10 Best Rupkothar Golpo – ছোটোদের মজার মজার রূপকথার গল্প

Rupkothar Golpo is a very popular story in Bengali.Hare, you found top Rupkothar Golpo. Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don’t have sufficient time for going to the library and reading the storybooks In this age of the Internet. But, if we can read the story on this internet, then it is very interesting. So we have brought a few collections of Bengali story for you. Hope you will enjoy the stories in this busy lifestyle. In this post you will find the latest Bengali Rupkothar Golpo, You can read here  Rupkothar Golpo.

 




Rupkothar Golpo

 

 রাখাল ও পরীর

(১)

চারিদিকে পাহাড় ঘেরা উপত্যকার মাঝে ছিল অপূর্ব সুন্দর এক সরোবর। স্বর্গও লজ্জা পায় এমন সুন্দর পরিবেশ সেখানে। সেই সরোবরের তীরে প্রতি বছর গ্রীষ্মকালে বেড়াতে আসে সাত পরী, সাত বোন। তারা ডানাগুলো একটা গাছের তলায় রেখে আনন্দ করে জলে খেলে বেড়ায়। জনশূন্য চারপাশ। ঠিক সাতদিন ধরে আনন্দ করে আবার ডানাগুলো পরে উড়ে যায় নন্দনকাননে, তাদের নিজের দেশে।

এদিকে কাছাকাছি যে কিছু গ্রাম আছে সে খবর তারা না রাখলেও পরীদের সব খবর রাখে কিন্তু সেই গ্রামেরই এক অনাথ রাখাল ছেলে। সে গরু চরায়, বাঁশি বাজায় আর দূর থেকে দেখতে থাকে পরীদের কান্ডকারখানা। একসময় তার খুব ভালো লেগে যায় সবচেয়ে ছোট পরীটিকে। কি অপরূপ মিষ্টি চেহারা! ওকে দেখলেই রাখালের বাঁশিতে বেজে ওঠে স্বর্গীয় সব সুর। দূর থেকে পরীরা তা শোনে আর অবাক হয়ে ভাবে এমন সুন্দর সুর কে বাজায়, এ সুর তো নন্দনকাননের পাখিদেরও অজানা! তারা মুগ্ধ হয়ে শোনে, কিন্তু রাখাল থাকে আড়ালে, তাকে কেউ দেখতে পায় না।

একবার হলো কি, রাখালের মাথায় একটা দুষ্টবুদ্ধি জাগলো। পরীরা যখন স্নানে ব্যস্ত, সে চুপিচুপি এসে দাঁড়ালো সেই গাছতলাটিতে যেখানে খুলে রাখা আছে পরীদের ডানাগুলো। বেছে বেছে সব চেয়ে ছোট ডানাজোড়া নিয়ে সে লুকিয়ে রেখে দিল একটা বড় গাছের ফোকরে। তারপর ধীরে ধীরে সরে পড়ল সেখান থেকে। এখন সাতদিন পরে পরীদের যাবার সময় হলে দেখা গেল তাদের ছোটবোনের ডানাজোড়া নেই সেখানে, অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তারা সেটা পেল না।





Bengali Love Quotes – ১০০০+ মহান ব্যক্তিদের ভালোবাসার উক্তি


এদিকে বাবার কড়া হুকুম, একসপ্তাহের বেশি তাদের স্বর্গ ছেড়ে থাকা চলবে না। কি করে, সবচেয়ে যে বড় পরী সে তার ছোট বোনকে বুঝিয়ে বলল, ‘উপায় নেইরে বোন, আমাদের যেতেই হবে, আর গেলে পরের বছরের আগে আর আসতে পারব না। তুই বরং এখানে থেকে ডানা জোড়া ভাল করে খুঁজে দেখ, পেলেই দেশে চলে আসিস, কেমন? আমরা বাবাকে বুঝিয়ে বলব তিনি যেন রাগ না করেন’।

ছয় পরী ছোট বোনকে একা সরোবরের তীরে ফেলে রেখে তো উড়ে চলে গেল, বেচারী ছোটপরী মনের দু:খে বসে বসে কাঁদতে লাগলো। তাকে ওভাবে কাঁদতে দেখে রাখাল সাহস করে আড়াল থেকে বেরিয়ে এলো। সব শুনে সে তাকে নিজের বাসায় নিয়ে গেল, তারপর অনেকক্ষণ ধরে বাঁশি বাজিয়ে শোনাল। এই রাখালের বাঁশিই যে তাকে দূর থেকে এত আনন্দ দিয়েছে ভেবে পরীর খুব ভালো লাগলো, তাদের বন্ধুত্ব হতে দেরী হলো না।

রাখাল আর পরী গ্রামের একপ্রান্তে একটি কুঁড়েঘরে থাকে, একত্রে গরু চরায়। রাখাল বাঁশি বাজায় আর পরী ঘাঘরা উড়িয়ে নাচে, দেখে গ্রামের লোকেরা ঠিক করলো এদের বিয়ে হওয়া উচিত। রাখাল তো রাজি ছিলই, পরীও কি আর করে, রাজি হয়ে গেল। তারপর একদিন বেশ একটা উৎসবের মধ্যে দিয়ে তাদের বিয়ে হয়ে গেল।

 




(২)

রাখাল আর পরীর দিনগুলো বেশ সুখেই কাটে। আবার পরীর চোখ মাঝে মাঝে জলে ভরে ওঠে ফেলে আসা দিনগুলোর কথা, তার দিদিদের কথা ভেবে, কি আনন্দই না করত তারা সাতজনে। নন্দনকাননের অপূর্ব শোভা, বাবার স্নেহ, বাবা তাঁর প্রিয় মেয়েকে ছেড়ে আছেন কি করে সে কথা ভেবে অভিমানও হয়। এরকম সময়ে রাখাল তাকে বাঁশিতে মিষ্টি সুর বাজিয়ে শোনায়, পৃথিবীর, মানুষদের সব গল্প বলে, শেষে একসময় তারা সব ভুলে ঘুমিয়ে পড়ে।

ঠিক একবছর হবার আগে পরীর কোল আলো করে একটি ছেলে এলো। তাকে পাবার পরে পরী যেন যেটুকু দু:খকষ্ট ছিল তাও ভুলে গেল। দেখতে দেখতে একবছর পার হয়ে গেল। পরী তো ভুলেই গেছিল কিন্তু রাখালের মনে ছিল, তার দিদিদের আসার সময় হয়ে এলো।

রাখালের ঠিক চোখে পড়ল পরীর দিদিরা এক এক করে সরোবরের তীরে নামল। কিন্তু তারা জলে না নেমে এদিক ওদিক খুঁজতে লাগলো। রাখাল তখন তাদের সামনে গিয়ে নিজের পরিচয় দিল, তারা তো ছোটপরী ভালো আছে শুনে খুশি হয়ে তখনি রাখালের সাথে চলে এলো তাদের বাসায়। তারপর তো সাতবোনের একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্না, হাসি আর গল্প চলল সারারাত ধরে। ছোটপরীর ছেলেটিকে মাসীরা মিলে খুব আদর করলো।

 




 

ঠিক সাতদিন পরে যখন তাদের যাবার সময় হলো, রাখাল একফাঁকে ছুটে গিয়ে ছোটপরীর ডানাজোড়া নিয়ে এসে তার হাতে দিয়ে সব কাহিনী খুলে বলল। পরী স্তম্ভিত হয়ে শুনলো। শেষে রেগেমেগে ডানাজোড়া পরে বলল, ‘তুমি যা করেছ, তার জন্যে ক্ষমা নেই। তুমি থাক এখানে তোমার ছেলে নিয়ে একা, আমি চললাম দিদিদের সাথে। তারপর সে সত্যিই সরোবরের তীরে এসে দিদিদের সাথে দেখা করে ওদের সঙ্গে উড়ে চলে গেল স্বর্গরাজ্যে তাদের বাসায়।

কিন্তু স্বর্গে এসেও শান্তি নেই। ছোটপরীর মন পড়ে আছে সরোবরের তীরের সেই পাহাড়ি গ্রামের ছোট্ট এক কুঁড়েঘরে, যেখানে আছে তার ছেলে আর সেই রাখাল। এক এক করে তার সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়তে লাগলো, সেই রাত জেগে তাদের গল্প করা, নির্জন মাঠে রাখালের বাঁশি শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়া। একটা চাতুরী রাখাল করেছিল, কিন্তু মানুষটা তো সে খারাপ নয়, চাইলে তো সে পাখাগুলো ফেরত না দিলেও পারত। স্বর্গে সব আছে, সবকিছুই সুন্দর এখানে, কিন্তু ভালবাসা নেই, বন্ধুত্ব বলে কিছু নেই। আর দু:খের স্বাদ যে একবার পেয়েছে সেই জানে একটানা সুখও বড় একঘেয়ে- স্বর্গে তো দু:খ বলে কিছু নেই। সবচেয়ে বড় কথা সে ভুলতে পারছে না সেই ছোট্ট বাচ্চাটিকে যে আর কদিন পরেই তাকে মা বলে ডাকত, না জানি সে কত কাঁদছে, রাখাল কি একা সামলাতে পারছে ঐটুকু বাচ্চাকে? ছোট পরীর চোখে ঘুম নেই, চোখ বুজলেই কানে আসে ছোট শিশুর কান্নার আওয়াজ। সেও কাঁদে আর শুধু এইসব কথা চিন্তা করে।

ছোট যাই করুক বড়দিদিদের চোখ এড়ায় না। শেষে ব্যাপারটা তাদের বাবাও জানতে পারলেন। তিনি বললেন ‘ মানুষের দুনিয়ায় সংসার পেতে তুমি তো পরীদের দুনিয়ার নিয়ম ভেঙেছ। এর জন্য আমারও কিছুটা সম্মানহানি হয়েছে । তা শুধু শুধু তোমার শাস্তি বাড়িয়ে তো সে সম্মান আমি ফিরে পাব না, তুমি যাও, যেখানে গিয়ে সুখ পাও যেতে পার’। রাজা চলে গেলেন, বোধহয় তাঁর চোখেও জল এসে পড়েছিল।




(৩)

এদিকে রাখালেরই কি খুব সুখে দিন কাটছিল? পরী চলে যাবার পর থেকে ঘর-দোর অগোছালো, ছেলেকে সে না পারে ঠিকভাবে খাওয়াতে, না পারে ঘুম পাড়াতে। এক বুড়ি দাই দেখাশোনা করে বলেই কোনমতে বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছে। যাবার সময় পরী তার উপর রাগ করে গেছে। সেটাই স্বাভাবিক, তা বলে সে একবারও ভাবলো না তার কোলের ছেলেটির কথা। আর কি সে ফিরে আসবে কোনদিন! রাখাল ভাবে আর অভ্যাসমত ছেলেকে কোলে করে রোজই এসে বসে থাকে সরোবরের তীরে, সেই গাছটির তলায়। তার আজকাল আর বাঁশি বাজানোতেও মন নেই।

সেদিনও অমনি বসে আছে সরোবরের তীরে, হঠাত মনে হলো, আকাশ থেকে কে যেন একটা নামছে। প্রথমে ঈগলপাখি ভেবে বাচ্চাকে কোলে নিয়ে লুকোতে যাচ্ছিল, তারপর বুঝতে পেরেই তার চোখ-মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এ যে ছোটপরী। রাখাল ভাবলো পরী বোধহয় থাকতে না পেরে তার ছেলেকে নিয়ে যেতে এসেছে। রাখাল ধীরে ধীরে ছেলে কোলে পরীর দিকে এগিয়ে গেল।

 


Bengali Sad Story – পড়ে দেখুন কান্না চলে আসবে বলে দিলাম


 

কিন্তু একি করছে ছোট পরী, সে মাটিতে নেমে ডানাজোড়া প্রথমে খুলে রাখল। তারপর কোত্থেকে একটা চকমকি বের করে তা ঠুকে আগুন জ্বালালো। তারপর পাখাজোড়াটাকে নিয়ে সেই দৃঢ়ভাবে সেই আগুনে ফেলে দিল।

‘একি, একি করলে তুমি’, ছুটে এলো রাখাল, জিজ্ঞাসা ভরা দৃষ্টিতে তাকাল পরীর দিকে। ‘আর তো তুমি ফিরে যেতে পারবে না’।

‘আর আমি যেতে চাইও না; এখানে তুমি আছো, আমার ছেলে আছে, আমার পরিবার ছেড়ে আমি কোথাও গিয়েই আনন্দে থাকতে পারব না।’ বলে ছুটে এসে সন্তানকে কোলে তুলে নিল ছোটপরী।

তারা পরম নিশ্চিন্তে হাঁটা দিল গ্রামের পথে। পিছনে পুড়ে ছাই হতে থাকলো পরীর ডানাজোড়া।

 সমাপ্ত


 




 

 

অত্যাচারী বাদশাহ 

Rupkothar golpo
Rupkothar golpo

এক দেশে এক অত্যাচারী বাদশাহ ছিলেন। বিভিন্ন রকমের অত্যাচার তিনি করতেন। লোকজনের ঘোড়া-গাধা জোর করে কেড়ে নিতেন। বাদশাহ একদিন সৈন্যসামন্ত সঙ্গে নিয়ে শিকার করতে গেলেন। দলবল নিয়ে শিকার করতে আসা রাজাদের একটা অভিজাত্য এবং এটা একটা বড় উৎসব। রাজা একা একা একটা শিকারের পেছনে ধাওয়া করতে করতে অনেকদূর চলে গেলেন। তাঁর অন্য কোনদিকে খেয়াল নেই।
তখন সন্ধা। রাজা টের পেলেন বনের মাথায় ঘন আঁধার নামছে। সঙ্গেকোনো অনুচর নেই। সম্পূর্ণ অপরিচিত স্থান। তিনি কাছাকাছি এক গ্রামেগিয়ে আশ্রয় নিলেন। এক ধনবান ব্যক্তির বাড়িতে রাত্রিযাপন করবেন বলে ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি দেখলেন, ধনী ব্যক্তিটি তার গাধাকে বেদম প্রহার করছে। গাধা কাতর হয়ে চিৎকার করছে। লোকটি নির্বিকার। সে গাধার একটা পা ভেঙে দিল। রাজা তাই দেখে লোকটিকে বললেন–
কী হে, অবলা জীবটাকে এভাবে পিটাচ্ছ কেন? গাধার ঠ্যাং ভেঙে তুমি নিজেরশক্তি পরীক্ষা কর?
লোকটি উত্তেজিতভাবে জবাব দিল: আমার কাজ ভালো কি মন্দ, আমিই সেটা খুব ভালোভাবেজানি। গায়েপড়ে তোমার কথা বলার কোন প্রয়োজন নেই।




 Rupkothar Golpo cartoon

 

জবাব শুনেবাদশাহখুব দুঃখ পেলেন। এইভাবে এইনিরীহ প্রাণটিাকে মারা কী কারণ থাকতেপারে দয়া করেসেটা আমাকে বুঝিয়ে বলবে কি? আমারমনে হচ্ছে, তুমি যেশুধুনির্বোধতাইনয় বরং আস্ত একটা পাগল। লোকটি একথায় হেসে বলল: হ্যাঁ, আমি পাগলইবটে। তবে সব শুনলে তুমিও বুঝবে, আমি নির্বোধের মতো গাধাটার পা ভেঙে দিইনি। এরমধ্যে একটা উদ্দেশ্য আছে আমার। আমাদের বাদশাহখুব অত্যাচারী। একথা সবাই জানে। আমার সুস্থ সবল গাধাটির খবরপেলেনিশ্চয়ই তিনি জোর করেএটা নিয়েযাবেন। শুনেছি, আমাদের এইএলাকায় বাদশাহ এসেছেন। তাই গাধাটাকে বাদশাহর অত্যাচার থেকে রক্ষা করবার জন্যে খোঁড়া করেদিলাম।

 

