Home Detective Story Detective Story in Bengali - আমিই গােয়েন্দা 

Detective Story in Bengali – আমিই গােয়েন্দা 

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don’t have sufficient time for going to the library and reading the storybooks In this age of the Internet. But, if we can read the story on this internet, then it is very interesting. So we have brought a few collections of Bengali story for you. Hope you will enjoy the stories in this busy lifestyle. In this post you will find the latest Detective Story in Bengali, You can read here  Detective Story, download  Bengali Detective Story, Hare you found top Detective Story in Bengali.

 

আমিই গােয়েন্দা 

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

 

অনেকদিনের সাধ, ওই কলমটা কিনব, যেটা আমি মােক্তারবাবুর পকেটে দেখেছি।
কী একটা কাজে গিয়েছিলুম। তিনি আমাকে দেখিয়েছিলেন। ভদ্রলােকের খুব কলমের
শখ। আমারও কিছু কম নয়। তবে মােক্তারবাবুর প্রচুর পয়সা, আর আমি সামান্য কাজ
করি। কলমটা নেড়েচেড়ে দেখেছিলুম লােভীর মতাে। জাপানি কলম। টানলে বড় হয়।
চেপে দিলে ছােট্ট এতটুকু। সােনার নিব। কোল্যাপসিবল কলম। কলমটা দেখার পর
তিন রাত ঘুমােতে পারিনি। ওইরকম কলম আমার চাই। যতক্ষণ না পাচ্ছি, শান্তি নেই।
লােভের মতাে বিশ্রী অসুখ আর দুটো নেই।
মােক্তারবাবুকে জিজ্ঞেস করলুম, “কোথায় পাওয়া যায় এমন কলম ?”
“এসব বিদেশি জিনিস, সহজে পাওয়া যায় না বাবা। খবর রাখতে হয়। তােমাকে।
আমি কয়েকটা ঠিকানা দিচ্ছি।”
তিনটে দোকানের ঠিকানা দিলেন। যা টাকা-পয়সা ছিল, সব পকেটে ভরে কলমের
সন্ধানে বেরিয়ে পড়লুম। কলমটা আমার চাই-ই চাই। অ্যাট এনি কস্ট। প্রয়ােজন হলে
হাতঘড়িটা বেচে দেব। কলমটার জন্য খেপে গেলুম। কলম ছােট হয়, কলম বড় হয়।
সরু চুলের মতাে রেখা পড়ে । ছাই রং। স্টেনলেস স্টিলের ব্যান্ড লাগানাে। কী জিনিস
তৈরি করেছে জাপান!

প্রথম দোকানের মালিক বললেন, “দু পিস এসেছিল, বিক্রি হয়ে গেছে। পরে
আর আসবে কি না বলতে পারছেন না। দ্বিতীয় দোকান বললে, ওরকম কলম তারা
জীবনে দেখেননি। শোর আছে, পার্কার আছে, সবই জাতের কলম, নিতে হয় নিন।
কলম ছোট হয়, কলম বড় হয়, তাতে আপনার কি লিখবেন, না ম্যাজিক দেখাবেন!”
বেরসিক মানুষটিকে বােঝাই কী করে, সব কলমই তাে লেখে, কিন্তু কোন কলম
ছােট বড় হয় ! তৃতীয় দোকানের মালিক বললেন, একটা আছে, তবে তার কাছে নেই,
আনিয়ে দিতে পারেন। “অপেক্ষা করতে হবে। ঘন্টাখানেক পরে কলমটা পাওয়া যেতে
পারে। আপনি নেবেন তাে, না দেখে ছেড়ে দেবেন।”

