Home Short Story Short Story in Bengali - কোথায় আমার অস্তিত্ব

Short Story in Bengali – কোথায় আমার অস্তিত্ব

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don’t have sufficient time for going to the library and reading the storybooks In this age of the Internet. But, if we can read the story on this internet, then it is very interesting. So we have brought a few collections of Bengali story for you. Hope you will enjoy the stories in this busy lifestyle. In this post you will find the latest Bengali Short Story,  You can read here Short Story in Bengali, download Short Story in Bengali  PDF, Hare you found top Short Story in Bengali.

 

 কোথায় আমার অস্তিত্ব 

অভিজিৎ কুমার

কাল সারারাত আমি এক অদম্য ইচ্ছে নিয়ে বসে ছিলাম সমাজের দোরগোড়ায়। আর একটা একটা করে শুধু মুহূর্তগুলোর পাতা উল্টে যাচ্ছিলাম। না, কোনো ব্যার্থতার স্মৃতিচারণ অথবা একাকীত্বের শোক পালনের জন্য নয়। আমি তো বসে ছিলাম স্বাধীনতা দিবসের প্রথম কিরণ চাক্ষুষ দেখবো বলে। দেখবো প্রকৃতির হাত ধরে কেমন করে স্বাধীনতার সেই আবেগী আবির ছড়িয়ে পড়ে শহরের আনাচে কানাচে। আমি তারপর সেই সমস্ত আবির কুড়িয়ে নিয়ে সময়ের প্রতিটা মুহূর্তকে সাজিয়ে দেবো আমার নিজের হাতে, নিজের মত করে। আবারও একবার নিজের অস্তিত্বকে সকলের সাথে উপভোগ করব প্রাণভরে।

ঠিক যখন পূব আকাশে ওঠা সূর্যের উষ্ণ ছোঁয়ায় সমস্ত কালো গোলে পরতে থাকে আর একটু একটু করে নতুন এক সকাল মুখ তুলে চায়। আমি তখন বেরিয়ে পড়ি আমার ইচ্ছের ঝোলা কাঁধে নিয়ে সেই আবির কুড়োতে।

বাড়ি থেকে বেরিয়ে কিছুদূর হাঁটতেই আমার চোখ পড়ে একটা অল্প বয়সী ছেলে তার চায়ের দোকান খুলছে। আমি বেশ কৌতূহলী হয়ে তার কাছে গিয়ে প্রশ্ন করি,”আজ তো স্বাধীনতা দিবস, স্কুল যাবে না?” সে একগাল হেসে আমার দিকে তাকায়। আমি খুব চেষ্টা করলাম সেই হাসির মধ্যে আনন্দ খুঁজে পেতে। কিন্তু পারলাম না। আমি আমার ব্যার্থতাকে সান্ত্বনা দিচ্ছি এমন সময় সে বলে,”আমি ছাড়া আমার বাড়িতে উপার্জন করার কেউ নেই। ইচ্ছে তো খুব করে স্কুল যাই, পড়াশুনো করি। কিন্তু আমার সমস্ত ইচ্ছেগুলোকে রোজ এই উনুনে পুড়াতে বাধ্য হই। আর সেই আগুন দিয়েই চা হয়। আসলে দাদা আমার জীবন আজ পরিস্থিতির কাছে এতটাই পরাধীন যে স্বাধীনতাকে ছুঁয়ে দেখার আর সাহস পাই না।” আমি কিছু বলতে পারি নি আর।

Short Story in Bengali – Bengali Short Story

 



রাস্তা দিয়ে আরও কিছুটা এগিয়ে আসতেই চোখ পড়ে একটা দিদি তার বাড়ির বারান্দায় বসে খুব কাঁদছে। আমি এগিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করি,”দিদি, আজকের দিনে কাঁদছো কেন?” দিদি বলে,”খুব ইচ্ছে ছিলো পড়াশুনো করে চাকরি করবো, নিজের পায়ে দাঁড়াবো। কিন্তু বাড়ি থেকে বিয়ে দিয়ে দেবে। আমার পড়াশুনোটা আর হল না রে।আমি এতটাই পরাধীন যে আমার ইচ্ছেগুলো বাস্তবতার উষ্ণতায় গাল বেয়ে গোলে গোলে পড়ছে কিন্তু আমি তাদের আগলে রাখতে পারছি না। আমি পারছি না তাদের কাছে টেনে আদর করতে। আসলে কি বলতো আমি যে একজন মেয়ে। একটু রাতে যে রাস্তা দিয়ে হেঁটে নির্ভয়ে বাড়ি আসবো সেই স্বাধীনতাটাও যে সমাজ দিতে অক্ষম রে।” বুঝলাম এখানেও আমি ব্যার্থ।

কিছুটা এগিয়ে যখন বড় রাস্তায় এসে উঠি দেখি একটা ছেলে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুল যাচ্ছে। আমি আপ্লুত হয়ে ছুটে যাই তার কাছে। বলি,”ভাই,আজতো খুব মজা হবে বল, স্বাধীনতা দিবস?” সে একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বলে,”জানো দাদা.. খুব ইচ্ছে ছিল আর্টস নিয়ে পড়বো। কিন্তু দেখো সেই সব ইচ্ছেগুলোকে দুমড়ে মুচড়ে এই ব্যাগের ভেতর ভোরে প্রতিদিন স্কুল নিয়ে যাই আর তার সাথে থাকে গুটি কয়েক সাইন্সের বই। বড্ড পরাধীন গো আমি তাইতো ইচ্ছেগুলোর আর্তনাদ চুপ করে শুনে যেতে হয়। আমি যে হত্যাকারী। একটু একটু করে প্রতিদিন তাদের মেরে ফেলছি।” আমি বুঝি আমার ঝোলা এখানেও খালি থেকে গেল।

কিছুটা এগোতেই চোখে পড়ে পতিতাদের পাড়া। প্রথমে একটু ইতস্ততঃ লাগলেও মানবিকতার হাত ধরে কিছুটা এগিয়ে একজনকে জিজ্ঞেস করি,”আচ্ছা,আজতো স্বাধীনতা দিবস। তোমরা পালন করবে না?” আবার ঠিক ওই চায়ের দোকানের ভাইটার মতোই সেও একগাল হাসি ছুড়ে মারে আমাকে। তারপর বলে,”যার জীবনের পরিচয়টাই পরাধীন, যাকে যার দিনের প্রতিটা মুহূর্ত বিকোতে হয় এই সমাজের কাছে, যার শরীর নিংরে আজ শুধু পঁচা ইচ্ছে আর দুর্গন্ধযুক্ত অনুভূতি ছাড়া আর কিছুই পাবে না, যার পুরো শরীরটা আজ লালসার বিষে বিষাক্ত। তার জন্য স্বাধীনতা বড্ড মূল্যহীন রে বড্ড মূল্যহীন।” আমি আমার সেই খালি ঝোলা নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকি সেই আবেগী আবিরের খোঁজে।

Short Story in Bengali – Short Story

 




রাস্তার একটা দোকানে দেখি একটা দাদা দাঁড়িয়ে। কাঁধে ব্যাগ, ফরমাল পোশাক। দেখে অনুমান করলাম বোধহয় অফিস যাচ্ছে। কাছে এগিয়ে গিয়ে বললাম,”দাদা স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা রইল। আজও অফিস? ছুটি নেই বুঝি?” দাদা বললো,”জানিস ভাই..খুব ইচ্ছে ছিল গান নিয়ে জীবনে এগোবো। কিন্তু দেখ আজ নিজের জীবনটাই বড্ড বেসুরো হয়ে গেছে রে। অন্যের ইচ্ছে, অন্যের ভালোলাগাকে কাঁধে নিয়ে বয়ে বেড়াচ্ছি। এইভাবে আজ একটু একটু করে প্রতিদিন নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি শহরের বুক থেকে। কিন্তু এতটাই পরাধীন আমি যে, নিজেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসারও সামর্থ্য নেই। আজ বেঁচে থাকাটা যেন অভ্যেস হয়ে গেছে।” আমি বড্ড অসহায় হয়ে এগিয়ে যাই পথ ধরে।

কিছুটা এগিয়ে দেখি পথের ধারে কিছু মানুষ বসে ভিক্কে করছে। আমি তাদের কাছে এগিয়ে গিয়ে কিছু পয়সা দিয়ে বলি,”স্বাধীনতা দিবসের অনেক শুভেচ্ছা।” তারা একটু অবাক হয়ে বলে,”বাবা, যারা দুবেলা স্বাধীন ভাবে খেতে পায় না। একবেলা পেট ভরে খেলে যদি ওই বেলা আর খাওয়ায় বেচে না থাকে সেই ভেবে আধ পেটা খেয়েই থাকে, তাদের আর কি স্বাধীনতা বাবা? তোমার কাছে যদি এমন স্বাধীনতা থাকে যেটা দিয়ে দুবেলা খেতে পাবো তবে আমায় দিয়ে যাও না বাবা। দুদিন ধরে ঠিক করে খেতে পাই নি।” আমার চোখে এবার জল এসে যায়। আমি কিছু না বলে যতটা পারতাম সাহায্য করে সেখান থেকে ছুঁটে পালিয়ে আসি।

কিছুদূর গিয়ে একটা বৃদ্ধাশ্রম চোখে পড়ে। আমি ছুটে গিয়ে বারান্দায় বসে পড়ি। একটা দিদা এসে আমার কাছে বসে। আমি বলি,”আচ্ছা দিদা..তোমরাও কি পরাধীন?তোমরা তো বেশ আছো কোনো চিন্তা নেই, কোনো ভাবনা নেই।” দিদা হেসে বলে,”আমরাই যে সব থেকে পরাধীন বাবা। আজ চাইলেও আমরা পারি না আমাদের সন্তানদের দেখতে। আমাদের এই আবছা দৃষ্টিতে তারা ধরা দেয় না রে আর। প্রত্যেকটা দেওয়াল সাক্ষী আমাদের এই করুন অসহায় মমতার। আর ভেজা চৌকাঠ জুড়ে জমতে থাকে অমোঘ অপেক্ষা।” আমি দিদাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলি, চিৎকার করে কাঁদি।

Short Story in Bengali – Bengali choto Golpo 

 



তারপর কিছু না বলে দৌঁড়ে পালিয়ে যাই। এরপর আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারি নি। পাগলের মত ছুটতে থাকি আর সময়ের সমস্তটা ঘাঁটতে থাকি এই ভেবে যে যদি কোথাও সেই আবেগী আবির খুঁজে পাই। যদি কোথাও আমার অস্তিত্ব সামান্য হলেও থাকে। কিন্তু অবশেষে না পেয়ে ক্লান্ত হয়ে একটা গাছের ছায়ায় এসে দাঁড়াই। দাঁড়িয়ে হন্তদন্ত হয়ে আমার ঝোলা হাতরে দেখি, এতটা পথ হেঁটে শুধু নিরাশা, মৃত ইচ্ছে, ছন্নছাড়া স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নেই। আমি হতাশ হয়ে নিজেকেই প্রশ্ন করি,”আচ্ছা, তবে আমার অস্তিত্ব কোথায়?”, আমি কোনও উত্তর পাই না। বুঝি, আজ আমার অস্তিত্ব পরিস্থিতির চাপে সমাজচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছে। বড্ড অসহায় হয়েই হয়ত তারা গা ঢাকা দিয়েছে সমাজের কোনও অজানা নামহীন পাড়ায়। “তবে আমার ইচ্ছেগুলো? সেগুলো কি আর পূর্ণতা পাবে না?” হ্যাঁ, আমি জানি সব ইচ্ছে পূরণ হয় না। কিন্তু কিছু ইচ্ছে এমন থাকে যা অস্তিত্বের মেরুদণ্ডকে বড্ড বেশি আঁকড়ে ধরে বাঁচে। তেমনই কিছু অপূর্ণ ইচ্ছেরা পূর্ণতার আশায় কাটিয়ে দেবে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর হয়ত কেটে যাবে আস্ত একটা সময়কাল।

আসলে মানুষ আজকে বাঁচতেই ভুলে যায়, কালকে বাঁচার ইচ্ছেয়। আর কালকে বাঁচার পরিকল্পনায়, হারিয়ে ফেলে আজকে বাঁচার  স্বাদ। তাই হয়ত এই স্বাধীনতার সংজ্ঞায় মানুষ আমাকেই খুঁজতে ভুলে যায়। তাইতো আমি তাদের এত্ত চেনা হয়েও খুব অচেনা হয়েই রয়ে গেছি।একটা গরম নিঃশ্বাস বেরিয়ে আসে আমার ভেতর থেকে। বুঝতে পারছি অদম্য ইচ্ছেগুলো পুড়ছে ভেতরে। কিন্তু আমিও যে আজ তাদেরই দলে, যাদের প্রতিদিন অসহায়তার মুখের গ্রাস হতে হয় বারবার।
নিজেকে হারিয়ে ফেলে কি বেঁচে থাকা যায় নাকি বেঁচে থাকাটা দায়?

সমাপ্ত


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Must Read

Bengali Sad Story – তোমায় ছাড়া বেঁচে থাকি কি করে

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...

Bengali Detective Story – কঠিন শাস্তি

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...

Bangla Rupkothar Golpo –  রাখাল ও পরীর

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...

Bengali Rupkothar golpo -অত্যাচারী বাদশাহ 

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...

Bangla vuter golpo – পেত্নীর প্রেম

Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don't have sufficient time for going to the library and...