Happy women's day মা

Happy women’s day মা

হ্যাঁ ঠিকই আমার মা back dated, screentouch phone এর সব রকম features জানেনা। হ্যাঁ আমার মা সেকেলে মর্ডান কাপড় জামা পরা, ছেলেদের সাথে এক্সট্রা ফ্রেন্ডলী ব্যবহার পছন্দ করেনা। হ্যাঁ আমার মা আজকের সমাজের সাথে মানিয়ে উঠতে পারেনি বেশি রাত করে বাড়ি ফেরা পছন্দ করেনা। হ্যাঁ আমার মা ভীতু আমাকে একা কোথাও যেতে দিতে সাহস পাইনা। হ্যাঁ আমার মা পারেনা নতুনকে আপন করেনিতে। পুরোনো তিনতলা বাড়ি ফেলে এসে পারেনা ওই ছোট ঘুপছি ফ্ল্যাটে নিজেকে মানিয়ে নিতে।হ্যাঁ আমার মা একটু বেশি চিন্তা করে, বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষ কখন ফিরলো কখন খেলো সেই একই প্রশ্ন বারবার ঘ্যান ঘ্যান করে জিজ্ঞেস করে। হ্যাঁ আমার মা কথায় কথায় রেগে যায়। সারাদিন পড়াশোনা নিয়ে খিচ খিচ করে।
খুব রাগ হয় তখন কেন যে আমার নিজের কোনো স্বাধীনতা নেই। একটু ঘুরতে পাইনা বেরোতে পাইনা নিজের মতো করে বাঁচতে পাইনা এগুলোই মনে হয় তাইনা?

কিন্তু কি অদ্ভুত , কি অদ্ভুত ভাবে খালি মায়ের বিরক্তি , নিষেধ , রেগে যাওয়া এগুলোই চোখে পড়ে। আচ্ছা আমার এগুলো কেন মনে পড়েনা? আমি মায়ের গর্ভে নয় মাস দশ দিন কাটিয়েছি। যখন আমি পৃথিবীতে আসিনি তখন থেকেই মা কেমন আমাকে আগলে রেখেছিল সব খারাপ থেকে। হ্যাঁ আমি জানি আমাকে পৃথিবীতে আনাটা মায়ের ইচ্ছে ছিল মায়ের খুশী ছিল, আমি বলিনি আনতে, তবুও যখন আনতে চেয়েছে তখন থেকে বাইরের একটা আঁচও আমার ওপর আস্তে দেয়নি। কেন মনে পড়েনা আমিতো আগে হাঁটতেও জানতামনা মা ,মার ওই অঙ্গুল ধরে এক পা এক পা করে আমাকে হাঁটতে শিখিয়েছে। নইলে তো আজ বাইরে যাবার বাহানায় করতে পারতামনা। কেন ভুলে যাই যে মা আমাকে কথা বলতে শিখিয়েছে একটা একটা অক্ষর বলতে শিখিয়েছে, তাই তো আজ মায়ের ওপর মেজাজ নিতে পারি। কেন ভুলে যাই ছোট্ট বেলায় যখন আমি কিছুই জানতামনা তখন মা মায়ের মতো করে আমাকে সাজাত মায়ের সাধ্য মতো চেষ্টা করতো আমাকে সুন্দর বানানোর। তাই তো আজ মায়ের choice নেই বলতে পারি নিজেকে নিজে সাজাতে পারি। আচ্ছা বাবা বকবে বলে মা কেমন চোখ টিপে চুপ করতে বলতো এটাও মনে পড়েন না? আচ্ছা এটা মনে পড়ে তো মা বলতো একদিন আমাকে অনেক বড় হতে হবে। ও নাকি এতেও মায়ের স্বার্থ জড়িয়ে আছে! আচ্ছা আমি তো তখন স্নানও ঠিক করে করতে পারতামনা তাইনা! সারাদিনের ধুলো ময়লা মাখা আমাকে মা কত যত্ন করে পরিষ্কার করিয়ে দিতো। সর্দি হলে একটুও ঘেন্না না করে নিজের হাতে করে পরিষ্কার করে দিত। আমি দেখতাম আমার মা নিঃস্বার্থ ভাবে কেমন দাদু ঠাম্মার সেবা করে , কে জানে নিশ্চই মায়ের কোনো স্বার্থ ছিল, অন্যের বাবা মার কেউ এত যত্ন এমনি এমনি করে নাকি। সারাদিন কাজ থেকে ফিরে এসে যখন বাবা চা করে দিত বলতো। তখন মা ছুটে গিয়ে চা করে আনত। কই কোনোদিনও তো বিরক্ত হতে দেখিনি। তাহলে আমাকে আজ কিছু করতে বললেই কেন বিরক্তি আসে এত। ও আচ্ছা মা তো সারাদিন বাড়িতে থাকে ক্লান্তির কি বুঝবে , আমার মতো এত দৌড়ঝাপ করে পড়াশোনা বাবার মতো চাকরি তো করতে হয়না।

 




 

