Mrityu Bhoy

গোয়েন্দা রহস্য নিশান কুমার
“ মৃত্যু ভয় ”

সেন্টু ঘরে ঢুকেই বলে আঙ্কল সাতসকালে এভাবে হঠাৎ ডেকে পাঠালে যে?
—একটা ফোন এসে ছিল অমর বাবুর নিকট হতে। তিনি মৃত্যু ভয়ে ভীত। সেন্টু বলে অতএব ডাক পড়েছে গোয়েন্দা তিলকরাজ কুমারগুপ্তকে, অমরকে মরনের হাত থেকে বাঁচাতে। টি কে স্যার বলেন ব্যাপারটা খুব একটা হালকা ভাবে দেখার নয়। ঘরের জানালা দিয়ে গুলি ছুঁড়েছে, সামান্যর জন্য উনি বেঁচে গেছেন। তাহলে তো এখুনিই যেতে হয় বলে সেন্টু আঙ্কলকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে।
অমর বাবুর বাড়ি পৌঁছাতে উনি বলেন নিচের ঘরে শুয়েছিলাম হঠাৎ গুলির শব্দে চমকে উঠি, গুলিটা আলমারিতে লাগে। ওই দেখুন গর্ত হয়ে গেছে। টি কে স্যার গুলির দাগটি পরীক্ষা করতে করতে বলেন আপনি ও নিশ্চয় বন্দুক ব্যবহার করেন, ওটি সর্বদা সঙ্গে রাখবেন। বলাতো যায়না আততায়ী সামনা-সামনি ও আক্রমণ চালাতে পারে। সমর বাবু কি একটু ভেবে বলে আপনি ঠিকই বলেছেন আমি সেই ভয়টাই পাচ্ছি। সেই কারনেই তো আপনাকে ডেকেছি। এমন সময় আপনি কি আততায়ীকে দেখেছেন ? এমন একটা প্রশ্ন করে ঐরাবত বাবু অযাচিত ভাবে প্রবেশ করেন। সেন্টু বলে আপনি এ ব্যাপারে কিছু না জেনে প্রশ্ন করে বসলেন। উনি ঘুমাচ্ছিলেন কেউ জানালা দিয়ে গুলি ছুঁড়ে পালিয়েছে। ঐরাবত বাবু বলেন অচেনা আততায়ীর সাথে সামনা-সামনি লড়াই করা যায় না। টি কে স্যার বাহবা দিয়ে বলেন একে বারে সঠিক কথা বলেছেন আপনি। ঐরাবত বাবু বলেন অথচ আমাকে না ডেকে আপনারা চলে এলেন। টি কে স্যার বলেন আসলে এত সকালে আপনার ঘুমটা নষ্ট করতে চাইনি।

পৃঃ২ সেন্টু বলে অপরাধী কে তাতো আমাদেরকেই খুঁজে বের করতে হবে। অমর বাবু বলেন শুধু বের করলেই হবেনা আমাকে ও বাঁচাতে হবে। এই নিন অগ্রিম কিছু দিয়ে রাখলাম বলে একটা টাকার বাণ্ডিল দেন। টি কে স্যার বলেন এখন টাকাটা তুলে রাখুন। আপনাকে বাঁচাতে পারলে জানি আমরা পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হব না। এখন বলুন আপনার কি কাউকে সন্দেহ হয় ? অমর বাবু বলেন না । আচ্ছা আপনার ছেলে মেয়ে কজন?
—দুই ছেলে এবং এক মেয়ে, দুই ছেলে পরিবার নিয়ে উপরের ঘরে থাকে এবং মেয়ে শ্বশুরবাড়ি ।
—আপনার বিষয় সম্পত্তি নিয়ে ছেলে মেয়ে কিম্বা পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে কোনো অসন্তোষ আছে কি ?
—তমন কোনো সমস্যা নেই। আর বিষয় সম্পত্তির কথা যদি বলেন, আমার অবর্তমানে ছেলে মেয়েরা সব কিছু সমানভাগে পাবে। ঐরাবত বাবু বলেন আপনার তো দেখছি কোনো সমস্যা নেই অথচ গুলিতে প্রান যেতে বসেছিল। এখন তো দেখছি মশাই সবাইকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে থাকতে হবে। সেন্টু বলে ঘটনাটা থানায় জানিয়েছেন?
—না, আসলে থানার উপর ভরসা করতে না পেরে তিলক বাবুকে ফোনটা করি। টি কে স্যার বলেন আমরা এখন আসি, আপনি ঘুমোনোর সময় বাহিরের জানালাটা বন্ধ রাখবেন। বলে সবাই বাহিরে বেরিয়ে আসে।

পৃঃ৩ সেন্টু বলে আঙ্কল কেসটা নিয়ে কি ভাবছ? ভাবার অনেক কিছুই আছে তাতে লাভ নেই। আসল উদ্দেশ্য উদঘাটন করতে না পারলে খুনের অভিপ্রায় অন্ধকারে থেকে যাবে। তবে খুব শিঘ্রই কোনো ক্লু হাতে এসে যাবে। এর পর ঐরাবত বাবুর দিকে তাকিয়ে বলেন, ঐরাবত বাবু কখনো ভূত দেখেছেন?
—ভূত রাম রাম রাম রাম, আপনি তেনাদেরকে আবার আমাদের মধ্যে আনছেন কেন?
—আজ রাতে আপনি আমার সাথে বের হবেন। সেন্টু যাবে না ।
—তার মানে আপনি ছুটলে আমাকেও আপনার পিছন পিছন ছুটতে হবে।
—একটু ছোটা ছুটি করলে সাস্থ্য ভাল থাকবে মন ও চাঙ্গা হবে। অতএব রাতের অন্ধকারে গুটি গুটি পায়ে তিলক বাবুকে অনুসরণ করতে হল। বেশ কিছুক্ষণ পর ঐরাবত বাবু বলেন এই ভাবে ঝোপের আড়ালে মশার কামড় খেতে খেতে সারা রাত অমর ববুর বাড়ি পাহারা দেবেন নাকি?
—চুপ চুপ ওই দেখুন বলে তিলক বাবু অমর বাবুর বাড়ির দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে। ঐরাবত বাবু ওরেব্বাস বলে বিষ্ময় প্রকাশ করে বলে ওযে একেবারে আপনার কপি, আপনার মত হ্যাট কোট পরে একেবারে গোয়েন্দা। কিন্তু ওযে অমর বাবুর ঘরের জানালার দিকে যাচ্ছে!
—ভয় নেই, ঘরের জানালা ভিতর থেকে বন্ধ আছে।
—ওই দেখুন জানালা টেনে খোলার চেষ্টা করছে! অবশেষে লোকটি মেন রাস্তার দিকে অগ্রসর হলে তিলক বাবু বলেন আপনি মেন রোডের পাশে রেস্টুরেন্টে অপেক্ষা করুন। আমি লোকটিকে ফলো করব।

পৃঃ৪ লোকটি একটা রিকশা চেপে বেশ কিছুক্ষণ চলার পর একটা জায়গায় নেমে পড়ল। তারপর নানান অলি গলি পেরিয়ে শেষে এক বসতিতে হাজির হয়। অতঃপর এক এ্যাসবেসটসের ছাউনি দেওয়া বাড়ির জানালা দিয়ে উঁকি ঝুঁকি মারার চেষ্টা করে। অবশেষে কি যেন ভেবে দ্রুত পদে পশ্চাদগমন করতে থাকে । তিলক বাবু নিজেকে আড়াল করতে লোকটি পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে যায়। তিলক বাবু গলির বাঁকের একটা ছোট দোকানে চা পান করে ফিরে আসে। এর কয়েক দিন পর খবরের কাগজে এক খবর বের হয়। নির্জন রাস্তার পাশে অজ্ঞাত এক পৌড়ের লাশ পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারনা লোকটিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঐরাবত বাবু বলেন তিলক বাবু দেখুন আপনার পরিশ্রম বৃথা গেল কিনা । টি কে স্যার সেন্টুকে নিয়ে তৎক্ষনাত বেরিয়ে পড়ে।ঘটনাস্থলে গিয়ে টি কে স্যার লাশটা পর্যবেক্ষণ করে কি যেন ভাবে। সেন্টু বলে কি ভাবছ?
—একটা নিরপরাধ লোক খুন হয়ে গেল। সেন্টু বলে লোকটি তোমার পরিচিত?
—লোকটি চুরি করার অপরাধে কয়েক বছর জেল খেটেছে।
-তুমি কিযে বলো বুঝি না, এদিকে বলছ লোকটি নিরপরাধ, আবার বলছ চুরির অপরাধে জেল খেটেছে।
-পরে বুঝলে চলবে, এখন হাসপাতালের ডাক্তারের সাথে সাক্ষাৎ করতে হবে চলো। এর কয়েক দিন পর ঐরাবত বাবু বলেন

Title:None,Content:পৃ-৫ তিলক বাবু এখন তো দেখছি অপরাধীরা যেভাবে অবাধে খুন খারাবি চালাচ্ছে গোয়েন্দার নাকের ডগায় তাতে তো লোক সমক্ষে চলা প্রেস্টিজ ম্যাটার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিলক বাবু বলেন আপনি কি জানেন চিড়িয়াখানা থেকে একটা বাঘ বেরিয়ে গেছে, তার কোন হদিস নেই।
—বলেন কি! কখন বেরিয়েছে? কোন দিকে গেছে! আমাদের বাড়ির দিকে যায় নি তো? আচ্ছা লোকটিকে তবে কি বাঘে ধরে ছিল? ভাই সেন্টু এখন তো দেখছি বাড়ি ফেরাই মুশকিল হয়ে গেল।
—সেন্টু বলে এত ভয় পাওয়ার কি আছে, শহরে এত লোক থাকতে তোমাকেই ধরবে ? তাছাড়া একটাই তো বাঘ একটা লোক শিকার করলে তিন চার দিন আর শিকারের প্রয়োজন পড়বে না।
—ও তোর ছেলেমানুষি কথাবার্তা, বাঘ কজনকে শিকার করবে সেটা বাঘের ব্যাপার, আমাদের বোঝার কম্ম নয়।
—টি কে স্যার বলে বাঘটি চোরা শিকারির হাতে মারা পড়েছে।
— যাক বাবা নিশ্চিন্ত হওয়া গেল বলে ঐরাবত বাবু দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।
—টি কে স্যার বলেন কিন্তু এটাতো অন্যায়।
—রাখুনতো মশায় বাঘের থেকে আমাদের জীবনের দাম অনেক বেশী ।
—তার মানে আপনার সামনে যদি ওই বাঘ আসত আপনি ও তাকে হত্যা করতেন।
—অবশ্যই, নইলে শুধু শুধু কেউ বাঘের পেটে যাওয়ার মত আহম্মক নয় মশায়।

Title:None,Content:পৃ-৬ টি কে স্যার বলেন আপনার এত ভয় পাওয়ার কিছু নেই কোনো বাঘ ছাড়েনি।
—তবে যে এভাবে আমাকে ভয় দেখালেন জানেন তো আমার হার্টের অবস্থা।
—বলতে পারেন আপনার উপর একটা পরীক্ষা চালালাম। ক্ষণিক পরেই বলে এখনি আমাকে একটা লোকের সাথে দেখা করার জন্য বের হতে হবে বলে কয়েক ঢোক জল খেয়ে বেরিয়ে পড়ে। টি কে স্যার লোক টিকে চেনে, নাম ফরিদ মিঞা নকল চাবি তৈরিতে এক্সপার্ট, তাকে দেখে বলে কি মিয়া চাচা কেমন চলছে?
—আল্লার দোয়ায় বেঁচে আছি বাবু।
—তা এখন নকল চাবি তৈরি করতে কত টাকা নেন ?
—তালা আনলে কুড়ি- তিরিশ আর যদি সাবান এর উপর ছাপ আনেন একটু বেশি পড়বে হুজুর। গলদ কামে বেশি মজুরি লাগে বাবু।
—বাঃ বেশ বলেছ, আচ্ছা চাচা দেখত এই লোকটাকে কখনো দেখেছ কিনা?
—আরে এত বহুত আচ্ছা আদমি আছে, কয়েক বছর আগে একটা নকল চাবি তৈরি করে দিতে দুশো টাকা বকশিস দিয়ে ছিল।
—তোমাকে আমি ও দুশো টাকা দিচ্ছি এ খবরটা দেওয়ার জন্য । তবে হ্যাঁ আমার প্রয়োজন পড়লে তোমাকে ডেকে পাঠাব তখন যেয়ো কিন্তু, তার জন্য পয়সা ও পাবে।
—চিন্তা নেই সাব, আপনি ডাকলেই যাব। এর ঠিক দিন দুই পর একটা নির্জন অন্ধকারময় স্থানে ফরিদ মিঞার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার হয়।

Title:None,Content:পৃ-৭ ঐরাবত বাবু বলেন একজন লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয়ে বেঁচে গিয়ে আতঙ্কে ভুগছেন। এর পরও আরো দুজন গুলিতে মৃত আর গোয়েন্দা টি কে গুপ্ত নাসিকায় তৈল অর্পণ করিয়া নিদ্রা যাইতেছেন। বাবা সেন্টু আর কতগুলো প্রাণ বলি হইবার পর গোয়েন্দা মহাশয়ের চৈতন্য হইবে? সেন্টু বলে আপনার কি ধারনা এই খুন গুলো কোনো একজন সিরিয়াল কিলার এর কাজ ?
—ওটা তিলক বাবুই বলতে পারবেন। আমার চিন্তার কারন হল অমন চাল- চুলোহীন গরিব লোক গুলোকে খুন হতে হচ্ছে কেন। ওদের খুন করে হত্যাকারীর কি লাভ?
—এই প্রশ্নের সমাধান করতে পারলেই খুনীর সন্ধান পাওয়া সম্ভব বলতে বলতে টি কে স্যার বসার ঘরে প্রবেশ করে।
— প্রশ্নের সমাধান করুণ নহিলে যে – – –
টি কে স্যার বলেন লোকগুলো যে এত দ্রুত খুন হয়ে যেতে পারে তা কখনো ভাবিনি। খুনী মস্ত বড় ভুল করেছে এমন নিরীহ মানুষদেরকে হত্যা করে। তবে খুব শিঘ্রই ওকে পাপের ফল ভোগ করতে হবে। সেন্টু চলো আমরা একটা লোকের বাড়িতে যাব বলেই তৎক্ষণাৎ বেরিয়ে পড়ে। নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে একটি বাড়ির কলিংবেলে চাপ দিতে এক মহিলা বেরিয়ে আসেন এবং প্রশ্ন করেন বলুন কাকে চান?
—আমরা নির্মাল্য বাবুর সাথে দেখা করতে চাই,একটা জমির ব্যাপারে সার্ভে করতে।

Title:None,Content:
পৃ-৮—আসুন ভিতরে আসুন বলে ড্রয়িং রুমে বসতে দিয়ে নির্মাল্য বাবুকে ডেকে পাঠায়। নির্মাল্য বাবু বেরিয়ে নমস্কার জানিয়ে বলে, বলুন আপনাদের কি সাহায্য করতে পারি। টি কে স্যার বলেন আপনাদের নিউটাউনের জমিটাকে কি কাজে লাগাবেন বলে ভাবছেন?
—জমি নিউটাউনে ! আপনারা কি বলছেন ঠিক বুঝলাম না। টি কে স্যার বলেন মৈত্রী দেবী আপনার স্ত্রী এবং আপনাদের দুজনের নামে ওই জায়গার মালিকানা অথচ আপনারা এমন ভান করছেন যেন কিছুই জানেন না ।
—না মানে সত্যিই আমরা কিছু জানিনা।
—তাহলে তো কথা বলে কোনো লাভ নেই আমরা এখন আসি। তবে এটুকু বলতে পারি খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন ও জমিটা আপনাদেরই। সস্ত্রীক নির্মাল্য বাবু বিষ্ময়ে হতবাক হয়ে আমlদের গতি পথের দিকে তাকিয়ে রইল।
—সেন্টু বলে আঙ্কল ব্যাপারটা কি হল, ওদের নামে জমি অথছ ওরা জানেনা!
—আমি এমনটাই সন্দেহ করে ছিলাম এবং সত্যিই তা মিলে গেল। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি খুনিকে ধরে ফেলব। এখন আমাকে আরো দুটো তথ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং আজই তা করে ফেলব। অতএব আগামী কাল অপরাধীর যবনিকা পতন অবশ্যম্ভাবী। ঐরাবত বাবুকে ব্যাপারটা স্মরণ করিয়ে দিও। ওনাকে ঘটনার ক্লাইম্যাক্সে হাজির করতে না পারলে আহত হবেন।

Title:None,Content:পৃ-৯ সেন্টু বলে শুধু আহত হবেন না, আমাদেরকে শত্রু ভবতে শুরু করবেন। পরদিন সদলবলে তিলক বাবু অমর বাবুর বাসায় গিয়ে হাজির হয়। অমর বাবু বলেন, বলুন দুষ্কৃতির কোনো সন্ধান পেলেন? টি কে স্যার বলেন তার সন্ধানে আমাদের অভিযান চলছে। এখন আপনার পাহারায় দুজন পুলিশ নিয়োগ করতে হবে, আমি লোকাল থানাকে জানিয়ে দিয়েছি। তার জন্য অবশ্য আপনার অতিরিক্ত কিছু খরচ হবে।
—অমর বাবু তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলে আপনাদের মত পাতি গোয়েন্দার দৌড় কত দুর তা আমার জানা আছে। একের পর এক লোক খুন হয়ে যাচ্ছে, তার তো কিছুই করতে পারলেন না। এই নিন আপনাদের পারিশ্রমিক বলে একটা টাকার বাণ্ডিল টেবিলের উপর ছুঁড়ে দেয়। অতঃপর বলে এবার আমার নিজেকেই নিজের সিকিউরিটির ব্যবস্থা করতে হবে।
—টি কে স্যার বলেন স্যরি মিঃ সেন , আমরা আপনার থেকে কোনো পারিশ্রমিক নিতে পারব না। কারণ আমরা আপনাকে বাঁচাতে পারব না। আপনি নিজেই আত্মহনন এর পথ বেছে নিয়েছেন। অমর বাবু বিষ্ময়ের ভান করে বলে আপনারা কি সব আজে বাজে কথা বলছেন! টি কে স্যার বলেন তাহলে নাটকের প্রথম পর্ব থেকে শুরু করা যাক। প্রথমত আপনি বলেছেন জানালা থেকে কেউ গুলি ছুঁড়েছিল। জানালা থেকে গুলি ছুঁড়লে

Title:None,Content:পৃ-১০ গুলিটা ওভাবে পিছলে যেত না, গুলিটা আলমারি ভেদকরে ঢুকে যেত। ফলে গুলিটা খাটের ওপাশ থেকে আই মিন ঘরের ভিতর থেকে ছোড়া হয়েছিল। এবং ঘর যেহেতু ভীতর থেকে বন্ধ ছিল তাই বাহিরের কাহারও পক্ষে গুলি ছোড়া অসম্ভব ছিল। বাহিরের কেউ আপনাকে আক্রমণ করে নি অথচ আপনি ভয় পাচ্ছেন এর কারণ খুঁজতে গিয়ে আমি আপনার উপর নজর রাখতে শুরু করলাম। কয়েক দিন পূর্বে রাতের অন্ধকারে রিকশা চেপে কত অলি গলি পেরিয়ে এক বাড়ির জানালায় উঁকি মারছিলেন। পরে আমি আপনার ছবি দেখিয়ে জানলাম ওই বাড়ির কর্তা খগেন মুর্মু আপনাদের অফিস পাহারাদার ছিল। এবং আপনার মিথ্যা সাক্ষ্যদানে চুরির অপরাধে ওনার জেল হয়। এই পর্যন্ত ঠিক ছিল কিন্তু খামাকা লোকটিকে গুলিকরে হত্যা করলেন কেন?
—অমর বাবু হঠাৎ যেন লাফিয়ে ওঠেন,এসব কি বলছেন আপনি। আপনি কি আমাকে খুনের দায়ে ফাঁসাতে চাইছেন ?
—আপনি অলরেডি ফেঁসে গেছেন মিঃ সেন। এত কম টাকা মাহিনের চাকরী করে অগাধ বেনামী সম্পত্তির মালিক । খগেন বাবুর দেহে পাওয়া গুলির নমুনা আপনার ঘরে পাওয়া গুলির নমুনার সাথে মিল রয়েছে। আপনার বেনামী সম্পত্তির দলিল গুলো নিশ্চয় আপনার সিন্দুকে রয়েছে। অমর সেন ধীরে ধীরে নিজের রিভলভরের দিকে হাত বাড়াতে

Title:None,Content:পৃ-১১ টি কে স্যার বলেন কোনো চালাকি করার চেষ্টা করবেন না, পায়ের মালাইচাকি দুটি গুড়িয়ে দিয়ে সরীসৃপ বানিয়ে ছাড়ব, বাকি জীবন বুকেহেঁটে কাটাতে হবে। এখন আপনিই বলুন লোকটির সাথে কি ঘটনা ঘটেছিল। মিঃ সেন যখন দেখল টি কে গুপ্তের হাত থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব নয় তখন সমস্ত ঘটনা স্বীকার করাই বাঞ্ছনীয়। অমর বাবু বলতে থাকলেন এক সময় আমার রেসের মাঠে জুয়া খেলার নেশা ছিল। তাই চাকরী জীবনে কিছুই সঞ্চয় করতে পারিনি বরঞ্চ কিছু ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ে ছিলাম। এদিকে অবসরের সময় হয়ে এসেছে। তাই মাঝে মধ্যে ফ্রাস্টেশনে ভুগতাম। এই সময় আমাদের অফিসে প্রচুর নগদ টাকার লেনদেন ছিল। আমিও মাঝে মধ্যে সেই টাকা অফিস লকারে সাজিয়ে রাখতাম। এক দিন হঠাৎ খেয়াল হল এই টাকা যদি কিছু সরানো যায় তাহলে তো – – -ব্যাস আর বেশী কিছু ভাবলাম না । লকারের নকল চাবি বানিয়ে এক রাতে অফিসে হানা দিলাম। দেখি দারোয়ান খগেন মুর্মু বসে বসে ঘুমে ঢলছে । আমি নকল চাবি নিয়ে অফিসের টাকা দুটো বাজারের ব্যাগে ভরে বেরহতে গিয়ে টক্কর খেলাম। খগেনের ঘুম ছুটে গেল। কে কে বলে অফিসের ভেতর ঢোকে,আমি অন্ধকারে লুকিয়ে থাকি। তারপর ও লকারের দিকে যেতে দেখে লকারে চাবি ঝুলছে।

পৃ-১২ ও লকারটা খুলে আবার বন্ধ করতে শব্দ হয়,সেই ফাঁকে আমি চম্পট দিই। পরদিন আমি সাক্ষী দিই যে সন্ধ্যার পর বাজার থেকে ফেরার পথে অফিসের মধ্যে টর্চ্ এর আলো পড়তে দেখে এগিয়ে যাই দরজার ফাঁক দিয়ে দেখি কেউ লকার খুলছে। পুলিশে খবর দেব ভাবছি কিন্ত হঠাৎ মুখে আলো পড়তে দেখলাম বাহিরের কেউ না আমাদের দারোয়ান খগেন। এর পর সার্চ করে খগেনের বাড়ি থেকে লকারের নকল চাবি পওয়া গেল। পুলিশ অবশ্য টাকা উদ্ধার করতে পারেনি তবু খগেনের জেল হয়ে গেল।
সেন্টু বলে ঘটনাটা এপর্যন্ত ঠিকই ছিল কিন্তু লোকটাকে হত্যা করলে কেন?
—আসলে কয়েকদিন হল খগেন জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে। হঠাৎ সেদিন ওর সামনে পড়তে ওর চোখে যেন প্রতিশোধের আগুন দেখি । আমি ভয় পেয়ে যাই। পরদিন ভোরে সপ্ন দেখি ও আমায় সামনে থেকে গুলি করছে। তাই ওই দিন সকালে আপনাদেরকে ডেকে পাঠাই। টি কে স্যার বলে বুঝলাম আপনার আতঙ্কের কারণ কিন্তু বেচারি ফরিদ মিঞাকে এভাবে হত্যা করার কারণ কি?
—ফরিদ মিঞা নিজেই নিজের মৃত্যুকে বরণ করেছে। বাজারে আমাকে দেখে বলে বাবু সাব এক টুপিপরা লোক এসে আপনার ছবি দেখিয়ে বলে কিনা লোকটাকে দেখেছেন? আমি বলেছি লোকটা বহুত আচ্ছা আদমী আছে একটা চাবি তৈরি করে দিতে

পৃ -১৩ দুশো টাকা বকশিস দিয়েছে। একথা শুনে লোকটিও দুশো টাকা বকশিস দিয়েছেএবং পরে আবার ডেকে পাঠিয়ে বকশিস দেবে বলেছে। অগত্যা গোপন কথা আছে বলে ডেকে গুলি উপহার দিলাম। ঐরাবত বাবু বলেন তিলক বাবু আপনি অমর বাবুর বেনামী সম্পত্তির হদিস পেলেন কোথায় ?
—ওনার মেয়ে জামাই এর নামে নিউটাউনে জমি কিনেছেন।
সমাপ্ত

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 1   Average: 1/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
close