Premer Golpo ( অমর প্রেম ) জীবন বদলে দেবে এমন ভালোবাসা

Premer Golpo.You can read here Premer Golpo.Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don’t have sufficient time for going to the library and reading the storybooks In this age of the Internet. But, if we can read the story on this internet, then it is very interesting. So we have brought a few collections of Bengali story for you. Hope you will enjoy the stories in this busy lifestyle. In this post you will find the latest Premer Golpo,  You can read here  Love Story, download Premer Golpo, Hare you found top Love Story in Bengali




অমর প্রেম

সূর্য্যেন্দু গায়েন

 

ও বৌদি, বলো না কেমন হবে এই গিফ্ট-টা।

দেখি দেখি আমার জন্য এনেছো? wao……..

দূর ছাই তোমার জন্য কেন, ওর জন্য।

ও …… ও…….র জন্য। তা আমায় দেখিয়ে লাভ কি? যার জন্য এনেছো তাকেই জিগ্যেস করো না।
গিফ্ট-টা যদি আমার জন্য আনতে তাহলে একটা সুন্দর কমেন্ট পাস করতাম।

প্লীজ বলো না বৌদি,গিফ্টটা কেমন হয়েছে।

না। মোটেই বলবো না। আমার জন্যেও একটা গিফ্ট চাই।তারপর বলবো।

ঠিক আছে, তোমার জন্য আনবো-খন একটা সুন্দর গিফ্ট।পূজার পছন্দ হবে তো এই গিফ্টটা?

আমার জানা নেই, তোমার গার্লফ্রেন্ড এর পছন্দ অ-পছন্দ।অন্যের গিফ্টের ওপর কিছুই না বলা উচিত।

তুমি বলবে না তো কে বলবে আমার সোনা বৌদি।
তোমরাও তো প্রেম করেছো, দাদা তোমাকে কোন গিফ্ট-টা দিলে তুমি হ্যাপি হতে বলো না প্লিজ।

কেন সেটা আমি বলবো কেন ,আমাদের সিক্রেট বলবোনা।

ওকে। বলতে হবে না।আমি চললাম, পূজা আমার জন্য অপেক্ষা করছে। টাটা বৌদি মনি।

সাবধানে যেও। আর গিফ্টটা দিয়ে তাড়াতাড়ি ফিরে এসো।তোমার দাদা অফিস থেকে আজ ফিরবে না।আমি ঘরে একা আছি আমার ভয় করবে।

ঠিক আছে আমি চলে আসব। তারপর তোমাকে সব জানাবো আমাদের প্রেম কাহিনী।





Love Story in Bengali – ১০টি সত্য ভালোবাসার গল্প


Premer Golpo

মা মরা ছেলে দাদার হাতে মানুষ হয়েছে। বাবা সারাক্ষন মদ খেয়ে পড়ে থাকতেন। মায়ের মারা যাওয়ার কয়েক বছর পর, বাবাও কঠিন অসুখে গত হলেন। সেই থেকে দাদার কাছেই সব আবদার অভিযোগ। আর আমার আসার পর তো সারাক্ষন বৌদি বৌদি চিৎকার, তবে প্রাণ খোলা ছেলে।

কে আবার ফোন করলো যাই দেখি। হাঁ মা বলো । হ্যাঁ আমি ঘরে আছি। তোমার আসতে কত সময় লাগবে? সঞ্জু টাও একটু বেরোলো। তুমি তাড়াতাড়ি এসো। আমি একা ঘরে।

কি ব্যাপার তোমার এতো দেরি হলো কেন?-পূজা জিজ্ঞেস করলো সঞ্জু কে।

আর বলো না। তোমার জন্য একটা সুন্দর জিনিস এনেছি। তাই কিনতে গিয়ে আমার দেরী হয়ে গেলো। এই নাও তোমার গিফ্ট। কিন্তু গিফ্ট টা বাড়িতে খোলো। কিছুক্ষন দুজনে সময় কাটানোর পর যে যার বাড়ি ফিরলো।

সঞ্জুর মনে অনেক আনন্দ। গার্লফ্রেইন্ড গিফ্ট টা পেয়ে আনন্দ পাবে তো?এই ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়েছে।

বৌদি আমার ঘরে ঢুকে আমাকে ঘুমোতে দেখে ডেকে তুললো। উঠে রাতের খাবার খেলাম।এর মধ্যে পূজা দুবার ফোন করেছে। আমি বুঝতে পারিনি,কারণ ফোনটা সাইলেন্ট হয়ে গেছিলো,রিং ব্যাক করলাম। পূজার গিফ্টটা পছন্দ হয়েছে।একটু এদিক-ওদিক কথা বলছি এমন সময় বৌদি নিজের ঘর থেকে আমাকে ডাকলো। পূজা কে বললাম রাখছি এখন বৌদি মনি ডাকছে।ফোন রেখে বৌদির ঘরে গেলাম। বলো বৌদি ডাকছিলে?

আস্তে কথা বলো মা ঘুমোচ্ছে । ভাবলাম তুমি ঘুমিয়ে গেছো । ঠিক আছে তোমার ঘরে যাও আমি একটু ফ্রেশ হয়ে আসছি।

কিছুক্ষন পর বৌদি এলেন। হুম বলো।পূজার পছন্দ হয়েছে তোমার গিফ্ট।

Premer Golpo

বললো তো পছন্দ হয়েছে। কিছুক্ষন আগে ফোন করেছিলো। আচ্ছা বৌদি একটা কথা বলি তোমাকে।

হুম বলো । তুমি দাদা কে বলবে না কিন্তু।তাহলে আমি আর তোমার সাথে কথা বলবো না।

বৌদি বললো বলো। তবে এমন কিছু বলো না, যে কথায় আমি দুঃখ পাই।

আরে না। বলছিলাম পূজা বলছিলো আমার সাথে এবার পুজোয় ঠাকুর দেখতে যাবে। পূজা অনেক বছর ঠাকুর দেখতে বেরোয়নি। এবার টা তুমি ম্যানেজ করে দিও।




বৌদি একটু চিন্তায় পড়ে গেলো,হয়তো কিছু ভাবছিলো।

সঞ্জু বৌদিকে জড়িয়ে ধরে আবদার করতে লাগলো।

আহঃ ছাড়ো কি হচ্ছে এটা। আমি দেখছি বিষয়টা, কিন্তু বেশি রাত করা যাবে না তাড়াতাড়ি ফিরতে হবে।

ঠিক আছে । তাই হবে। বলেই পূজা কে ফোনে ধরলো সঞ্জু। দুজনে আনন্দে আত্মহারা।

কিন্তু একটা শর্ত।

বলো বৌদি কি শর্ত।

তোমাদের সাথে আমিও যাবো।

তুমি! ঠিক আছে । ক্ষনিকের মধ্যে সঞ্জুর মুখটা ম্লান হয়ে গেলো।

বৌদি জিজ্ঞেস করলো কি হলো সঞ্জু। মুখটা এমন হয়ে গেলো কেনো?

না বৌদি—- মানে—–

Premer Golpo
Premer Golpo

Premer Golpo – Bengali Love Story

ও বুঝেছি দুজনের মাঝে কাবাব মে হাড্ডি হয়ে যাচ্ছি তাই তো? বৌদি মনি আমার গাল টা টিপে দিয়ে বললো ঠিক আছে আমি যাবো না। গুড নাইট,বলে বৌদি ঘুমোতে চলে গেল।

আমার আর বলবার কিছু ছিলো না। যাইহোক পুজো আসলো। সপ্তমীর দিন আমি আর বৌদি দুজনে ট্যাক্সি ধরলাম, সামনের স্টপেজে পূজা উঠবে । পূজা কে ফোন করে গাড়ির নাম্বার টা বলে দিলাম। যথারীতি স্টপেজ এলো। গাড়ির কাছে পূজা আসতেই বৌদির চোখ কপালে। প্রায় মাথা ভিমরি খাওয়ার মতো।

নিজেকে কোনোমতে সামলে নিয়ে জিজ্ঞেস করলো তুমি পূজা?

হাঁ বৌদি অমি সেই পূজা।

বৌদি এই সেই পূজা। সঞ্জু বললো।

Premer Golpo


Choto Golpo ( নগ্ন মনের ছবি ) – এমন গল্প কখনও পড়েছেন


ঠিক আছে উঠে এসো গাড়িতে।

বলতে পূজা গাড়িতে এসে বসলো। কি দেখছো বৌদি। আমার মুখ। সব বলবো তোমাকে। কিন্তু এভাবে সম্ভব নয় কোথাও বসে বলবো। একটা নির্জন জায়গায়।

যথারীতি একটা পার্কের পাশে গাড়িটা থামিয়ে সবাই নামলো।

পূজা তার জীবনের এক করুণ পরিণতির ঘটনা শোনালো——-
বৌদি আজ থেকে তিন বছর আগের ঘটনা। আমি তখন স্কুল এ পড়ি, ক্লাস টেনে।সুকুমার আমাকে প্রপোজ করতে আসে । আমি তাকে না বলে ছিলাম। কারণ, আমার জীবনে আরও কিছু বছর পড়াশুনা করার ইচছা ছিলো। তাই আমি এই মুহূর্তে প্রেমের প্রতি ইন্টারেষ্ট নই বলেছিলাম। কিন্তু সেই ছেলেটি কিছুই শুনছিলো না। ওকে অনেক বোঝাবার চেষ্টা করলাম।শেষ মেষ বললাম,আমাকে কিছুটা সময় দাও আমি ভেবে দেখি।

ঘটনা ক্রমে আমি স্কুল থেকে গানের কম্পিটিশন এ ব্লক স্তরে গাইতে গেছিলাম। আমার সময়টা একটু দেরিতে ছিলো, তাই আমরা শেষ বাস মিস করে ফেলেছি। ওখানে উপস্থিত আমাদের গ্রামের কয়েকজন দাদা ছিলেন। তারা আমাদের সাইকেলে করে বাড়ি পৌঁছে দেবে সেই বন্দোবস্ত
হলো। প্রোগ্রাম শেষে আমি এক দাদার সাইকেলে বসলাম। যে ছেলেটি আমাকে প্রেমের প্রপোজাল দিয়ে ছিল, সে আমাকে দেখেছিলো যে আমি একজনের সাইকেলে বসে বাড়ি ফিরছি।

দু দিন পর ছেলেটি আমাকে স্কুল থেকে ফেরার পথে, আমার পথ আটকায়। আমাকে খুব উত্তেজিত হয়ে বলে আমার সাথে প্রেম করার সময় নেই। আর অন্যের সাইকেলে করে ঘুরে মস্তি নেওয়া হচ্ছে? আমি কিছু বলবার আগেই….

তারপর………….

তারপর হাউ হাউ করে কেঁদে ফেললো পূজা।

বৌদি শান্ত করার চেষ্টা করলো।




Premer Golpo

ছেলেটি এসিড হামলা করেছে পূজার মুখে।

বর্তমানে ছেলেটি জেল বন্দি অবস্থায় আছে।আজ পূজা বিশ্রী চেহারার অধিকারী।

কালক্রমে সঞ্জু আমাকে চিনতো, সঞ্জু আমার এই হতশ্রী মুখটাকে আজ কি ভাবে ভালোবেসে ফেললো আমার জানা নেই। হয়তো বা সে আমার মন টাকে ভালো বেসেছে।

সঞ্জু বললো, বৌদি আমি পূজার রূপ টা দেখিনি, আমি ওর অন্তর টা দেখেছি। আমি ওকে ভালোবাসি। আমরা দুজন দুজন কে ভালবাসি।

বৌদি সব শোনার পর বললো ঠিক আছে। জানি না এই প্রেমের শেষ পরিণতি কি হবে। আমি একজন নারী, তাই আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করবো এই প্রেমের পরিণতি যেন সুখের হয়।

সেদিন আর ঠাকুর দেখা হলো না। ঠাকুর না দেখলেও যেন এক নতুন প্রতিমার দর্শন হলো।

বৌদি বাড়িতে গিয়ে অনেক ভাবলো। দাদা কে পুরো বিষয়টা বোঝানোর চেষ্টা করলো। কিন্তু দাদা তা স্বীকার করলো না।

পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এড়াতে অভিভাবক হিসেবে বৌদি সেদিন আমাকে যা পরামর্শ দিলো তা আমি জীবনে ভুলবো না।

আমি ঘর ছাড়লাম। পূজা কে নিয়ে অনেক দূর চললাম। নিজের পায়ে দাঁড়ালাম। ভালো একজন প্লাস্টিক সার্জেন্ট এর পরামর্শে, প্লাস্টিক সার্জারি করালাম। বাইরের সৌন্দর্যে যারা মোহিত হয়, ঠিক তাদের জন্য পূজার মুখমণ্ডলে অনেকটা শ্রী ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করলাম।

আজ সঞ্জু ও পূজার এক ফুটফুটে মেয়ে হয়েছে। সেই সুশ্রী খুঁজতে গিয়ে ওরা মেয়ের নাম রেখেছে “পূজশ্রী”

   সমাপ্ত  





প্রেমের তৃষ্ণা

সূর্য্যেন্দু গায়েন

 

Premer Golpo
Premer Golpo

 

ফিরে এসো এ বসন্তে,
ছুঁয়ে যেও হৃদয় জানালা।
মনে লাগে ফাগুনের আগুন,
মন খোঁজে সুখের নিরালা”।।

আকাশ সদ্য উচ্চমাধ্যমিক পাস করে কলেজের দুয়ারে পদার্পন করেছে। প্রতিদিন কলেজ যেতে হয় ট্রেনে করে। চুপচাপ শান্ত স্বভাবের। কম কথা বলে। বর্তমানের ইন্টারনেট যুগে প্রায় সকলেই সোশ্যাল সাইটে বুঁদ থাকে। আকাশ’ও ব্যাতিক্রমী নয়। মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি,পরনে ব্লু জিন্স,কাঁধে কলেজ ব্যাগ। সোশ্যাল মিডিয়ায় কত শত বন্ধু আমাদের সকলেরই। আকাশের ও প্রচুর বন্ধু আছে। প্রায়ই অনেকের সাথে চ্যাটিং হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করতে করতে করতে একটা ছবিতে তার চোখ আটকায়।ছবিটার দিকে অনেক্ষন দেখতে থাকে আকাশ। কোনো এক বন্ধুকে অন্য কেউ ট্যাগ করেছে।

“শিহরিত প্রাণ ও মন,
বসন্তের পড়ন্ত বিকেলে,
পশ্চিম আকাশের কোণে
রোদ মেঘের লুকোচুরি খেলার
মতো আকাশের মনে সেই ‘ছবি
বার বার লুকোচুরি খেলতে থাকে”।।

বার কয়েক ছবিটা দেখার পর আকাশ সেই প্রোফাইলের সব কটা ছবি দেখতে থাকে, এক প্রকার নিশ্চিত ফেক প্রোফাইল নয়।


Bengali Sad Story – পড়ে দেখুন কান্না চলে আসবে বলে দিলাম


Love Story in Bengali 

 

 




 

 

💘“মনের কোণে হাজারো প্রশ্নের মাঝে,
ট্রেনের জানালার বাইরে তাকিয়ে
সারি সারি ঝাউ গাছগুলো যেন
ট্রেনের চেয়েও দ্রুত গতি নেওয়ার চেষ্টা করছে”।💘

তেমনি আকাশের মনটা’ও যেন দ্রুত বসন্তের
পড়ন্ত বিকেলে নিজেকে আর আবদ্ধ রাখতে চায় না।

দ্রুত গতির ট্রেনের ন্যায় একটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট ছুটে গেল সেই অজানা প্রোফাইলের দিকে।

মন ছুঁয়ে যায় হাজার অনুভূতির টুকরো টুকরো প্রেমেররক্ত কণাকে। হৃদয় মেলে ধরে রঙিন ডানার
বাহার,উড়ে যেতে চায় প্রেমের জগতে,হোক না সে পথ সহস্র যোজন দূর।

ক’দিন পর ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট একসেপ্ট।

গহীন মনে ক্ষনিকের মধ্যে খেলে যায়
এক অদ্ভুত অনুভূতি,সে অনুভূতি হয়তো
অনেকটা-সমুদ্রের কিনারে ভোরবেলায়
দাঁড়িয়ে সূর্য্যের উদয় দেখে রোমাঞ্চিত
হওয়ার সমতুল্য।।

তৃষার সোশ্যাল সাইট ওয়ালে কি লিখে প্রথম আলাপ সম্বোধন করবে ভেবে পায় না। গুগল ঘেঁটে সুন্দর একটা বন্ধুসুলভ কমেন্ট কপি করে পেস্ট করে তৃষার ফেসবুক ওয়ালে।

ধীরে ধীরে পরিচয় পর্ব কয়েকদিনের মধ্যে শেষ হয়। দুজনের মনে এক গভীর বন্ধুত্বের ছাপ স্পষ্ট।

 Premer Golpo


Bengali Jokes – ১০০০+ হাসির জোকস – হেসে পেট ব্যাথা হয়ে যাবে





💝যে কথা যায় না বলা,
সে কথা হৃদয়ে রয়।
যে কথা মনের ভাষা,
সে কথা অপেক্ষা সয়।।💝

অপরিচিতের আঙিনা টপকে সোশ্যাল সাইট থেকে নম্বর আদান প্রদান ঘটে।

বসন্তের এক নির্জন দুপুরে,আকাশে বাতাসে যখন নয় প্রখর তাপ,নয় হিম শীতল ঠান্ডার দুপুরে শান্ত ঝিলের ধারে একা একা বসে আকাশ বেহিসেবি মনে মোবাইলে খুট খুট করছে, অমনি বেজে ওঠে ফোন।

আননোন নম্বর থেকে ফোন এসেছে দেখে, কালো ফ্রেমের চশমাটা কপালে তুলে আকাশ ফোনটা রিসিভ করে।

◆আকাশ বলছেন?
●হ্যাঁ বলছি,আপনি?
◆বুদ্ধু।
●(মনে মনে)আমাকে বুদ্ধু কেবল তৃষাই বলে।তৃষা??
◆ঠিক চিনেছো।তোমাকে কথা দিয়ে ছিলাম আমি তোমার সাথে কথা বলবো ফোনে,আজ কথা রাখলাম। চ্যাট এ আমাদের কত কথা হয়, টেক্সট লিখতে লিখতে আমার হাত ব্যথা হয়ে যেত,আমি পারছি না বলতাম আর তুমি সেই টেক্সট করে যেতে,আমি শুধু seen… করতাম।।

Premer Golpo

মনে মনে ভালোবেসে ফেলা মানুষের সুমধুর কণ্ঠ আকাশকে যেন প্রেমের জগতে ক্ষনিকের জন্য নিয়ে যায়, শুধু একটা কথা কানে কানে বলবার জন্য।
◆আকাশ!শুনছো আমার কথা? চুপ কেন?
●(হুঁশ ফেরে আকাশের)হ্যাঁ শুনছি তৃষা।
আমিতো হারিয়ে গেছিলাম কোথায় যেন।
◆বুদ্ধু। জানি তো হারিয়ে যাবে। আমি জানি তুমি কোথায় হারিয়ে গেছো।
●তৃষা,বলো আর এক বার।আমি কিছুই বুঝলাম না।

প্রেমিক মনে তৃষার মতো মেয়ের প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া প্রাকৃতিক ঘটনা। হিয়ার মাঝে ভেসে ওঠে রোমান্সের চলচ্চিত্র, শুধু পুরস্কার পাওয়ার অপেক্ষা।

◆শোনো আমি আগামী পরশু কলকাতায় আসছি বান্ধবীদের সাথে, বইমেলায় যাবো বলে। আমার নম্বর সেভ করে রেখো, আমি পৌঁছে তোমায় ফোন করবো। দেখা হবে দুজনের।
●তাই?এত আমার সৌভাগ্য! ঠিক আছে রাখি এখন।
◆টাটা…..

হিল্লোলিত প্রানের স্পন্দনে, আকাশে বাতাসে বসন্তের প্রেমের গন্ধ যেমন মাতাল করে তোলে, ঠিক তেমনি আকাশের মনের ভেতরে ভালোবাসার মানুষের সাথে দেখা হবে প্রথমবার তেমনি হিল্লোল বয়ে চলে।

সেদিন বেশ সাজগোজ করে এসেছে তৃষা। পরনে শাড়ি, ঠোঁটে লিপস্টিক আর এলো চুলের বাহারি বেশে অপেক্ষমান ‘বুদ্ধু’আকাশের জন্য বই মেলার 2 নম্বর গেটের সামনে। ফোনে অবশ্য প্রতিক্ষালয়ের স্থান সম্পর্কে দুজন অবগত হয়েছে। কিছুক্ষনের মধ্যে আকাশ ও উপস্থিত।

বান্ধবী কে দেখে আকাশের চোখ আর বাঁধ মানে না, তার অপরূপ লাবণ্য মাখা সুশ্রী মুখ ও শান্ত হাসি আকাশকে বোবা,কালা ও অন্ধ প্রেমিক করে দেয় ক্ষনিকের জন্য।

◆এই ছেলেটা,এমন হা করে দেখবার কি আছে? আগে আমাকে দেখনি?
●দেখেছি কিন্তু সে তো ছবিতে,সত্যি তুমি
◆দূর ছাই! এরা সব আমার বান্ধবী। চলো চলো বইমেলায় যাই, আবার বাড়ি ফিরতে হবে।

●চলো।




Premer Golpo

বয়সটা যখন প্রেম করার উপযুক্ত,তা সে করবেই বা না কেন? বই পোকা তৃষা বাংলা ভাষার প্রতি প্রচুর টান কিন্তু করবে কি কলেজ পাঠ্য বই সব ইংরেজিতে তাই বাধ্য হয়ে নানা গল্পের বই বাংলায় পড়ে। তার প্রচুর সংগ্রহ আছে বাংলা গল্পের বইয়ের।

বন্ধুর সাথে ঘুরতে ঘুরতে অনেক বই কিনে ফুচকা খেয়ে বাড়ি ফেরা,কিন্তু কেউ আর কাউকে প্রেম নিবেদন করতে পারলো না।

মিতভাষী আকাশ একবারও নিজের মন থেকে ছটফটে তৃষার সামনে কখনই প্রেম নিবেদন করতে পারে নি।

গাঢ় বন্ধুত্বের হৃদয় জোড়া, প্রেম সাগরে প্রেমিক মনকে ভাসিয়ে এই বন্ধুত্বের ডিঙা ভেসে চলে বছরের পর বছর। কখনো তা নির্জন তটে নোঙ্গর করে,আবার কখনো ফিল্মের জগতের সিনেমা হলে প্রবেশ করে,নয়তো বা কখনো সখনো পাহাড়ের কোলে শান্ত সকালের তৃপ্তি পাওয়ার বাসনায় ছুটে গেছে।

কোনো এক পড়ন্ত বিকেলে, আকাশ যখন ধরা দিয়েছে মাঠের ওই প্রান্তের গাছের ডালে,সেই আনন্দে পাখিগুলো কলতানে মুখর,আনমনা আকাশ সারাদিন অপেক্ষমান তার প্রিয় বান্ধবীর ফোনের অপেক্ষায়,না করে ফোন না ধরে ফোন,না দেয় এস এম এস এর রিপ্লাই। হতাশ ও অভিমানী মন ফিরে যায় নিজের ঘরে।

রাত আট’টা বাজে,বেজে ওঠে আকাশের ফোন। দ্রুততার সাথে ফোনটা ধরে বলে হেলো!


Bengali Love Quotes – ১০০০+ মহান ব্যক্তিদের ভালোবাসার উক্তি


Valobasar Golpo

◆বুদ্ধু। চিনতে পারছো না? একটা সু’খবর আছে। অনেক ব্যস্ত ছিলাম,তাই তোমার ফোন ধরতে পারিনি।
●(মনে মনে)জানি তো সুখবর টা কি। বিয়ে হয়ে যাবে অন্য কোথাও।আমি আর বলতেই পারলাম না।
◆কিছু বললে মনে হয়?
●তুমি কিছু শুনতে পেয়েছো?
◆হুম,শুনলাম তো। আমার বিয়ে হয়ে যাবে। বর আসবে, তোমার চোখের সামনে দিয়ে নিয়ে চলে যাবে আমায়,আর তুমি হাবলার মতো বিষন্ন মনে হা হুতাশ করতে করতে একটা ব্যর্থ প্রেমের গান শুনতে শুনতে বাকি দিন কাটিয়ে দেবে তাই তো?
● আঁই! এত আমার মনের কথা।
◆ আমার বিয়ে সামনের মাসে।
● যাও না,বিয়ে করে নাও না,আমাকে বলার কি আছে। আমি কিছু বলছি তোমায়,তোমার যা ইচ্ছে তাই করো। আমার শুধু অপরাধ আমি তোমায় ভালোবাসি বলতে পারিনা,কিন্তু আমি তো তোমাকে ভালোবাসি তৃষা।  I LOVE YOU…….. I LOVE YOU TRISHA………..

আকাশের পুরো পরিবার হা করে তাকিয়ে আকাশের মুখের দিকে। জোয়ার যখন উর্ধমুখী, তখন সমস্ত গ্লানি ও বাধা ঠেলে তার প্রকৃত রূপের পরিচয় দেয়।তেমনি শান্ত ও চাপা স্বভাবের আকাশ তার প্রিয়ার এ হেন কথনে নিজেকে সামলাতে না পেরে মনের কথা বলে দেয়।




আকাশ ! বলো আর একবার। তোমার মুখ থেকে আর একবার শুনতে চাই সেই কথা। এত বছর তুমি আমায় বলতে পারনি। বলো,বলো প্রাণ খুলে। I ALSO LOVE YOU AKASH.আমার বাড়িতে মামা মামী সবাই আজ এসেছিলেন। আমার বিয়ের বিষয়ে কথা হচ্ছিল। আমার মতামত জানতে চেয়েছিল সবাই। আমি বলেছি আমি একজনকে ভালোবাসি তাকেই বিয়ে করবো। তারা হয়তো তোমাদের বাড়িতে আসবে ক’দিনের মধ্যে।

আকাশের বাবা আকাশের মা কে বলছেন-‘কই গো তোমার ছেলের কাউকে পছন্দ হয়েছে, আর সময় নষ্ট করা যাবে না। আমি আর্মির লোক আমার ছেলের যাকে পছন্দ তার সাথেই বিয়ে দেব। আমি আর কিছু দেখতে চাই না,আমি এক কথায় মানুষ।ওই মেয়েটাকে খুঁজে বার করো আকাশের সাথে কথা বলে। সামনের মাসেই বিয়ে হবে। এদিকে তৃষাও তার পরিবারের সকলকে বলে রেখেছে সে আকাশকে ভালোবাসে। বিয়ে করলে আকাশকেই বিয়ে করবে।

দুই পরিবারের সাক্ষাত এক শুভক্ষন দেখে হলো, বাকিটা বিয়ের সানাই বাজছে শুনতে পাচ্ছেন সবাই।

আর আমি লেখক, শুধু আশীর্বাদ করতে পারি এভাবেই—–

💌শত শত বছর জুড়ে যাক দুটি প্রাণে,
এই বসন্তের সন্ধিক্ষণে দুহাত ধরে।
লাগুক মনে প্রেমের রঙ,
কোকিলের কণ্ঠে ফুটুক ভাষা,
তৃষা আকাশের সুখের জীবনে,
নজর কাঠি দিলাম বেঁধে।।💌




                   সমাপ্ত    


Disclaimer : এই গল্পটি একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে লেখা l আপনারা যারা পাহাড় ভালোবাসেন তারা জানেন পাহাড় কিভাবে আমাদের মনের দূষণ কমায় !অথচ আমরা পাহাড়কে কি ফিরিয়ে দিই ? আবর্জনা…তাই পাহাড়কে ভালো রাখতে তৎপর হোন, এই অনুরোধ রাখলাম l


 

 

 

 

সান্দাকফু

শুভম প্রামাণিক

 

Premer Golpo
Premer Golpo

জর্জ ম্যালোরি বলেছিলেন ‘because it’s there’l উনি কেন পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গে আরোহণ করতে চান সেই প্রশ্নের উত্তরে l যে যেখানে আছে তাকে পেতে গেলে তো সেখানেই যেতে হবে ! কটা লোকে ওকে ছুঁতে পারে! সেই মহান,দুর্জয় এভারেস্ট দিগন্তে প্রতীয়মান l এখান থেকে বাঁদিকে তাকালে l বেশ দূরে,কিন্তু চেনা যায় l এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য কি বিছানায় শুয়ে দেখা যায়, না উচিৎ!

আর ডানদিকে ? আমার প্রিয় কাঞ্চনজঙ্ঘা ! সপারিষদ বিদ্যমান l উত্তুঙ্গ শিখর পৃথিবীর সকল কলুষতার ওপর মাথা তুলে দাঁড়িয়ে l অস্তগামী সূর্যের আলোয় তার রক্তিম আভা !আহা সেকি অনির্বচনীয় দৃশ্য !একসাথে এতগুলো আট হাজারি শৃঙ্গ সান্দাকফু ছাড়া আর কোথায় দেখা যায় আমার জানা নেই l এইসব ফেলে রেখে কেউ যে ঘুমোতে পারে, এ আমার ধারণার বাইরে…

অদিতি ঘুমোচ্ছে l থাক…বেচারির অভ্যেস নেই l ট্রেকাররা সান্দাকফু আসে তিনদিনে l উচ্চতাজনিত সমস্যার সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিতে l মানেভঞ্জন থেকে যাত্রা করে প্রথমদিন চিত্রে, লামাধুরা, মেঘমা হয়ে টংলু বা টুমলিং পৌঁছে রাত্রিবাস l দ্বিতীয়দিন গৈরিবাস হয়ে কালিপোখরি l তৃতীয়দিনে বিকেভঞ্জন হয়ে প্রাণান্তকর চড়াই টপকে সান্দাকফু l এই পুরো রাস্তা একবারে গাড়িতে আসতে পুরো হাড় গুঁড়িয়ে যাবার জোগাড় হয় l ঢালাই মেশিনে দেওয়া মশলার মতো l অদিতি আবীরের জোরাজুরির জন্যেই এসেছে সান্দাকফু l গাড়িতেই l আমি আগে ওকে কতবার বলেছি, আসেনি তখন l বিকেলে পৌঁছে আর পারে নি…গভীর ঘুমে তলিয়ে গেছে টায়ার্ড হয়ে l

 




love story golpo

টুটুল বিছানার পাশে চেয়ারে বসেছিলো l ওকে ঈশারায় ডেকে নিয়ে হাঁটতে বেরোলাম l ঘরের বাইরে দেখি আবীর রেলিঙে ভর দিয়ে সিগারেট খাচ্ছে l চিন্তিত মুখ l কিছু আর বললাম না l ওকে আজকাল আমার অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন মনে হয় l ম্যানেজ করে কি করে এতকিছু ছেলেটা ! তবে যাই হোক, পাহাড়টাকে ভালোবেসে আসেনি এখানে lবাসলে এসেই মালের চাট কি আছে সেই খোঁজ করতো না l অদিতিকে ভালোবাসে কি ?অনেকদিন কানাঘুষো শুনেছি l আচ্ছা…অদিতিকে একলা রেখে চলে যাবো ? নাকি টুটুলকে রেখে যাবো ?থাক…কি আর হবে l

সন্ধ্যে হতে আর দেরী নেই l হোটেলের চারদিকে খানিকটা প্রশস্ত জায়গা l যেন সবুজ গালিচা পাতা l সেটা পার হলেই পাইন, সিলভার ফার, ম্যাগনোলিয়া গাছের ছড়াছড়ি l বেশ ঘন জঙ্গল l কুয়াশা ছিলো না l নীচের পাহাড় থেকে উঠে আসছে l ঝুপসি গাছগুলো আরো রহস্যময় হয়ে উঠছে l পাখিগুলো ঘরে ফিরে যাচ্ছে l আর পনেরো কুড়ি মিনিটের মধ্যে কাঞ্চনজঙ্ঘাও ঢেকে যাবে l
“চল টুটুল, পা চালা…”আমি বললাম l
যাকে বললাম সে অবশ্য বাপ কি বেটি !ভিউ পয়েন্ট যাবার খাড়া রাস্তায় অনায়াসে, প্রায় যেন উড়ে চললো l ©Subham Pramanik
“আচ্ছা বাবা ! পাহাড়ে ভূত থাকে ?” টুটুল ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রশ্নটা করেছে l চোখে কৌতুক l
আমি উত্তর না দিয়ে চোখের ঈশারায় নীচের দিকে দেখালাম l হোটেলের পাশের ফাঁকা জায়গাটায় বেশ কিছু লোক জড়ো হয়েছে l এখান থেকে দেখলে কিছু আবছা অবয়ব l আবীরকে চিনতে পারছি l লাল জামা l চেয়ার টেনে আনছে l অদিতির অফিস কলিগরাও আছে মনে হয় l কাঠ জোগাড় হচ্ছে l বোধহয় ক্যাম্পফায়ার টায়ার হবে l নাচাগানা l মদ খেয়ে চীৎকার l পাহাড়ে এখন এসবই চলছে l অদিতিও জয়েন করবে নিশ্চয়ই l ওর এসব ভালো লাগে l আমার আর টুটুলের পুরো উল্টো l
“দেখছিস ?” টুটুলকে বললাম l

 

-কি করছে ওরা বাবা ? ©Subham Pramanik
-পাহাড়ে ভূত যে কটা আছে তারাও আর থাকবে না রে l এরা পাহাড়টাকেই ভূত বানিয়ে দেবে l
-ক্যাম্পফায়ার করবে, না বাবা ?
-হ্যাঁ l ক্যাম্পফায়ার, উচ্চস্বরে মিউজিক বাজিয়ে পাহাড়ের শান্তিভঙ্গ করে গান, আণ্ডাবাচ্চা সঙ্গে এনে পিকনিক, প্লাস্টিক, মদের বোতল ফেলে যাওয়া, গাড়ির ধোঁয়া…এভাবে পাহাড় বেঁচে থাকবে ?
-সত্যি বাবা l এই ধরো বছর দুয়েক আগেও সান্দাকফু কি ছিলো বলো তো ! লাজবাব !
-লাজবাব এখনো আছে l তবে তাড়াতাড়ি জবাই হয়েও যাবে…তোর ওই আবীরকাকুর মতো লোক…
টুটুল হেসে উঠলো l “হমম…জেলাস? মিস্টার রুদ্র রায়চৌধুরী জেলাস !”
আমি ধমকে উঠলাম “চুপ কর, বকিস না l”
-আচ্ছা তোমার আবীরকাকুকে নিয়ে সমস্যা কোথায় ?ঝামেলা তো সেই কবে মিটিয়ে দিয়েছো…পাঁচ বছর হতে চললো প্রায়!
-বিয়ে করলে বুঝতিস?
-বিয়ে…
টুটুল অন্যমনস্ক হয়ে গেলো l ভিউ পয়েন্ট এসে পড়েছি l আমিও চুপ করে গেলাম l কথাটা বলা উচিৎ হয়নি l কিছু কথা অব্যক্ত থাকাই ভালো l

 




 


Rupkothar Golpo – ১০টি সেরা ছোটোদের মজার মজার রূপকথার গল্প


Premer Golpo

এখনো কাঞ্চনজঙ্ঘার পুরো রেঞ্জটা দেখা যাচ্ছে l সে অপার্থিব দৃশ্য যে না দেখেছে তাকে ভাষায় বর্ণনা করা বৃথা l বাপ মেয়ে তাকিয়ে রইলাম কিছুক্ষণ l মনে হয় অনন্তকাল চুপ ছিলাম l টুটুলই নীরবতা ভাঙলো l কাঞ্চনের দিক থেকে চোখ না সরিয়েই বললো “আচ্ছা সান্দাকফু মানে কি বাবা?”
-কোথায় একটা পড়েছি লোকাল ভাষায় সান্দাকফু মানে height of the poison plant…বিষাক্ত একোনাইট গাছ থেকে এই নাম হয়েছে l
-বিষ ? গাছে ? ©Subham Pramanik
-হ্যাঁ l
-আচ্ছা বাবা, এই যে এতো গাছ কেটে ফেলছে, এতেও তো বিষ বাড়ছে পরিবেশে, বলো ?
-একশোবার l
এরপর আরো মিনিট দুয়েক অখণ্ড নীরবতা l কাঞ্চনজঙ্ঘা মিলিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে l সামনের রডোডেন্ড্রন গাছটার রং ফিকে হয়ে আসছেl একটা ভূতুড়ে অন্ধকার গ্রাস করছে সান্দাকফুর শীর্ষ lএমন সময়ে টুটুল একটা অপ্রত্যাশিত প্রশ্ন করলো l
“মানুষের বিষ কমে বাবা ? সমতল থেকে পাহাড়ে উঠে এলে ? তুমি একটা কবিতা লিখেছিলে না…’সমতলে বড় অসমতল জীবন, আমায় পাহাড় ডাকছে সিধে হতে’…কমে বাবা ?”
-কেন তোর কমেনি ?

-তোমার কমেছে ?যখন তুমি এক্সপিডিসনে গেলে, তখন যদি না মা আবীরকাকুর সঙ্গে…দোষটা কিন্তু মা’রই…আমি সেটা এখনও…
আমি আঙুল মুখে দিয়ে ওকে চুপ করতে বললাম l কেউ আসছে l না, একজন নয় l একাধিক l শুকনো পাতায় খসখস শব্দ l এই সন্ধ্যের সময়ে কে আসছে ! এখন তো আর কিছু দেখতে পাওয়ার কথা নয় l পুরোটাই পন্ডশ্রম l তাহলে ?

এখন শুধু পায়ের শব্দ নয়, গলার শব্দও শোনা যাচ্ছে l একটা পুরুষের, একটা মহিলার l পুরুষ কণ্ঠটা কিছু সাবধানী, মহিলাকণ্ঠটি উচ্চকিত l আমি টুটুলকে টেনে নিয়ে রডোডেন্ড্রন গাছটার পিছনে চলে গেলাম l অন্ধকার গাঢ় হচ্ছে l আকাশে সূর্যের অস্তরাগের অবশেষ l এভারেস্ট তো অদৃশ্য বটেই, কাঞ্চনজঙ্ঘাও এখন শুধুমাত্র কয়েকটা আবছা রেখার সমষ্টিমাত্র l

আমার বুকটা ধড়াস করে উঠেছে l টুটুল কি শুনতে পেয়েছে ! তাহলে যা ভেবেছিলাম, তাই সত্যি ! আমি টুটুলের হাত চেপে ধরলাম l “তোর মা…”আমার মৃদু স্বরকে সঙ্গত করলো টুটুল l “জানি, সঙ্গে আবীরকাকু…”আমাদের ফিসফিসানি একটা দমকা হাওয়া এসে থামিয়ে দিয়ে গেলো l

হাওয়াটা তীব্র হচ্ছে l গোপন অভিসারে আসা যুগল মূর্তি দাঁড়িয়ে পড়েছে l সম্ভবত আবীর টর্চ জ্বালালো l কান খাড়া করে শুনতে চেষ্টা করলাম l প্রেমালাপ নয় অবশ্য , বাদানুবাদ চলছে l তবে শোনা দরকার l আগে তো আভাস পেয়েছি,কদ্দুর গড়িয়েছে ব্যাপারটা দেখি…

“…না আবীর…প্লিজ ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করো…এ হতে পারে না…”l অদিতি খুব দৃঢ় এবং স্পষ্ট স্বরে বলছে l ©Subham Pramanik

“কেন ?আমি সেই কবে থেকে অপেক্ষায় আছি অদিতি ! আমাদের মধ্যে যা হয়েছে সব কি মিথ্যে তাহলে ?” আবীরের রাশভারী কিন্তু সাবধানী গলা l
-আমি রুদ্র ছাড়া কাউকে ভাবতেও পারি না…ওই জায়গাটা কাউকে দিতে পারবো না l যা হয়েছে আমার দুর্বলতার কারণেই হয়েছে l সম্পূর্ণ রেসপনসিবিলিটি আমার, সব আমার ভুল, আমার…
অদিতি ফুঁপিয়ে উঠেছে l
-তুমি কেন নিজের কাঁধে ব্লেম নিচ্ছো ?রুদ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপিডিসন থেকে ফিরলো না…খুবই পেইনফুল, আই অ্যাডমিট l কিন্তু সেতো পাঁচ বছর হোলো l আর এতে তোমার দোষ কোথায় ?
-দোষ আছে…একশোবার আছে !ওইসময় মা হিসেবে আমার যা কর্তব্য ছিলো করিনি…রুদ্র সন্দেহ করেছিলো তোমার আমার ব্যাপারটা l ও চলে যাবার আগেই l কিন্তু শিওর ছিলো না l ও আমার ওপর রাগ করেই চলে গেলো পাহাড়েl লোকটা তো হারিয়ে গেলো চিরদিনের জন্যে… কিন্তু…
-কিন্তু কি ?
-টুটুল আমাদের দেখে ফেলেছিলো আবীর ! ও কোনোদিন ক্ষমা করতে পারে নি আমায় আবীর l কত চেঁচামেচি করেছে, শাপশাপান্ত করেছে…ওর কান্না এখনও বুকে বাজে আমার আবীর…কত অবহেলা করেছি বাপ মরা মেয়েটাকে…ভ্যাগাবন্ডের মতো হয়ে গেছিলো মেয়েটা…যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতো, কথা শুনতো না…অনেক কষ্টে একটু মানিয়ে নিতে পেরেছিলাম শেষটায়…বিয়েও ঠিক হয়ে গেছিলো…তারপর এই সান্দাকফু…

 




Choto Golpo

অদিতির কান্না বেড়ে উঠলো l তার সঙ্গে বোধহয় পাল্লা দিয়ে শীতও…
আবীরকে দেখে মনে হোলো বিরক্ত হয়েছে l শেষ চেষ্টা করলো একবার l “তাহলে তুমি আমার সাথে এলে কেন ?আমার কথায় রাজি হলে কেন ?”
-আবীর, আমি তোমার সাথে একা আসিনি l আমার অন্য কলিগরাও এসেছে lআর টুটুল…
আবীর টর্চটা ঘুরিয়ে উল্টোদিকে চলতে আরম্ভ করলো l এখানে এই অন্ধকারে অদিতিকে ছেড়ে…
অদিতি চেঁচিয়ে উঠলো “শুনে যাও আবীর l তোমার জন্যে বা তোমার কথায় আসিনি আমি সান্দাকফু…তুমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছো…এই…এই ভিউ পয়েন্টেই টুটুল আজ থেকে দু বছর আগে…

টুটুল আমার হাত ছেড়ে ছুটে গেলো অদিতির সামনে l পাগলের মতো হাত তুলে l “মা, ও মা, মা গো…এই তো আমি, দেখো আমায় ! দেখতে পাচ্ছো না…আমি সব ভুলে গেছি মা…ও মা, দেখো না…একটু আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দাও না মা…আগের মতো…”

অদিতি কিছুই শুনতে পেলো না l শুধু আশেপাশে হাওয়াটা প্রবল হয়ে উঠলো l শালটা আরো টেনে জড়িয়ে নিলো শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে…
©Subham Pramanik

বেচারি টুটুল l আমার স্মার্ট মেয়েটা l আগের মতো কি আর হয় রে পাগলি ! তুই যে দু বছর আগে অ্যাকিউট মাউন্টেন সিনড্রোমের কবলে পড়ে সব ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছিস মা ! ঠিক আমার মতো…আমারও তো ইচ্ছে করে, তোর মা কে ছুঁয়ে দেখতে, জড়িয়ে ধরতে l তাই তো হোটেলের ঘরে অতক্ষণ বসেছিলাম চাতক পাখির মতো l শুভদৃষ্টির সময় যে দুটো লাজুক চোখ প্রথমবার দেখি , যার আকর্ষণে সব বাধা অতিক্রম করে ঘরে ফিরে আসতাম,সেই চোখ বিকেল থেকে কতবার আমায় দেখেও দেখতে পেলো না l এই পরপারের ছায়াশরীর আর আমাদের প্রিয়জনের জন্যে নয় রে টুটুল l

তবে বিষের জ্বালা আমার জুড়িয়ে গেছে l আপনজনকে ঘৃণার বিষ, অবিশ্বাসের বিষ, হীনমন্যতা আর গ্লানির বিষ l পাহাড় হারিয়ে যাওয়া চেতনা, ভালোবাসা ফিরিয়ে দিয়েছে আমায় l টুটুল রে ! দেখ সান্দাকফু কি উপহার দিয়েছে l তোরও বিষ নেমে গেছে l তোকে খালি উঠে আসতে হবে, সমতলের সব আবর্জনা ছাড়িয়ে l
রডোডেন্ড্রন গাছটা হাওয়ার ভরে নড়ে উঠলো l একরাশ ফুল ঝরে পড়লো অদিতির মাথায় l জল ভরা চোখে বোধহয় খানিকটা ঘোরের মধ্যে অদিতি বলে উঠলো “টুটুল…আছিস মা ?”

 




ফিরে যাও অদিতি l তোমার উত্তরণ ঘটেছে এই উচ্চতায় এসে l তোমার আমার টুটুলের, সবার মনের দূষণের বিষ নিয়ে নিয়েছে সান্দাকফু l তবে ভুলের বকেয়া শাস্তি হয়তো এভাবেই পেতে হবে তোমায় l আমাদের কাউকেই আর পাবে না তুমি l কাঞ্চনজঙ্ঘা কি সবাই দেখতে পায় ?
তুমি একা না l পাহাড় নষ্ট করা সভ্য লোকগুলোও ভুলের মাশুল দেবে একদিন l এই সান্দাকফু আর থাকবে না l বিষ বুকে নিয়েই বাঁচতে হবে ভেজাল মানুষগুলোকে l

অদিতির খুব চেনা অধরটিকে প্রদক্ষিণ করে বাপ মেয়ে আবার হারিয়ে গেলাম সান্দাকফুর ক্রমশ দূষিত হতে থাকা হাওয়ায় l

 

-সমাপ্ত-

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total:    Average: /5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।