কিন্তু মা যেন কখন ওঠে ঘুম থেকে সকালে, সবার আগে না! কেন? কি দরকার মায়ের , কেন যে বেলা অবধি ঘুমই না। আশ্চর্য তাইনা? মা ওঠে আমার জন্য , বাবার জন্য বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষের জন্য যাতে সময়ই মতো তাদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারে। গোটা বাড়িটা পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করে আমাদের জন্য যাতে আমরা সময়ে জিনিস খুঁজে পাই। আচ্ছা মা ছাড়া বাড়ির আর কেউ কি বলতে পারবে? দাদু ঠাকুমার কখন কোন সময়ে ওষুধ লাগবে? না বলতে পারবেনা, কারণ নিজের বাবা মাকে ছেড়ে এসে এদের আপন করে নিজের সন্তানের মতোই আগলে রাখে। হ্যাঁ ঠিক শুনেছেন নিজের বাবা মাকে নিজের ছোটবেলাকে ছেড়ে আস্তে হয়েছে , এটাই সমাজের নিয়ম।তবুও মা মানিয়ে নিয়েছে অন্য পরিবারে এসে সবাইকে আপন করার চেষ্টা আজও করে যাচ্ছে।মা ছাড়া মনে হয় কেউ জানেনা বাড়ির প্রত্যেকে কে কোনটা খেতে ভালোবাসে। আমরা তো অনেক ব্যস্ত সারাদিন দৌড়ঝাঁপ করি। কিন্তু কিকরে করি একবার ভেবে দেখেছি কি? মা প্রতিটা মুহূর্ত প্রতিটা সময়ে নিঃশব্দে প্রতিটা চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু একবারও বড় গলা করে বলেনা। হ্যাঁ আমরা ব্যস্ত বাইরে থেকে এসে আমাদের whatsapp , facebook , twitter, instagram, youtube এগুলোর প্রতি অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। কে কি বলেছে তার reply দিতে হয়। কিন্তু সারাদিন মা একা একা বাড়ির মধ্যে কি করেছে সেটা জানবার সময় হয়না। একাকিত্ব নিয়ে তো খুব বড় বড় কথা ফোনের স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করে ওঠে। প্রেমে ব্যাথা একাকিত্ব ,depression পর্যন্ত একাকিত্বের কারণ কিন্তু মা যে সারাটাদিন একা কাটিয়ে বাড়ি ফেরার পর আমাদের সাথে দুদণ্ড কথা বলতে চাই তার খেয়াল করার সময় হয়তো হয়ে ওঠেনা। আচ্ছা মা কি করে পারে সারাদিন একা কাটাতে, কষ্ট হয়না? হয়, কষ্ট হয়। কিন্তু মা বুঝতে দেয়না। বুঝতে দেয়না আমাদের ব্যাস্ততার কথা ভেবে। বাইরে বেরোতে দেয়না চারিদিকে হিংস্র মানষিক ভাবে বিকলাঙ্গ মানুষরূপী পশু গুলো যদি আমাদের আঁচড়ে দেয় সেই কথা ভেবে। হ্যাঁ মায়ের ওই রংচং মাখা মুখ পছন্দ হয়না কারণ মায়ের কাছে তো আমরা এমনি সুন্দর। হ্যাঁ ওই screentouch phone টার ওপর মায়ের একটু বেশি রাগ কারণ ওটা যে আমার মাকে দেওয়া সময়ে ভাগ বসিয়েছে। হ্যাঁ দাদু ঠাম্মা কে নিজের বাবা মার মতো ভালোবেসেও যখন মা ওই ছেলের বউ থেকে যায় তখন হয় মায়ের কষ্ট। আমাদের প্রত্যেকটা চাহিদা পূরণ করার পরও যখন দিনের শেষে মাকে মেজাজ দেখায় ক্লান্ত হবার দোহাই দিয়ে তখন হয় মায়ের কষ্ট । phone টা ঠিক মতো use করতে না পারলে যখণ বিরক্ত হয় তখন হয় মায়ের কষ্ট। ছোটবেলায় একবারেই তো মনে হয় অ, আ শিখতে পারিনি। তবুও বিরক্ত না হয়ে কিকরে শেখাতে পারলো মা!

 

আচ্ছা কোনোদিনও ভেবে দেখেছি মা কি চাই? বেশি কিচ্ছু চাইনা মা সারাটা দিনের শেষে একটু ভালো ব্যবহার র একরাশ সম্মান চাই। হ্যাঁ মা রা শুধু এটুকুই চাই। সারাজীবন নিজের জীবনের সাথে মানিয়ে নিতে নিতে সারাদিনের শেষে দুদণ্ড প্রাণ খুলে গল্প করতে চাই। মা আমাদের পড়াশোনা শেখায় নিজের ভালোথাকার জন্য না যাতে মা যেগুলো পাইনি , যেগুলো পেলে মায়ের জীবন টা হয়তো আরও উন্নত হতো। সেই সব না পাওয়া গুলো কে আমাদের দেওয়ার জন্য । কথা বলতে শিখিয়েছিল মা ডাক টা শুনবে বলে, নারী কাটার যন্ত্রনা সহ্য করেছে আমাকে পৃথিবীর আলো দেখাবে বলে। মায়ের নারী ছিঁড়ে জন্মানো আমরাই হয়তো আজ মাকে ভুলতে বসেছি। অথচ ঠিক Mothers day , ba womens day এর পোস্ট গুলো যে wp আর Fb ভরিয়ে তুলি। কারোর মেয়ে কারোর বোন, কারোর স্ত্রী, কারোর বৌমা, কারোর মা হয়ে সমস্ত কর্তব্য মুখ বুজে একহাতে পালন করে যাওয়া মা রা যেদিন যোগ্য সম্মান পাবে, womens day এর, Mothers day এর স্বার্থকতা তো সেদিন পূরণ হবে। মাকে ভালোবাসতে শিখুন। মায়ের চোখের জল কে বাইরে বেরোতে না দেবার প্রতিজ্ঞা করুন। কারণ মা একজন নারী। আপনার আমার সবার সব চাহিদা সমানে পূরণ করতে পারার সাহস রাখে যে নারী। মা সেই নারী।

আজকের এই লেখাটা আমার মায়ের জন্য। sorry মা তোমাকে নিজের অজান্তে কষ্ট দিলে পারলে ক্ষমা করো। প্রত্যেক মাকে জানাই আমার তরফ থেকে স্যালুট।” HAPPY WOMENS DAY”

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 0   Average: 0/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।