Love Story in Bengali – ১০টি সত্য ভালোবাসার গল্প

Love Story in Bengali Are you finding ? You can read here  Love Story in Bengali.Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don’t have sufficient time for going to the library and reading the storybooks In this age of the Internet. But, if we can read the story on this internet, then it is very interesting. So we have brought a few collections of Bengali story for you. Hope you will enjoy the stories in this busy lifestyle. In this post you will find the latest Love Story in Bengali,  You can read here  Love Story, download  Bengali Love Story, Hare you found top Love Story in Bengali




 

প্রেমের তৃষ্ণা

 

সূর্য্যেন্দু গায়েন

 

 

ফিরে এসো এ বসন্তে,
ছুঁয়ে যেও হৃদয় জানালা।
মনে লাগে ফাগুনের আগুন,
মন খোঁজে সুখের নিরালা”।।

আকাশ সদ্য উচ্চমাধ্যমিক পাস করে কলেজের দুয়ারে পদার্পন করেছে। প্রতিদিন কলেজ যেতে হয় ট্রেনে করে। চুপচাপ শান্ত স্বভাবের। কম কথা বলে। বর্তমানের ইন্টারনেট যুগে প্রায় সকলেই সোশ্যাল সাইটে বুঁদ থাকে। আকাশ’ও ব্যাতিক্রমী নয়। মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি,পরনে ব্লু জিন্স,কাঁধে কলেজ ব্যাগ। সোশ্যাল মিডিয়ায় কত শত বন্ধু আমাদের সকলেরই। আকাশের ও প্রচুর বন্ধু আছে। প্রায়ই অনেকের সাথে চ্যাটিং হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করতে করতে করতে একটা ছবিতে তার চোখ আটকায়।ছবিটার দিকে অনেক্ষন দেখতে থাকে আকাশ। কোনো এক বন্ধুকে অন্য কেউ ট্যাগ করেছে।

“শিহরিত প্রাণ ও মন,
বসন্তের পড়ন্ত বিকেলে,
পশ্চিম আকাশের কোণে
রোদ মেঘের লুকোচুরি খেলার
মতো আকাশের মনে সেই ‘ছবি
বার বার লুকোচুরি খেলতে থাকে”।।

বার কয়েক ছবিটা দেখার পর আকাশ সেই প্রোফাইলের সব কটা ছবি দেখতে থাকে, এক প্রকার নিশ্চিত ফেক প্রোফাইল নয়।

Bengali Sad Story – পড়ে দেখুন কান্না চলে আসবে বলে দিলাম

Love Story in Bengali 




💘“মনের কোণে হাজারো প্রশ্নের মাঝে,
ট্রেনের জানালার বাইরে তাকিয়ে
সারি সারি ঝাউ গাছগুলো যেন
ট্রেনের চেয়েও দ্রুত গতি নেওয়ার চেষ্টা করছে”।💘

তেমনি আকাশের মনটা’ও যেন দ্রুত বসন্তের
পড়ন্ত বিকেলে নিজেকে আর আবদ্ধ রাখতে চায় না।

দ্রুত গতির ট্রেনের ন্যায় একটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট ছুটে গেল সেই অজানা প্রোফাইলের দিকে।

মন ছুঁয়ে যায় হাজার অনুভূতির টুকরো টুকরো প্রেমেররক্ত কণাকে। হৃদয় মেলে ধরে রঙিন ডানার
বাহার,উড়ে যেতে চায় প্রেমের জগতে,হোক না সে পথ সহস্র যোজন দূর।

ক’দিন পর ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট একসেপ্ট।

গহীন মনে ক্ষনিকের মধ্যে খেলে যায়
এক অদ্ভুত অনুভূতি,সে অনুভূতি হয়তো
অনেকটা-সমুদ্রের কিনারে ভোরবেলায়
দাঁড়িয়ে সূর্য্যের উদয় দেখে রোমাঞ্চিত
হওয়ার সমতুল্য।।

তৃষার সোশ্যাল সাইট ওয়ালে কি লিখে প্রথম আলাপ সম্বোধন করবে ভেবে পায় না। গুগল ঘেঁটে সুন্দর একটা বন্ধুসুলভ কমেন্ট কপি করে পেস্ট করে তৃষার ফেসবুক ওয়ালে।

ধীরে ধীরে পরিচয় পর্ব কয়েকদিনের মধ্যে শেষ হয়। দুজনের মনে এক গভীর বন্ধুত্বের ছাপ স্পষ্ট।




Love Story in Bengali – Premar Golpo

💝যে কথা যায় না বলা,
সে কথা হৃদয়ে রয়।
যে কথা মনের ভাষা,
সে কথা অপেক্ষা সয়।।💝

অপরিচিতের আঙিনা টপকে সোশ্যাল সাইট থেকে নম্বর আদান প্রদান ঘটে।

বসন্তের এক নির্জন দুপুরে,আকাশে বাতাসে যখন নয় প্রখর তাপ,নয় হিম শীতল ঠান্ডার দুপুরে শান্ত ঝিলের ধারে একা একা বসে আকাশ বেহিসেবি মনে মোবাইলে খুট খুট করছে, অমনি বেজে ওঠে ফোন।

আননোন নম্বর থেকে ফোন এসেছে দেখে, কালো ফ্রেমের চশমাটা কপালে তুলে আকাশ ফোনটা রিসিভ করে।

◆আকাশ বলছেন?
●হ্যাঁ বলছি,আপনি?
◆বুদ্ধু।
●(মনে মনে)আমাকে বুদ্ধু কেবল তৃষাই বলে।তৃষা??
◆ঠিক চিনেছো।তোমাকে কথা দিয়ে ছিলাম আমি তোমার সাথে কথা বলবো ফোনে,আজ কথা রাখলাম। চ্যাট এ আমাদের কত কথা হয়, টেক্সট লিখতে লিখতে আমার হাত ব্যথা হয়ে যেত,আমি পারছি না বলতাম আর তুমি সেই টেক্সট করে যেতে,আমি শুধু seen… করতাম।।

Love Story in Bengali

মনে মনে ভালোবেসে ফেলা মানুষের সুমধুর কণ্ঠ আকাশকে যেন প্রেমের জগতে ক্ষনিকের জন্য নিয়ে যায়, শুধু একটা কথা কানে কানে বলবার জন্য।
◆আকাশ!শুনছো আমার কথা? চুপ কেন?
●(হুঁশ ফেরে আকাশের)হ্যাঁ শুনছি তৃষা।
আমিতো হারিয়ে গেছিলাম কোথায় যেন।
◆বুদ্ধু। জানি তো হারিয়ে যাবে। আমি জানি তুমি কোথায় হারিয়ে গেছো।
●তৃষা,বলো আর এক বার।আমি কিছুই বুঝলাম না।

প্রেমিক মনে তৃষার মতো মেয়ের প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া প্রাকৃতিক ঘটনা। হিয়ার মাঝে ভেসে ওঠে রোমান্সের চলচ্চিত্র, শুধু পুরস্কার পাওয়ার অপেক্ষা।

◆শোনো আমি আগামী পরশু কলকাতায় আসছি বান্ধবীদের সাথে, বইমেলায় যাবো বলে। আমার নম্বর সেভ করে রেখো, আমি পৌঁছে তোমায় ফোন করবো। দেখা হবে দুজনের।
●তাই?এত আমার সৌভাগ্য! ঠিক আছে রাখি এখন।
◆টাটা…..

