Chotoder golpo – ছোটোদের মজার মজার গল্প গুলি এবার বাংলাতে

Chotoder golpo

 

Chotoder golpo is a very popular story in Bengali. Hare, you found top Chotoder golpo. Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don’t have sufficient time for going to the library and reading the storybooks At this age of the Internet. But, if we can read the story on this internet, then it is very interesting. So we have brought a few collections of Bengali story for you. Hope you will enjoy the stories in this busy lifestyle. In this post you will find the latest Bengali Chotoder golpo, You can read here  Chotoder golpo, download Chotoder golpo PDF.

 




 

রাজপুত্র আর ঘুমন্তপুরী 

 

কাভারাত্তি দ্বীপের রাজপুত্রের মনে বড় কষ্ট। উঠতে বসতে দুঃখের
কথা মনে পড়ে। মন খারাপ হয়ে যায় তখন। অথচ কি নেই তাঁর। যখন যা
চান তখন তাই পান। যখন যা খেতে ইচ্ছে হয়, তখন তাই খান। এতদিন
ছােট ছিলেন, তাই কিছু মনে হয়নি। রাজবাড়ির ঘরে ঘরে যেখানে খুশি ঘুরে
ঘুরে বেড়িয়েছেন।

 

ইচ্ছে হলে রাজবাড়ির পাশের খােলা মাঠে খেলা করেছেন।
কখনও বা নদীতে সাঁতার কেটেছেন। যার সঙ্গে ইচ্ছে হয়েছে বন্ধুত্ব।
পাতিয়েছেন। কিন্তু এখন আর এসব ভাল লাগে না। সেই ছােট্ট বয়েসটি
আর নেই। রাজপুত্র বড় হয়েছেন।

 

এখন তার একা একা নদীর পর নদী পেরিয়ে বনের পর বন পার হয়ে, অনেক দূরের কোন

অজানা দেশে যেতে ইচ্ছে হয়। বসে থাকবেন টাটু ঘােড়ার পিঠে। ঘােড়া টগবগিয়ে ছুটবে মাঠ,
ঘাট, নদী, পর্বত। তার হাতে থাকবে খােলা তলােয়ার। ভাবতে ভাবতে রাত
ভাের হয়ে যায়। শরীর ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। একদিন তাই রাণীমাকে
বলেই ফেললেন মা, আমি দেশ ভ্রমণে বেরুবাে।

 




 

রাণীমার চোখ কপালে উঠল-বালাই ষাট, অমন কথা মুখে আনতে
নেই। কোথায় কোন্ বিপদ আছে কে জানে।
কিন্তু রাজপুত্রের এক কথা—আমি দেশভ্রমণে যাব। এ কথায় রাণীমার
আহার নিদ্রা বন্ধ হল। রাজ্যের লােকের মনে দুশ্চিন্তা। তবু রাজপুত্র
নাছােড়বান্দা। শেষে রাজা বললেন— এতই যখন ইচ্ছে ওর, যাক।
রাজপুত্র দেশভ্রমণে যাবেন। সাজ সাজ রব পড়ে গেল রাজ্যে। ঘােড়া।
সাজল, হাতি সাজল, উট সাজল। তার ওপর বাছা বাছা সৈন্য। সব
রাজপুত্রের সঙ্গে যাবে। কিন্তু রাজপুত্র কিছুই সঙ্গে নিলেন না।

মণি-মাণিক্য , চর- অনুচর, হাতি-ঘােড়া, লােক-লস্কর সব রইল পড়ে।

শুধু নিজের টাট্রুঘােড়াটির ওপর বসে পথে নেমে হু-হু করে ঘােড়া ছুটিয়ে দিলেন।

ঘােড়ছুটছে ত’ ছুটছে। ছুটতে ছুটতে পেরিয়ে গেল কত দেশ, কত নগর। নদীর
পর নদী। বনের পর বন।

 




 


Rupkothar Golpo – ১০টি সেরা ছোটোদের মজার মজার রূপকথার গল্প


 

যেতে যেতে একসময় এক গভীর গহন বনের ধারে এসে ঘােড়া
থামল। বড় আশ্চর্য লাগল রাজপুত্রের। এত চুপচাপ কেন চারদিক। কোথাও
কোন সাড়া শব্দ নেই। এত গভীর বন। বিশাল তাল, তমাল, শাল, পিয়াল
গাছ। হাওয়া দিলেই পাতায় পাতায় সর সর শব্দ কই! পাতা রয়েছে তবু
শব্দ নেই। রাজপুত্র বনের মধ্যে ঢুকলেন।

চারদিকে তাকান আর অবাক হয়ে যান। এ যে অবাককরা ব্যাপার। বনের এধারে ওধারে জন্তু জানােয়ার রয়েছে।
গাছের ডালে ডালে পাখি বসে আছে। শাখায় শাখায় কত ফুল। কিন্তু জন্তু-
জানােয়াররা টু শব্দটিও করে না।

গাছের ডালে পাখিরা বসে আছে ত’ বসেই আছে। গান গায় না। শাখায় শাখায় ফুল ফুটে ত’ ফুটেই আছে। গন্ধ বিলায়
রাজপুত্র ভারি অবাক হলেন, এমনটা জীবনে দেখেননি। দেখতে দেখতে
বন পেরিয়ে বনের সীমায় যেই গেছেন। দেখলেন এক রাজপ্রাসাদ। কত
নগর পেরিয়ে এলেন। কত দেশ পেরিয়ে এলেন।

 




 

কিন্তু এমন রাজপ্রাসাদ। আর কোথায় দেখলেন? বিশাল প্রাসাদ। এধার থেকে ওধার দেখা যায় না।
আর কি উঁচু চুড়া— যেন আকাশে গিয়ে ঠেকছে। দূর থেকে দেখতে পেলেন
রাজপ্রাসাদের বিশাল ফটক। সেই লােহার ফটকের দুধারে দুজন প্রহরী দাড়িয়ে।
আছে। এমন রাজপুরীতে না গেলেই নয়।

পায়ে পায়ে ফটকের সামনে আসতেই আবার অবাক কাণ্ড। প্রহরী দুজনের কোমরে তলােয়ার গোঁজা।
মাথায় পাগড়ি। মােটা গোঁফ। তারা ঠায় দাঁড়িয়ে ফটক পাহারা দিচ্ছে। কিন্তু
তাদের প্রাণ নেই। তারা পাথরের।

Chotoder golpo

 

chotoder mojar golpo in bengali

 

এরপর সবটা না জানতে পারলে থাকা যায় ? ভেতরে ভেতরে ছটফট
করছেন রাজপুত্র। এসব কি ব্যাপার। ব্যাপার দেখতেই ফটক পেরিয়ে
ঢুকলেন রাজপুত্র। রাজপুরী কি সুন্দর সাজানাে। তকতকে ঝকঝকে। দুধের
মত সাদা দেওয়াল। স্ফটিকের মত মেঝে। মত্ত আঙিনা। কিন্তু কোথাও।
কোন শব্দটি নেই। নিঝুম পুরী । পাতাটি পড়ে না। কুটোটি নড়ে না ।
অথচ চারদিকে সেপাই-সান্ত্রী, লােক-লস্কর, ঝি-চাকর।

সব সারি দাঁড়িয়ে আছে ত’ দাঁড়িয়েই আছে। সব পাথর। সেপাই-সান্ত্রী পাথর।

লােক- লস্করপাথর। ঝি-চাকর পাথর। এমন কি ঘােড়াশালে শয়ে শয়ে ঘােড়া।
হাতিশালে হাতি সব পাথর।

এক কুঠরীতে গিয়ে দেখলেন। দেওয়ালে দেওয়ালে কত রকম অস্ব
টাঙানাে রয়েছে। ঢাল, তলােয়ার, বল্লম, তীর-ধনুক। অস্ত্রের গায়ে আলাে
পড়ে ঝকঝক করছে। যেন এক্ষুণি দেওয়াল থেকে নামিয়ে নিয়ে যুদ্ধে যাওয়া
হবে। কিন্তু সেপাইরা সব পাথরের মূর্তি।

 




 

আর এক কুঠরীতে গিয়ে দেখলেন রাজ-দরবার। পাত্র মিত্র অমাত্য
মন্ত্রীকে নিয়ে রাজা রাজদরবারে বসেছেন। রাজার সিংহাসন মণি-মুক্তো-
হীরে-মাণিক্য দিয়ে তৈরী। আলাে পড়ে জ্বল জ্বল জ্বলছে। সােনার বাতিদানে
ঘি -এর প্রদীপ জ্বলছে। রাজা বিচারসভায় বসেছেন। অথচ টু শব্দটি নেই
কোথাও। রাজসিংহাসনে রাজা পাথরের মূর্তি।

বসে আছেন ত’ বসেইআছেন। মন্ত্রীর আসনে মন্ত্রী বসে আছেন ত’ বসেই আছেন। পাত্র-মিত্র
অমাত্য সবাই তাই। কারাে চোখের পাতা পড়ছে না। কেউ নিশ্বাস ফেলছে
না | কেউ কথাও বলছে না। সব যেন দাঁড়িয়ে বসে গভীর ঘুমে ঘুমিয়ে
পড়েছে। সবাই পাথরের মূর্তি।

 


100 Best Bengali Shayari


 

এখান থেকে বেরিয়ে পাশের ঘরে গেলেন রাজপুত্র। দরজা হাট করে
খােলা। ভেতরে কত রকমের ধনরত্ন। কত সােনা দানা। কত কত মােহর।
ঘরে রাখার আর জায়গা নেই। ঘরে আলাে নেই, তবু এই ধনরত্নে ঘরে যেন
দশটা চাদের আলাে। রাজপুত্র কিছুতেই হাত দিলেন না। শুধু দেখে ঘর
ছেড়ে বেরিয়ে এলেন।

Chotoder golpo

 

পাশের ঘরে ঢােকার আগেই হাজার লক্ষ ফুলের গন্ধ ভেসে এলা
রাজপুত্রের নাকে। গন্ধে মাতাল হয়ে গেলেন রাজপুত্র। এমন পবিত্র গন্ধ
কোথা থেকে আসে। মন আনচান করল। শরীর টালমাটাল হল। গথ
রাজপুত্রকে টেনে নিয়ে এল। ঘরে ঢুকে রাজপুত্র অবাক। ঘর আলাে হয়
আছে রঙিন ফুলে। হাজার হাজার পদ্মফুল। ঘরের ভেতর হীরের স্বচ্ছ ফা।
জল। চিকমিক ঝিকমিক। ঢেউ খেলছে জলে। সেই জলের ওপর সঃ
পান্নার উঁটি। সেই ডাটিতে সবুজ মখমলের পা ঢল ঢল ।

পাতায় পাতায় ফুটন্ত সােনার ফুল হাওয়ায় দুলছে। ভাসছে টুলুক টুলুক।

ফুলের বনে হীরেরপালঙ্ক। পালঙ্কের ওপর সােনার ফুলের বিছানায়, মুক্তো বসানাে ঝিকমিক
মখমলের ওপর ও কে শুয়ে! রাজপুত্র বিস্ময়ে তাকিয়ে আছেন। একি
রাজকন্যা ! এত রূপ রাজকন্যার! গায়ের রং নয়, যেন চাদের আলাে। নাক
নয়, যেন চিকন বাঁশি। চোখ নয়, যেন পাখির তুলতুলে ছানা। দাঁত নয়, যেন
মুক্তো। কত আর দেখবেন রাজপুত্র।

 




 

দেখতে দেখতে বিভাের। রাজপুত্রআর চোখ ফেরাতে পারলেন না। দেখতে লাগলেন। শুধু দেখতেই লাগলেন।
দেখতে দেখতে দিন গেল। মাস গেল। বছর গেল। এদিকে রাজকন্যার ঘুম
আর ভাঙে না। রাজপুত্রও চোখ ফেরাতে পারেন না। হঠাৎ একদিন রাজপুত্র
দেখলেন-রাজকন্যার মাথার কাছে মেঘের মত চুলের পাশে একটা সােনার
কাঠি। সােনার কাঠিটা হাতে তুলেছেন কি তােলেননি, হঠাৎ চোখ পড়ল
পায়ের দিকে, পায়ের কাছে আর একটা রূপাের কাঠি। সেটাও হাতে তুলে
নিলেন রাজপুত্র।

কাঠি দুটি নিয়ে নাড়াচাড়া করছেন। হঠাৎ সােনার কাঠিটা।
কখন টুক করে রাজকন্যার মাথায় ঠেকে গেল। অমনি হু-হু করে কোথায়।
যেন বাতাস উঠল। পদ্মের বনে উঠল ঢেউ। ফুলেরা এ ওর গায়ে ঢলে
পড়ল, হীরের জলে ঢেউ উঠল। আর সেই সঙ্গে রাজকন্যার হাত নড়ল। পা
সরল। রাজকন্যা হাই তুললেন। এরপর আস্তে আস্তে চোখের পাতা খুলে
গেল রাজকন্যার আর তাকিয়েই চমকে উঠে বসলেন।

 




 

chotoder hasir golpo

 

সঙ্গে সঙ্গে রাজপুরীর চারদিকে পাখিরা গান গেয়ে উঠল। মন্দিরে
আরতির ঘণ্টা বাজল। কেল্লায় তুর্য নিনাদ হল। ঘােড়া ডাকল, হাতি ডাকল।
দরবারে রাজার ঘুম ভাঙল। মন্ত্রী চোখ কচলে উঠে বসলেন। পাত্র-মিত্র।
অমাত্য সান্ত্রী সেপাই সবাই ঘুম ভেঙে কলকল করে উঠল। তলােয়ারে শব্দ
উঠল ঝনঝন। তীর ধনুকে শব্দ হল শন শন। সবাই অবাক। এতদিন পরে,
এতবছর পরে কে এল রাজপুরীতে।

অবাক রাজপুত্রও।

তখন রাজকন্যা সব খুলে বললেন, এক দৈত্য ছিল। বিশাল কদাকার
দৈত্য ছিল। মুলাের মত বড় বড় দাঁত। ভাটার মত চোখ। থ্যাবড়া থ্যাবড়া
জবরজং নাক। হাতির মত লট পট দু দুটো কান। হাসি ত’ নয়, যেন পাহাড়ি নদী।

কথা ত’ নয়, যেন মেঘ গর্জন। ছােটা ত’ নয়, যেন পৃথিবী কাপানাে।
সেই দৈত্যের একদিন রাজকন্যাকে দেখে ভাল লেগে গেল। বলল, আমি
বিয়ে করব। এদিকে এই বিয়েতে কেউ রাজি নয়। রাজা নয়। রাণী নয়। মন্ত্রী,
পাত্র মিত্র অমাত্য কেউ নয়। এমনকি রাজ্যের লােকজনও বলল-না, এ বিয়ে
হবে না। শেষে দৈত্য এসে রাজকন্যাকে বলল তােমার কি মত। রাজকন্যাও
বলল- না।

 


Thakurmar Jhuli Golpo ( চাষা ও চাষাবউ )


 

একথা শুনে রাগে অন্ধ হয়ে দৈত্য তার যাদুবিদ্যায় সবাইকে দিল
ঘুম পাড়িয়ে। রাজ্যের যা-কিছু সব হয়ে গেল পাথর। সব পাথর হয়ে
গেলে ঘুমন্ত পাথরের রাজকন্যার পাশে রেখে দিল একটা সােনার কাঠি,
একটা রূপপার কাঠি। যদি কোন দিন কোন রাজপুত্র আসে। যদি তিনি
সােনার কাঠিটা রাজকন্যার মাথায় চুইয়ে দেন। তাহলে ঘুমন্তপুরী আবার
জেগে উঠবে। কথা শেষ করে রাজকন্যা হাসলেন। বললেন, আপনিই
সেই রাজপুত্র। আপনিই আমাদের ঘুম ভাঙিয়েছেন। রাজা এলেন। রাণী
এলেন। মন্ত্রী এলেন। সকলে এসে দেখেন এক রাজপুত্র সােনার কাঠি
চুইয়ে ঘুম ভাঙিয়েছেন সবার।

রাজা বললন-তােমাকে আমি কি দেব।
রাণী বললেন-তােমাকে আমি কি দেব।

 




 

রাজ্যের লােকজন বলল— আপনি কোন্ দেবরাজ্যের রাজপুত্র। এমন
রূপ। এমন গুণ। আমাদের ওপর এত দয়া। আপনি কি চান?

রাজপুত্র কি আর চাইবেন। মাথা নীচু করে আছেন। লজ্জায় রাঙা
হয়ে উঠছেন। আনন্দে ভরে যাচ্ছেন। কিন্তু কথা বলতে পারছেন না।

রাজা বললেন-আমার ত’ দেবার আর কিছুই নেই। এই রাজকন্যা
তােমার হাতে দিলাম। এই রাজত্ব তােমার হাতে দিলাম। একথায় চারদিকে
উৎসব শুরু হয়ে গেল। রাজকন্যা হেসে লজ্জায় মাথা নত করলেন। রাজপুত্র
লজ্জায় মাথা নােয়ালেন। সারা রাজ্যের লােক আনন্দ উৎসবে মেতে উঠল।
শাঁখ বাজল, উলুধ্বনি দিল, আম্র-পল্লব টাঙানাে হল। ঘরে ঘরে ফুল, চন্দন।
পুরােহিতের গলার মন্ত্রে গমগম করে উঠল রাজপুরী। রাজপুরীতে এমন উৎসব
কেউ দেখেনি। রাজকন্যার বিয়ে বলে কথা। কেউ সামিয়ানা টাঙায়, কেউ ঘর দোর সাজায়।

Chotoder golpo

chotoder golpo
chotoder golpo

 

কেউ মাছ কোটে। কেউ বাটনা বাটে। এয়ােরা বাজায়
শাখ। দুয়ারে দুয়ারে আলপনা পিড়িতে পিঁড়িতেআলপনা। শেষে রাজকন্যার
সঙ্গে রাজপুত্রের বিয়ে হয়ে যায়।

এদিকে একবছর দু’বছর করে কতদিন পার হয়ে গেল তবু রাজপুত্রের
দেখা নেই। রাজপুত্র বিদেশ ভ্রমণে গেল ত’ গেলই। কেঁদে কেঁদে রাণী
পাগল পারা। শােকে শােকে রাজা পাথর। কারাে চোখে ঘুম নেই। গাছে
ফুল ফোটে না। পাখিরা ডাকে না। কেউ হাসে না। কেউ গান গায় না। যেন
শ্মশানপুরী।

 




 

তারপর একদিন ভােরবেলা শােনা গেল রাজপুত্র ফিরছে। একজন
এসে খবর দিল রাজ্যের সীমানায় এসে পৌঁছেছেন। আর একজন এসে
বলল-নদী পেরুচ্ছেন রাজপুত্র। আর একজন বলল-রাজপুত্রের সঙ্গে রাজকন্যা,
সঙ্গে হাতি-ঘােড়া, লােক-লস্কর। ধনরত্নের ছড়াছড়ি।

একথায় হুলুস্থুলু পড়ল রাজপুরীতে। রাজা শাক থেকে উঠে এলেন। রাণী চোখ মুছে উঠে এসে
দাঁড়ালেন। দূরে এইমাত্র দেখা জেল চতুর্দোলায় চেপে রাজপুত্র আসছেন।
রাজা কি করবেন বুঝতে পারলেন না। রাণী কি করবেন বুঝতে পারছেন না।
আনন্দে হাউহাউ করে কেঁদে ফেললেন দু’জনেই।

ওদিকে রাজপুরীতে বেজে উঠল শঙ্খ। কাড়া-নাকড়া। ঢাক-ঢােল আর
সানাই। রাজা এসে তুলে নিলেন রাজপুত্রকে। রাণী এসে বুকে তুলে নিলেন
রাজকন্যাকে। তারপর সবাই মিলে সুখে রাজত্ব করতে লাগলেন।

 

সমাপ্ত




 


 

স্বল্পকাহিনী

 

রাজসভায় উপবিষ্ট চিত্ৰদুর্গের রাজা। তাকে ঘিরে আছেন রাজ-
অমাত্য, পাত্রমিত্র সভাসদের দল। রাজসভায় অনেক কাজ। তবু মাঝে মাঝেই
কেমন আনমনা হয়ে যাচ্ছেন রাজা। রাজ-অমাত্য অনেকক্ষণ ধরে লক্ষ্য
করছেন রাজার এই অন্যমনস্ক ভাব।

প্রবীণ এবং অভিজ্ঞ অমাত্য রাজাকে ভাল করেই চেনেন। চিত্রদুর্গের প্রজাদের মঙ্গলচিন্তাতেই রাজার দিন কাটে।
তার একটা গােপন ব্যাপার অমাত্য জানেন, যা আর কেউই জানে না। মাঝে
মাঝেই আশ্চর্য সব স্বপ্ন দেখেন রাজা, আর যতক্ষণ না সেইসব স্বপ্নের
সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা খুঁজে পান, ততক্ষণ তার মন থাকে অস্থির-চঞ্চল। আজ কি
সেই রকম কোন স্বপ্ন দেখছেন? সেই জন্যেই কি তিনি আজ এমন
দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ? রাজকার্য-সম্পাদনের এক ফাকে রাজাকে সেই কথাই জিজ্ঞাসা
করে বসলেন অমাত্য।




 

– মহারাজের দুশ্চিন্তার নতুন কোনও কারণ ঘটেছে কি?
অমাত্যের প্রশ্ন শুনে চমকে উঠলেন রাজা। সত্যিই তাে, গতরাত্রে
এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখে তার ঘুম ভেঙে গেছে। রক্তবর্ণের এক আশ্চর্য শুগাল
যেন শীর নত হয়ে ঝুলছে তার শয্যার ওপর। এই অদ্ভুত স্বপ্নের অর্থ কি?
ঘুম ভাঙার পর থেকে চিন্তায় চিন্তায় রাজা অস্থির হয়ে উঠেছেন মনে মনে।

অমাত্যের প্রশ্ন শুনে তিনি গত রাত্রে দেখা স্বপ্নের কথা সবিস্তারে বর্ণনা
করলেন। ক্রমে সভায় উপস্থিত জ্ঞানী-গুণীজনেরাও শুনলেন রাজার সেই
অদ্ভুত স্বপ্নের কথা। কিন্তু অনেক ভেবেও কেউ এর কোন সমাধান খুঁজে
পেলেন না।

Chotoder golpo

chotoder golpo
chotoder golpo

 

শেষ পর্যন্ত সারা রাজ্যে প্রচার করা হল রাজার এই স্বপ্নের কথা।
সেই সঙ্গে ঘােষণা করা হল— যে এই অদ্ভুত স্বপ্নের যথাযথ ব্যাখ্যায় রাজাকে
সন্তুষ্ট করতে পারবে, তাকে পুরস্কৃত করা হবে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রায়।

রাজার এই ঘােষণার কথা জানতে পেরে গ্রামের এক গরিব চাষী
ভাবল-সে যদি এই স্বপ্ন সমস্যার সমাধান করতে পারে, তাহলে তার মতাে
দরিদ্রের বরাত ফিরে যেতে পারে। সেই গ্রামে রামযােশী নামে এক ব্রাহ্মণ
বাস করতেন। তার ছিল অগাধ জ্ঞান এবং প্রশ্নাতীত সততা। সেই চাষী
অনেক ভেবে চিন্তে একটা মতলব ভেঁজে একদিন রামযােশীর কাছে গিয়ে
হাজির হল।

 




 

সে রামযােশীকে রাজার অদ্ভুত স্বপ্নের কাহিনীটি শুনিয়ে অনুনয় করে
বলল— পণ্ডিত মশাই, আপনি দয়া করে এর কি ব্যাখ্যা, আমায় বলে দিন।
আমি বড় গরিব। তবে আপনাকে কথা দিচ্ছি, আপনার ব্যাখ্যা শুনে রাজা
যদি খুশী হন, তাহলে পুরস্কারের অর্ধেক অর্থ আমি আপনাকে দেব।

রামযােশী ছিলেন প্রকৃত জ্ঞানী এবং বড়ই নির্লোভ। অর্থ বা খ্যাতি-
এর কোনােটার প্রতিই তার কিছুমাত্র লােভ-লালসা ছিল না। তবু তিনি সেই
চাষীর সততার পরীক্ষা নেওয়ার জন্য তাকে বললেন- রাজাকে গিয়ে বল-
সামনে এক ভীষণ দুঃসময়ের মুখােমুখি হতে হবে তাকে। রাজ্য ছেয়ে যাবে।

মিথ্যাচার, প্রবঞ্চনা আর প্রবল অনাচারে। রাজার উচিত শক্ত হাতে এই সব
মিথ্যাচার, প্রবঞ্চনা আর অনাচারের মােকাবিলা করা। যত শীঘ্র সম্ভব তাঁকে
এই সম্পর্কে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। চারদিকে রাখতে হবে সজাগ
দৃষ্টি। তবেই দেশের ও দশের মঙ্গল হবে।

Chotoder golpo

chotoder cartoon

 

যথাসময়ে চাষী রাজার কাছে হাজির হয়ে তার স্বপ্নের ব্যাখ্যা শােনাল।
রাজা সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়ে তার ঘােষিত পুরস্কার চাষীকে দিলেন। তারপর
রাজ্যের শাসন ব্যবস্থায় কিছু কিছু সংস্কার সাধন করে তিনি মিথ্যাচার

প্রবঞ্চনা আর অনাচারের অশুভ প্রভাব থেকে তার রাজ্যকে মুক্ত করতে সক্রিয় হলেন
এবং এ কাজে শেষ পর্যন্ত সফলও হলেন অনেকখানি।

 




 

 

সেই চাষী কিন্তু তার কথা রাখল না। ব্রাহ্মণ রামযােশীকে তার প্রাপ্য
পাঁচশ স্বর্ণমুদ্রা থেকে সে বঞ্চিত করল। চরম স্বার্থপরের মত পুরস্কারের
সমস্ত অর্থ সে নিজেই ভােগ করল। ভুলেও সে রামযােশীর বাড়ির দিকে পা
বাড়াল না আর।

এমনি করে এক বছর প্রায় কেটে গেছে। চিত্রদুর্গের রাজা আবার এক
অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলেন। এবারে তিনি দেখলেন একটা জ্বলন্ত ছােরা ঠিক
যেন তার মাথার ওপর দাউ দাউ করে জ্বলছে। রাজার এই স্বপ্নের ব্যাখ্যাকারীর
জন্য এবার পুরস্কার ঘােষণা করা হল-পাঁচ হাজার স্বর্ণমুদ্রা।

 


Bengali Love Quotes


 

সেই নির্লজ্জ চাষী দারুণ লােভে এবারও গিয়ে হাজির হল ব্রাহ্মণ
রামযােশীর কাছে । নানা মিষ্ট কথায় ভুলিয়ে, আগেরবার যে সে কথার
খেলাপ করেছিল, সেজন্য ক্ষমা চাইল ব্রাহ্মণের কাছে। এবার সে নিশ্চয়ই
তার পুরস্কারের অর্ধেক অর্থ তাকে দিয়ে যাবে-এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে সে তার
সাহায্য চাইল।

 




 

রামযােশী চাষীর কথা শুনে মনে মনে হাসলেন। বাইরে কিছু প্রকাশ
করে তিনি বললেন— শীঘ্রই চিত্রদুর্গ রাজ্যে বহিঃশত্রুর আক্রমণ ঘটবে।
স্বপ্নের ব্যাখ্যা এই। রাজাকে এই আক্রমণ ঠেকাবার জন্য উপযুক্ত সতর্কতা
অবলম্বন করতে হবে, তবেই চিত্রদুর্গের বিপদ কাটবে।

যথাযথভাবে চাষীও রাজাকে শােনালেন স্বপ্নের ব্যাখ্যা। ব্যাখ্যা শুনে
তাে রাজা ভীষণ উদ্বিগ্ন হলেন। রাজ্যের সীমান্ত ঘিরে শক্ত প্রহরার ব্যবস্থা
করলেন তিনি। শত্রুর আক্রমণ ব্যর্থ করবার জন্য প্রয়ােজনীয় সবরকম
সতর্কতাই অবলম্বন করলেন। পূর্ব থেকেই যথােচিত ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে
বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে সহজেই চিত্রদুর্গ রাজ্যকে রক্ষা করতে সমর্থ
হলেন তিনি।

Chotoder golpo

 

এবারেও চাষী রাজার ঘােষণামত পুরস্কার পেয়েছিল পাঁচ হাজার
স্বর্ণমুদ্রা। কিন্তু সেই লােভী চাষী এবারেও তার কথামত পুরস্কারের অর্ধেক
ভাগ সেই ব্রাহ্মণকে দিল না।

এর কিছুদিন পর রাজা আবার এক স্বপ্ন দেখলেন। এবারে দেখলেন,
তার প্রাসাদ-সংলগ্ন ফুলের বাগানে ঘাস খাচ্ছে একটি ভেড়া, আর ঠিক তার
মাথার ওপরে আকাশে উড়ছে একটি পায়রা।

যথাসময়ে এই স্বপ্নের কথাও প্রচার করা হল। প্রচুর পুরস্কারও ঘােষণা
করা হল সেই সঙ্গে। এবারে পুরস্কার পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক বেশী
এবং অনেক লােভনীয়।

 




 

এবারও চাষী তার প্রবঞ্চনা এবং চরম অসাধু ব্যবহারের কথা সম্পূর্ণ
ভুলে গিয়ে নির্লজ্জের মতাে গিয়ে হাজির হল সেই প্রাজ্ঞ রামযােশীর কাছে।
রাজার দেখা স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চাইল সে। আগের ব্যাপারে কোন কিছু
জিজ্ঞাসা না করে সেই মহাত্মা রামযােশী তাকে বললেন- রাজাকে বল,
এই স্বপ্ন এক শুভ সঙ্কেত বয়ে নিয়ে এসেছে। এই রাজ্যে এখন বিরাজ
করবে অনাবিল সুখ, শান্তি আর আনন্দ।

চাষীর মুখ থেকে এই ব্যাখ্যা শুনে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠলেন
রাজা। ঘােষিত পুরস্কারের চেয়ে আরাে অনেক বেশী পুরস্কার এবং সম্মান
দিলেন তিনি সেই চাষীকে।

 


Thakurmar Jhuli ছোটোদের মজার মজার ঠাকুরমার ঝুলি


 

এইবারে বুঝি চাষীর মনের মধ্যে কি একটা ভাব তােলপাড় করতে
লাগল। তার নিজের অসাধু ব্যবহারের কথা ভেবে সে দারুণ লজ্জিত হল।
চোখের সামনে নিজেরই ঘৃণ্য প্রবঞ্চক মূর্তিটা যেন ভেসে উঠছে বারবার।

ঘৃণা আর লজ্জার আগুনে পুড়ে যেন তার আত্মশুদ্ধি হল। ছুটে গেল সে।
প্রবীণ প্রাজ্ঞ রামযােশীর কাছে। পুরস্কারের সমস্ত অর্থ তার পায়ের কাছে
নিবেদন করে জড়িয়ে ধরল তার পা দুটি।

অনুশােচনা-ভরা কণ্ঠে সে বলল- পণ্ডিত মশাই, এই নরাধমকে ক্ষমা
করুন। রাজার দেওয়া পুরস্কারের সবটাই গ্রহণ করে আমাকে চরম পাপের
হাত থেকে বাঁচান।

 




 

প্রশান্ত ব্রাহ্মণ মৃদু হেসে সেই চাষীকে বললেন, এ অর্থে আমার
কোন প্রয়ােজন নেই। এসব তুমি ফিরিয়ে নাও। প্রথমবারে তুমি নিজেই
ভুগছিলে মিথ্যাচার, প্রবঞ্চনা আর অনাচারের প্রবল জ্বরবিকারে। দ্বিতীয়বারে
তােমার মনের মধ্যেও শত্রুতাসুলভ বিরাগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল স্বপ্নের ব্যাখ্যা শুনেই।

আর এইবারে রাজার তৃতীয় শুভ-স্বপ্নের প্রভাবে তােমার হৃদয়ে
এসেছে পরিবর্তন। এখন তােমার হৃদয় ভরে রয়েছে ভালবাসা, কৃতজ্ঞতা
আর সদবুদ্ধির সােনালী ফসলে। তাই তুমি সব কিছু দেবার জন্য আমার
কাছে ছুটে এসেছ। তােমার কৃতকর্মের জন্য কোন অনুশােচনা মনে রেখ না।
আমার আশীর্বাদ রইল তােমার জন্য।

ব্রাহ্মণের আশীর্বাদ পেয়ে সেই চাষী যেন এক নতুন জীবন পেল। সে
তার প্রাপ্য অর্থের বেশীর ভাগ নানা সকাজে দান করে, বাকি অর্থের সদ্ব্যবহার
করে সুখে কাল যাপন করতে লাগল।

 

সমাপ্ত

 




One thought on “Chotoder golpo – ছোটোদের মজার মজার গল্প গুলি এবার বাংলাতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *