Short Story in Bengali – কোথায় আমার অস্তিত্ব

Short Story in Bengali.The fun of reading a short story in Bangla is different.Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don’t have sufficient time for going to the library and reading the storybooks In this age of the Internet. But, if we can read the story on this internet, then it is very interesting. So we have brought a few collections of Bengali story for you. Hope you will enjoy the stories in this busy lifestyle. In this post you will find the latest Bengali Short Story,  You can read here Short Story in Bengali, download Short Story in Bengali  PDF, Hare you found top Short Story in Bengali.




 

 কোথায় আমার অস্তিত্ব 

অভিজিৎ কুমার

কাল সারারাত আমি এক অদম্য ইচ্ছে নিয়ে বসে ছিলাম সমাজের দোরগোড়ায়। আর একটা একটা করে শুধু মুহূর্তগুলোর পাতা উল্টে যাচ্ছিলাম। না, কোনো ব্যার্থতার স্মৃতিচারণ অথবা একাকীত্বের শোক পালনের জন্য নয়। আমি তো বসে ছিলাম স্বাধীনতা দিবসের প্রথম কিরণ চাক্ষুষ দেখবো বলে। দেখবো প্রকৃতির হাত ধরে কেমন করে স্বাধীনতার সেই আবেগী আবির ছড়িয়ে পড়ে শহরের আনাচে কানাচে। আমি তারপর সেই সমস্ত আবির কুড়িয়ে নিয়ে সময়ের প্রতিটা মুহূর্তকে সাজিয়ে দেবো আমার নিজের হাতে, নিজের মত করে। আবারও একবার নিজের অস্তিত্বকে সকলের সাথে উপভোগ করব প্রাণভরে।

ঠিক যখন পূব আকাশে ওঠা সূর্যের উষ্ণ ছোঁয়ায় সমস্ত কালো গোলে পরতে থাকে আর একটু একটু করে নতুন এক সকাল মুখ তুলে চায়। আমি তখন বেরিয়ে পড়ি আমার ইচ্ছের ঝোলা কাঁধে নিয়ে সেই আবির কুড়োতে।

বাড়ি থেকে বেরিয়ে কিছুদূর হাঁটতেই আমার চোখ পড়ে একটা অল্প বয়সী ছেলে তার চায়ের দোকান খুলছে। আমি বেশ কৌতূহলী হয়ে তার কাছে গিয়ে প্রশ্ন করি,”আজ তো স্বাধীনতা দিবস, স্কুল যাবে না?” সে একগাল হেসে আমার দিকে তাকায়। আমি খুব চেষ্টা করলাম সেই হাসির মধ্যে আনন্দ খুঁজে পেতে। কিন্তু পারলাম না। আমি আমার ব্যার্থতাকে সান্ত্বনা দিচ্ছি এমন সময় সে বলে,”আমি ছাড়া আমার বাড়িতে উপার্জন করার কেউ নেই। ইচ্ছে তো খুব করে স্কুল যাই, পড়াশুনো করি। কিন্তু আমার সমস্ত ইচ্ছেগুলোকে রোজ এই উনুনে পুড়াতে বাধ্য হই। আর সেই আগুন দিয়েই চা হয়। আসলে দাদা আমার জীবন আজ পরিস্থিতির কাছে এতটাই পরাধীন যে স্বাধীনতাকে ছুঁয়ে দেখার আর সাহস পাই না।” আমি কিছু বলতে পারি নি আর।




Bengali Sad Story – পড়ে দেখুন কান্না চলে আসবে বলে দিলাম

Short Story in Bengali 

রাস্তা দিয়ে আরও কিছুটা এগিয়ে আসতেই চোখ পড়ে একটা দিদি তার বাড়ির বারান্দায় বসে খুব কাঁদছে। আমি এগিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করি,”দিদি, আজকের দিনে কাঁদছো কেন?” দিদি বলে,”খুব ইচ্ছে ছিলো পড়াশুনো করে চাকরি করবো, নিজের পায়ে দাঁড়াবো। কিন্তু বাড়ি থেকে বিয়ে দিয়ে দেবে। আমার পড়াশুনোটা আর হল না রে।আমি এতটাই পরাধীন যে আমার ইচ্ছেগুলো বাস্তবতার উষ্ণতায় গাল বেয়ে গোলে গোলে পড়ছে কিন্তু আমি তাদের আগলে রাখতে পারছি না। আমি পারছি না তাদের কাছে টেনে আদর করতে। আসলে কি বলতো আমি যে একজন মেয়ে। একটু রাতে যে রাস্তা দিয়ে হেঁটে নির্ভয়ে বাড়ি আসবো সেই স্বাধীনতাটাও যে সমাজ দিতে অক্ষম রে।” বুঝলাম এখানেও আমি ব্যার্থ।

কিছুটা এগিয়ে যখন বড় রাস্তায় এসে উঠি দেখি একটা ছেলে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুল যাচ্ছে। আমি আপ্লুত হয়ে ছুটে যাই তার কাছে। বলি,”ভাই,আজতো খুব মজা হবে বল, স্বাধীনতা দিবস?” সে একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বলে,”জানো দাদা.. খুব ইচ্ছে ছিল আর্টস নিয়ে পড়বো। কিন্তু দেখো সেই সব ইচ্ছেগুলোকে দুমড়ে মুচড়ে এই ব্যাগের ভেতর ভোরে প্রতিদিন স্কুল নিয়ে যাই আর তার সাথে থাকে গুটি কয়েক সাইন্সের বই। বড্ড পরাধীন গো আমি তাইতো ইচ্ছেগুলোর আর্তনাদ চুপ করে শুনে যেতে হয়। আমি যে হত্যাকারী। একটু একটু করে প্রতিদিন তাদের মেরে ফেলছি।” আমি বুঝি আমার ঝোলা এখানেও খালি থেকে গেল।

কিছুটা এগোতেই চোখে পড়ে পতিতাদের পাড়া। প্রথমে একটু ইতস্ততঃ লাগলেও মানবিকতার হাত ধরে কিছুটা এগিয়ে একজনকে জিজ্ঞেস করি,”আচ্ছা,আজতো স্বাধীনতা দিবস। তোমরা পালন করবে না?” আবার ঠিক ওই চায়ের দোকানের ভাইটার মতোই সেও একগাল হাসি ছুড়ে মারে আমাকে। তারপর বলে,”যার জীবনের পরিচয়টাই পরাধীন, যাকে যার দিনের প্রতিটা মুহূর্ত বিকোতে হয় এই সমাজের কাছে, যার শরীর নিংরে আজ শুধু পঁচা ইচ্ছে আর দুর্গন্ধযুক্ত অনুভূতি ছাড়া আর কিছুই পাবে না, যার পুরো শরীরটা আজ লালসার বিষে বিষাক্ত। তার জন্য স্বাধীনতা বড্ড মূল্যহীন রে বড্ড মূল্যহীন।” আমি আমার সেই খালি ঝোলা নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকি সেই আবেগী আবিরের খোঁজে।

Short Story in Bengali
Short Story in Bengali

Short Story in Bengali 

রাস্তার একটা দোকানে দেখি একটা দাদা দাঁড়িয়ে। কাঁধে ব্যাগ, ফরমাল পোশাক। দেখে অনুমান করলাম বোধহয় অফিস যাচ্ছে। কাছে এগিয়ে গিয়ে বললাম,”দাদা স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা রইল। আজও অফিস? ছুটি নেই বুঝি?” দাদা বললো,”জানিস ভাই..খুব ইচ্ছে ছিল গান নিয়ে জীবনে এগোবো। কিন্তু দেখ আজ নিজের জীবনটাই বড্ড বেসুরো হয়ে গেছে রে। অন্যের ইচ্ছে, অন্যের ভালোলাগাকে কাঁধে নিয়ে বয়ে বেড়াচ্ছি। এইভাবে আজ একটু একটু করে প্রতিদিন নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি শহরের বুক থেকে। কিন্তু এতটাই পরাধীন আমি যে, নিজেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসারও সামর্থ্য নেই। আজ বেঁচে থাকাটা যেন অভ্যেস হয়ে গেছে।” আমি বড্ড অসহায় হয়ে এগিয়ে যাই পথ ধরে।




কিছুটা এগিয়ে দেখি পথের ধারে কিছু মানুষ বসে ভিক্কে করছে। আমি তাদের কাছে এগিয়ে গিয়ে কিছু পয়সা দিয়ে বলি,”স্বাধীনতা দিবসের অনেক শুভেচ্ছা।” তারা একটু অবাক হয়ে বলে,”বাবা, যারা দুবেলা স্বাধীন ভাবে খেতে পায় না। একবেলা পেট ভরে খেলে যদি ওই বেলা আর খাওয়ায় বেচে না থাকে সেই ভেবে আধ পেটা খেয়েই থাকে, তাদের আর কি স্বাধীনতা বাবা? তোমার কাছে যদি এমন স্বাধীনতা থাকে যেটা দিয়ে দুবেলা খেতে পাবো তবে আমায় দিয়ে যাও না বাবা। দুদিন ধরে ঠিক করে খেতে পাই নি।” আমার চোখে এবার জল এসে যায়। আমি কিছু না বলে যতটা পারতাম সাহায্য করে সেখান থেকে ছুঁটে পালিয়ে আসি।