হিল্লোলিত প্রানের স্পন্দনে, আকাশে বাতাসে বসন্তের প্রেমের গন্ধ যেমন মাতাল করে তোলে, ঠিক তেমনি আকাশের মনের ভেতরে ভালোবাসার মানুষের সাথে দেখা হবে প্রথমবার তেমনি হিল্লোল বয়ে চলে।

সেদিন বেশ সাজগোজ করে এসেছে তৃষা। পরনে শাড়ি, ঠোঁটে লিপস্টিক আর এলো চুলের বাহারি বেশে অপেক্ষমান ‘বুদ্ধু’আকাশের জন্য বই মেলার 2 নম্বর গেটের সামনে। ফোনে অবশ্য প্রতিক্ষালয়ের স্থান সম্পর্কে দুজন অবগত হয়েছে। কিছুক্ষনের মধ্যে আকাশ ও উপস্থিত।

বান্ধবী কে দেখে আকাশের চোখ আর বাঁধ মানে না, তার অপরূপ লাবণ্য মাখা সুশ্রী মুখ ও শান্ত হাসি আকাশকে বোবা,কালা ও অন্ধ প্রেমিক করে দেয় ক্ষনিকের জন্য।

◆এই ছেলেটা,এমন হা করে দেখবার কি আছে? আগে আমাকে দেখনি?
●দেখেছি কিন্তু সে তো ছবিতে,সত্যি তুমি
◆দূর ছাই! এরা সব আমার বান্ধবী। চলো চলো বইমেলায় যাই, আবার বাড়ি ফিরতে হবে।

●চলো।




Love Story in Bengali 

বয়সটা যখন প্রেম করার উপযুক্ত,তা সে করবেই বা না কেন? বই পোকা তৃষা বাংলা ভাষার প্রতি প্রচুর টান কিন্তু করবে কি কলেজ পাঠ্য বই সব ইংরেজিতে তাই বাধ্য হয়ে নানা গল্পের বই বাংলায় পড়ে। তার প্রচুর সংগ্রহ আছে বাংলা গল্পের বইয়ের।

বন্ধুর সাথে ঘুরতে ঘুরতে অনেক বই কিনে ফুচকা খেয়ে বাড়ি ফেরা,কিন্তু কেউ আর কাউকে প্রেম নিবেদন করতে পারলো না।

মিতভাষী আকাশ একবারও নিজের মন থেকে ছটফটে তৃষার সামনে কখনই প্রেম নিবেদন করতে পারে নি।

গাঢ় বন্ধুত্বের হৃদয় জোড়া, প্রেম সাগরে প্রেমিক মনকে ভাসিয়ে এই বন্ধুত্বের ডিঙা ভেসে চলে বছরের পর বছর। কখনো তা নির্জন তটে নোঙ্গর করে,আবার কখনো ফিল্মের জগতের সিনেমা হলে প্রবেশ করে,নয়তো বা কখনো সখনো পাহাড়ের কোলে শান্ত সকালের তৃপ্তি পাওয়ার বাসনায় ছুটে গেছে।

কোনো এক পড়ন্ত বিকেলে, আকাশ যখন ধরা দিয়েছে মাঠের ওই প্রান্তের গাছের ডালে,সেই আনন্দে পাখিগুলো কলতানে মুখর,আনমনা আকাশ সারাদিন অপেক্ষমান তার প্রিয় বান্ধবীর ফোনের অপেক্ষায়,না করে ফোন না ধরে ফোন,না দেয় এস এম এস এর রিপ্লাই। হতাশ ও অভিমানী মন ফিরে যায় নিজের ঘরে।

রাত আট’টা বাজে,বেজে ওঠে আকাশের ফোন। দ্রুততার সাথে ফোনটা ধরে বলে হেলো!

Bengali Love Quotes – ১০০০+ মহান ব্যক্তিদের ভালোবাসার উক্তি

Love Story in Bengali 

◆বুদ্ধু। চিনতে পারছো না? একটা সু’খবর আছে। অনেক ব্যস্ত ছিলাম,তাই তোমার ফোন ধরতে পারিনি।
●(মনে মনে)জানি তো সুখবর টা কি। বিয়ে হয়ে যাবে অন্য কোথাও।আমি আর বলতেই পারলাম না।
◆কিছু বললে মনে হয়?
●তুমি কিছু শুনতে পেয়েছো?
◆হুম,শুনলাম তো। আমার বিয়ে হয়ে যাবে। বর আসবে, তোমার চোখের সামনে দিয়ে নিয়ে চলে যাবে আমায়,আর তুমি হাবলার মতো বিষন্ন মনে হা হুতাশ করতে করতে একটা ব্যর্থ প্রেমের গান শুনতে শুনতে বাকি দিন কাটিয়ে দেবে তাই তো?
● আঁই! এত আমার মনের কথা।
◆ আমার বিয়ে সামনের মাসে।
● যাও না,বিয়ে করে নাও না,আমাকে বলার কি আছে। আমি কিছু বলছি তোমায়,তোমার যা ইচ্ছে তাই করো। আমার শুধু অপরাধ আমি তোমায় ভালোবাসি বলতে পারিনা,কিন্তু আমি তো তোমাকে ভালোবাসি তৃষা।  I LOVE YOU…….. I LOVE YOU TRISHA………..

আকাশের পুরো পরিবার হা করে তাকিয়ে আকাশের মুখের দিকে। জোয়ার যখন উর্ধমুখী, তখন সমস্ত গ্লানি ও বাধা ঠেলে তার প্রকৃত রূপের পরিচয় দেয়।তেমনি শান্ত ও চাপা স্বভাবের আকাশ তার প্রিয়ার এ হেন কথনে নিজেকে সামলাতে না পেরে মনের কথা বলে দেয়।

আকাশ ! বলো আর একবার। তোমার মুখ থেকে আর একবার শুনতে চাই সেই কথা। এত বছর তুমি আমায় বলতে পারনি। বলো,বলো প্রাণ খুলে। I ALSO LOVE YOU AKASH.আমার বাড়িতে মামা মামী সবাই আজ এসেছিলেন। আমার বিয়ের বিষয়ে কথা হচ্ছিল। আমার মতামত জানতে চেয়েছিল সবাই। আমি বলেছি আমি একজনকে ভালোবাসি তাকেই বিয়ে করবো। তারা হয়তো তোমাদের বাড়িতে আসবে ক’দিনের মধ্যে।

আকাশের বাবা আকাশের মা কে বলছেন-‘কই গো তোমার ছেলের কাউকে পছন্দ হয়েছে, আর সময় নষ্ট করা যাবে না। আমি আর্মির লোক আমার ছেলের যাকে পছন্দ তার সাথেই বিয়ে দেব। আমি আর কিছু দেখতে চাই না,আমি এক কথায় মানুষ।ওই মেয়েটাকে খুঁজে বার করো আকাশের সাথে কথা বলে। সামনের মাসেই বিয়ে হবে। এদিকে তৃষাও তার পরিবারের সকলকে বলে রেখেছে সে আকাশকে ভালোবাসে। বিয়ে করলে আকাশকেই বিয়ে করবে।

দুই পরিবারের সাক্ষাত এক শুভক্ষন দেখে হলো, বাকিটা বিয়ের সানাই বাজছে শুনতে পাচ্ছেন সবাই।

আর আমি লেখক, শুধু আশীর্বাদ করতে পারি এভাবেই—–

💌শত শত বছর জুড়ে যাক দুটি প্রাণে,
এই বসন্তের সন্ধিক্ষণে দুহাত ধরে।
লাগুক মনে প্রেমের রঙ,
কোকিলের কণ্ঠে ফুটুক ভাষা,
তৃষা আকাশের সুখের জীবনে,
নজর কাঠি দিলাম বেঁধে।।💌




                   সমাপ্ত    


Disclaimer : এই গল্পটি একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে লেখা l আপনারা যারা পাহাড় ভালোবাসেন তারা জানেন পাহাড় কিভাবে আমাদের মনের দূষণ কমায় !অথচ আমরা পাহাড়কে কি ফিরিয়ে দিই ? আবর্জনা…তাই পাহাড়কে ভালো রাখতে তৎপর হোন, এই অনুরোধ রাখলাম l


 

সান্দাকফু

শুভম প্রামাণিক

 

Love Story in Bengali
Love Story in Bengali

জর্জ ম্যালোরি বলেছিলেন ‘because it’s there’l উনি কেন পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গে আরোহণ করতে চান সেই প্রশ্নের উত্তরে l যে যেখানে আছে তাকে পেতে গেলে তো সেখানেই যেতে হবে ! কটা লোকে ওকে ছুঁতে পারে! সেই মহান,দুর্জয় এভারেস্ট দিগন্তে প্রতীয়মান l এখান থেকে বাঁদিকে তাকালে l বেশ দূরে,কিন্তু চেনা যায় l এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য কি বিছানায় শুয়ে দেখা যায়, না উচিৎ!

আর ডানদিকে ? আমার প্রিয় কাঞ্চনজঙ্ঘা ! সপারিষদ বিদ্যমান l উত্তুঙ্গ শিখর পৃথিবীর সকল কলুষতার ওপর মাথা তুলে দাঁড়িয়ে l অস্তগামী সূর্যের আলোয় তার রক্তিম আভা !আহা সেকি অনির্বচনীয় দৃশ্য !একসাথে এতগুলো আট হাজারি শৃঙ্গ সান্দাকফু ছাড়া আর কোথায় দেখা যায় আমার জানা নেই l এইসব ফেলে রেখে কেউ যে ঘুমোতে পারে, এ আমার ধারণার বাইরে…

অদিতি ঘুমোচ্ছে l থাক…বেচারির অভ্যেস নেই l ট্রেকাররা সান্দাকফু আসে তিনদিনে l উচ্চতাজনিত সমস্যার সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিতে l মানেভঞ্জন থেকে যাত্রা করে প্রথমদিন চিত্রে, লামাধুরা, মেঘমা হয়ে টংলু বা টুমলিং পৌঁছে রাত্রিবাস l দ্বিতীয়দিন গৈরিবাস হয়ে কালিপোখরি l তৃতীয়দিনে বিকেভঞ্জন হয়ে প্রাণান্তকর চড়াই টপকে সান্দাকফু l এই পুরো রাস্তা একবারে গাড়িতে আসতে পুরো হাড় গুঁড়িয়ে যাবার জোগাড় হয় l ঢালাই মেশিনে দেওয়া মশলার মতো l অদিতি আবীরের জোরাজুরির জন্যেই এসেছে সান্দাকফু l গাড়িতেই l আমি আগে ওকে কতবার বলেছি, আসেনি তখন l বিকেলে পৌঁছে আর পারে নি…গভীর ঘুমে তলিয়ে গেছে টায়ার্ড হয়ে l




 

love story golpo

টুটুল বিছানার পাশে চেয়ারে বসেছিলো l ওকে ঈশারায় ডেকে নিয়ে হাঁটতে বেরোলাম l ঘরের বাইরে দেখি আবীর রেলিঙে ভর দিয়ে সিগারেট খাচ্ছে l চিন্তিত মুখ l কিছু আর বললাম না l ওকে আজকাল আমার অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন মনে হয় l ম্যানেজ করে কি করে এতকিছু ছেলেটা ! তবে যাই হোক, পাহাড়টাকে ভালোবেসে আসেনি এখানে lবাসলে এসেই মালের চাট কি আছে সেই খোঁজ করতো না l অদিতিকে ভালোবাসে কি ?অনেকদিন কানাঘুষো শুনেছি l আচ্ছা…অদিতিকে একলা রেখে চলে যাবো ? নাকি টুটুলকে রেখে যাবো ?থাক…কি আর হবে l

সন্ধ্যে হতে আর দেরী নেই l হোটেলের চারদিকে খানিকটা প্রশস্ত জায়গা l যেন সবুজ গালিচা পাতা l সেটা পার হলেই পাইন, সিলভার ফার, ম্যাগনোলিয়া গাছের ছড়াছড়ি l বেশ ঘন জঙ্গল l কুয়াশা ছিলো না l নীচের পাহাড় থেকে উঠে আসছে l ঝুপসি গাছগুলো আরো রহস্যময় হয়ে উঠছে l পাখিগুলো ঘরে ফিরে যাচ্ছে l আর পনেরো কুড়ি মিনিটের মধ্যে কাঞ্চনজঙ্ঘাও ঢেকে যাবে l
“চল টুটুল, পা চালা…”আমি বললাম l
যাকে বললাম সে অবশ্য বাপ কি বেটি !ভিউ পয়েন্ট যাবার খাড়া রাস্তায় অনায়াসে, প্রায় যেন উড়ে চললো l ©Subham Pramanik
“আচ্ছা বাবা ! পাহাড়ে ভূত থাকে ?” টুটুল ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রশ্নটা করেছে l চোখে কৌতুক l
আমি উত্তর না দিয়ে চোখের ঈশারায় নীচের দিকে দেখালাম l হোটেলের পাশের ফাঁকা জায়গাটায় বেশ কিছু লোক জড়ো হয়েছে l এখান থেকে দেখলে কিছু আবছা অবয়ব l আবীরকে চিনতে পারছি l লাল জামা l চেয়ার টেনে আনছে l অদিতির অফিস কলিগরাও আছে মনে হয় l কাঠ জোগাড় হচ্ছে l বোধহয় ক্যাম্পফায়ার টায়ার হবে l নাচাগানা l মদ খেয়ে চীৎকার l পাহাড়ে এখন এসবই চলছে l অদিতিও জয়েন করবে নিশ্চয়ই l ওর এসব ভালো লাগে l আমার আর টুটুলের পুরো উল্টো l
“দেখছিস ?” টুটুলকে বললাম l

Love Story in Bengali 

-কি করছে ওরা বাবা ? ©Subham Pramanik
-পাহাড়ে ভূত যে কটা আছে তারাও আর থাকবে না রে l এরা পাহাড়টাকেই ভূত বানিয়ে দেবে l
-ক্যাম্পফায়ার করবে, না বাবা ?
-হ্যাঁ l ক্যাম্পফায়ার, উচ্চস্বরে মিউজিক বাজিয়ে পাহাড়ের শান্তিভঙ্গ করে গান, আণ্ডাবাচ্চা সঙ্গে এনে পিকনিক, প্লাস্টিক, মদের বোতল ফেলে যাওয়া, গাড়ির ধোঁয়া…এভাবে পাহাড় বেঁচে থাকবে ?
-সত্যি বাবা l এই ধরো বছর দুয়েক আগেও সান্দাকফু কি ছিলো বলো তো ! লাজবাব !
-লাজবাব এখনো আছে l তবে তাড়াতাড়ি জবাই হয়েও যাবে…তোর ওই আবীরকাকুর মতো লোক…
টুটুল হেসে উঠলো l “হমম…জেলাস? মিস্টার রুদ্র রায়চৌধুরী জেলাস !”
আমি ধমকে উঠলাম “চুপ কর, বকিস না l”
-আচ্ছা তোমার আবীরকাকুকে নিয়ে সমস্যা কোথায় ?ঝামেলা তো সেই কবে মিটিয়ে দিয়েছো…পাঁচ বছর হতে চললো প্রায়!
-বিয়ে করলে বুঝতিস?
-বিয়ে…
টুটুল অন্যমনস্ক হয়ে গেলো l ভিউ পয়েন্ট এসে পড়েছি l আমিও চুপ করে গেলাম l কথাটা বলা উচিৎ হয়নি l কিছু কথা অব্যক্ত থাকাই ভালো l

 

Rupkothar Golpo – ১০টি সেরা ছোটোদের মজার মজার রূপকথার গল্প

 

Love Story in Bengali 

এখনো কাঞ্চনজঙ্ঘার পুরো রেঞ্জটা দেখা যাচ্ছে l সে অপার্থিব দৃশ্য যে না দেখেছে তাকে ভাষায় বর্ণনা করা বৃথা l বাপ মেয়ে তাকিয়ে রইলাম কিছুক্ষণ l মনে হয় অনন্তকাল চুপ ছিলাম l টুটুলই নীরবতা ভাঙলো l কাঞ্চনের দিক থেকে চোখ না সরিয়েই বললো “আচ্ছা সান্দাকফু মানে কি বাবা?”
-কোথায় একটা পড়েছি লোকাল ভাষায় সান্দাকফু মানে height of the poison plant…বিষাক্ত একোনাইট গাছ থেকে এই নাম হয়েছে l
-বিষ ? গাছে ? ©Subham Pramanik
-হ্যাঁ l
-আচ্ছা বাবা, এই যে এতো গাছ কেটে ফেলছে, এতেও তো বিষ বাড়ছে পরিবেশে, বলো ?
-একশোবার l
এরপর আরো মিনিট দুয়েক অখণ্ড নীরবতা l কাঞ্চনজঙ্ঘা মিলিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে l সামনের রডোডেন্ড্রন গাছটার রং ফিকে হয়ে আসছেl একটা ভূতুড়ে অন্ধকার গ্রাস করছে সান্দাকফুর শীর্ষ lএমন সময়ে টুটুল একটা অপ্রত্যাশিত প্রশ্ন করলো l
“মানুষের বিষ কমে বাবা ? সমতল থেকে পাহাড়ে উঠে এলে ? তুমি একটা কবিতা লিখেছিলে না…’সমতলে বড় অসমতল জীবন, আমায় পাহাড় ডাকছে সিধে হতে’…কমে বাবা ?”
-কেন তোর কমেনি ?
-তোমার কমেছে ?যখন তুমি এক্সপিডিসনে গেলে, তখন যদি না মা আবীরকাকুর সঙ্গে…দোষটা কিন্তু মা’রই…আমি সেটা এখনও…
আমি আঙুল মুখে দিয়ে ওকে চুপ করতে বললাম l কেউ আসছে l না, একজন নয় l একাধিক l শুকনো পাতায় খসখস শব্দ l এই সন্ধ্যের সময়ে কে আসছে ! এখন তো আর কিছু দেখতে পাওয়ার কথা নয় l পুরোটাই পন্ডশ্রম l তাহলে ?




 

Love Story in Bengali 

এখন শুধু পায়ের শব্দ নয়, গলার শব্দও শোনা যাচ্ছে l একটা পুরুষের, একটা মহিলার l পুরুষ কণ্ঠটা কিছু সাবধানী, মহিলাকণ্ঠটি উচ্চকিত l আমি টুটুলকে টেনে নিয়ে রডোডেন্ড্রন গাছটার পিছনে চলে গেলাম l অন্ধকার গাঢ় হচ্ছে l আকাশে সূর্যের অস্তরাগের অবশেষ l এভারেস্ট তো অদৃশ্য বটেই, কাঞ্চনজঙ্ঘাও এখন শুধুমাত্র কয়েকটা আবছা রেখার সমষ্টিমাত্র l
আমার বুকটা ধড়াস করে উঠেছে l টুটুল কি শুনতে পেয়েছে ! তাহলে যা ভেবেছিলাম, তাই সত্যি ! আমি টুটুলের হাত চেপে ধরলাম l “তোর মা…”আমার মৃদু স্বরকে সঙ্গত করলো টুটুল l “জানি, সঙ্গে আবীরকাকু…”আমাদের ফিসফিসানি একটা দমকা হাওয়া এসে থামিয়ে দিয়ে গেলো l

হাওয়াটা তীব্র হচ্ছে l গোপন অভিসারে আসা যুগল মূর্তি দাঁড়িয়ে পড়েছে l সম্ভবত আবীর টর্চ জ্বালালো l কান খাড়া করে শুনতে চেষ্টা করলাম l প্রেমালাপ নয় অবশ্য , বাদানুবাদ চলছে l তবে শোনা দরকার l আগে তো আভাস পেয়েছি,কদ্দুর গড়িয়েছে ব্যাপারটা দেখি…

“…না আবীর…প্লিজ ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করো…এ হতে পারে না…”l অদিতি খুব দৃঢ় এবং স্পষ্ট স্বরে বলছে l ©Subham Pramanik

“কেন ?আমি সেই কবে থেকে অপেক্ষায় আছি অদিতি ! আমাদের মধ্যে যা হয়েছে সব কি মিথ্যে তাহলে ?” আবীরের রাশভারী কিন্তু সাবধানী গলা l
-আমি রুদ্র ছাড়া কাউকে ভাবতেও পারি না…ওই জায়গাটা কাউকে দিতে পারবো না l যা হয়েছে আমার দুর্বলতার কারণেই হয়েছে l সম্পূর্ণ রেসপনসিবিলিটি আমার, সব আমার ভুল, আমার…
অদিতি ফুঁপিয়ে উঠেছে l
-তুমি কেন নিজের কাঁধে ব্লেম নিচ্ছো ?রুদ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপিডিসন থেকে ফিরলো না…খুবই পেইনফুল, আই অ্যাডমিট l কিন্তু সেতো পাঁচ বছর হোলো l আর এতে তোমার দোষ কোথায় ?
-দোষ আছে…একশোবার আছে !ওইসময় মা হিসেবে আমার যা কর্তব্য ছিলো করিনি…রুদ্র সন্দেহ করেছিলো তোমার আমার ব্যাপারটা l ও চলে যাবার আগেই l কিন্তু শিওর ছিলো না l ও আমার ওপর রাগ করেই চলে গেলো পাহাড়েl লোকটা তো হারিয়ে গেলো চিরদিনের জন্যে… কিন্তু…
-কিন্তু কি ?
-টুটুল আমাদের দেখে ফেলেছিলো আবীর ! ও কোনোদিন ক্ষমা করতে পারে নি আমায় আবীর l কত চেঁচামেচি করেছে, শাপশাপান্ত করেছে…ওর কান্না এখনও বুকে বাজে আমার আবীর…কত অবহেলা করেছি বাপ মরা মেয়েটাকে…ভ্যাগাবন্ডের মতো হয়ে গেছিলো মেয়েটা…যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতো, কথা শুনতো না…অনেক কষ্টে একটু মানিয়ে নিতে পেরেছিলাম শেষটায়…বিয়েও ঠিক হয়ে গেছিলো…তারপর এই সান্দাকফু…




 

Love Story in Bengali 

অদিতির কান্না বেড়ে উঠলো l তার সঙ্গে বোধহয় পাল্লা দিয়ে শীতও…
আবীরকে দেখে মনে হোলো বিরক্ত হয়েছে l শেষ চেষ্টা করলো একবার l “তাহলে তুমি আমার সাথে এলে কেন ?আমার কথায় রাজি হলে কেন ?”
-আবীর, আমি তোমার সাথে একা আসিনি l আমার অন্য কলিগরাও এসেছে lআর টুটুল…
আবীর টর্চটা ঘুরিয়ে উল্টোদিকে চলতে আরম্ভ করলো l এখানে এই অন্ধকারে অদিতিকে ছেড়ে…
অদিতি চেঁচিয়ে উঠলো “শুনে যাও আবীর l তোমার জন্যে বা তোমার কথায় আসিনি আমি সান্দাকফু…তুমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছো…এই…এই ভিউ পয়েন্টেই টুটুল আজ থেকে দু বছর আগে…

টুটুল আমার হাত ছেড়ে ছুটে গেলো অদিতির সামনে l পাগলের মতো হাত তুলে l “মা, ও মা, মা গো…এই তো আমি, দেখো আমায় ! দেখতে পাচ্ছো না…আমি সব ভুলে গেছি মা…ও মা, দেখো না…একটু আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দাও না মা…আগের মতো…”

অদিতি কিছুই শুনতে পেলো না l শুধু আশেপাশে হাওয়াটা প্রবল হয়ে উঠলো l শালটা আরো টেনে জড়িয়ে নিলো শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে…
©Subham Pramanik

Read More Romantic Quotes Click Hare

Love Story in Bengali 

বেচারি টুটুল l আমার স্মার্ট মেয়েটা l আগের মতো কি আর হয় রে পাগলি ! তুই যে দু বছর আগে অ্যাকিউট মাউন্টেন সিনড্রোমের কবলে পড়ে সব ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছিস মা ! ঠিক আমার মতো…আমারও তো ইচ্ছে করে, তোর মা কে ছুঁয়ে দেখতে, জড়িয়ে ধরতে l তাই তো হোটেলের ঘরে অতক্ষণ বসেছিলাম চাতক পাখির মতো l শুভদৃষ্টির সময় যে দুটো লাজুক চোখ প্রথমবার দেখি , যার আকর্ষণে সব বাধা অতিক্রম করে ঘরে ফিরে আসতাম,সেই চোখ বিকেল থেকে কতবার আমায় দেখেও দেখতে পেলো না l এই পরপারের ছায়াশরীর আর আমাদের প্রিয়জনের জন্যে নয় রে টুটুল l

তবে বিষের জ্বালা আমার জুড়িয়ে গেছে l আপনজনকে ঘৃণার বিষ, অবিশ্বাসের বিষ, হীনমন্যতা আর গ্লানির বিষ l পাহাড় হারিয়ে যাওয়া চেতনা, ভালোবাসা ফিরিয়ে দিয়েছে আমায় l টুটুল রে ! দেখ সান্দাকফু কি উপহার দিয়েছে l তোরও বিষ নেমে গেছে l তোকে খালি উঠে আসতে হবে, সমতলের সব আবর্জনা ছাড়িয়ে l
রডোডেন্ড্রন গাছটা হাওয়ার ভরে নড়ে উঠলো l একরাশ ফুল ঝরে পড়লো অদিতির মাথায় l জল ভরা চোখে বোধহয় খানিকটা ঘোরের মধ্যে অদিতি বলে উঠলো “টুটুল…আছিস মা ?”

ফিরে যাও অদিতি l তোমার উত্তরণ ঘটেছে এই উচ্চতায় এসে l তোমার আমার টুটুলের, সবার মনের দূষণের বিষ নিয়ে নিয়েছে সান্দাকফু l তবে ভুলের বকেয়া শাস্তি হয়তো এভাবেই পেতে হবে তোমায় l আমাদের কাউকেই আর পাবে না তুমি l কাঞ্চনজঙ্ঘা কি সবাই দেখতে পায় ?
তুমি একা না l পাহাড় নষ্ট করা সভ্য লোকগুলোও ভুলের মাশুল দেবে একদিন l এই সান্দাকফু আর থাকবে না l বিষ বুকে নিয়েই বাঁচতে হবে ভেজাল মানুষগুলোকে l

অদিতির খুব চেনা অধরটিকে প্রদক্ষিণ করে বাপ মেয়ে আবার হারিয়ে গেলাম সান্দাকফুর ক্রমশ দূষিত হতে থাকা হাওয়ায় l




 

 

-সমাপ্ত-


 মিলি

অভিজিৎ কুমার

Love Story in Bengali
Love Story in Bengali

আজ রথযাত্রা। সকাল থেকেই দিনটা বেশ ভেজা ভেজা। মাঝে মাঝে বৃষ্টি দেখা দিয়ে গেছে। কিন্তু বেশিক্ষন একভাবে থমকে দাঁড়ায় নি। খাওয়া দাওয়া সেরে একটু জিরিয়ে নিয়ে, অনির্বাণ বেরিয়ে পড়ে রথের মেলার দিকে। তার বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে বেশ বড়ো মেলা বসে এই রথযাত্রা উপলক্ষে। ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি হয়ে গেছে, তাই তাড়াতাড়ি পা চালাচ্ছিল অনির্বাণ। মেলার কাছে আসতেই সে বোঝে বেশ ভালোই জমে উঠেছে মেলা। দূর থেকেই মেলার উল্লাসে, উল্লাসিত বাতাসের স্পর্শ সে পেয়ে গেছিলো।

মেলার ভেতরে কয়েক পা এগিয়েই সে থমকে দাঁড়ায় একটা বাচ্চা মেয়েকে দেখে। ভারী অদ্ভুত লাগে তার। মেয়েটার বয়স খুব জোর পাঁচ থেকে ছয় হবে। এই বয়সে তো মেলা তাদের কাছে স্বর্গ সমান। কি করবে আর কি না করবে ভেবেই তো কুল কিনারা পায় না এই বয়সের ছেলে মেয়েরা। কিন্তু এই মেয়েটা একটা দোকানের কোণায় দাঁড়িয়ে এক মনে চেয়ে রয়েছে সেই রথের দিকে। চোখ দেখে মনে হচ্ছে দিনের সাথে সাথে তার মনটাও বড্ড ভেজা।
নিজেকে আর আটকে রাখতে না পেরে মেয়েটার কাছে এগিয়ে যায় অনির্বাণ। তার কাছে গিয়ে প্রশ্ন করে, “কি হয়েছে তোমার, এইভাবে একাএকা দাঁড়িয়ে কেন?”
মেয়েটা একটু ভয় পেয়ে, একটু দূরে সরে যায়। কিন্তু তার সেই ভয়ের মধ্যেও যেন একটা অবহেলিত আবদার লুকোনো রয়েছে।
অনির্বাণ তখন মেয়েটাকে কাছে টেনে মাথায় হাত বুলিয়ে বলে, “ভয় নেই। আমায় বল, কি করছো একাএকা? মা বাবা কোথায়?”
এইবার মেয়েটা একটু কাঁদো কাঁদো গলায় বলে, “আমি একাই এসেছি। আমার কেউ নেই।” বলেই সে কেঁদে ওঠে।
অনির্বাণের মনটা যেন এক অজানা আপনতায় কেঁপে উঠলো। সে মেয়েটাকে বলে, “আচ্ছা সেসব কথা পড়ে হবে। খিদে পেয়েছে তাইনা খুব? আমার কিন্তু খুব পেয়েছে।”



Love Story in Bengali 

মেয়েটা মাথা নেড়ে হ্যাঁ বললে, অনির্বাণ তাকে একটা মিষ্টির দোকানে নিয়ে গিয়ে পেট ভরে খাওয়ায়।
খাওয়া শেষে অনির্বাণ জানতে চায় মেয়েটার কাছে যে তার কি হয়েছে। কেন সে এইভাবে একা একা ঘুরছে এখানে।
মেয়েটা তখন বলে,”আমার নাম মিলি। আমি কিছুটা দূরে একটা অনাথ আশ্রমে থাকি।”
শুনেই অনির্বাণ বলে, “কেন তোমার মা বাবা?”
মিলি একটু চাপা স্বরে বলে, “বাবা কে, তাতো আমি জানি না। তবে মায়ের কাছে শুনেছিলাম বাবা নাকি আমায় ভালোবাসে না।”
অনির্বাণ একটু আশ্চর্য হয়ে বলে,”আর মা?”
মিলি এবার যেন কেঁদে ফেলে। বলে,”মা তো আমার কাছেই ছিল। কিন্তু দুই বছর আগে এই মেলাতেই মা আমাকে ফেলে কোথায় যে চলে গেলো জানি না। আমরা মেলাতে এসেছিলাম। হঠাৎ মা বলে আমাকে ওই দোকানটার কাছে দাঁড়াতে আর মা নাকি আমার বাবাকে নিয়ে আসছে। তারপর মা আর আসে নি। আমি অনেক রাত পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকি। কিন্তু মা আসে নি। তখন কিছুজন আমায় নিয়ে ওই আশ্রমে যায়। কিন্তু আমি তারপর থেকে প্রতিবার মেলাতে চলে আসি। যদি মা আমাকে খুঁজতে আসে এই দোকানে। আসলে আমাকে খুঁজে না পেলে যে মা এর খুব চিন্তা হবে আর মন খারাপ করবে। আমি না মা এর কষ্ট একদম দেখতে পারি না।”
অনির্বাণ আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে নি। কেঁদে ফেলে নিঃশব্ধে। একটু লুকিয়ে চোখের জল মুছে সে বলে, “আচ্ছা কেমন দেখতে তোমার মা? কি নাম ওনার?” মেয়েটার মুখে যা শুনে, তারপর অনির্বাণ আর নিজেকে যেনো ধরে রাখতে পারছিল না।

Love Story in Bengali 

মেয়েটার মুখের কথা শেষ না করতে দিয়েই অনির্বাণ বলে,”আচ্ছা, তোমার এই নামটা কি মায়ের দেওয়া?”
মেয়েটা বলে,”হ্যাঁ। কিন্তু মা বলত এই নামটা নাকি আমার বাবার খুব প্রিয়। কিন্তু দেখো, আমি বাবার প্রিয় হলাম না। আর মাও আমাকে ছেড়ে চলে গেলো।”
সাথে সাথে অনির্বাণের সব কিছু চোখের সামনে ভাসতে লাগলো। আজ থেকে প্রায় ছয় বছর মতো আগে এই মেলাতেই দেখা হয়েছিল মিলির মায়ের সাথে অনির্বাণের। একদেখাতেই পছন্দ হয়ে গেছিলো অনির্বাণের অপর্নাকে, মানে মিলির মাকে। অপর্নারা গরীব ছিল।তাই দ্বাদশ শ্রেনীর পর আর তার পড়া হয় নি। অনির্বাণ তখন কলেজে। এটা অনির্বাণের গ্রামের বাড়ি। ওরা কলকাতাতে থাকে। ছুটি থাকলে আসে গ্রামের বাড়িতে। তাদের এই প্রেম যখন প্রায় বছর পেরিয়েছে, তখনই অপর্না তাকে বলে তার পেটে নাকি অনির্বাণের বাচ্চা। প্রথম দিকে সেতো ভীষণ ভয় পেয়ে অপর্নাকে বাচ্চাটা নষ্ট করতে বলে। কিন্তু অপর্না রাজি ছিল না। সে চেয়েছিল অনির্বাণের সাথে বাসা বাঁধতে। কিন্তু অনির্বাণের জন্য এটা একদমই সম্ভব ছিল না। অনির্বাণ কি করবে বুঝতে না পেরে মাকে সব খুলে বলেছিল। বাড়িতে তুমুল ঝামেলা হয়। না, অনির্বাণ কিন্তু ভারী অদ্ভুতভাবেই বার বার অস্বীকার করে গেছিলো বাচ্চাটাকে। সে বারাবার বলেছিল বাচ্চাটা তার না। তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। অপর্না চাইছে তাকে বিয়ে করে একটা ধনী দাম্পত্য হাতিয়ে নিতে। অনির্বাণের বাবা থানা পুলিশও করে। অনেক রকম জালিয়াতির মামলা করে অপর্নার পরিবারের নামে। আর দারিদ্রতার জন্য অপর্নার পরিবার মুখ থুবড়ে পড়েছিল সত্যের চৌকাঠে। পারে নি সেটা টপকে ভেতরে যেতে। প্রায় পুরো গ্রাম অপর্নাদের বিরুদ্ধে হয়ে গেছিলো। কিন্তু অপর্না হার মানে নি। সে হাজার বাঁধা, হাজার কথা শুনেও মিলিকে জন্ম দিয়েছিল। তার পরিবারও গ্রাম ছেড়ে চলে যায় মিলিকে আর তাকে একা রেখে। কোনো রকমে পেট চলছিল এই মা আর মেয়ের।

 




 

Bengali Detective Story – এই বছরের সেরা গোয়েন্দা গল্প

Love Story in Bengali 

দরিদ্র ভাগ্যের কাছে হেরে যায় নি অপর্না। কিন্তু এই ভীষণ বাস্তবের কাছে বড্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল সে। তাইতো আগের আগের বার মেলাতে যখন অনির্বাণকে দেখে, সে তখন মিলিকে সেই দোকানে রেখে ছুটে গেছিলো তার কাছে একটা শেষ ভিক্ষা চাইতে। শুধু তার যথার্থ পরিচয়টুকু চেয়ে নিতে। যাতে করে মিলি একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ পায়। তার বাবাকে কাছে পায়।

কিন্তু সেই দিনও অনির্বাণ তাকে ঘুরিয়ে দেয় এইবলে যে তার পক্ষে সম্ভব নয়। সেইদিন অপর্না খুব কেঁদেছিল কিন্তু অনির্বাণ শুনে নি। হয়ত তার সেই প্রত্যাখ্যান কেড়ে নিয়েছিল তার লড়াই করার শেষ চেষ্টাটুকু। হয়ত নিঃশ্বাসের ভার আর বহন করতে পারে নি সে। তাই আজ সে ছুটি নিয়েছে এই শরীরের বাঁধন থেকে।

অনির্বাণের চোখ থেকে টপ টপ করে জল গড়িয়ে পড়তে থাকে। ভারী অদ্ভুতভাবে সেই ছোট্ট মিলি তার চোখের জল মুছিয়ে দিতে দিতে বলে, “তুমি কাঁদছো কেন? মা বলেছে আমরা তখনই খুশি থাকতে পারি যখন আমদের চারপাশের মানুষজন খুশি থাকবে। তাই তুমি কাঁদলে তো আমার আরো বেশি কষ্ট হবে।”
এই ছোটো মেয়েটা আজ কত সহজ করে বুঝিয়ে দিল এই কথাটা।
অনির্বাণ তখন চোখ মুছে মিলিকে কাছে টেনে নিয়ে বলে,”ঠিকই তো বলেছে তোমার মা। আমি কাঁদছি না। মা নেইতো কি হয়েছে আমি আছি তো। আমরা দুজন মিলে মা কে খুঁজবো। চলো তুমি আমার সাথে থাকবে। আমার পরিচয়ে তুমি পাবে পরিচিতি। মিলি নামটা নয় তুমিও আমার খুব প্রিয়।”
কথাগুলো বাচ্চা মেয়েটা হয়ত বুঝলো না। কিন্তু মুহূর্তটা সাক্ষী থেকে গেলো বাবা আর মেয়ের এই মধুর মিলনের।

 




 

সমাপ্ত

স্বপ্না কর্মকার 

পর্ব ১

 Love Story in Bengali
Love Story in Bengali

তাকে আমি চিনতাম। একটু বেশ কাছ থেকেই। সে ছিল আমারই মতে রােগাসােগা, বেঁটেখাটো, চুল ফিকে হয়ে
আসা এক ছেলে। সদ্য চশমা উঠেছে চোখে, টেনেটুনে আর বছরখানেক কাটিয়ে দিতে পারলেই স্কুলের পাট
শেষ। চিরকালের মতাে ইউনিফর্মকে বিদায়। সে ছিল আমারই মতাে। মুখচোরা, লাজুক, একলাটে। ভিড়ের মধ্যে
কোন খুঁজে নেওয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত সারাক্ষণ। পড়ার বই থেকে মুখ তুলে বহুক্ষন জানালার দি
হয়তাে কিছুই হচ্ছে না, কিন্তু সেই কিছু না হওয়াটাই তাকে টানত সবচেয়ে বেশি। এই যে তার চারপাশে সারাক্ষণ
কিছু হতে চাওয়ার শনশন দৌড়, সেইটাকে সে ভয় পেত ভারী। ওই অল্প বয়সেই আমারই মতাে সে বুঝতে
পরেছিল, দৌড়টা তার জন্য নয়। সে বরং জানালার বাইরে উড়ে বেড়ানাে ছাড়া আর কোনও আলাদা গন্তব্য নেই।
র এইসব বিদঘুটে বলার কারণেই সে ধরে নিয়েছিল, তার প্রেম হবে না কোনদিনই। কোনও মেয়ে তার।
প্রেমে পড়বে, এমন স্বপ্ন দেখার দুঃসাহস তার ছিল না। এমন কী সে নিজেও যে কোনও মেয়ের প্রেমে পড়বে,
তেমনটা সে ভাবেনি খনও। কিন্তু পড়ল। শেষমেশ এইরকম একটা অলক্ষুণে দাছুট ছেলেও দড়াম করে
পাড় সোল পেমে। আর তার জন্য দায়ী থাকল একজন। উহু, মেয়েটি নয়। জুলাই মাসের বৃষ্টি।

 




 

Love Story in Bengali 

হল কী, ঝামেলাটা বাধল স্কুলবাসে। বেশ বড়সড় বাস। কিন্তু সেখানেও সংরক্ষণ। মেয়েরা বসৰে সামনের
দিকে, পঞ্চম সারি থেকে ছেলেদের অধিকার। মেয়েরা চাইলে পিছুনেও বসতে পারে, কিন্তু ছেলেদের এগানাে
নিষেধ। তারা চলছিল দিব্যি। আমার চেনা সেই ছেলেটি বহুদিন ধরেই পিছনের দিকে একটা জানলার দখলদারি
নিয়ে রেখেছে। স্কুলের শেষে সে মােটেও খেলাধুলাে করে না। ফলে ছুটির পরপর ফাকা বাসে উঠে প্রিয় সিটটায়
জাঁকিয়ে বসতে তার অসুবিধে হয়নি একদিনও। তার বাড়ি রুটের একেবারে শেষেরদিকেই, কিন্তু রাস্তায় তার
সঙ্গে কথা হত না কারােরি। একদিন হল জুলাই মাসের কোনও একটা মেঘ করে আসা থমথমে বিকেলবেলায়
সে যখন নিশ্চিন্তে জানালার ধারে বসে মাথাটা হেলিয়ে বাইরের যানজট দেখছে, তার চেয়ে তিন ক্লাস ছােট
একটা একবিনুনি মেয়ে বেশ ঝামেরে উঠে বসে উঠল, “জানালাটা লাগবে।* এমন দাবি সে মিনকালেও
শােনেনি। পরিক্ষার হলে বন্ধুরা উত্তর জানতে চায় খোঁচা মেরে, সেও না হয় বােঝা ধায়। কিন্তু জানালাটা লাগবে,
একথা প্রথমবার শুনল। কথাটা শুনে এতটাই চমকে গেল ষে স্পিকটি নট হয়েই জানালাটা ছেড়ে দিল
মেয়েটিকে।
সেই প্রথম সাংঘাতিক কান্ড, সে কোন মেয়ের পাশে বসল। তাও আবার ঠেসাঠেসি যে কাঁধে কাঁধ লেগে যাচ্ছে।
মেয়েটির অবশ্য তাতে নাে পরােয়া। সে একমায় জানালার দিকে তাকিয়ে হাতের ঠোণ্ডা থেকে বের করে স্বামসি
খেতে লাগল । বেশ মেয়ে, মেঘ করে আসা তার গায়ের রং, টানা-টানা ঘাণ ডোঘ, ছটফট এখন বিলুনি, টপ।
আর স্কার্ট পড়া। মানে নাইন হয়নি এখনও। বাচ্চা মেয়ে মনে মনে ভাবল ছেলেটি।
বাস ছেড়ে দেবার পর-পরই তেড়ে নামল বৃষ্টি। বাসের দুদিকে যত জানালা,সব ঝটাপট বন্ধ হয়ে গেল। ভিজে
ফিরলে বাড়িতে ঝামেলা আছে। বন্ধ হল না শুধু ছেলেটির পাশের জানালাখানা বন্ধ তাে হলই না, উলটে সে।
দেখতে পেল, জানালার ফাঁক দিয়ে যতখানি পারে, বাইরে মুখ বাড়িয়ে দিয়েছে সেই দস্যি একবিনুনি। জলের
তােড়ে টানা-টানা চোখ দুটো খুলে রাখতে পারছে না সে, কিন্তু তার ঠোট খুলে সে নিচ্ছে বৃষ্টির জল।

Love Story in Bengali 

আমসি খেলে কি তেষ্টা পায় খুব? ছেলেটি অমন রূপ, রূপের অমন ভেজা সাহস জীবনে দেখেনি। সে হুঁ করে
তাকিয়ে রইল। তখনও ‘সমাপ্তি দেখা হয়নি তার, হলে বুঝত, দাপুটে সেই মেয়েটাকে তখন ঠিক বৃষ্টিভেজা।
ষােলাে বছরের সুচিমা সেনের মতাে দেখাচ্ছে।
তার সম্বিৎ ফিরল মেয়েটিরই হাতের ঠেলায়, যখন ভেজা মুখ থেকে টপটপ করে পড়িয়ে পড়তে থাকা জলকে
পাত্তা না দিয়ে তাকে শেষ আমসিটা অফার করল ক্লাস এইটের সুচিত্রা সেন ছেলের তখন মনের অবস্থাই
আমসি হয়ে এসেছে। সে হ্যাঁ-না বলার দ্বিধায় এতটা সময় লাপাল যে মেয়েটি ‘ধুর’ বলে তৃপ্তির শেষ টুকরােটা
মুখে পুরে দিল।
এই ম্যাজিক আওয়ার বেশিক্ষুণ চলল না অবশ্য, কয়েক স্টপেজ পরেই আর সাতজন ছেলেমেয়ের সঙ্গে
হুড়মুড়িয়ে নেমে গেল সে-ও। নামার পরেও, এমনকী তার বাড়ির গলিতে ঢুকে যাওয়ার পরেও তাকে দিব্যি চেনা
যাচ্ছিল। কারণ ওই বিলে ভাসানাে ঝমঝম বৃষ্টিতে মেয়েটিই একা ভিজছে। ছাল খােলেনি সে। ছেলেটির ছায়ে
গেল। এই বয়সে এইরকম একটা বিকেল পাওয়ার পর এক কিশােরের যা-যা হতে পারে, তার চেয়ে কিছু বেশিই
হল হয়তাে। কারণ বাস্তবের চাইতে কল্পনার ব্যালকনিতে তার বেশি সময় কাটত। যা হয়নি, হয়তাে হবেও না
কোনও দিন, সেসব সে ভেবে ফেলতে পারত ,এক তুড়িতে। অথচ একটা কথা বলতে গেল দশবার ঠোক্কর খেত।
সেদিন বিকেলের সেই বৃষ্টি চলেছুিল রাতভর। খামেনি। এসব বৃষ্টি থামে না। শুধু যখন একের পর এক আলাে
নিভিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল সারা পাড়া, সে কেবল জেগে বসেছিল তার ছােট্ট চৌখুপি ঘরের খােলা জানালাটার
পাশে সে কেবল বাইরে ঝরে চলা তুমু খুচরাে দুটি ঢুকিয়ে নিচ্ছিল ঘরে, বিছানায়, মনে….সে কেবল মুখ
বাড়িয়ে ভিজিয়ে নিচ্ছিল ‘তার রাতজাগা বিস্মিত দুটো চোখের পাতা,-…যে দুটো বন্ধ হয়ে এলেই সে দেখতে
পাঠিচুল ঝাপসা হয়ে আসা বৃষ্টিতে আরও স্পষ্ট হয়ে আসা একটা মুখ। ক্লাস এইটের সুচিg সেনের।




 

Thakurmar Jhuli Golpo ( চাষা ও চাষাবউ )

Love Story in Bengali 

এত বদুর ধরে ছেলেটি একা ওই জানালার মালিক…হঠাৎ এই বৃষ্টির বাজারে এইরকম মিঠে গা-জােয়ারির
রহস্যটা কী? অনেক ভেবেচিন্তে ও সে এর কূল পেল না, কেবল এইটুকু বুঝল, এই প্রথম কাউকে জানালা ছেড়ে
দিয়ে তার খুব লাভ হয়েছে। ব্যাপারটা কিন্তু একদিনে শেষ হল না মােটেই, বরং জুলাইয়ের বৃষ্টির মতাে, দিনকে
দিন বাড়তে থাকল। তার পাশের জানালাটা সেই দিন থেকে দিব্যি মেয়েটির হয়ে গেল। একটা-দুটো আমসিও
দেখল ছেলেটা বড় টক! এপাশ থেকেও এক-আধটা চকোলেট যে হাতবদল হত না, তা নয়। আর হত বৃষ্টি।
কলকাতা ভাসিয়ে দেওয়া, রাস্তাঘাট ঝাপসা করে দেওয়া, সিগন্যালকে জলরং করে দেওয়া বৃষ্টি। তুখােড়, তুমুল,
তুলনাহীন। এত কিছুর মধ্যে বরং যেটা হত না, সেটা হল কথা। এই যে একটা অনর্ত বর্ষার জুলাই মাস ‘বাস’
নামক একটা জাহাজ চেপে পার হচ্ছিল তারা, তার মাল ছিল না কোনও।
চরিমরা নিজেদের নাম জানে না, ঠিকানা জানে না, কিছুই জানে না। তারা শুধু জানে এইট আর ইলেভেন।
আমসি আর চকোলেট। তারা শুধু জানে বৃষ্টি আর জানালা। মুখচোরা আমার চেনা এই ছেলেটি জীবনে বড়সড়
দোকানে টেকেনি। তাদের অত সামর্থ্যও ছিল না। তার চেয়ে বড় কথা ভালােবাসা মানে তার মনে হত আলুর চপ
পেয়াজি হয়, নাগরদোলা-পাঁপড় ভাজা হতে পারে। তবুও সে একদিন ঢুকে পড়ল সেইরকম একটা বড়সড়
জ্বকিজমকের দোকানে।

 




 

সমাপ্ত


 

বৃষ্টিভেজা 

স্বপ্না কর্মকার 

পর্ব ২

 Love Story in Bengali
Love Story in Bengali

ঢুকে পড়ল কারণ, পেঁয়াজি বা নাগরদোলার গায়ে চিঠি লেখা যায় না। তার জন্য প্যাড চাই। তার সেই কৈশােরে
নানা রংয়ের ছােট-ছােট ছবি আঁকা মিষ্টি সব প্যাড পাওয়া যেত। যেন কিছু না লিখে শুধু পাতাটা ভাঁজ করে
খামে ভরে দিতে পারলেই কাজ হাসিল হবে। অবিশ্যি কী কাজ যে সে হাসিল করতে চাইছে, সে বিষয়ে তার
নিজেরও তেমন আন্দাজ ছিল না। বরং আস্তে আস্তে তার ধারণা তৈরি হচ্ছিল বৃষ্টি বিষয়ে। যে ছেলে
এক পা নড়ত না বর্ষাকালে, সে হালকা ঝিরঝিরে বৃষ্টির জেব্রা ক্রসিং দিব্যি পেরিয়ে যেতে শুরু করল খােলা
শুয়ে নিতে শুরু করল কতদিন ধরে শুকনাে হয়ে থাকা আর প্রিয় ফতুয়া গুলােকে তার এইসব।
চলমান বৃষ্টি বিকেলে সে মনে-মানে খুঁত ধরে রইল নাম- না জানা সেই জানালা-বালিকার। সে এত
শিখল আর ভেজা হাতেই বাড়ি ফিরে লিখতে বসল জীবনের প্রথম চিঠিটা।
এইরকম চিঠি বহু লেখা হয়েছে। কিছু ছিড়ে ফেলা দেওয়া, কিছু উড়ে যাওয়া, কিছু বা যত্নে ভজি করে বইয়ের
ফাঁকে রেখে দেওয়া, এইরকম বৃষ্টিও হয়েছে অনেক। দিনের পর দিন ধরে, যুগের পর-যুগ পেরিয়ে, এমন মানুষ
আগে থেকেই পৃথিবীর বুকে ঝড়ে পড়েছে তুমুল বৃষ্টি। কত কত নিঃসঙ্গ জুলাই পার করে তবে বৃষ্টি
পেয়েছে মানুষকে, তার মধ্যে হঠাৎ ফুটে উঠতে থাকা ভালােবাসাকে বৃষ্টির সঙ্গে বর্ষাকালের সঙ্গে কি ভালবাসার
কোনও অলিখিত চুক্তি ছিল কোথাও? একজন ব্যাট করলে অপরজন দৌড়েবে বলে আর-এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে
থাবেই এই রকম কোন ধ্বধা দেওয়া আছে? ব্রেনকোট আর ছাতাগুলাে বারবার নীরব সাক্ষী থাকবে এই রঞ্চম
কোন প্লট কি দুকা হয়েছিল সভা শুরুর আগেই? নইলে প্রেম আর বৃষ্টির এই অবিচ্ছেদ্য সঙ্গকে নেহাতই
পৃথিবীর দীর্ঘতম কাকতালীয় বলে নিতে হয়। ধরে নিতে হয় যে ঝমঝমিয়ে পাড়াভাসানাে বৃষ্টিতে কেবল
একজনের কথা মনে পড়তে থাকা টা একটা অভ্যেসমাত্র। ধরে নিতে হয় বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর আধভেজা
রাস্তায় টিপটিপ পেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বেখেয়ালে তার পাড়ায় চলে যাওয়াটাও নেহাতই মনের ভুল। এতে আর
কোন রহস্য নেই কোথাও।

 




 

Love Story in Bengali 

 

Bengali Jokes – ১০০০+ হাসির জোকস – হেসে পেট ব্যাথা হয়ে যাবে

 

শুধু কী প্রেম আর তার ইচ্ছে টুকু জাহির করা? তার সঙ্গেই বৃষ্টির এমন নাছোড়বান্দা যােগাযােগ? ভালােবাসার
ছোট্ট সাকোর ওপারে বিচ্ছেদের যে বিভীর্ণ মাঠ, সেখানেও কত হাজার বছরের অঝাের বৃষ্টি ঝরে চলেছে।
আজও। তাকে ছেড়ে আসার পরেও যে আসলে তারই সঙ্গে সময় কাটানাে, সে তাে বৃষ্টির হাত ধরেই। এই যে
এতবার ধরে প্রেমের হেরে যাওয়া আর হারিয়ে ফেলা, সেও তাে এক শেষ না হওয়া বর্ষাকালের রুমমেট। আসলে
একটাই শে জুলাই মাস, প্রেম আর বিচ্ছেদে তাকে সমান সমান ভাগ করে নিয়েছে।
সেই চিঠিটা শেষমেষ লিখে উঠতে পেরেছিল কিনা, আমরা সেই কথায় না-ই বা গেলাম। সেই বাড়ি ফেরা বাসে
ছােট্ট একটা জানায় আর ক’টা বর্ষাকাল খুচরাে সাজিয়ে রেখেছিল, তাও না হয় না-ই গুনলাম। কিন্তু এটা সত্যি
ছেলেটা মেয়েটাকে ভুলতে পারেনি। চায়ওনি হয়তাে আর মেয়েটাও কি…থাক সে কথা। শুধু এটুকু বলে নেওয়া
ভাল, তাদের সেই ভাগাভাগির অনামী বন্ধুত্ব আমসি,চকোলেট আর বৃষ্টি ছেড়ে বেশি দূর এগােতে পারেনি। তার
আগেই মেয়েটির পরিবার অন্য শহরে চলে যায়। একটা বৃষ্টির জানালায় আবার ছেলেটিকে বসিয়ে চলে যায়।
মেয়েটি। হঠাৎ এক সন্ধেবেলা মুখচোরা সেই ছেলের বাস আর বাড়ির জানালাটা মিলেমিশে যায়। তার কাঃ পায়
খুব। কিন্তু কাঁদার জন্যও একটা সাহস চাই, যেটা তার ছিল না। সেই রাতে তার চোখের নীচে এক দু ফেটিা জলে
লেগেছিল, তার দায় বৃষ্টি। তার দায় একটা বিচ্ছিরি মনখারাপ করা জুলাই মাসের।

Love Story in Bengali 

এগুলি আসলে বৃষ্টির মলাটে এক-একটা পেপারব্যাক, যার শেষ পাতাটা কেবলই পিছিয়ে যেতে থাকে। এই
ছেলেটিরও শেম্বমেম্ব সেটাই হয়েছিল। জীবনের ব্যস্ত ট্রাফিকে নেমে পড়া ছাড়া উপায় ছিল না তার। কেবল
নেমে পড়ার আগে সে তার ছাতাটাকে একদিন উড়িয়ে দিয়েছিল বৃষ্টিঝড়ের তােড়ে। বাকি জীবন ভিজবে বলে।
বছরখানেক পরের কথা। পার্কস্ট্রিটের সন্ধে এবং আবারও সেই জুলাই মাস। টিমটিমে রেস্তরাঁর ঝাঁক সেজে
ওঠেছে, একটা আলগা ঝিরঝিরে বৃষ্টি হয়ে চলেছে। একটানা। এমন সময় ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ভূত দেখার মতাে
চমকে উঠল! সে কী ঠিক দেখছে? উল্টোদিকের ফুটপাথে রাস্তা পেরােবে বলে দাঁড়িয়ে রয়েছে কে? সে-ই না?
এক লহােমায় পাঁচিশ বছর আগেকার একটা চলন্ত জানালার ধার আর ঝমঝম বৃষ্টি মনে পড়ে গেল ছেলেটির।
বৃষ্টিই পারে টাইম মেশিন হয়ে উঠতে, পঁচিশ বছর পেছনে টেনে নিয়ে যেতে যার পাঁচ সেকেন্ডও লাগে না। হ্যাঁ,
সে-ই তাে! বারবার ঘড়ি দেখছে। বিনুনিটা কোথায় গেল? নাহ, চুল ছােট হয়ে এসেছে ঘারের কাছে। রংটা সেই
মেঘের মতাে আছে, চোখদুটোও রয়েছে একইরকম টানা। কেবল সেই পরিচিত সাদা ইউনিফর্ম-এর বদলে
এই প্রথম তার পরনে টপ আর জিন্স দেখল ছেলেটি। সিগন্যাল লাল, পাড়িগুলাে থেমেছে। মেয়েটি এবার।
হনহনিয়ে রাস্তা পেরিয়েই এইদিকেই আসছে। সেই একই হাটা। কেবল একটা ব্যাপার দেখে অবাক হয়ে গেল।
ছেলের্টি। মেয়েটির হাতে ধরা রয়েছে ছাতা, এবারের জুলাইয়ে সে আর ভিজতে চাইছে না।

 




 

 Valobasar Golpo

চিনতে পারবে কি? ছেলেটির পালস্ বেড়ে গিয়েছে, এই বৃষ্টিতে ভিজতে-ভিজতেও সে বুকের কাছে আলাদা করে
টের পাচ্ছে ঘাম। কথা বলবে কি? ওই বাদামি চামড়ার ব্যাগের মধ্যে একটাও আমসি লুকিয়ে নেই আর? আর
এইসব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতেই মেয়েটি কখন ছাতা মাথায় পাশ কাটিয়ে চলে গিয়েছে, খেয়ালও হয়নি। যখন
খেয়াল হল, ছেলেটির সারা শরীর সপসপে ভিজে। নাহ্ শেষমেশ নামটা জানাই হল না তাহলে। ক্লাস এইটের
সুচিত্রা সেন হয়েই থেকে গেল সেদিনের সেই একবিনুনি মেয়েটা…..কেবল ছেলেটির আর উত্তমকুমার হয়ে।
ওঠার সুযােগ হল না একবারও। ইশ, কোন যােগাযােগ যদিও বা আর-একবার তৈরি হতে পারত–
ঝমঝমে পার্কস্ট্রিট ধরে মাথায় ঘাের নিয়ে হাঁটতে লাগল ছেলেটা। হঠাৎ আর-একবার মনে হতেই চমকে উঠল
সে। খটকা লাগছিলাে কোথায় যেন, এতক্ষণে তার উত্তর পেল। মেয়েটির হাতে ধরে থাকা ছাতাটা যে তার খুব
চেনা। সেটাতাে তার পুরােনাে ছাতা, এক বৃষ্টিঝড়ের বিকেলে স্কুল ব্যাগ থেকে বের করে যাকে সে উড়িয়ে
দিয়েছিল এই শহরের ভেজা হাওয়ায়…সেই ছাতাটা আজ বৃষ্টি থেকে আড়াল করছে মেয়েটিকে। ঠোঁটের কোনে
মুচকি হাসি ফুটিয়ে উঠল বছর চল্লিশেকের মুখচোরা মানুষটির। সাঁকোটা তাহলে থেকেই গেল, থেকে গেল।
ছাতাটাও। শেষ না হওয়া জুলাই মাসের বৃষ্টিভেজা একটা দিন নীরব সাক্ষী হয়ে….

 

 

 

সমাপ্ত


 

11 thoughts on “Love Story in Bengali – ১০টি সত্য ভালোবাসার গল্প

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *