক্ষ্ম। তাই আমাকে
বিচারটাও করতে হবে সূক্ষ্মভাবে। তােমাদের দুজনকে একটা পরীক্ষা দিতে।
হবে। সেই পরীক্ষায় যে জয়ী হবে, সেই বউকে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবে।
রাজার কথা শুনে আসল শ্যামলাল বলল— আমি রাজী।
নকল শ্যামলালও সেই একই কথার প্রতিধ্বনি করে বলল— আমি
রাজী।

Bangali Thakurmar Jhuli – Thakurmar Jhuli



তাদের কথা শুনে রাজা মাটির কুঁজোটাকে দেখিয়ে বললেন- এই
কুঁজোর মধ্যে যে ঢুকতে পারবে বউ তারই।
রাজার কথা শুনে আসল শ্যামলালের মুখ গেল শুকিয়ে। কুঁজোর
ওই সরু মুখ দিয়ে কোন মানুষ কি গলতে পারে ? ভূতটা কিন্তু রাজার কথায়
আনন্দে নেচে উঠল। আসলে ভূত তাে! চেহারাটাকে যেমন খুশী ছছাট-বড়
করা তাদের কাছে জলের মত সােজা। চোখের নিমেষে চেহারাটাকে ছােট
একটা টিকটিকির মত করে সুড়ৎ করে কুঁজোর মধ্যে ঢুকে গেল ভূতটা।
রাজামশাইও সঙ্গে সঙ্গে কুঁজোর মুখটা বন্ধ করে দিয়ে বললেন— থাক
ব্যাটা ভূত তুই এই কুঁজোর মধ্যে বন্দী হয়ে!

তারপর আর কি? শ্যামলাল আনন্দে গদগদ হয়ে রাজামশাইকে
ভক্তিভরে প্রণাম করে, তার জয়গান করতে করতে বউয়ের হাত ধরে ফিরে
গেল চম্পাবতী গাঁয়ে তার নিজের বাড়িতে।

                         সমাপ্ত


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Must Read

Bengali Sad Story – তোমায় ছাড়া বেঁচে থাকি কি করে

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...

Bengali Detective Story – কঠিন শাস্তি

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...

Bangla Rupkothar Golpo –  রাখাল ও পরীর

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...

Bengali Rupkothar golpo -অত্যাচারী বাদশাহ 

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...

Bangla vuter golpo – পেত্নীর প্রেম

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...