কিছুদূর গিয়ে একটা বৃদ্ধাশ্রম চোখে পড়ে। আমি ছুটে গিয়ে বারান্দায় বসে পড়ি। একটা দিদা এসে আমার কাছে বসে। আমি বলি,”আচ্ছা দিদা..তোমরাও কি পরাধীন?তোমরা তো বেশ আছো কোনো চিন্তা নেই, কোনো ভাবনা নেই।” দিদা হেসে বলে,”আমরাই যে সব থেকে পরাধীন বাবা। আজ চাইলেও আমরা পারি না আমাদের সন্তানদের দেখতে। আমাদের এই আবছা দৃষ্টিতে তারা ধরা দেয় না রে আর। প্রত্যেকটা দেওয়াল সাক্ষী আমাদের এই করুন অসহায় মমতার। আর ভেজা চৌকাঠ জুড়ে জমতে থাকে অমোঘ অপেক্ষা।” আমি দিদাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলি, চিৎকার করে কাঁদি।

Bengali Love Quotes – ১০০০+ মহান ব্যক্তিদের ভালোবাসার উক্তি

Short Story in Bengali 

তারপর কিছু না বলে দৌঁড়ে পালিয়ে যাই। এরপর আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারি নি। পাগলের মত ছুটতে থাকি আর সময়ের সমস্তটা ঘাঁটতে থাকি এই ভেবে যে যদি কোথাও সেই আবেগী আবির খুঁজে পাই। যদি কোথাও আমার অস্তিত্ব সামান্য হলেও থাকে। কিন্তু অবশেষে না পেয়ে ক্লান্ত হয়ে একটা গাছের ছায়ায় এসে দাঁড়াই। দাঁড়িয়ে হন্তদন্ত হয়ে আমার ঝোলা হাতরে দেখি, এতটা পথ হেঁটে শুধু নিরাশা, মৃত ইচ্ছে, ছন্নছাড়া স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নেই। আমি হতাশ হয়ে নিজেকেই প্রশ্ন করি,”আচ্ছা, তবে আমার অস্তিত্ব কোথায়?”, আমি কোনও উত্তর পাই না। বুঝি, আজ আমার অস্তিত্ব পরিস্থিতির চাপে সমাজচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছে। বড্ড অসহায় হয়েই হয়ত তারা গা ঢাকা দিয়েছে সমাজের কোনও অজানা নামহীন পাড়ায়। “তবে আমার ইচ্ছেগুলো? সেগুলো কি আর পূর্ণতা পাবে না?” হ্যাঁ, আমি জানি সব ইচ্ছে পূরণ হয় না। কিন্তু কিছু ইচ্ছে এমন থাকে যা অস্তিত্বের মেরুদণ্ডকে বড্ড বেশি আঁকড়ে ধরে বাঁচে। তেমনই কিছু অপূর্ণ ইচ্ছেরা পূর্ণতার আশায় কাটিয়ে দেবে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর হয়ত কেটে যাবে আস্ত একটা সময়কাল।

আসলে মানুষ আজকে বাঁচতেই ভুলে যায়, কালকে বাঁচার ইচ্ছেয়। আর কালকে বাঁচার পরিকল্পনায়, হারিয়ে ফেলে আজকে বাঁচার  স্বাদ। তাই হয়ত এই স্বাধীনতার সংজ্ঞায় মানুষ আমাকেই খুঁজতে ভুলে যায়। তাইতো আমি তাদের এত্ত চেনা হয়েও খুব অচেনা হয়েই রয়ে গেছি।একটা গরম নিঃশ্বাস বেরিয়ে আসে আমার ভেতর থেকে। বুঝতে পারছি অদম্য ইচ্ছেগুলো পুড়ছে ভেতরে। কিন্তু আমিও যে আজ তাদেরই দলে, যাদের প্রতিদিন অসহায়তার মুখের গ্রাস হতে হয় বারবার।
নিজেকে হারিয়ে ফেলে কি বেঁচে থাকা যায় নাকি বেঁচে থাকাটা দায়?

সমাপ্ত


একুশ নম্বর ঘর
মোনালিসা চৌধুরী দাস
Short Story in Bengali
Short Story in Bengali
:এক::
বর্ধমান শহর থেকে দু- কিলোমিটার দূরে রাস্তার ধারে বেশ নিরিবিলিতে  বিশাল জায়গা জুড়ে আর অনেক উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা এই আশালতা মানসিক হাসপাতাল ।কলকাতার বিখ্যাত মানসিক রোগের চিকিত্সক  অনাদি রায় প্রায় তিরিশ বছর আগে নিজের   স্ত্রীর মৃত্যুর পর ওনার নামে এই মানসিক হাসপাতাল তৈরী  করেছিলেন  । তবে সাধারণ হাসপাতালের সঙ্গে এইরকম মানসিক রোগের  হাসপাতালগুলির কিছু পার্থক্য এখনও রয়ে গেছে ।একবার এই হাসপাতালে পেশেন্ট ভর্তি করে চলে গেলে তারপর তাদের বাড়ির লোকজনদের আর বিশেষ  পাত্তা পাওয়া যায়না ।অনেক মেন্টাল  পেশেন্ট আবার  পুরোপুরি সুস্থ হবার পরেও ওদের সেই পাগল মনে করে আর বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়না ।  মাস গেলে নামমাত্র কিছু করে টাকা দিয়ে সবাই নিষ্কৃতি পেতে চায় এদের থেকে । ব্যতিক্রম শুধু  আজ প্রায় কুড়ি বছর ধরে এই হাসপাতালে চিকিত্সাধীন একুশ নম্বর ঘরের পেশেন্ট চারুলতা ।
অন্য দিনের মতো আজও সকালের একটা খাবার  মুখে তোলেনি চারুলতা ।দেওয়ালের দিকে পিছন ফিরে একমনে সাদা কাগজে হিজিবিজি কেটে চলেছে সে ।
” এই পাগলি খাবারটা খাওয়ার জন্য তোকে কি এবার  নেমন্তন্ন করতে হবে নাকি??খাবারের থালাটা নিতে এসে চারুলতার উদ্দেশ্যে কথাগুলো বলল সুমিতা ।
এই হাসপাতালে সাতদিন হল নতুন কাজে জয়েন  করছে সে ।
কথাগুলো কানে যেতে ডাক্তার অনাদি রায় সুমিতা কে কাছে ডেকে  বললেন
” তুমি জানো উনি কে ?
কি ওর পরিচয়?
আমাদের সময়ের স্বনামধন্য লেখিকা উনি
 চারুলতা সেন ।”



Short Story in Bengali

 :: দুই::

কফি মগটা হাতে ধরে ড্রয়িংরুমে এল চারুলতা । সেন্টার টেবিলে রাখা সাহিত্য জগতের নতুন লেখিকা কমলকলির সদ্য প্রকাশিত বইটা একবার দেখে নিয়ে তাচ্ছিল্যের সঙ্গে সে বলল
 ” ডিজ্গাস্টিং ,দু দিনের উঠতি লেখিকা আমাকে চারুলতা সেন কে টক্কর দেবে ? জাস্ট ইম্পসিবল!!
পাশের ঘর থেকে জয়ন্ত বলল  ” ভুল করছ চারু ।এর লেখা অন্যদের থেকে একেবারে আলাদা ।বই ছুঁড়ে ফেলে না দিয়ে একবার পড়ে দেখ।মেয়েটার লেখনীতে একটা অদ্ভুত ব্যাপার আছে, কি সাংঘাতিক ধার লেখার!!
” জাস্ট সাট্ আপ জয়ন্ত ।চারুলতা সেন কোনও এলেবেলে পাতি লেখা পড়েনা যদি পড়তে হয় তবে তুমি পড়।এত বছরে অনেক লেখিকাদের দৌড় দেখলাম কিন্তু চারুলতা সেন বেস্ট ছিল এবং থাকবে ।অহংকারের সুরে কথাগুলো বলে সটান বাথরুমে ঢুকে গেল চারুলতা ।সুন্দরী চারুলতার
বয়স পঞ্চাশের কোঠায় তবে নিজেকে মেন্টেন করেছে সে সুনিপুণ ভাবে ।লেখিকা হিসেবে নাম অর্থ সবকিছু সে পেয়েছে ।এখন বালীগঞ্জে নিজস্ব বাড়ি গাড়ি ওর ।
অভাবের সংসারে জন্ম চারুলতার ।মাত্র আঠারো বছর বয়সে নিজের চেয়ে প্রায় বারো বছরের বড় ওর বাংলার শিক্ষক, যার হাত ধরেই চারুর লেখালেখির হাতেখড়ি তাকে ভালোবেসে ঝোঁকের মাথায়  বিয়ে করে সে ।তবে
এই বিয়ে টেকেনি বেশি দিন ।কয়েক বছরের মধ্যেই প্রথম  স্বামী কে ডিভোর্স দিয়ে সদানন্দ পাবলিশার্স এর মালিকের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধে চারু ।
Short Story in Bengali
কানাঘুষো শোনা যায় নিজের ভবিষ্যত সিকিওর করতে নাকি এই বিয়ে ।কারন ততোদিনে লেখালেখিটা পুরোদমে শুরু করে দিয়েছে সে। চারুলতার লেখা সব বই তখন ছাপা হতো সদানন্দ পাবলিশার্স থেকে ।এরপর
ধীরে ধীরে সাহিত্য জগতে নাম হতে থাকে চারুর ।একের পর এক পুরস্কার, সম্মান  চারুলতার ঝুলিতে ।পুজোসংখ্যায় ওর লেখা পাওয়ার জন্য বাড়ির  দোরগোড়ায়  তখন পাবলিশার্স দের লম্বা লাইন ।
নিজের লেখার মধ্যে বৈচিত্র্য আনতে তখন চারুলতা একাকী কখনও সাগর পাড়ে আবার কখনও পাহাড়ের নির্জনতায় সময় কাটাচ্ছে ।আর শোনা যায় ঠিক এইরকম একটা সময় সুদর্শন মামুলি মানের লেখক জয়ন্তর সঙ্গে আলাপ লেখিকা চারুলতার ।প্রথমে আলাপ তারপর প্রেম ।
সে অর্থে সংসারী চারুলতা  কোনও দিনই ছিলনা ।তাই যা হবার তাই হলো ।দ্বিতীয় বিয়েটাও টিকল না ভেঙে গেল ।
 এরপর জয়ন্তর সঙ্গে একসাথে থাকা শুরু করে চারুলতা ওর এই বালীগঞ্জের বিশাল  ফ্ল্যাটে ।
একবার এক সাক্ষাত্কারে চারুলতা কে বলতে শোনা গেছিল  এই বৈচিত্র্যময় জীবনই নাকি তার লেখার রসদ । সাদামাটা জীবন, সংসার, স্বামী , সন্তান এসব নিয়ে আর যাই হোক বড় লেখিকা হওয়া যায়না ।
এর জন্য প্রয়োজন নারী পুরুষের প্রেম তাকে ঘিরে  আবেগ , মোদ্দা কথা সম্পর্কের ব্যাপ্তি ।