বাদশাহগাধাটিকে কেড়েনিয়েযাওয়ার চেয়ে খোঁড়া অবস্থায় এটা আমার কাছেথাকা অনেক ভালো। আমাদের অত্যাচারী বাদশাহকে জানাই শত ধিক! বাদশাহগ্রামবাসী লোকটির মুখে নিন্দা শুনে খুবই দুঃখ পেলেন। কোন জবাব দিলেন না। রাগে, অপমানে, দুঃখে সারারাত দুচোখের পাতা এক করতে পারেননি। ঘুমহীন রাত কাটল। ভোরেরআলো ফুটল পুব আকাশে। মৃদুবাতাসবয়ে যাচ্ছে। পাখির কলকাকলিতে মুখর চারদিক। সৈন্যসামন্ত বাদশাহকে খুজতে খুজতে সাতসকালে হাজির হল সেই গ্রামে। ধনী লোকের বাড়িরসামনেএল তারা। শত শত লোকজনের মুহূর্তে ভিড় হয়ে গেল। সুসজ্জিত ভৃত্যেরা বাদশাহর সেবায় নিয়োজিত হল। সেই বাড়ির সামনে জাঁকজমকপূর্ণ বিশাল দরবারবসে গেল। রাজ্যের প্রধান প্রধান ব্যক্তি রাজার সামনেএসেআসন গ্রহণ করলেন। রাজকীয খানাপিনার আয়োজন করা হলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই এলাকার সম্পূর্ণ পরিবেশ পালটে গেল। সৈন্যদল ওঘোড়ার পদভরে থরথর করে কাঁপতে লাগল সেই এলাকা।

 


5 Best Thakurmar Jhuli – ছোটোদের মজার মজার ঠাকুরমার ঝুলি


বাড়িরসেই লোকটি ব্যাপারস্যাপার দেখে একেবারে থ। গতরাতেস্বয়ং বাদশাহ ছিলেন তার অতিথি। অর্থাৎ বিপদ ঘনিয়েএসেছে। বাদশাহ ডেকে পাঠালেন লোকটিকে। ধরে বেঁধে তাকে আনা হল বাদশাহ’র সামনে। লোকটি বুঝল, তারআত্মরক্ষার আর কোন উপায় নেই। এই মুহূর্তেই তার জীবন শেষ হবে। আর ভয় করা বৃথা। কারণ উদ্যত তরবারির নিচেই মানবের ভাষা অধিকতর শক্তিশালী হয়েথাকে।

তাই লোকটি সাহসের সঙ্গে বলল– হে মহামান্য বাদশাহ, আমি একাই শুধু আপনার নিন্দা করি নাই। খবর নিয়ে দেখুন, জনসাধারণ সকলেই একই কথা বলে থাকে। আমাকে সহজেই হত্যা করা আপনারপক্ষেসম্ভব। আমার কথায় আপনি মনে আঘাত পেয়েছেন–সেজন্য আমি দুঃখিত। কিন্তু আপনার উচিৎ হবে ভালো কাজ করা– যেন কেউ আপনার বদনাম করতে না পারে। অন্যায় করে কখনই সুনাম অর্জন করা সম্ভব নয়। আপনার কর্মচারীরা সারাক্ষণ আপনার গুণকীর্তন করে থাকে। এতে রাজার সম্মান বৃদ্ধি পায় না। প্রজারা যদি বাদশাহ’র সুনাম করে, তাতেই বাদশাহ’র সম্মান বাড়ে। বাদশাহ এই সাহসী সত্যকথা শুনে দারুন উদ্দীপ্ত হলেন। লোকটিকে মুক্ত করে দিলেন। সকলের উদ্দেশ্যে বললেন: আমি আজথেকে চেষ্টা করব ন্যায়পরায়ন, ‍সুশাসক হতে। আমি চাই একজন ভালো বাদশাহ হতে। যেন আমার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে দিক দিগন্তরে।

 

 সমাপ্ত


 




 

পরশ পাথর 

Rupkothar golpo
Rupkothar golpo

মহারাষ্ট্রের ভান্ডারায় ছােট্ট শহর পাবনীর স্থানীয় উপজাতি মানুষদের
বিশ্বাস বাতাসের দেবতা পবনরাজের নাকি বিশাল রাজত্বের রাজধানী ছিল
এই শহরেই। কমলারাণী ছিলেন সেই রাজা পবনদেবের স্ত্রী। শােনা যায়
রাজা পবন নাকি চান করতেন পাবনীতে। দুপুরের ভােজ সারতেন ভন্দকে
আর রাতে বিশ্রাম নিতেন অমরাবতীতে। হবে না-ই বা কেন, যে বিশাল
রাজত্ব তার!

কমলারাণীর ভারি আশ্চর্য ক্ষমতা ছিল। তিনি সরােবরের ওপর
দিয়ে হেঁটে যেতে পারতেন। জলে-ভাসা পদ্মের ওপর সােজা হয়ে দাঁড়াতে
পারতেন। আর পারতেন সরু সুতােয় বেঁধে কাঁচামাটির কলসিতে করে
কুয়াে থেকে জল তুলতে।

কমলারাণী রাণী হলে কি হয় তার বেশভূষা ছিল পবনরাজের মতই
সাধারণ। কিন্তু ছিমছাম সুন্দর। সাদা রঙ তাদের দুজনেরই ভারি পছন্দ
তাই সবসময় সাদা পােশাক পরতেন। তাদের ছিল ভারি মজার একট
জিনিস। জিনিসটা হল একটা পরশ পাথর। লােহায় ঠেকালেই লােহ
সােনা হয়ে যায়।

 




 

প্রজারা রাজা-রাণী দুজনকেই খুব ভালােবাসতাে। শ্রদ্ধা করতাে
উপহার দিতে লােহার তৈরী জিনিস। কিন্তু রাজা বা রাণী কেউই সে-সব
লােহায় পরশপাথর ঠেকাতেন না। সােনা কোনাে প্রয়ােজনই ছিল না তাদের। রাণী যদি গহনা পরতেন, তাহলে সে গহনা সব সময়ই হত সাদা
ফুল দিয়ে তৈরী। এভাবেই দিন যাচ্ছিল মহাসুখে।

কিন্তু সুখ তাে আর চিরকাল থাকে না। তাই হয়তাে পােলা উৎসবের
সময় রাণীর মন হঠাৎ ঘুরে গেল। উৎসবে রকমারি সােনার গহনা পরে
মহিলারা এসেছিলেন। সকলেই রাণীর দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিলেন।
আর একজন অপরজনকে ফিসফিস করে বলছিলেন, কি অপরূপ সুন্দর
আমাদের রাণী-মা! সােনার কোনাে গহনা নেই, তবু কত সুন্দরই না দেখাচ্ছে!

কিন্তু রাণী ভাবলেন উল্টো। মহিলাদের ফিসফিসানি দেখে, তার মনে
হল, তাকে খুব খারাপ দেখাচ্ছে। তাছাড়া তিনি রাণী, তাঁর কোনাে সােনার
গহনা থাকবে না, এ কেমন সৃষ্টিছাড়া কথা !
তিনি রাজার কাছে গিয়ে বললেন, পােলা উৎসবে গেলাম, অথচ
আনন্দ পেলাম না।
রাজা পবন কিছুটা অবাক হলেন। বললেন, কেন কমলারাণী? উৎসবের
আয়ােজন কি এবারে তেমন ভালাে হয়নি?

রাণী বললেন, না। আয়ােজন ভালােই হয়েছে। তবে এমন একটা
উৎসবে আমাকে কেউ রাণী বলে চিনতেই পারলাে না!
রাজা আরাে অবাক হলেন। বললেন, সে কি! তাও কি হতে পারে?
রাণী গলায় অভিমান ফুটিয়ে বললেন, হতে পারে না-ই বা কেন?
আমি কি সেখানে সত্যিকারের রাণীর সাজে গিয়েছিলাম? আমার কি একটিও
সােনার গহনা আছে?

 Rupkothar golpo Bengali

 

এতক্ষণে আসল ব্যাপারটা বুঝতে পারলেন রাজা। আর বুঝতে পেরে।
বড় কষ্ট অনুভব করলেন মনে। কমলারাণীর মুখ থেকে এমন কথা শুনবেন,
তিনি কখনও কল্পনাতেও ভাবেননি। তবু তিনি হাল ছাড়লেন না। রাণীকে
বােঝাবার চেষ্টা করলেন। বললেন, তুমি যে সাজে সাজা কমলারাণী, সে-ই
তাে সত্যিকার রাণীর সাজ। সাদা রঙ যে রঙের রাজা। তাছাড়া সাদা ফুলের
গহনা, সে যে সােনা-হীরে জহরতের গহনার থেকেও বেশী দামী। সে কি
তুমি বােঝ না?

রাণী বললেন, আগে তাই বুঝতাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সে-সব
ভুল বুঝতাম। আপনি আমার জন্যে কিছু সােনার গহনার ব্যবস্থা করে দিন,
রাজা। পরশপাথর তাে আপনার কাছেই আছে।

 




 


Bengali Jokes – ১০০০+ হাসির জোকস – হেসে পেট ব্যাথা হয়ে যাবে


 

রাণীর এই কথার পরে আর কোনাে কথাই বললেন না রাজা পবন।
রাণী যেমনটি চাইলেন, ঠিক তেমনটি করে দেবার ব্যবস্থাই করলেন।
ফলে পােলা উৎসবের দ্বিতীয় দিনে কমলারাণী হাজির হলেন সারা
শরীর সােনার গহনায় মুড়ে। রাণী ভেবেছিলেন, হাজির হওয়ামাত্রই হৈ-চৈ
পড়ে যাবে। রূপসী রাণীর আসল রূপ এতদিনে দেখবে সকলে। কিন্তু ঘটনা
ঘটলাে উল্টো। আজ তাে আর রাণীর শরীরে সাদা পােশাক নেই। নেই
কোনাে সাদা ফুলের গহনা। তাই রাণীকে দেখেও কেউ আলাদা করে চিনে
নিতে পারলাে না। অনেকের মধ্যে একজন হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন কমলারাণী।
রাগে-দুঃখে অপমানে বুক ভেঙে যাচ্ছিল তার। আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলেন
ফিরে এলেন।

 

আর ফিরেও কি নিশ্চিন্ত হতে পারলেন? না, পারলেন না। এমন সব
অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে লাগলাে যে, তিনি রীতিমত ভয় পেয়ে গেলেন।
প্রথম ঘটনাটি ঘটলাে কুয়াে থেকে জল তুলতে গিয়ে। সুতাে ছিড়ে মাটির
কলসি পড়ে গেল জলে। তারপর কাদা হয়ে গুলে গেল জলের মধ্যে।
কমলারাণী অবাক হলেন। কিন্তু দমলেন না। সরােবরের জলে পা রাখলেন
হেঁটে যাবেন বলে। কিন্তু তাও পারলেন না। না পেরে ভয় পেলেন। তবু
শেষ চেষ্টা করতে চেয়ে, সােজা হয়ে দাঁড়াতে গেলেন জলে-ভাসা পদ্মের

ওপর। এবার তিনি জলে পড়ে গেলেন। ডুবেই যাচ্ছিলেন প্রায়। তঁকে উদ্ধার
করলাে রাজার লােকেরা। ভুল ভেঙে গেল রাণীর।

কমলারাণী বুঝলেন, তাঁর সেই আশ্চর্য ক্ষমতা আর নেই। চলে গেছে।
আসলে যখনই তার ইচ্ছেগুলাে সাধারণ মানুষের মত হয়ে যায়, তখনই
তার অসাধারণ ক্ষমতাগুলাে হারিয়ে যায়। তিনি বুঝতে পারলেন, সাধারণ।
মানুষের মত লােভ করে তিনি কতটা ভুল করেছেন।
কিন্তু তখন তাে আর কিছু করার উপায় নেই। মনে মনে ভেঙে পড়লেন।
কমলারাণী। বড়ই দুঃখে দিন কাটতে লাগলাে তার।




রাজা পবনও দুঃখ পেয়েছিলেন রাণীর অবস্থা দেখে। কিন্তু মনের
দুঃখ মনেই চেপে রেখেছিলেন। আসলে পরশপাথরের মত আর কোনাে
পাথর তাে তার ছিল না। রাণীর সেই পুরােনাে ক্ষমতা তাই চিরকালের
জন্যেই হারিয়ে গেল।
বিশাল রাজত্ব আর অঢেল সসানাদানা থাকা সত্ত্বেও, রাজা রাণীর মনে
কোনাে সুখ রইল না। তবে এমনটা কিন্তু বেশিদিন চলল না। হঠাৎ এক
ভূমিকম্পে একদিন পবন-রাজ্য মাটির নীচে তলিয়ে গেল।
বহু বছর পরে আজ, সেই পুরােনাে ধ্বংসস্তুপের ওপর একটা ছােট্ট
শহর গড়ে উঠেছে। পুরােনাে কথা মনে রেখে লােকেরা এই শহরের নাম
রেখেছে পাবনী।

 

 সমাপ্ত


 




 

ভুলো জামাই 

Rupkothar Golpo
Rupkothar Golpo

এসূর গাঁয়ের এক নতুন জামাই বউকে রেখে কি-একটা কাজে
একাই শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিল।
তখন শ্বশুর বাড়িতে ছিল না। শাশুড়ী ছিল। জামাইকে পেয়ে শাশুড়ী
তাে মহাখুশি! কোথায় রাখবে জামাইকে, তা যেন ভেবেই পায় না। আদর-
যত্ন,খাতির আর খানাপিনার বহর ও আড়ম্বরে গ-সুদ্ধ লােকের চোখ
একেবারে ছাড়া হয়ে গেল। সব্বাই একবাক্যে বলতে লাগল ঃ হ্যা, একেই
বলে জামাই আদর!

যে-সব ভালােমন্দ খাবার খাওয়ানাে হল জামাইকে, সেগুলাের মধ্যে
জামাইয়ের সবচেয়ে বেশি মুখে লেগেছিল ‘কোঝক্কাট্টা। নামটা বিদঘুটে
হলে কি হয়, খাবার মতাে জিনিস এক্টা! বারবার খেয়েও তৃপ্তি হয় না।

কোকুক্কাট্টা এক জাতের মালয়ালি পিঠে। আকারে গােল বলের মতাে,
এক থেকে দুইঞ্চি পুরু। চালের গুঁড়াে দিয়ে তৈরী, ভেতরে নারকেল ও

চিনির পুর দেওয়া।

 


Bengali Detective Story – এই বছরের সেরা গোয়েন্দা গল্প


কোঝক্কাট্টার স্বাদ, জামাইয়ের মনে হয়েছিল—যেন অমৃতকেও হার।
মানায়। ইতিপূর্বে এই দুর্লভ বস্তুটার সঙ্গে কোনাে পরিচয় ছিল না তার।
শাশুড়ীকে জিনিসটার নাম জিগ্যেস করলে, তিনিই জানালেন-ওর নাম
কোক্সক্কাট্টা।

বাড়ি ফেরার পথে সারাক্ষণ জামাইবাবাজি মনে মনে আওড়াতে
লাগল-কোয়ুক্কাট্টা’ ‘কোঝক্কাট্টা-পাছে কখন ভুলে বসে!
কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে ফেরার পথে লাফ মেরে একটা ছােট্ট নদী ডিঙোবার
সময় জামাই মালয়ালি ভাষায় ‘থিট্টি’ ‘থিটি’ বলে হঠাৎ চেঁচিয়ে ওঠে, আর
সঙ্গে সঙ্গে ভুলে মেরে দেয় এতক্ষণ ধরে মুখস্থ করা শব্দটা। সে ‘কোকুক্কাট্টা
শব্দটার পরিবর্তে ‘থিট্টি’ ‘থিট্টি’ করতে করতে বাড়ি পৌঁছায়।

বউ হাসিমুখে বেরিয়ে এসে দাঁড়াতেই সে বলে ওঠে, জানাে, তােমার
মা আমাকে ‘থিট্টি’ খেতে দিয়েছিল। চমৎকার জিনিসটা। তা, আজ—এক্ষুনি
আমাকে বানিয়ে দাও না খানকতক। আমার ভারি খেতে ইচ্ছে করছে।

থিট্টি ! থিট্টি আবার কি! বউ কপালে চোখ তুলে স্বামীর দিকে
ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে। এরকম কোনাে খাবারের নাম সে তাে কানেও
শােনেনি কখনাে। থিট্টি’ তাে তাদের ভাষায় একটা অব্যয় শব্দ মাত্র।
অবাক হয়ে সে স্বামীকে জিগ্যেস করে, “থিট্টি’ আবার কি জিনিস!
অমন বস্তু বাপের জন্মে আমি যে চোখেও দেখিনি |

 




Rupkothar Golpo Thakurmar Jhuli

 

জামাই বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করল, বলল- আরে বাবা, থিটি-থিট্টি।
তােমার মা যে বললে, আমার মেয়ে থিট্টি বানাতে জানে।

বউ তবু অদ্ভুত মুখভঙ্গি করে স্বামীর মুখের দিকে চেয়ে থাকে। একটু
রাগের স্বরে জামাই বলে দেখাে, আমার সঙ্গে বেশি চালাকি করাে না।
যাও-আমার হুকুম, থিট্টি বানিয়ে আননা। কিন্তু তখন বউটি বাংলার পাঁচের।
মতাে মুখ করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কেবলই ঘামছে। বউয়ের এইরকম ন্যাকামি
আর অগ্রাহ্যির ভাবখানা দেখে জামাইবাবাজি রেগে টং হয়ে ওঠে। রাগ না
চণ্ডাল! রাগে তার কাণ্ডজ্ঞান লােপ পেয়ে যায়।

ও, আমার সঙ্গে মস্করা করছ, তাই না? ঠিক আছে, দু-ঘা পিঠে পড়লেই
তখন বাপ-বাপ বলে তুমি থিট্টি বানাতে বসবে।

এই বলে সেই বদরাগী জামাইটা বউয়ের পিঠে গুমগুম করে ঘা
কতক বসিয়ে দিল।
বেচারা বউটা হাউমাউ করে কেঁদে উঠলে, কঁদতে কাঁদতে পিঠটা দেখিয়ে বলতে লাগল, তুমি একটা জন্তু একটা ষাঁড়। প্রাণে একটুও দয়াময়া
নেই তােমার। দ্যাখাে, —মেরে আমার পিঠটা কেমন কোঝকাট্টার মতাে
ফুলিয়ে দিলে! হেই মা-গাে—হেই বাবা-গাে—

 

বউয়ের কথা শােনামাত্র এই তাে-পেয়ে গেছি।

কোকুক্কাট্টা! কোকুক্কাট্টা ! থিট্টি নয় – কোঝকাট্টা! বলে জামাইটা
মহানন্দে লাফাতে লাগল। তারপর লজ্জা পেয়ে বউয়ের মাথায়- পিঠে হাত
বুলাতে বুলাতে মিষ্টি গলায় বলল— বউ কিছু মনে করাে না, বেশ? আমি
জিনিসটার নামটাই ভুলে গেছিলাম। কোঝকাট্টা! ..সােনা আমার, এখন
যাও;আমার জন্যে খানকতক কোঝকাট্টা বানিয়ে আননা। কিছুক্ষণ পরে বউ
ডজন খানেক কোকুক্কাট্টা বানিয়ে এনে স্বামীকে দিতে সে গপাগপগপাগপ-
মুখের মধ্যে চালান করে দিল ! আর বউটা পিঠের ব্যথায় কাতরাতে লাগল।

সমাপ্ত


 




 

 

রামুর কারসাজি

Rupkothar Golpo
Rupkothar Golpo

ফুলবনি গাঁয়ে রামু নামে এক বুদ্ধিমান মুচি ছিল। বয়স তার বেশি
নয়। এই দশ কি এগারাে। কিন্তু এই বয়সেই মিষ্টি মধুর গান আর সুন্দর
ব্যবহারে তার জুড়ি মেলা ভার।
জুতাে মেরামত করতে পারে না, কিন্তু বুরুশ করতে ওস্তাদ। ভাের
হতেই কালি আর বুরুশের ঝােলাটা নিয়ে বেরিয়ে সে গান করতে শুরু
করে দেয়।

একটি পয়সা দাও গাে বাবু
একটি পয়সা দাও –
ময়লা জুতাে ময়লা পায়ে।
পালিশ করে নাও।

খদ্দের জুটতে দেরি হয় না। সে চটপট জুতাের কালি লাগায়, বুরুশ
করে আর গান গায়। খদ্দের খুশি হয়ে ওর জন্যে একটি পয়সার সঙ্গে আর
একটি পয়সা বকশিস দিয়ে বসে। কিন্তু এই ওড়িশা রাজ্যে দুষ্ট লােকের তাে
অভাব নেই। এই তাে দিন কয়েক আগে চশমা-পরা একটি বাবু ওকে জুতাে
পালিশ করিয়ে নিয়ে সরে পড়েন—আর ফেরেন না।

 




রামু সেদিন বুঝে উঠতে পারেনি যে ভদ্রলােকের কেন এমন মনােবৃত্তি
হয়। তাও সামান্য একটি পয়সা জন্য।
এই ঘটনার দিন কয়েক পরের কথা। সেদিন খদ্দেরের অন্ত নেই।
রামু জুতাে পালিশ করে যাচ্ছে, আর গান গেয়ে চলেছে মিষ্টি মধুর স্বরে।
একটি বাবুতাে ওর গান শুনেই একটা পয়সা দিতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু রামু তাকে থামিয়ে বললে, কই আপনার জুতাে তাে পালিশ করিনি বাবু। জুতাে
পালিশ করিয়ে নিন, তারপর না হয় একটা পয়সা বকশিস দেবেন আরাে।

বাবু ওর কথায় খুশি হয়ে জুতাে পালিশ করিয়ে নেন। আর যাবার
সময় দুটো পয়সা বকশিস দিয়ে যান। রামু ভাবে এমন লােকও আছে।
রামুর খদ্দের কমে এসেছে। এমন সময় সে দেখতে পেল, পয়সা না দিয়ে
পালিয়ে যাওয়া বাবুটি আসছেন ওদিক থেকে।

রামুর মাথায় এক ফন্দি খেলে গেল। সে বলল, বাবু, একবারই পালিশ
করিয়ে নিন, দেখবেন জুগে কেমন ঝকঝক করে। পয়সা আজ না থাকে।
আরেক দিন দেবেন। আসুন।

বাবু ভাবলেন মন্দ কি? পালিশটা করিয়ে নিই তাে, তারপর পয়সা।
একবার সরে পড়লে, কে আর ধরে।
বাবু ছােট কাঠের বাক্সটার উপর পা রাখেন, রামু পালিশ করে। সেটা
পালিশ হয়ে গেলে বাবু তার জুতাে-সুদ্ধ বাঁ পাটা বাক্সের ওপর তুলে ধরেন।

 

নে এটা পালিশ কর। রামুর দিকে চেয়ে বলেন।
ঘাড় নেড়ে রামু জবাব দেয়, বাবু একটাই থাক। আগে সেদিনকার
পয়সাটা ফেলুন; তারপর ওটা হবে।

রামুর কথা শুনে বাবু তাে ভারি অবাক। ছোঁড়াটা বলে কি? আচ্ছা
চালাকি তাে! আরেক পাটি জুতাে পালিশ না করলে যা বিচ্ছিরি দেখাবে।…মহা
মুশকিল। …বেশি দেরি করলে হয় তাে লােকজন জোটাতে পারে। তার
চেয়ে পয়সা দুটো দিয়ে দেওয়াই ভালাে। এই ভেবে বাবুটি তখন রামুকে
দুটো পয়সাই দিয়ে বললেন, নে বাপু, খুব আক্কেল হয়েছে, তাড়াতাড়ি এখন
এটা পালিশ করে দে।

পয়সা পেয়ে রামু তখন জুতােটা পালিশ করে দেয় আর বাবু চলে
যাওয়ার সময় তার দিকে চেয়ে বলে ওঠে, মনে রাখবেন বাবু, কাউকে ঠকালে
নিজেকেই শেষটায় ঠকতে হয়।..
রামুর কথা শুনে বাবুটির মাথা নিচু হয়ে যায়।

সমাপ্ত


 




 

 

পেত্নীর মৃত্যু 

Bengali Horror Story
Bengali Horror Story

কোন এক সময় মণিপুর রাজ্যের কোন এক গাঁয়ে লাই খুট সাং
বি নামে একটা পেত্নী ছিল। তার মস্ত বড় লম্বা দুটো হাত। রাতের অন্ধকার ঘনিয়ে এলেই গ্রামের লােকেদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সে অত্যাচার চালাত।

যে বাড়িতে কোন বয়স্ক পুরুষ কিংবা জোয়ান-মরদ নেই, লাই খুট সাং বি ঠিক সেই বাড়িতেই হানা দিত। সুযােগ-সুবিধা মত লম্বা হাত দিয়ে ধরে কাউকে তুলে আনত। পরে তার ঘাড় মটকে খেয়ে নিত। এমনিভাবে দিনের পর দিন ঐ পেত্নীটার উপদ্রবে গ্রামের লােক অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। ওটাকে মেরে ফেলার অনেক চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু কেউই তেমন সুবিধে
করতে পারেনি। ওর ভয়ে গ্রামবাসী বয়স্ক পুরুষ ও জোয়ানেরা সূর্য অস্ত যাবার আগেই ঘরে ফিরে আসত।

কিন্তু একবার একজন সাহসী যুবক ও তার বুদ্ধিমতী বৌয়ের জন্য কিভাবে সাং বি পেত্নীর হামলা চিরতরে বন্ধ করেছিল— সেই ঘটনাই এবার বলব।

এক যুবক তার বৌ ও দুটো ছােট বাচ্চা নিয়ে গ্রামের শেষ প্রান্তে এক কুটিরে থাকত। তার অবস্থা খুব একটা ভাল ছিল না; ছােটখাট হাতের কাজ করে সে সংসার চালাত। খুবই কষ্টে- সৃষ্টে দিন কাটত তাদের।

 


Bengali Horror Story ( ভূতের সঙ্গে গল্পসল্প )


কাজের তাগিদে ঐ যুবকটি কখনও একটানা দু-তিন দিন ঘরে ফিরতে পারত না। সেই সময় বৌটাই বাচ্চাদের সামলে- সুমলে রাখত।
একবার যুবকটিকে বড় একটা লাভজনক কাজের দায়িত্ব নিয়ে বেশ দূরের একটা গ্রামে যেতে হয়েছিল। তার ফিরে আসতে চার-চারটে দিন কেটে গেল। সেই সুযােগে লাই খুট সাং বি সেই কুটিরে শিকার জোটানাের আশায় আনাগােনা শুরু করে দিল। একজন দরদী বুড়ির মত গলার স্বরটা মােলায়েম করে গভীর রাতে লাই খুট লত মা, বাবা ঘরে ফিরে এসেছে?

কিন্তু বৌটাতো ভারি বুদ্ধিমতী। সে ভাল করেই জানত যে এত রাতে সাং বি পেত্নী ছাড়া আর কেউই আসতে পারে না। সে-ও তাই চটপট উত্তর দিত, হ্যাগো দিদা, সন্ধ্যার আগেই ফিরেছে। ছেলেদের ঘুম পাড়িয়ে খেয়ে। এইমাত্র শুয়েছে, অগত্যা সাং বি পিঠটান দিত।

পরপর চারদিন পেত্নীটা ঐ কুটিরে এসে হানা দেয়। বােটাও একই রকম জবাব শুনিয়ে তাকে ফিরে যেতে বাধ্য করে।

 




rupkothar golpo rajkumari

 

পঞ্চম দিনে বৌটার বর ফিরে এল। সে সাং বি পেত্নীর কথা জানাল। কী কৌশলে বানিয়ে মিথ্যে কথা বলে ওকে সে ফিরিয়ে দিয়েছে তা-ও বলল। তারপর দু’জনে মিলে এক শলা-পরামর্শ করল। ঠিক হল, সাং বি পেত্নী আবার এলে বৌটা এবারও মিথ্যে কথাই বলবে। বরটা ঘরে থাকা সত্ত্বেও বৌটা বলবে যে সে ঘরে নেই। তারপর দেখা যাবে কী হয়।

পঞ্চম দিনেও যথারীতি সং বি এল এবং একই প্রশ্ন করল— মা,
বাবা ঘরে ফিরছে?

বৌটা একটু দুরে তার বাচ্চাদের কোলে নিয়ে বেশ সতর্ক হয়ে
বসেছিল। বরটা একটা ধারালাে তলােয়ার হাতে নিয়ে দরজার কোণে দাঁড়িয়েছিল।

 

বৌটা ভয়ার্ত কণ্ঠস্বরে ফিসফিস করে বলল— না গাে দিদা;এত রাত হল, তবুও আমার মরদটা ফিরল না। কোথায় নেশা-ভাঙ্গ করে পড়ে আছে।

সং বি পেত্নী ভাবল—এই তাে মওকা। বহু দিনের চেষ্টায় পর শিকারটা হাতের মুঠোয় এল। সে তাে আনন্দে একেবারে দিশেহারা। ঘরের ভেতর থেকে কাউকে তুলে নেবার জন্য সে বাড়িয়ে দিল তার মস্ত লম্বা হাতটা।

যেই না সাং বি ঘরের ভেতর হাতটা ঢুকিয়েছে – অমনি যুবকটা
সমস্ত গায়ের জোর খাটিয়ে তার হাতের তলােয়ার দিয়ে পেত্নীর হাতে মারল এক কোপ। তক্ষুণি তার হাতটা কেটে পড়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে সাং বি বিকট স্বরে আর্তনাদ করে উঠল। সেই বিকট চিৎকারে গােটা গ্রামটাই যেন কেঁপে উঠল। সাং বি মারা গেলে গ্রামবাসীরা সবাই পেত্নীর উপদ্রব থেকে রক্ষা পেল।

সমাপ্ত


 




 

রাণী কমলা কুত্তরি 

Bangla Thakurmar Jhuli
Bangla Thakurmar Jhuli

আজ থেকে অনেক অনেকদিন আগে অসমে এক পরম দানশীল।
রাজা ছিলেন। তিনি তার প্রজাদের খুব ভালবাসতেন, তাদের সুখে- শান্তিতে-
নিরাপদে রাখবার জন্যে তার পক্ষে যা করা সম্ভব, তিনি সবই তা করতেন।
তাঁর প্রজারাও খুব প্রভুভক্ত ছিল। রাজা তাঁর প্রিয় রাণী কমলা কুত্তরিকে
নিয়ে মহা সুখে বাস করছিলেন।

কিন্তু সুখ তাে আর চিরকাল থাকে না। পদ্মের পাতার ওপর জল
যেমন টলমল করে, সুখ ঠিক সেইরকম টলমল করে।

রাজ্যে একবার ভয়ঙ্কর খরা হল। ক্ষেত মাঠ সব ঝলসে গেল। কোথাও
একফেঁটা সবুজের চিহ্ন রইল না। মানুষজন পশুপাখী সব খিদেয় তেষ্টায়
মরতে লাগল।

রাজা চিন্তায় পড়লেন, কীভাবে তার প্রজাদের বাঁচান যায়! বড় করে
গভীর করে একটা পুকুর খোড়ার জন্যে লােক লাগালেন তিনি। পুকুর তাে
বড় হল, গভীরও হল, কিন্তু জল কই? পুকুর শুকনাে। আরাে নীচ পর্যন্ত
খোঁড়া হল, কিন্তু এক ফোটা জলও উঠল না।




রাজা ভেবে আকুল হলেন। প্রজারা সব আশাই ছেড়ে দিল।
কটা দিন গেল। রাজ্যের অবস্থা আরাে খারাপ হল।
এই সময় একদিন গভীর রাতে রাজা একটা স্বপ্ন দেখলেন। হ্যা, বিরাট
পুকুর জলে ভরে উঠবে, প্রজাদের তিনি বাঁচাতে পারবেন, কিন্তু তাকে তার প্রিয় রাণীকে উৎসর্গ করতে হবে।
রাজার ঘুম ভেঙে গেল। তিনি ধড়মড় করে উঠে বসলেন। ঘামে
নেয়ে গেছে তার সারা শরীর। তার মনের মধ্যে তােলপাড় চলছে। একদিকে
তার প্রিয় রাণী, অন্যদিকে তার বিশ্বস্ত প্রজারা। প্রজাদের রক্ষা করা রাজার।
পরম পবিত্র কাজ। তিনি ভাবতে লাগলেন কী করা যায় ?

অবশেষে রাজা তার স্বপ্নের কথা রাণী কমলা কুত্তরিকে জানালেন।
রাণী মন দিয়ে সব শুনলেন, তারপর কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
অশ্রুতে তার দু-চক্ষু গেল ভরে। তারপর রাণী বললেন, রাজা এইসব
লােকজন আপনার প্রজারা তাে আমার নিজের সন্তানের মত। এদের জন্যে
আমি নিশ্চয়ই নিজেকে উৎসর্গ করব। আমি জানি আমাকে ছাড়া আপনি
কখনাে সুখী হতে পারবেন না। তবু আপনি আমাকে যেতে দিন। এটাই
আমার পক্ষে উচিত কাজ হবে।

রাজা গিয়ে দাঁড়ালেন পুকুর পাড়ে। প্রজারা অপেক্ষা করছিল
আশেপাশে। তাদের মনে দুঃখ আর কৌতূহল দুই-ই।
রাজাকে বিদায় জানিয়ে রাণী যেই শূন্য পুকুরে পা দিলেন, অমনি
অদ্ভুত একটা কাণ্ড ঘটল! ঠাণ্ডা, বিশুদ্ধ আর পরিষ্কার জল বেরিয়ে আসতে
লাগল হুড়হুড় করে।

রাজার মুখে আর কথা সরলাে না। প্রজারা চোখ ফেরাতে পারলাে না।
রাজা চিৎকার করে বলে উঠলেন রাণীকে—
ও আমার হৃদয়ের দেবী, কমলা, জল কত?
ও আমার হৃদয়ের দেব, জল আমার গােড়ালি পর্যন্ত, উত্তর এল।
জল আরাে উঁচুতে উঠল। রাজা আবার জিজ্ঞেস করলেন, ও আমার
হৃদয়ের দেবী, কমলা, জল কত?

 

ও আমার হৃদয়ের দেব, জল আমার গােড়ালি পর্যন্ত, উত্তর এল।
জল আরাে উঁচুতে উঠল। রাজা আবার জিজ্ঞেস করলেন, ও আমার
হৃদয়ের দেবী, কমলা, জল কত?
ও আমার হৃদয়ের দেব, জল আমার কোমর পর্যন্ত, –উত্তর এল।

রাণী এগিয়ে যেতে লাগলেন, আর জল আরাে উঁচুতে উঠতে লাগল।
কান্নায় গলা বুজে আসছিল, তবু রাজা চেঁচিয়ে উঠলেন, ও আমার হৃদয়ের।
দেবী, কমলা, জল কত?

ও আমার হৃদয়ের দেব, জল আমার গলা পর্যন্ত, উত্তর এল।
রাণী আরাে খানিকটা সামনে এগােলেন। আর এবার জল এলাে।
তােড়ে। ততক্ষণে রাজার দুটি গাল বেয়ে কান্নার জল গড়িয়ে পড়ছে।
তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, ও আমার হৃদয়ের দেবী, কমলা, জল কত?
ও আমার হৃদয়ের দেব, জল আমার মাথা পর্যন্ত, রাণীর গলার
আওয়াজ তখন প্রায় শােনাই যায় না। অবশেষে সুন্দরী কমলা কুত্তরি
-চিরকালের মত হারিয়ে গেল গভীর জলে।

সমাপ্ত

 





 

শিশু বর যুবতী কনে 

Bangla vuter golpo
Bangla vuter golpo

বহুদিন আগে বিহার রাজ্যের রাজধানীতে হঠাৎ এক সাধু এসে
হাজির। বলেন, রাজার সঙ্গে দেখা করতে চাই। প্রহরী নাছােড়, বলে
রাজামশাই অনুমতি দিলে আপনি প্রবেশ করবেন। আপনি এখানে অপেক্ষা
করুন। আমি সংবাদ পাঠাচ্ছি।

প্রহরীর কথা শুনে সাধু একটু হাসলেন মাত্র। কিছু বললেন না। প্রহরী
সংবাদ পাঠালাে রাজার কাছে। কিন্তু যে লােকটি বার্তা নিয়ে গেল, সে
রাজামশাইকে কুর্নিশ করে দাঁড়াতেই অবাক হয়ে গেল। সে দেখলাে, সাধু
বসে বসে রাজার সঙ্গে কথা বলছেন। লােকটিকে দেখে রাজামশাই কি সংবাদ
জানতে চাইলেন। লােকটি ভয়ে ভয়ে তার আশ্চর্যের কথাটি বললাে। কথা
শুনে রাজামশাই একটু হাসলেন। তারপর তাকে ফিরিয়ে দিলেন।

লােকটি ফিরে গেলে রাজামশাই সাধুকে বললেন, এতদিন সন্তান
কামনায় মনে মনে পাগল হয়ে ছিলাম। বড় কষ্ট ছিল মনে, সুখ-অর্থ-খ্যাতিতে
মন ভরতাে না। আজ আপনার আশীর্বাদে আমি একটি পুত্র সন্তান লাভ
করেছি। আপনি আশীর্বাদ করুন, সে যেন দীর্ঘজীবী হয়।

 




 


Thakurmar Jhuli Golpo ( চাষা ও চাষাবউ )


রাজার কথা শেষ হতে সাধু বললেন, দীর্ঘায়ু সে হতে পারে।
তবে, তার মাত্র ছয়মাস বয়সেই যদি বিবাহ দিয়ে দেওয়া যায়, তাহলেই।
নচেৎ নয়।

সাধুর কথা শুনে রাজা বললেন, আমার একমাত্র পুত্রকে বাঁচাতে আপনি
যেমন বললেন, আমি তেমনই করবাে। আপনার আশীর্বাদ পেলে আমার
কাছে কোনাে কিছুই অসম্ভব নয়।
কিন্তু অসম্ভবকে সম্ভব করে তােলাও যে খুব একটা সহজ কাজ নয়,
এটা রাজা বুঝলেন অনেক পরে। তখন রাজপুত্রের ঠিক ছয় মাস বয়স।
অনেক ভাবনা-চিন্তা করেও রাজা ঠিক করতে পারলেন না কিভাবে কি
করবেন। শেষমেশ মন্ত্রীকে ডেকে বললেন ঘটনাটা। মন্ত্রী খানিকটা চিন্তা
করে বললেন, মহারাজ, কাজটা একটু কঠিন বটে, কিন্তু অসম্ভব নয়।

রাজা বললেন, মহামন্ত্রী! আপনি কি কোনাে কৌশল উদ্ভাবন করতে
পেরেছেন?

মন্ত্রী বলেলন ‘আজ্ঞে হ্যা, মহারাজ। তবে সে কৌশলের কথা একমাত্র
আপনাকেই জানাতে চাই; এবং তা অতি গােপনে।
মন্ত্রীর গােপন পরামর্শে খুশি হলেন রাজা। কন্যা নির্বাচন করা হল
শুভদিন দেখে। শুরু হয়ে গেল বিবাহের আয়ােজন। বিবাহের দিন যথাসময়েই
উপস্থিত হল রাজকন্যার প্রসাদে। সকলে দেখলাে-সুপুরুষ বর নামছে
শ্বেতহস্তীর পিঠে বসানাে সােনার হাওদা থেকে। সকলেই মহাখুশি। জাঁকজমক
আর মহা-ধূমধামে বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হল।

চেলি কাপড়ে ঢাকা মুখ, গায়ে চাদর জড়ানাে রাজপুত্র! ভারি সুপুরুষ
চেহারা। রাজকুমারী খুব খুশি। গভীর রাতে রাজকুমারীর চোখে ঘুম নেমে
আসছে দেখে রাজপুত্র বললেন একটা পান খেতে পারলে ভালাে হত।

রাজকুমারীর তন্দ্রা কেটে গেল। রাজপুত্রের হাতে একটি পানের খিলি
তুলে দিয়ে রাজকুমারী বললেন, এত রাতে পান খাচ্ছেন কেন ? রাজপুত্র
জবাবে হাসলেন। বললেন, আজ হঠাৎ ইচ্ছে হল। তাই।

রাজকুমারী বললেন,আমার কিন্তু ঘুম পাচ্ছে। রাজপুত্র বললেন, ঘুম
পেলে ঘুমােনােটাই তাে নিয়ম। কথা শুনে রাজকুমারী হাসলেন। তারপর
ঘুমের টানে ধীরে ধীরে শুয়েই পড়লেন সােনার পালঙ্কে।
খুব ভােরে ঘুম ভাঙলাে রাজকুমারীর। ঘুম ভাঙার পর চোখ মেলতেই
চমকে উঠলেন তিনি। তাকিয়ে দেখলেন, সােনার পালঙ্কে শুয়ে রয়েছে একটি শিশু। তিনি কিছুতেই ভেবে উঠতে পারলেন না-সুপুরুষ যুবক রাজপুত্র
কিভাবে ছােট্ট শিশুতে পরিণত হয়ে গেলেন!
রাজকুমারী পালঙ্ক থেকে নেমে শাড়ীর আচল গায়ে তুললেন। কিন্তু
তােলার পরই হঠাৎ তার মনে হল, শাড়ীর আঁচলে যেন লাল কালিতে কি
সব লেখা রয়েছে। তিনি আঁচলটিকে সামনে মেলে ধরলেন, আর দেখে
অবাক হয়ে গেলেন। লালকালি নয়, পানের লাল রস দিয়ে লেখা কার
যেন চিঠি!

রাজকুমারী মনকে বশে রেখে ধীরে ধীরে চিঠিটি পড়লেন। তারপর
নিশ্ৰুপ দাঁড়িয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। চিঠি থেকে তিনি সব কথাই জানতে
পেরেছেন। জানতে পেরেছেন যে, ঐ শিশুটিই তাঁর স্বামী। যাকে তিনি স্বামী
বলে ভেবেছিলেন, তিনি আসলে মন্ত্রীপুত্র। শিশু রাজপুত্রের বিবাহদান এই
ধরনের ছল ছাড়া কিছুতেই নাকি সম্ভব ছিল না। মন্ত্রীপুত্র নাকি রাজপুত্রকে
কোলে নিয়ে চাদর ঢাকা দিয়ে রেখেছিলেন। সিঁদুর পরানাের সময় রাজকুমারীর
সিঁথিতে শিশু রাজপুত্রের ছােট্ট একটি আঙুলের সিঁদুরই নাকি স্পর্শ করেছিল।
অতি সাবধানে মন্ত্রীপুত্র এসব কাজ করেন। তারপর মাঝরাতে রাজকুমারীর
ঘুমের সুযােগে নিয়ে তিনি চিবােনা পানের রস দিয়ে ঐ চিঠি লেখেন।

সব কথা জানতে পেরে শিশু রাজপুত্রকে বাঁচানাের কথা ভাবলেন
রাজকুমারী। ভেবে দেখলেন, সময় নষ্ট করা উচিত হবে না। দেরি হলে
সকলেই জানতে পারবে। তার বাবা অপমানের শােধ তুলতে শিশুটিকে
নিশ্চয়ই হত্যা করবেন।

 




chotoder rupkothar golpo

 

এসব কথা ভেবেই রাজকুমারী অন্ধকার থাকতে থাকতেই প্রাসাদ ত্যাগ
করলেন। তারপর রাজপথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে বনপথ ধরলেন। বনের পথে
এগােতে এগােতেই তার কেটে গেল দিন-মাস-বছর। গাছের কাছে ফল
চেয়ে ক্ষুধা মেটান। নদীর কাছে চান তৃষ্ণা নিবারণের জল। শিশু স্বামীকে
কোলে নিয়ে মােষের পিঠে চেপে পার হয়ে যান বহু ক্রোশ পথ। রুইমাছ
তার পিঠে করে তাদের নদী পার করে দেয়। এভাবেই কেটে গেল বেশ
কয়েকটা বছর। একদিন রাজ কুমার যৌবনে উপনীত হলেন। তাকে স্বগৃহে
নিয়ে যাওয়ার কামনা জাগলাে রাজকুমারীর মনে। বনপথে চলতে চলতে তিনি

একটি কুটির দেখতে পেলেন। কুটিরে ছিলেন এক সাধু। অতীত কিংবা
ভবিষ্যৎ সবকিছুই বর্তমানের মত পরিষ্কার দেখতে পেতেন তিনি। রাজকুমারী
তার কাছে স্বামী গৃহের ঠিকানা জানতে চাইলেন। সাধু ঠিকানা বলে দিলেন
অনায়াসে। কিন্তু রাজকুমার ও রাজকুমারীকে ঠিকানা অনুয়ারী চলতে গিয়ে
বহু বন, বহু নদী পার হতে হল।

এরপর একদিন দুজনে মিলে প্রসাদের দ্বারে এসে পৌঁছােলেন।
রাজকুমারীর সঙ্গে দেখা হল এক পরিচারিকার। পরিচারিকা খবর নিয়ে ছুটে
গেল রাণীমায়ের কাছে। রাণীমা-র সঙ্গে যখন দেখা হল দুজনের, রাণীমা
ভীষণ খুশি হলেন। ছেলেকে নিজের ছেলে বলে চিনতে পেরে তার আনন্দের
অবধি রইল না। দুটো আনন্দের অশ্রু গড়িয়ে পড়লাে গাল বেয়ে।

সমাপ্ত





 

 

বুদ্ধিমান নাপিত

Rupkothar golpo 
Rupkothar golpo

বহুদিন আগে চণ্ডীগড়েপ্রতাপবর্মা নামে এক রাজা ছিলেন। তার ছিল।
এক নাপিত। নাম তার অয়ন। অয়ন প্রায় রােজই রাজপ্রসাদে আসত এবং
রাজার সঙ্গে বেশ কিছু সময় গল্প স্বল্প করে ভালমন্দ খেয়ে পেট ভরিয়ে তবে
বাড়ি ফিরত।

একদিন রাজা অয়নকে বললেন আজ তুমি যা চাইবে তাই দেব।
বলাে তুমি কি চাও?
অয়ন বলল – মহারাজ, আমি চাই আপনি আমাকে আপনার প্রধানমন্ত্রী
নাপিতকে রাজা প্রধানমন্ত্রীর পদ দিলেন।

রাজ্যের নিরাপত্তা এবং বহিঃ শত্রুর আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার জন্য
রাজাকে একটা বিরাট সৈন্যবাহিনী প্রতিপালন করতে হত। নতুন প্রধানমন্ত্রী
রাজাকে বােঝাল। এত বড় একটা সৈন্যবাহিনী প্রতিপালন করতে রাজাকে বহু
অর্থ ব্যয় করতে হয়। অথচ সেনারা প্রায় সারাটা বছরই অকম্মার মত বসে
বসে খায়। আর তাস, দাবা, পাশা খেলে ফালতু সময় নষ্ট করে।

 




অতএব রাজকোষের অর্থ বাঁচাতে হলে রাজার উচিত এখনই ওইসব
হতভাগাদের ছুটি করে দেওয়া। বরং যুদ্ধ টুদ্ধ বাধলে তাদের আবার পুর্ননিয়ােগ
করা যেতে পারে।

শত্রুদের হাত থেকে রাজ্যরক্ষার জন্য আমরা বরং কয়েকশাে কুকুর
যােগাড় করি – তাতেই কাজ হবে। প্রধানমন্ত্রীর কথায় সম্মত হয়ে রাজা
গােটা সেনাবাহিনীরই ছুটি করে দিলেন।

খবরটা প্রতিবেশী রাজ্যের রাজার কানে পৌঁছতে খুব বেশি সময় নিল
লা। সঙ্গে সঙ্গে তিনি কয়েক হাজার সেনা সংগ্রহ করলেন।
দিন কয়েক পরেই প্রতাপবর্মার রাজ্য আক্রমণ করলেন।

 

শক্রদের সঙ্গে লড়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ফুকুরগুলোকে লেলিয়ে দিল।
কিন্তু ফল হল উল্টো। কুকুরগুলাে নিজেদের মধ্যে শুরু করল খেয়ােখেয়ি।
এইভাবে নিজেরাই ধ্বংস হল নিজেদের হাতে। একটা টিল না ছুঁড়ে প্রতিবেশী,
রাজ্যের রাজা যুদ্ধে জিতে গেলেন। প্রতাপবর্মার রাজ্য কেড়ে নিয়ে তাকে দূর
করে দিলেন রাজ্য থেকে।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী অয়ন তাতে কিছুমাত্র বিচলিত না হয়ে, প্রতাপবর্মাকে
বলল–মহারাজ ভেঙে পড়কো না। আমরা একটা না একটা কাজ ঠিক পেয়ে
যারই। এখনও আমার পুরনাে ক্ষুরটা আমার সঙ্গে আছে।আর মহারাজ, আমি
আমার বাবার হাতের ক্ষুরটা আপনাকে উপহার দিতে পারি। ক্ষুটা খুবই
ধারালাে। টাকা বলুন, ভালোবাসা বলুন আজকাল অমন সুন্দর একটা ক্ষুর
ফোন কিছুর বিনিময়েই আপনি আর পাবেন না।




সমাপ্ত