Detective Story in Bengali – Bengali Detective Story

“আরে মশাই, আমি নেব। টাকাটা না হয় আপনি আগেই নিয়ে নিন।
সহকারীকে কী একটা বললেন গুজরাতি ভাষায়, তিনি বেরিয়ে গেলেন। আমার
অপেক্ষার পালা। সেই কলম আসছে। ছাই ছাই রং। স্টিলের ব্যান্ড। ছােট্ট, সােনার
নিব। এই ছােট, তাে টানলে বড়। সেই মুহূর্তে আমার মতাে সুখী সারা কলকাতা শহরে
আর একজনও কেউ ছিল কী! এক ঘন্টা পরেই একটা কলমের মালিক হব আমি।
ব্যবসায়ীদের তল্লাট। কিছু দূরেই স্টক এক্সচেঞ্জ। শেয়ার মার্কেট। কলকাতার যত
পয়সাঅলা লােক চারপাশে ব্যস্ত, গণ্ডারের মতাে ঘুরছেন। তারা টাকা ছাড়া আর কিছু
বােঝেন না। পাশেই চিনাবাজার। লরি, ঠেলা আর মােটরবাইকের গুঁতােগুতি। উত্তাল।
কলকাতা তিড়িংবিড়িং লাফাচ্ছে। তার মাঝে আমি এক পাগল। কলমপাগল।
সময়টা কাটাতে হবে। কী করি! রাস্তায় দাঁড়ানাে যাচ্ছে না। লােকের পর লােক
গুতিয়ে চলে যাচ্ছে। এ-পাড়ায় কলকাতার সেই বিখ্যাত শিঙাড়ার দোকান। এক একটার
জামদানি চেহারা। পুরােটাই ঘিয়ে ভাজা। ভাবলুম, ওই গরম শিঙাড়া নিয়ে বসলে
সহজেই অনেকটা সময় কেটে যাবে। একটু করে ভাঙব, ফুস করে গরম বাতাস বেরােবে,
মুখে পুরে হু-হা করব। এ-পাড়ার সামােস্য মরিচের ঝালে উগ্র। একটাকে কাবু করতেই
একঘন্টা কাবার।

দোকানটা তেমন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নয়; কিন্তু খাবার উত্তম। উঁচু জায়গায় বসে
ভীমের মতাে এক ভদ্রলােক শিঙাড়া ভাজছেন। বিশাল কড়া, বিশাল তাওয়া। ভাল
ঘিয়ের গন্ধে বাতাস আকুল। একটা নয়, দুটো শিঙাড়ার অর্ডার দিলুম। যা ভেবেছিলুম
তাই, আগুন দিয়ে তৈরি। পাতার ওপর খেলাতে-খেলাতেই সময় কেটে গেল। গরমে
আর ঝালে জ্বলেপুড়ে কলমের দোকানে হাজির হলুম। কলম এসে গেছে, আমার স্বপ্নের
কলম । পাতলা প্লাস্টিকের খাপে । দাম দিয়ে কলম পকেটস্থ করে কলকাতার ভিড়ে ঝাপ
মারলুম। ব্রাবাের্ন রােড ধরে হাঁটছি আর ভাবছি, কেউ জানে না, আমার কত সুখ! এই
কলমটা পাওয়ার জন্যই আমি যেন জন্মেছিলুম। মিনিট দশেক হাঁটার পর মনে হল,

কলমটা পাশপকেটে রাখার চেয়ে বুকপকেটে আটকে রাখাই ভাল। পাশপকেট থেকে
যদি পড়ে যায়! ট্রামে-বাসে উঠছি না যখন, তখন পকেটমারের ভয় নেই। বুকপকেটে
হৃদয়ের কাছাকাছিই থাক না। খাপ খুলে কলমটা বুকপকেটে রেখে হাঁটছি। একটু-একটু।
গান গাইছি। ভাবছি, প্রথম লেখাটা কী লিখব! আমার জামশেদপুরের বন্ধুকে একটা
চিঠি! না, একটা কবিতা!
নিজের চিন্তায় মশগুল হয়ে পথ হাঁটছি। বুকপকেটে সেই আহামরি কলম। বেন্টিঙ্ক
স্ট্রিটে পড়লুম। যাব ভিক্টোরিয়া হাউসের দিকে। বাঁ দিকের ফুটপাথ। তেমন একটা ভিড়
নেই। ভিক্টোরিয়া হাউসের বাক্সে ইলেকট্রিক বিলের চেক ফেলব। গেটের কাছ বরাবর
গিয়ে বুকপকেটের দিকে তাকিয়ে দেখি পেনটা নেই।
মাথা ঘুরে গেল।

Detective Story in Bengali – Detective Story

পাশপকেটে নেই, বুকপকেটে নেই। কোথাও নেই। মাথা ঘুরে গেল। পেন পকেটমার।
বাসে-ট্রামে উঠলুম না। ফাঁকা রাস্তা দিয়ে এলুম। পকেটমার এল কোথা থেকে! এ কি
ইটালিয়ান পকেটমার! শুনেছি ইটালির পকেটমাররা অসাধ্য সাধন করতে পারে! সামনে,
পেছনে যত দূর দৃষ্টি যায়, তাকালুম। পকেটমারের মতাে কাউকেউ দেখলুম না। সব
নিরীহ, শান্ত ভদ্রলােক নিজেদের কাজে আসা-যাওয়া করছেন।
চোখে জল এসে গেল। ভগবান! কলমটা তুমি দিয়েও নিয়ে নিলে! এ কোনও
মানুষের কাজ নয় ভগবান, এ তােমারই খেলা। তবু মন মানতে চাইছে না। কলমটা
এইভাবে ভ্যানিশ হয়ে যাবে? এইভাবে আমি বােকা বনে যাব?
অনেকক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলুম। এতটাই বােকা আমি! পকেট থেকে পড়ে
যায়নি। যেতে পারে না। ক্লিপের গ্রিপটা যথেষ্ট ভালই ছিল। আমি একবারও সামনে
ঝুঁকিনি। সেই কখন থেকে খাড়া হেঁটে আসছি। অদৃশ্য কোনও হাত কলমটা তুলে
নিয়েছে। আমার ধারে কাছে কেউ আসেনি। কোনও ভিড় ছিল না। কেউ গা ঘেষাঘেষি
করেনি। তা হলে হাতটা এল কোথা থেকে!

ভাবতে-ভাবতে নিজেই একজন গােয়েন্দা হয়ে গেলুম। ফেলে আসা পথের দিকে
তাকালুম। বােম্বে সুইটস-এর দোকানটা যেখানে, সেখানে আমি একবার পকেটে হাত
চেপে দেখেছিলুম পেনটা আছে। বােম্বে সুইটস থেকে ভিক্টোরিয়া হাউস, এর মাঝেই
ঘটনাটা ঘটে গেছে। যখন আসছিলুম, তখন আমার বাঁ দিকে সার-সার দোকান। পরিষ্কার
ফুটপাথ ধরে হাঁটছি। ডানপাশে রাস্তা। এই তাে ঘটনা। আমার ত্রিসীমানায় কেউ আসেনি।
বলাে গােয়েন্দা, কে আমার কলম নিয়েছে! ভূতে!
ফেলে-আসা ফুটপাথের মাঝামাঝি জায়গায়, একপাশে দাঁড়িয়ে একটা লােক গামছা
বিক্রি করছে। একটা গামছার পাঠ খুলে দু হাতে ধরে দোলাচ্ছে এ-পাশে ও-পাশে আর হাঁকছে, “গামছা, গামছা।” গামছার ঝাপটা কোনও-কোনও পথচারীর গায়ে লাগছে।
এইরকম একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে লােকটা গামছা বিক্রি করছে কেন! আবার গামছাটা
বিছিয়ে এ-পাশ, ও-পাশ দোলাচ্ছে! মাথায় একটা ঝলক খেলে গেল।
লােকটার দিকে এগিয়ে গেলুম।
ভেবেছে, খদ্দের!
ঝপ করে গামছার কোনাটা চেপে ধরলুম। তলার দুটো কোণ একসঙ্গে। শক্ত।
শক্তমতাে একটা কী ঝুলছে! লােকটা অবাক হয়ে বললে, “কেয়া বাবু?”
“মেরা কলম।
“কলম?”

Detective Story in Bengali – Detective Golpo

আমি ততক্ষণে ঝুলন্ত কলমটা গামছার জালি-জালি আঁচল থেকে উদ্ধার করে
ফেলেছি। আমার সেই ছাই-ছাই রঙের সুন্দর জাপানি কলম।
লােকটা হতভম্ব। বলছে, “মেরা কুছ কসুর নেহি।”
কলম পেয়ে গেছি। সেই আনন্দেই আমি বিভাের। লােকটাকে আর বলব কী! পরে
এক পুলিশ-অফিসার আমাকে বলেছিলেন, ওই গামছাঅলা খুব ইনােসেন্ট ছিল না।
ওটাও একটা কায়দা।
, তা নয়, লােকটা নিরপরাধ! কারণ, লােকটাকে ধরার আগে আমি অনেকক্ষণ
তাকে চোখে-চোখে রেখেছিলাম। লােকটা, আপন মনে গামছা দোলাচ্ছে। দুলিয়েই
যাচ্ছে। অসৎ উদ্দেশ্য থাকলে, বঁড়শি থেকে মাছ খুলে নেওয়ার মতাে গামছা থেকে
পেনটা খুলে নিত। তা করেনি।
আবার এও হতে পারে, লােকটা আমাকে নজরে রেখেছিল।
কি জানি কী!

সমাপ্ত


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Must Read

Bengali Horror Story – ভূতের সঙ্গে গল্পসল্প

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...

Thakurmar Jhuli Golpo – চাষা ও চাষাবউ

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don’t have sufficient time for going to the library and...

Bengali Sad Story – তোমায় ছাড়া বেঁচে থাকি কি করে

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...

Bengali Detective Story – কঠিন শাস্তি

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...

Bangla Rupkothar Golpo –  রাখাল ও পরীর

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...