Choto Golpo

 

::তিন::
” মা, রে এবার খেয়ে নিবি আয়।ঘড়িতে দেখেছিস কটা বাজে “?
” আসছি বাবা, আর দু লাইন ব্যাস তাহলেই শেষ ” ।
মেয়ের অপেক্ষায় না থেকে শুভময় নিজেই ভাত মেখে থালা হাতে দাঁড়ালো এসে জানলার কাছে লেখার টেবিলের পাশে ।
খাওয়াতে খাওয়াতে  চলল রোজকার মতো  বাবা মেয়ের গল্প ।
” জানিস তো রে মা, তোর
 মা ও ঠিক এমনই ছিল তোর মতো লেখা পাগল, লিখতে লিখতে  কতদিন এমন হয়েছে যে নাওয়া খাওয়া ভুলে সে লিখেই  চলেছে ।দিন পেরিয়ে রাত হয়েছে আবার রাত পেরিয়ে দিন হয়েছে কিন্তু ওর লেখা থামেনি ” ।  কথাগুলো লেখার টেবিলের ওপর গুছিয়ে রাখা চারুলতার লেখা  বইগুলোর দিকে তাকিয়ে ছলছলে চোখে বলল
 শুভময় ।
” ওই মহিলা আমার মা নন,উনি শুধুমাত্র একজন স্বনামধন্য লেখিকা চারুলতা সেন ।যার লেখা বই পড়ে আমি বড়ো হয়েছি ।যাকে চিনেছি জেনেছি ওই সাদা পাতার উপর ছাপা কালো অক্ষর গুলো থেকে ।যে নিজের ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনে  একের পর এক মানুষকে শুধুমাত্র  ব্যবহার করে গেছে তিনি আর যাই হোক আমার মা নন । তুমিই  আমার সবকিছু বাবা “
এই বলে শুভময়ের গলা জড়িয়ে ধরল লেখা ।
 শুভময় এবং চারুলতার একমাত্র সন্তান লেখা ।ভালো করে নিজের মায়ের কথা মনেও পড়েনা  ওর, কারন লেখার যখন সাড়ে তিনবছর বয়স তখন বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যায় চারু ।এখনও শুভময়ের কানে বাজে চারুর বাড়ি ছেড়ে চলে যাবার আগের শেষ  কথাগুলো
 ” এই অভাবের সংসারে বেশি দিন থাকলে আমি পাগল হয়ে যাব শুভ ,সংসারে ঘানি টানতে টানতে এই জীবনটা আমি শেষ করে দিতে পারবনা তাই আমি চলে যাচ্ছি ” ।মেয়ে লেখার ছোট্ট হাতে টেনে ধরে থাকা নিজের শাড়ির আঁচল কে ছাড়িয়ে নিয়ে বেরিয়ে গেছিল চারু ।আর কোনও দিন পিছনে ফিরে তাকায়নি সে ।নিজের স্বামী মেয়ে কেমন আছে আদৌ বেঁচে আছে কিনা  সেটা জানারও চেষ্টা করেনি কখনও ।

Short Story in Bengali 

::চার::
 এইভাবে কেটে গেছে মাঝে কটা বছর ।অসংযত জীবন যাপনে অভ্যস্ত চারুলতার সাহিত্য জগতে নাম যশ প্রতিপত্তি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে ।
একদিন যার লেখা বই তাচ্ছিল্যের সঙ্গে সরিয়ে দিয়েছিল চারু আজ নিজের লেখনীর জোরে সেই কমলকলি সকল সাহিত্য প্রেমীর মনে নিজের জায়গা করে নিয়েছে ।
 এই বছরের সাহিত্যের সেরা পুরস্কার পেতে চলেছে লেখিকা কমলকলি ফোনে খবরটা চারুলতা যখন পেল তখন সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আলমারি থেকে  একবার নীলচে জামদানি  একবার গোলাপি বালুচরি আর একবার সবজে কাঁথাস্টিচ গায়ে ফেলে দেখতে  ব্যস্ত ছিল । কালকের  পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রতি বছরের মতো এইবছরেও শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার হাতে ওকে কোন শাড়িতে বেশি আকর্ষণীয় লাগবে তাইজন্য ।কিন্তু খবরটা পাবার পর প্রচন্ড রাগে চিৎকার করে সমস্ত শাড়ি ছুঁড়ে ফেলে দেয় চারুলতা ।
এদিকে দুদিন পরে সাহিত্যের সেরা পুরস্কার হাতে বাবা শুভময় কে পাশে নিয়ে লেখিকা কমলকলির প্রথম  ছবি বের হয় সমস্ত নিউজ পেপারে ।আর এই সত্যটি জানতে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি চারুলতা কে,যে সাহিত্য জগতে লেখার ছদ্দনামই  হল কমলকলি আর এই কমলকলি হল ওর এবং শুভময়ের একমাত্র সন্তান ।নিজের মেয়ের কাছে এইভাবে পরাজিত হয়ে অহংকারী চারুলতা ক্রমশ যেন   উপলব্ধি করতে থাকে নিজের ভুলগুলো  ।
একদিন যে দুধের শিশুকে ফেলে রেখে সে বেরিয়ে পড়েছিল সুখের খোঁজে আর সেই  সুখ সাচ্ছন্দ খুঁজতে গিয়ে সম্পর্ক ভাঙা গড়ার খেলায় মেতেছিল সে কিন্তু এই খেলায় আজ সে পুরোপুরি ভাবে নিঃস্ব ।
নিজের অংশ নিজের সন্তানের  কাছে এই পরাজয় মেনে নিতে পারেনি চারুলতা ।এই ঘটনার পর লেখা বন্ধ করে দেয় সে প্রায় ঘরবন্দি করে ফেলে নিজেকে ।বহু দিনের সঙ্গী জয়ন্ত ফিরে যায় নিজের আগের স্ত্রীর কাছে ।এরপর মানসিক ভাবে পুরোপুরি  ভেঙে পড়া চারুলতা নেশার পরিমাণ আরও  বাড়িয়ে দেয় ।
তবে শোনা যায় নিজের প্রথম স্বামী শুভময়ের হঠাত্ মৃত্যুর খবর পেয়ে নেশার ঘোরে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় একটা দুর্ঘটনায় মাথায় চোট পায় সে ।আর এরপর  মানসিক ভারসাম্য হীন হয়ে তার ঠাঁই হয় এই মানসিক হাসপাতালের একুশ নম্বর
 ঘরে ।
Short Story in Bengali
::পাঁচ::
কথা শেষ করে নিজের কাজে মন দেয় অনাদি বাবু ।
একটা গাড়ির আওয়াজে দোতলার জানলা দিয়ে উনি দেখেন কুড়ি বছর ধরে
প্রতি সপ্তাহের মতো আজও এই যুগের স্বনামধন্য লেখিকা জ্ঞানপীঠ পুরস্কারে সম্মানিত  কমলকলি, হাসপাতালের গেট দিয়ে ঢুকে সোজা সিঁড়ি বেয়ে ওপরের  দক্ষিণের একুশ নম্বর ঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় আর সজল চোখে  অস্ফুটে ডেকে ওঠে
 মা ।।।



সমাপ্ত

রোববার

সুব্রতা দাশগুপ্ত

Short Story in Bengali
Short Story in Bengali

 

ভানুর আব্দারেই গল্প বলা শুরু। কিন্তু সব গল্প তো আর ছয় বছরের ছেলেকে বলা যায়না! তাই এখানে …” -সুব্রতা

কাল রোববার। আজ থেকেই সাথী প্ল্যান করে রেখেছে কাল সারাদিন রিল্যাক্স করবে। অফিস ফেরৎ বিগ বাজার থেকে কফি, গুঁড়ো দুধ, নানাবিধ বিস্কুটের প্যাকেট, চিপ্‌স্‌, ম্যাগি ন্যুডলস্‌, রেডি-টু-কুক পালক পনীর, নানারকম সস আরো সব হাবিজাবি খাবারদাবার কিনে ঘর ভর্তি করেছে। অনেকদিন পর রোববার বাড়িতে কেউ থাকবে না আর তাকেও কোথাও যেতে হবে না। নিশ্চিন্ত।

সাথীর বাড়ি বোলপুর। কলকাতায় আছে এম.এ. পড়ার সময় থেকে। তখন তো শ্যামবাজারের কাছে এক জায়গায় পেয়িং গেস্ট হয়ে ছিলো। ফলে নিয়মের মধ্যেই থাকা। রাত আটটার মধ্যে বাড়ি ফিরতে হোত। সকালে দেরী করে উঠলে আর ব্রেকফাস্ট পাওয়া যেত না। আরো নানারকম নিয়মের কড়াকড়ি ছিল।

সে সব দিন এখন গেছে। সাথী এম.এ. পাশ করেছে। ভদ্রগোছের একটা চাকরিও পেয়ে গেছে। সেকটর ফাইভে অফিস। বাবা রিটায়ার করে নিউটাউনে একটা ছোট ফ্ল্যাট কিনেছেন। যদিও বোলপুরের পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে কারুরই কলকাতায় আসার ইচ্ছা নেই। তাছাড়া সাথীর মেজদিও বোলপুরে থাকে, স্কুলে পড়ায়। তার ছেলেটাও দিনের বেলা মার কাছে থাকে। তাই ফ্ল্যাটটা খালিই পড়ে ছিল। চাকরি পাওয়ার পর থেকে সাথী ঐ ফ্ল্যাটেই থাকছে। খালি ফ্ল্যাট ফেলে রাখার তো কোনো মানে নেই। ব্যাপারটায় বাবা-মার আপত্তি ছিল। একা একা থাকা। সাথী আমল দেয়নি। সে একা একা স্বাধীনভাবে থাকতে চায়। আসলে বাবা-মা-ঠাকুমা দুই দিদির মাঝখানে সাথীর কোনো দিন একা থাকা হয়ে ওঠেনি। এই শখ তার অনেকদিনের। সাথী ছোট থেকেই একটু জেদি আর আহ্লাদী গোছের। তার ওপর এম.এ. পাশ করে পট্‌ করে একটা চাকরিও পেয়ে গেছে। তাই তার ওপর কেউ আর বিশেষ জোর করতে পারেনি।




Short Story in Bengali

কিন্তু একা থাকার কি যো আছে? সাথী চাকরি পেয়েছে মাস তিনেক হোল। প্রথম মাসটা তো মা এসে ছিলেন। কারণ তখন মেজদির স্কুল ছুটি ছিল। তারপর কোথা থেকে একজন মহিলাকে যোগাড় করে ফেললেন। তিনি সোম থেকে শুক্র থাকবেন। শনি-রবিবার থাকতে পারবেন না। ফলে দ্বিতীয় মাসটা – নয় মা শনিবার চলে আসতেন, না হয় সাথী বোলপুর যেত। এ মাসে বাবার শরীরটা একটু বিগড়োতে মা আর আসতে পারছেন না। কিন্তু তাতে কি? ভবানীপুরে সাথীর ছোটপিসি বলেই দিয়েছে মা না আসলে বা সাথী বোলপুর যেতে না পারলে ভবানীপুরেই থাকতে হবে। ও বাড়িতে বিশাল গ্যাঞ্জাম। প্রচুর লোক, জয়েন্ট ফ্যামিলি, ঘর কম। সাথীর খুব বিরক্ত লাগে। এদের সব মাথা খারাপ, একা থাকলে যে কি সমস্যা সাথী বুঝতে পারে না। একটা হাউসিং কমপ্লেক্সের মধ্যে ফ্ল্যাট। এতগুলো সিকিওরিটি, ফ্ল্যাটে কোল্যাপসিবল গেট, বারান্দায় গ্রিল – আর কি চাই? সাথীর অফিস যাতায়াতও খুবই নিরাপদ। অফিসের গাড়ী সকালবেলা বাড়ির সামনে থেকে তোলে আবার রাত আটটার মধ্যে পৌঁছে দেয়। শনিবার আগে ছুটি বলে সাথী আর গাড়ির জন্য অপেক্ষা করে না। এর মধ্যে বিপদটা কোথায়? সে কথা আর কাকে বোঝাবে?

এই শনি-রবিবারটা যে কি ভাগ্য করে ফাঁকা পেল তা সাথীই জানে। আসলে যে মহিলা সারা সপ্তাহ থাকেন তিনি বলেছিলেন এই শনি-রবিবার বাড়ী যাবেন না। মা, পিসি সবাই তাই জানত। কিন্তু হঠাৎ-ই তার খুড়শ্বশুর দেহ রাখায় বাড়ি থেকে ফোন এসেছে যেতে হবে। সাথী মহানন্দে তাঁকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বেরিয়ে পড়তে বলল। মা ভাগ্যিস জানে না, জানানোর দরকারও নেই। মাকে জানাতে বারণ করে দিল সাথী, অকারণ চিন্তা বাড়িয়ে লাভ নেই। মা হয়তো শুনেই ট্রেন ধরবে।

Love Story in Bengali – ১০টি সত্য ভালোবাসার গল্প

Love Story in Bengali 

 

তিনটের সময় অফিস ছুটি হয়। সাথী আর রিমি বেরিয়ে পড়ল তাড়াতাড়ি। রিমির প্রচুর বিয়ে বাড়ির গিফট্‌ কিনতে হবে আর সাথী খাবারদাবার কিনবে। রিমির সাথে সাথীর ভালোই ভাব আছে, কিন্তু রিমির অনেক সমস্যা। আর সেই সব কাহিনী সাথীকেই শুনতে হয় – সেটাই মুশকিল। আজ আর এসব ভালো লাগছে না। বাড়ী ফিরে সাথী কি কি করবে এই ভাবনাতেই বুঁদ হয়ে আছে। বাকী ফ্ল্যাটটা মা ছবির মতো সাজিয়ে ফেলেছেন, শুধু সাথীর ঘরটাই বাকী। সাথী নিজের ঘর নিজেই সাজাতে চায়। চাকরি পেয়ে একটা বুক শেলফ্‌ কিনেছিল। কিন্তু বইগুলো এখনো স্যুটকেস থেকে বেরোয়নি। মেলায় গেলেই টুক্‌টাক্‌ ঘর সাজানোর জিনিস কেনা সাথীর অভ্যাস। সেই সব জিনিসও বাক্সবন্দী হয়ে পড়ে আছে। আজ তাড়াতাড়ি বাড়ী ফিরে রাত্তির অবধি ঘর গোছাবে সে। তারপর সিনেমা দেখতে দেখতে বা গান শুনতে শুনতে ঘুম দেবে। কাল সকাল এগারটার আগে উঠবে না।

বাড়ি ফিরতে ফিরতেই সাতটা বেজে গেল। রিমির গিফট্‌ কেনার শেষ নেই। সাথীকেও ছাড়বে না। বাড়ি এসে অবশ্য মনটা ভালো হয়ে গেলো। মহিলা বেশ কাজের। ঘরদোর গুছিয়ে রেখেছেন। টেবিলের ওপর বিকেলের জন্য পরোটা আর আলুর চচ্চড়ি, রাত্রের জন্য ক্যাসারোলে ভাত আর মুরগীর ঝোল করে রেখে গেছেন। এমন কি প্লেট, বাটি, চামচ, গ্লাস সব সাজিয়ে রাখা। মা যে এনাকে কিভাবে যোগাড় করল কে জানে! মার কাজের লোক জোগাড় করা আর তাদের ট্রেনিং দেওয়ার একটা বিশেষ ক্ষমতা আছে। সাথীদের বোলপুরের বাড়ীতে তিনজন কাজ করে বহুদিন ধরে। তাদের সাথী জন্ম থেকে দেখছে। দারুণ এফিসিয়েন্ট কিন্তু ওবিডিয়েন্ট – এরকম কম্বিনেশন সহজে পাওয়া যায় না। যাই হোক এ বাড়ীরটিও যে মার ট্রেনিং কোর্সের মধ্যে দিয়ে গেছেন সেটা বোঝা যায়। মহিলার নামটাই জানা হয়নি। ‘মাসি মাসি’ করেই কাজ চলে যাচ্ছিল। ইনি আবার লেখাপড়াও জানেন দেখা যাচ্ছে। ফ্রিজের দরজায় ম্যাগনেট আনারস দিয়ে চাপা দেওয়া একটা কাগজের টুকরোয় লেখা—“কাল সকালের দুধটা বন্ধ করা হয়নি নিয়ে নিও।” যাঃ গুঁড়ো দুধটা না কিনলেই হোত।




আজ আর বই গোছানো হবে না। রাতও হয়েছে, খিদেও পেয়ে গেছে। সাথী তাড়াতাড়ি হাত ধুয়ে খেতে বসল। মাকে ফোন করা হয়ে গেছে বিগ বাজার থেকেই। মাও বাড়ীর কথা জিজ্ঞাসা করেনি সাথীও একা থাকার কথা বলেনি। ফোনটা এখন থেকে সাইলেন্ট করে দিলেই হবে। একটু টিভি দেখলে হয়, অনেকদিন দেখা হয় না। খাওয়া সেরে সোফাতে শুয়ে শুয়ে টিভি দেখতে দেখতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে কে জানে। মাঝরাতে ঠাণ্ডায় ঘুম ভেঙে গেলো। তাড়াতাড়ি টিভি বন্ধ করে ঘরে গিয়ে লেপমুড়ি দিয়ে শুল। কাল রোববার, কি মজা! সারাদিন একা একা…।

সকাল সাতটায় প্রথম বেল বাজল। তিনবার বাজার পর সাথীর ঘুম ভাঙল। ঘুম চোখে দরজা খুলতে এসে দেখে রাত্রে দরজাই বন্ধ করা হয়নি। কোল্যাপসিবল গেটও খোলা। যাক্‌ গে বিপদ তো হয়নি কিছু। দুধওয়ালা বিরক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। “কতবার বেল মারব দিদি? মাসিমা নেই? দুধের বিলটা দেওয়া ছিল। টাকাটা দেবেন?” এক নিশ্বাসে বলে ফেলে লোকটা।

Read More Romantic Quotes Click Hare

 

Short Story in Bengali

– “কত টাকা?”

– “দেখুন না বিলটা। ওতেই আছে।”

বিল খোঁজা সাথীর কর্ম নয়

– “আমাদের কত টাকা হয়? আন্দাজে একটা বলুন না।”

– “থাক তাহলে মাসীমা এলেই দেবেন। এভাবে কি বলা যায়? আপনারা তো সারা মাস নেন না। থাক দিদি আপনি ঘুমিয়ে পড়ুন। আমি পরে নিয়ে নেব।”

সাথী হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। তাড়াতাড়ি সোজা লেপের মধ্যে ঢুকল।

সকাল আটটায় দ্বিতীয় বেল। সাথী এবার একবারেই জেগেছে।

– “ময়লাটা দেবেন?”

– “কি?” সাথী ভালো বুঝতে পারেনি।

– “ময়লা, ময়লা, ডাসবিন! মাসীমা নেই?”

– “না আমি দিচ্ছি।”

Short Story in Bengali

– “রান্নাঘরে দেখুন। ওখানেই থাকে।” এ দেখছি সব জানে। রান্না ঘর থেকে ডাস্টবিনটা বার করতেই ছেলেটা বলল—

– “আর একটা বাঁশের আছে বারান্দায়।”

– “বাঁশের না বেতের।”

– “ওই একই হোলো।”

সাথী আর কথা বাড়ালো না। খালি ময়লার বালতি গুলো যথাস্থানে রেখে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে ভাবল আর একটু ঘুমিয়ে নেওয়া যেতে পারে। সবে তো আটটা আর তো কেউ আসার নেই।

সকাল ন’টায় তিন নম্বর বেল।

“একটু জল দেবেন?” ঝাঁটা হাতে একটা ছেলে বিরক্ত মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

– “জল? খাবার জল?”

– “আরে দিদি, সিঁড়ি ধোবার জল। তাড়াতাড়ি দিন। এক বালতি হলেই হবে। দিন্‌ দিন্‌।”

কি তাড়া রে বাবা! যেন ঘোড়ায় জিন্‌ দিয়ে এসেছে।

Short Story in Bengali

ঘুমটা এখন পুরো কেটে গেছে। বাথরুম থেকে এক বালতি জল এনে দরজার বাইরে বসিয়ে দিলো সাথী। নিমেষের মধ্যে ছেলেটা জল ঢেলে দিলো সিঁড়িতে। কি পরিষ্কার করল কে জানে। খালি বালতিটা ঠক্‌ করে ঘরের মধ্যে রেখে দড়াম করে দরজাটা বন্ধ করে দিল। সাথী বুঝেছে এবার ঘুমের আশা ত্যাগ করতে হবে। সকাল থেকে গয়লা, ময়লা, ঝাড়ুদার এসে গেছে। আবার বেল। এবার খবরের কাগজ। এটার দরকার ছিলো। সাথী খুশী হয়ে ভাবল এবার এক কাপ কফি সহযোগে অনেক্ষণ ধরে কাগজ পড়বে।

হাত-মুখ ধুয়ে সবে এক কাপ কফি বানাতে যাবে আবার বেল।

– “দিদিভাই, মাসীমা নেই বুঝি?”

পাজামা-পাঞ্জাবী শাল পরিহিত এক ভদ্রলোক হাসি হাসি মুখে দাঁরিয়ে আছেন।

– “মা একটু বোলপুরে গেছেন। কি দরকার বলুন?”

সাথী মুখটা একটু হাসি হাসি করার চেষ্টা করে।

– “আসলে সরস্বতী পুজোর চাঁদাটা যদি দিয়ে দিতেন। বেশী দেরী তো নেই। মাসীমা জানেন। ওনাকে বলা আছে সব।”

– “কত দেব?”

– “হেঁ হেঁ দিদিভাই, মাসীমার সঙ্গে তো কথা হয়েই গেছিল। এবার আসলে ব্যাপক খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা থাকছে। ইলিশ মাছ-টাছ – এলাহি ব্যাপার।”

– “সরস্বতী পুজোয় ইলিশ মাছ?”

– “আরে ছেলেদের আবদার। আমাদের তো সবার কথাই রাখতে হয়। হেঁ হেঁ।”

– “কো-অপরেটিভ-এর মেইনটেনেন্সের মধ্যেই পুজোর চাঁদা ধরা থাকে না?”

– “আরে দিদিভাই, তাই দিয়ে কি আর এত দেবদেবীকে সন্তুষ্ট রাখা যায়? হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ।” হাসি আর থামেই না। সাথী তাড়াতাড়ি জিজ্ঞেস করে – “তাহলে কত দিতে হবে? মা কতো দেবেন বলেছিলেন?”

– “মাসীমার সঙ্গে তো পাঁচশো টাকার কথা হয়েছে। আমি বিলও কেটে এনেছি।”

– “পাঁচশ? আচ্ছা একটু দাঁড়ান নিয়ে আসছি।”




Short Story in Bengali

– “আরে দিদিভাই তাড়া নেই। আপনি ধীরে সুস্থে আনুন। আমি বসছি। মাসীমার সঙ্গে তো কত গল্প হয়। আপনার সঙ্গেই আলাপ হয় নি। আজ কেমন হয়ে গেলো। হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ।”

সাথী প্রমাদ গোনে। ইনি একবার বসলে সহজে উঠবেন না। যে তাড়াতাড়ি বলল—

“না না এক্ষুণি দিচ্ছি। আসলে এই উঠলাম তো। কোনো কাজই হয়নি।”

বলেই বুঝল কি ভুল করেছে।

– “দিদিভাইয়ের চা খাওয়া হয়নি নাকি? তাহলে এক কাপ হয়ে যাক্‌। শীতটা জমিয়ে পড়েছে।”

সাথী ক্ষীণ স্বরে শেষ চেষ্টা করে—

Short Story in Bengali

 

Bengali Jokes – ১০০০+ হাসির জোকস – হেসে পেট ব্যাথা হয়ে যাবে

 

– “চা তো আমি খাই না। কফি খাব।”

– “আরে দিদিভাই, শীতকালের সকালে এক কাপ গরম গরম কফি – ব্যাপক হবে।”

ইনি কথায় কথায় ব্যাপক বলেন আর – হাঃ হাঃ করে হাসেন।

সাথী আর কিছু বলার আগেই ভদ্রলোক ঘরে ঢুকে সোফায় জমিয়ে বসলেন। সাথী আর দেরী না করে কফির জল বসিয়ে টাকাটা আনতে গেলো। যত তাড়াতাড়ি এনাকে কফি খাইয়ে বিদায় করা যায় ততই মঙ্গল।

ভদ্রলোক আবার শুরু করলেন—

“দিদিভাই আপনারা কতদিন আছেন শান্তিনিকেতনে?”

– “শান্তিনিকেতনে না বোলপুরে।”

– “ওই একই হোল।”

এই কমপ্লেক্সের ঝাড়ুদার থেকে ফ্ল্যাটের মালিক সবারই “ওই একই হোল” বলার অভ্যাস। সাথী আর কথা বাড়ায় না। কফি নিয়ে টেবিলে রাখল। বিস্কুট দেবে কি না ভাবছে।

– “দিদিভাই, একটা বিস্কুট থাকলে দিন। আমি আবার শুধু কফি খেতে পারি না। অম্বল হয়।” এই রে। এবার অম্বলের কথা শুরু হলে আর রক্ষে নেই। তাড়াতাড়ি বিস্কুটের কৌটোটা এনে হাজির করে সাথী।

– “এই যে টাকাটা। আমাকে আবার একটু বেরোতে হবে।” ধাঁ করে মিথ্যে কথাটা মুখে এসে গেলো। তা না হলে এনাকে ওঠানো কঠিন।

– “আরে তাই নাকি? আগে বলবেন তো? আজও অফিস নাকি? সত্যি আপনাদের দারুণ খাটায় না? অল্প বয়সী মেয়ে পেয়েছে। তবে কফিটা আপনি ভালোই বানান। হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ।”

টাকাটা নিয়ে দরজার দিকে এগোলেন ভদ্রলোক।

Bengali Horror Story ( ভূতের সঙ্গে গল্পসল্প )

Short Story in Bengali

ঘড়িতে দশটা বেজে গেছে। স্নান করে নেওয়া যাক্‌। গিজারটা চালিয়ে বিছানাটা তুলে ফেলল সাথী। তোলা আর কি! পাতাই হয়নি ভালো করে। বাসনপত্র গুলোও ধুয়ে ফেলতে হবে। কাজ ফেলে রেখে লাভ নেই। আবার কাদের উপদ্রব শুরু হবে।

স্নানটা নির্বিঘ্নে সারা গেছে। তবে দুপুরে আর জাঙ্ক ফুড গুলো খেতে ইচ্ছা করছে না। রবিবার দুপুরে ভাত-মাংস – এতো কতদিনের অভ্যেস। কাল রাত্রের মুরগীর ঝোল আছে একটু আর ভাত করে নিলেই হবে। সবে চাল ধুয়ে বসিয়েছে – আবার বেল বাজল। সাথীকে কি কেউ শান্তিতে থাকতে দেবে না?

দরজার বাইরে সিল্কের শাড়ী, মাটির গয়না পরিহিত দুই মূর্তি, হাতে কতগুলো ফর্ম। এরা আবার কারা?

– “ম্যাডাম, ব্যস্ত? একটু সময় হবে?” যাক্‌ এরা অন্ততঃ সময় হবে কিনা জিজ্ঞাসা করেছে।

– “বলুন।”

– “আসলে আমরা এখানে একটা মেডিটেশন ক্যাম্প করছি। আপনি যদি একটু পার্টিসিপেট করতেন খুব ভালো হত। দেখবেন একটু আমাদের কাগজপত্রগুলো?”

– “আপনাদের সঙ্গেও কি মার কথা হয়েছে?”

– “না, না ম্যাডাম, আমরা আজই নতুন আসছি। এই কমপ্লেক্সে আগে আসিনি। একটু বসতে পারি?”

– “এই একটু রান্না করছিলাম। বলুন না।”

– “আমরা বেশী সময় নেব না ম্যাডাম, জাস্ট পাঁচ মিনিট। একটু বসি?”

সাথী নিরুপায়। বসতে দেওয়া ছাড়া গতি নেই।

– “এটা সাতদিনের কোর্স ম্যাডাম। সময়টাও খুব কনভিনিয়েন্ট। রাত আটটা থেকে। আপনাদের মতো ওয়ার্কিংদের জন্য আদর্শ। আপনাকে দেখেই মনে হচ্ছে আপনি খুব স্ট্রেস্‌ড্‌। আপনি কোর্সটা করে দেখুন। খুব উপকার পাবেন।”




Short Story in Bengali

সাথীকে স্ট্রেস্‌ড্‌ লাগছে? লাগলে আর দোষ কি? সকাল থেকে যা চলছে। মেয়েটি বলেই চলে –

– “কোর্স ফি-ও বেশী না। পার ডে একশ টাকা। এখন তিন দিনেরটা অ্যাডভান্স নিচ্ছি। বাকীটা ওখানে গিয়ে জমা দেবেন।”

এরা ধরেই নিয়েছে সাথী কোর্সটা করছে। কিন্তু সাথী এবার শক্ত হোল।

– “দেখুন আমি খুব সরি। এই কোর্সটা আমার পক্ষে করা সম্ভব না। আমার বাড়ি ফিরতেই আটটা হয়ে যায়। তারপর এত টায়ার্ড লাগে যে কোথাও যেতে ইচ্ছে করে না।”

– “এটাই তো সবার সমস্যা। আপনি একদিন কষ্ট করে আসুন। পরদিন দেখবেন আপনি আসার জন্য ছট্‌ফট্‌ করছেন। মেডিটেশন এমনই জিনিস। ক্লান্তিটান্তি সব হাওয়া হয়ে যাবে। কত কাজ করতে ইচ্ছা করবে, লাফাতে ইচ্ছা করবে। খিদে হবে, ঘুম হবে।”

সাথীর খুব খিদে পাচ্ছে, সঙ্গে ঘুমও। কিন্তু সে কথা এদের বলে লাভ নেই।

– “আচ্ছা ফর্মটা রেখে যান। আমি যদি যাই তাহলে ফিল আপ করে আপনাদের কাছে জমা দেব।”

– “আমরা তো আর আসব না ম্যাডাম। আজই জমা দেবার শেষ দিন। সব তো ভর্তিই হয়ে গেছে। এই কটা ফর্ম পড়ে আছে দেখুন।”

সাথী দেখেছে এক গোছা ফর্ম পড়ে আছে। এত বাজে কথা বলে না এরা।

– “আসলে আমার কাছে এখন টাকা নেই। তুলতে যাব যাব করে বেরোতেই পারছি না।”

– “ওঃ ম্যাডাম, তিনশো টাকাও হবে না?”

– “ছিলো তো। সকাল থেকে দুধের বিল, সরস্বতী পুজোর চাঁদা দিয়ে সব শেষ হয়ে গেলো। মাত্র একশ টাকা পড়ে আছে।” দুধের বিলটা যোগ করে সাথী।

মেয়েদুটির মুখ প্যাঁচার মতো হয়ে গেছে। ফর্মটা রেখেই যাবে স্থির হল। বিকেলের দিকে এসে নিয়ে যাবে। তার মধ্যে সাথী যেন অবশ্যই টাকা তুলে রাখে।

সাথী খেতে বসল বেলা দেড়টায়। ভাত আর রাত্রের মুরগীর ঝোল। ফ্রিজে টক্‌ দই ছিল। খাওয়াটা মন্দ হোল না। কিন্তু এবার কি হবে? বাড়িতে থাকতে ভরসা হচ্ছে না। বিকেল বেলা তো আবার মেডিটেশন পার্টি এসে হাজির হবে। আরও কত অজানা অচেনা বন্ধুর দল এসে হাজির হবে বলা যায় না। কাছেই সিটি সেন্টার টু। একটা সিনেমা দেখে আসবে? একা একা সিনেমা দেখতে যাওয়া ব্যাপারটা বোরিং। কারুর সাথেই কোনো প্ল্যান করা নেই। তার বয়সী কেউই রবিবার বিকেলে বাড়ী বসে রিল্যাক্স করে না। কোথাও না কোথাও চরতে বেরোয়। সাথীর কয়েকজন আঁতেল বন্ধুর একটা আঁতেল আড্ডার ঠেক আছে। সেখানে গেলে তারা খুশীই হবে। কিন্তু যাবে কেন?

Short Story in Bengali
Short Story in Bengali

Short Story in Bengali

হঠাৎ মনে পড়ল ফোনটা সেই কাল রাত থেকে সাইলেন্ট মোডে করা আছে। মা হয়তো অনেকবার ফোন করেছে। সে তাড়াতাড়ি দেখল। না, মার একটাও ফোন নেই। ব্যাপার কি? মা হঠাৎ এত নিশ্চিন্ত হয়ে গেলো কি করে? বলতে বলতে মার ফোন—

– “কিরে একা একা কি কি মজা করলি?”

– “তুমি জানো আমি একা আছি?”

– “হ্যাঁ, ঝর্ণা বলল তো ফোন করে। বলল তুই নাকি বলতে বারণ করেছিস? আর তুইও তো সন্ধ্যেবেলা ফোন করে কিছু বললি না? তোর মেজদি বলল, ও এত `একা থাকব’ একা থাকব’ করে। থাক্‌ না একটা দিন। কি আর হবে। ওকে আর ডিসটার্ব কোরো না। তা খুব মজা হয়েছে তো?”

– “মজার কি আছে?” সাথীর গলায় বিরক্তি।




 

bengali short stories by satyajit ray

 

– “না তাই বলছিলাম আর কি। রাত্রে দরজা ঠিক করে বন্ধ করেছিলি তো? না কি ভুলে গেছিস?” মা কি অন্তর্যামী? সাথী উত্তর দিল না।

– “কিরে কথা বলছিস না কেন? ময়লা টয়লা বার করে দিয়েছিস তো? নাকি জমিয়ে রেখেছিস? ঘরে খুব গন্ধ হবে কিন্তু। দুধ দিয়েছে তো? দুধের বিলটা ফ্রিজের মাথায় ছিলো, পেয়েছিস?” মার নানাবিধ প্রশ্ন।

– “আমি বিল-টিল খুঁজে পাইনি। পরে নেবে বলেছে। দুধ নিয়েছি তো। ময়লাও বার করেছি। সিঁড়ি ধোওয়ার জলও দিয়েছি। সরস্বতী পুজোর চাঁদাও দিয়েছি। পাঁচশ টাকা। তোমার সঙ্গে নাকি কথা হয়েছিল?”

– “ও স্বর্ণকমলবাবু এসেছিলেন?”

বাবা, নামের কি বাহার! স্বর্ণকমলবাবু।

– “হ্যাঁ সেই বাবুটিই মনে হয়। খুব কথা বলে আর হাসে। অসহ্য একদম।”

– “ইস্‌ তাহলে তো তোর সকালের ঘুমটা একেবারে মাটি হয়ে গেলো নারে? ময়লার বালতিটা রাত্রে বার করে রাখলি না কেন? তাহলে তো ভোর বেলা উঠতে হোত না।”

– “আর দুধটা কি করে নিতাম? লোকটা তো বিল বিল করে অস্থির। সেই জন্যও তো বেল দিচ্ছিল।”

– “দরজার বাইরে একটা বাজারের থলি ঝুলিয়ে রাখলে দুধের প্যাকেটটা তার মধ্যেই দিয়ে যায়। বুঝলি? আমি তো তার মধ্যেই একবার বিল আর টাকাটা কাগজে মুড়ে দিয়ে দিয়েছিলাম। এসব ব্যবস্থা না করলে ঘুম তো ভাঙাবেই সোনা।”

Short Story in Bengali

– “তা এসব আমাকে আগে বলে দিলেই হোত। তুমি তো জানতে আমি একা থাকব।”

– “আমি তো বলার জন্য ফোন করছিলাম। মেজদি বারণ করল। কি করব বল?”

মেজদির ওপর খুব রাগ হচ্ছে সাথীর। সব সময় সাথীকে জব্দ করার তাল।

– “রাগ করিস না। একা থাকার মজাও যেমন আছে, ঝামেলাও তো আছে? যাক, গে, বেরোবি না কি কোথাও?”

সাথী প্রথমে ভেবেছিলো পালাবে। এখন মত পালটেছে।

– “না বাড়িতেই থাকব। দেখি আর কে কে আসে? তুমি চিন্তা কোর না। আর মেজদিকে বোলো সকালে উঠতে হয়েছে, ঠিকই, কিন্তু সারাদিন বেশ মজাই হয়েছে।” কট করে ফোনটা কেটে দিলো সাথী।

বিকেল চারটে অবধি নির্বিঘ্নেই কাটল। এমনকি দুপুরে একটা সিনেমাও দেখে ফেলল।

সাড়ে চারটে নাগাদ আবার বেল। মেয়ে দুটির সাজগোজ একটু মলিন হয়ে গেছে সারাদিনের ধকলে। সঙ্গে, আবার দু’জন লোক – এই কমপ্লেক্সেরই বোধ হয়। তাদের অবাক করে এক গাল হেসে সাথী অভ্যর্থনা জানাল।

– “আসুন আসুন আপনাদের জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। বসুন বসুন। আপনাদের ঠিক চিনলাম না তো?” সাথী ভদ্রলোক দুটির দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে। আবার নিজেই উত্তর দেয় –

– “আসলে আমি তো সারাদিন বাড়িতেই থাকি না। তাই এখানকার কারুর সঙ্গে পরিচয় হয়নি। আজ সকলে শুধু স্বর্ণকমলবাবুর সাথেই যা আলাপ হোল।”

সাথী বলেই চলে –

Thakurmar Jhuli Golpo ( চাষা ও চাষাবউ )

Short Story in Bengali

– “আমি খুব দুঃখিত জানেন। আপনাদের কোর্সটা করতে পারব না বলে। আমার খুব ইচ্ছা ছিল। সত্যি আমরা সবাই খুব চাপের মধ্যে থাকি। আপনারা যে এরকম একটা উদ্যোগ নিয়েছেন সেটা দেখেও ভালো লাগছে।”

মেয়েদুটি কিছু একটা বলার জন্য হাঁ করতেই সাথী আবার শুরু করে –

– “আসলে আমি না বাড়ি ফিরে খেয়ে দেয়েই ঘুমিয়ে পড়ি – এটা আমার ছোটবেলার অভ্যাস। এখনো রয়ে গেছে। রাত আটটায় বাড়ি ফিরি। খুব খিদে পায়। খেয়ে নি। তারপরই ঘুম। কখনো কখনো ঘুম ভাঙে, কখনো ভাঙেই না। তখন কেউ যদি আমায় জোর করে জাগাতে যায় তাহলেই খুব বিপদ। সব বমি হয়ে যায়।”

– “সে কি?” চারজন সমস্বরে বলে ওঠে।




– “হ্যাঁ দেখুন না। মা তো প্রথম প্রথম বুঝতে পারত না, ডেকে ফেলত। আর ব্যাস্‌! সেই রাত্রে বমি টমি পরিষ্কার করে একাকার কাণ্ড। কি বিপদ হবে বলুন তো আপনাদের ওখানে মেডিটেট করতে করতে যদি ঘুমিয়ে পড়ি? আপনারা তো কেউ আমায় তুলতেই পারবেন না। এই জন্যই বলছি, আমাকে আপনাদের ক্লাসে ভর্তি হতে বলবেন না। সবাই কে তো এসব বলা যায় যায় বলুন?”

এতক্ষণে মেয়ে দুটির মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। বাবু দুটিও অন্যদিকে তাকিয়ে আছেন। সাথীর বক্তৃতায় কাজ দিয়েছে। সে আবার শুরু করে –

– “আজ যেমন আমার অফিস ছিলো না। আজ আবার তাড়াতাড়ি ঘুম পেয়ে যাবে। আজ সন্ধ্যের পর এ বাড়িতে কেউ এলে খুব মুশকিল হয়ে যাবে। এই জন্যেই আমি কখনো একা থাকি না জানেন তো?”

এতক্ষণে একটি বাবু মুখ খুলেছেন –

– “তাহলে আপনি একা থাকলে কারুর না আসাই ভালো।”

– “সে তো বটেই। বিশেষ করে বিকেলের পর। দয়া করে সবাইকে একটু বলে দেবেন, হ্যাঁ।”

– “নিশ্চই, নিশ্চই। তাহলে এবার আমরা উঠি। আপনার আবার ঘুমের সময় হয়ে যাবে।”

– “আরে না না, এখনি কি? বসুন না একটু কফি খাবেন?”—

– “না না, আমরা উঠব।” মেয়ে দুটি চট্‌ পট্‌ কাগজপত্র গুছিয়ে নেয়। সাথী ভদ্রতা করে ওদের দরজা অবধি এগিয়ে দিল।

Bangla Bhuter Golpo (নরক এক্সপ্রেস) -বাংলা ভূতের গল্প

Short Story in Bengali

– “ম্যাডাম, একটা কথা বলব? কিছু মনে করবেন না তো?”

একটি মেয়ে দরজার মুখে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করে।

– “না না, মনে করব কেন? বলুন না।”

– “না মানে, বলছিলাম কি, আপনার দরজার বাইরে একটা কাগজে “বমি হইতে সাবধান” লিখে ঝুলিয়ে দিলে ভালো হয়, তাই না? বিশেষ করে ঘুমোতে যাবার আগে। তাহলে আর কেউ আসবে না।”

– “ঠিক বলেছেন। সেই রকমই একটা কিছু করতে হবে। থ্যাঙ্ক ইউ। বাই বাই।”

নিজের সম্পর্কে এরকম একটা গল্প বানিয়ে সাথী খুব উত্তেজিত। তবে কাগজ ঝোলানোর আর দরকার হবে না। এ গল্প বাতাসে উড়বে। কুকুরে ভয় না থাকতে পারে কিন্তু বমিতে ভয় নেই – এরকম লোক বিরল। সাথী একা একাই কিছুক্ষণ হাসল। যাক আজ সন্ধ্যেটা শান্তিতে কাটানো যাবে – এটা নিশ্চিত। তবে তার আগে এই কথাটা একবার মেজদিকে জানানো দরকার। হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ ব্যাপক মজা হয়েছে।

সমাপ্ত

 মিলি

অভিজিৎ কুমার

Love Story in Bengali
Love Story in Bengali

আজ রথযাত্রা। সকাল থেকেই দিনটা বেশ ভেজা ভেজা। মাঝে মাঝে বৃষ্টি দেখা দিয়ে গেছে। কিন্তু বেশিক্ষন একভাবে থমকে দাঁড়ায় নি। খাওয়া দাওয়া সেরে একটু জিরিয়ে নিয়ে, অনির্বাণ বেরিয়ে পড়ে রথের মেলার দিকে। তার বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে বেশ বড়ো মেলা বসে এই রথযাত্রা উপলক্ষে। ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি হয়ে গেছে, তাই তাড়াতাড়ি পা চালাচ্ছিল অনির্বাণ। মেলার কাছে আসতেই সে বোঝে বেশ ভালোই জমে উঠেছে মেলা। দূর থেকেই মেলার উল্লাসে, উল্লাসিত বাতাসের স্পর্শ সে পেয়ে গেছিলো।

মেলার ভেতরে কয়েক পা এগিয়েই সে থমকে দাঁড়ায় একটা বাচ্চা মেয়েকে দেখে। ভারী অদ্ভুত লাগে তার। মেয়েটার বয়স খুব জোর পাঁচ থেকে ছয় হবে। এই বয়সে তো মেলা তাদের কাছে স্বর্গ সমান। কি করবে আর কি না করবে ভেবেই তো কুল কিনারা পায় না এই বয়সের ছেলে মেয়েরা। কিন্তু এই মেয়েটা একটা দোকানের কোণায় দাঁড়িয়ে এক মনে চেয়ে রয়েছে সেই রথের দিকে। চোখ দেখে মনে হচ্ছে দিনের সাথে সাথে তার মনটাও বড্ড ভেজা।
নিজেকে আর আটকে রাখতে না পেরে মেয়েটার কাছে এগিয়ে যায় অনির্বাণ। তার কাছে গিয়ে প্রশ্ন করে, “কি হয়েছে তোমার, এইভাবে একাএকা দাঁড়িয়ে কেন?”
মেয়েটা একটু ভয় পেয়ে, একটু দূরে সরে যায়। কিন্তু তার সেই ভয়ের মধ্যেও যেন একটা অবহেলিত আবদার লুকোনো রয়েছে।
অনির্বাণ তখন মেয়েটাকে কাছে টেনে মাথায় হাত বুলিয়ে বলে, “ভয় নেই। আমায় বল, কি করছো একাএকা? মা বাবা কোথায়?”
এইবার মেয়েটা একটু কাঁদো কাঁদো গলায় বলে, “আমি একাই এসেছি। আমার কেউ নেই।” বলেই সে কেঁদে ওঠে।
অনির্বাণের মনটা যেন এক অজানা আপনতায় কেঁপে উঠলো। সে মেয়েটাকে বলে, “আচ্ছা সেসব কথা পড়ে হবে। খিদে পেয়েছে তাইনা খুব? আমার কিন্তু খুব পেয়েছে।”



Sad Story in Bengali 

 

মেয়েটা মাথা নেড়ে হ্যাঁ বললে, অনির্বাণ তাকে একটা মিষ্টির দোকানে নিয়ে গিয়ে পেট ভরে খাওয়ায়।
খাওয়া শেষে অনির্বাণ জানতে চায় মেয়েটার কাছে যে তার কি হয়েছে। কেন সে এইভাবে একা একা ঘুরছে এখানে।
মেয়েটা তখন বলে,”আমার নাম মিলি। আমি কিছুটা দূরে একটা অনাথ আশ্রমে থাকি।”
শুনেই অনির্বাণ বলে, “কেন তোমার মা বাবা?”
মিলি একটু চাপা স্বরে বলে, “বাবা কে, তাতো আমি জানি না। তবে মায়ের কাছে শুনেছিলাম বাবা নাকি আমায় ভালোবাসে না।”
অনির্বাণ একটু আশ্চর্য হয়ে বলে,”আর মা?”
মিলি এবার যেন কেঁদে ফেলে। বলে,”মা তো আমার কাছেই ছিল। কিন্তু দুই বছর আগে এই মেলাতেই মা আমাকে ফেলে কোথায় যে চলে গেলো জানি না। আমরা মেলাতে এসেছিলাম। হঠাৎ মা বলে আমাকে ওই দোকানটার কাছে দাঁড়াতে আর মা নাকি আমার বাবাকে নিয়ে আসছে। তারপর মা আর আসে নি। আমি অনেক রাত পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকি। কিন্তু মা আসে নি। তখন কিছুজন আমায় নিয়ে ওই আশ্রমে যায়। কিন্তু আমি তারপর থেকে প্রতিবার মেলাতে চলে আসি। যদি মা আমাকে খুঁজতে আসে এই দোকানে। আসলে আমাকে খুঁজে না পেলে যে মা এর খুব চিন্তা হবে আর মন খারাপ করবে। আমি না মা এর কষ্ট একদম দেখতে পারি না।”
অনির্বাণ আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে নি। কেঁদে ফেলে নিঃশব্ধে। একটু লুকিয়ে চোখের জল মুছে সে বলে, “আচ্ছা কেমন দেখতে তোমার মা? কি নাম ওনার?” মেয়েটার মুখে যা শুনে, তারপর অনির্বাণ আর নিজেকে যেনো ধরে রাখতে পারছিল না।

Short Story in Bengali  

মেয়েটার মুখের কথা শেষ না করতে দিয়েই অনির্বাণ বলে,”আচ্ছা, তোমার এই নামটা কি মায়ের দেওয়া?”
মেয়েটা বলে,”হ্যাঁ। কিন্তু মা বলত এই নামটা নাকি আমার বাবার খুব প্রিয়। কিন্তু দেখো, আমি বাবার প্রিয় হলাম না। আর মাও আমাকে ছেড়ে চলে গেলো।”
সাথে সাথে অনির্বাণের সব কিছু চোখের সামনে ভাসতে লাগলো। আজ থেকে প্রায় ছয় বছর মতো আগে এই মেলাতেই দেখা হয়েছিল মিলির মায়ের সাথে অনির্বাণের। একদেখাতেই পছন্দ হয়ে গেছিলো অনির্বাণের অপর্নাকে, মানে মিলির মাকে। অপর্নারা গরীব ছিল।তাই দ্বাদশ শ্রেনীর পর আর তার পড়া হয় নি। অনির্বাণ তখন কলেজে। এটা অনির্বাণের গ্রামের বাড়ি। ওরা কলকাতাতে থাকে। ছুটি থাকলে আসে গ্রামের বাড়িতে। তাদের এই প্রেম যখন প্রায় বছর পেরিয়েছে, তখনই অপর্না তাকে বলে তার পেটে নাকি অনির্বাণের বাচ্চা। প্রথম দিকে সেতো ভীষণ ভয় পেয়ে অপর্নাকে বাচ্চাটা নষ্ট করতে বলে। কিন্তু অপর্না রাজি ছিল না। সে চেয়েছিল অনির্বাণের সাথে বাসা বাঁধতে। কিন্তু অনির্বাণের জন্য এটা একদমই সম্ভব ছিল না। অনির্বাণ কি করবে বুঝতে না পেরে মাকে সব খুলে বলেছিল। বাড়িতে তুমুল ঝামেলা হয়। না, অনির্বাণ কিন্তু ভারী অদ্ভুতভাবেই বার বার অস্বীকার করে গেছিলো বাচ্চাটাকে। সে বারাবার বলেছিল বাচ্চাটা তার না। তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। অপর্না চাইছে তাকে বিয়ে করে একটা ধনী দাম্পত্য হাতিয়ে নিতে। অনির্বাণের বাবা থানা পুলিশও করে। অনেক রকম জালিয়াতির মামলা করে অপর্নার পরিবারের নামে। আর দারিদ্রতার জন্য অপর্নার পরিবার মুখ থুবড়ে পড়েছিল সত্যের চৌকাঠে। পারে নি সেটা টপকে ভেতরে যেতে। প্রায় পুরো গ্রাম অপর্নাদের বিরুদ্ধে হয়ে গেছিলো। কিন্তু অপর্না হার মানে নি। সে হাজার বাঁধা, হাজার কথা শুনেও মিলিকে জন্ম দিয়েছিল। তার পরিবারও গ্রাম ছেড়ে চলে যায় মিলিকে আর তাকে একা রেখে। কোনো রকমে পেট চলছিল এই মা আর মেয়ের।




Bengali Detective Story – এই বছরের সেরা গোয়েন্দা গল্প

Short Story in Bengali

দরিদ্র ভাগ্যের কাছে হেরে যায় নি অপর্না। কিন্তু এই ভীষণ বাস্তবের কাছে বড্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল সে। তাইতো আগের আগের বার মেলাতে যখন অনির্বাণকে দেখে, সে তখন মিলিকে সেই দোকানে রেখে ছুটে গেছিলো তার কাছে একটা শেষ ভিক্ষা চাইতে। শুধু তার যথার্থ পরিচয়টুকু চেয়ে নিতে। যাতে করে মিলি একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ পায়। তার বাবাকে কাছে পায়।

কিন্তু সেই দিনও অনির্বাণ তাকে ঘুরিয়ে দেয় এইবলে যে তার পক্ষে সম্ভব নয়। সেইদিন অপর্না খুব কেঁদেছিল কিন্তু অনির্বাণ শুনে নি। হয়ত তার সেই প্রত্যাখ্যান কেড়ে নিয়েছিল তার লড়াই করার শেষ চেষ্টাটুকু। হয়ত নিঃশ্বাসের ভার আর বহন করতে পারে নি সে। তাই আজ সে ছুটি নিয়েছে এই শরীরের বাঁধন থেকে।

অনির্বাণের চোখ থেকে টপ টপ করে জল গড়িয়ে পড়তে থাকে। ভারী অদ্ভুতভাবে সেই ছোট্ট মিলি তার চোখের জল মুছিয়ে দিতে দিতে বলে, “তুমি কাঁদছো কেন? মা বলেছে আমরা তখনই খুশি থাকতে পারি যখন আমদের চারপাশের মানুষজন খুশি থাকবে। তাই তুমি কাঁদলে তো আমার আরো বেশি কষ্ট হবে।”
এই ছোটো মেয়েটা আজ কত সহজ করে বুঝিয়ে দিল এই কথাটা।
অনির্বাণ তখন চোখ মুছে মিলিকে কাছে টেনে নিয়ে বলে,”ঠিকই তো বলেছে তোমার মা। আমি কাঁদছি না। মা নেইতো কি হয়েছে আমি আছি তো। আমরা দুজন মিলে মা কে খুঁজবো। চলো তুমি আমার সাথে থাকবে। আমার পরিচয়ে তুমি পাবে পরিচিতি। মিলি নামটা নয় তুমিও আমার খুব প্রিয়।”
কথাগুলো বাচ্চা মেয়েটা হয়ত বুঝলো না। কিন্তু মুহূর্তটা সাক্ষী থেকে গেলো বাবা আর মেয়ের এই মধুর মিলনের।

সমাপ্ত

One thought on “Short Story in Bengali – কোথায় আমার অস্তিত্ব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *