Valobasar Golpo – কাউকে ভালবাসতে হলে এমন ভাবে ভালবাসতে হয়

Valobasar Golpo. You can read here Valobasar Golpo Today, we have gone a lot of distance from reading the storybooks. Because we don’t have sufficient time for going to the library and reading the storybooks In this age of the Internet. But, if we can read the story on this internet, then it is very interesting. So we have brought a few collections of Bengali story for you. Hope you will enjoy the stories in this busy lifestyle. In this post you will find the latest valobasar Golpo,  You can read here  Love Story, download  Bengali Love Story PDF, Hare you found top valobasar Golpo in Bengali. 




 

প্রেমের ফাঁদে আমরা কজন 

 

গার্গী মিশ্র

আমি রূপা, একজন মেডিকেল কলেজের সুডেন্ট। পাঠক, পাঠিকাদের আগেভাগেই জানিয়ে রাখি বাবা-মা শখ করে নাম রূপা রাখলেও এটা ভাবতে শুরু করবেন না প্লিজ যে আমি খুব রূপসী। সত্যিটা হল আমি কালো রঙের, রোগা পাটকাঠির মত দেখতে একটা মেয়ে। সে রূপ যেমন-ই হোক তা উপরওয়ালার সৃষ্টি তাই তাতে আমার ডোন্ট কেয়ার। দেবী সরস্বতী আমার আইডল। উনাকে আমার শতকোটি প্রণাম। এইমত এতদিন পড়াশোনা করে মেডিকেল কলেজে অ্যাাডমিশন পেয়েছি।
ফার্স্ট ইয়ার পেরিয়ে গেছে। রেজাল্টও মোটামুটি ভালো করেছি। আমরা কয়েকজন বান্ধবী–আমি,রুবিনা,প্রীতি, মৃন্ময়ী আর কোয়েল ; প্রতিদিন ফার্স্ট বেঞ্চে বসি। স্যার-ম্যামদের পড়ানো নোট করি,মন দিয়ে শোনার চেষ্টা করি,বোঝার চেষ্টা করি। শুনেছিলাম নতুন নতুন কলেজে ভর্তি হলে নাকি সবার মনে ডানা গজায়, তারা তখন প্রেমে হাবুডুবু খায় আর পড়াশোনা গোল্লায় দেয়। না আমার ক্ষেত্রে  কিন্তু  ফার্স্ট ইয়ারে সেরকম কিছুই ঘটেনি।ক্লাসমেটরা  প্রথম বর্ষে আমাকে একজন বই মুখো মেয়ে বলেই জানত। কিন্তু গোল বাঁধলো সেকেন্ড ইয়ারে উঠে।আমাদের পাঁচ জনের গ্রুপে প্রীতি আর কোয়েল  বেশ মর্ডান।



Valobasar Golpo

আর ওরা একটু দূর্বল  মনের মানুষ মানে ওই ছেলেদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে অল্পতেই।  ওদের আগেও দু’চারটে বয়ফ্রেন্ড ছিল স্কুল লাইফে।  কিন্তু আমি,রুবিনা আর মৃন্ময়ী কখনো প্রেম-ট্রেম করিনি।  রুবিনা সুযোগ পায়নি  কেননা ও পড়তো  মুসলিম মেয়েদের মিশন  স্কুলে।  আমার আর মৃন্ময়ীর দুর্ভাগ্য যে  আমরা পড়তাম আমাদের দুজনেরি বাবা যে স্কুলের টিচার ঠিক সেই স্কুলেই।   তাই কোন ছেলে পছন্দ করলেও ভয়ে বলতে পারত না। আমাদের পাঁচ বান্ধবীর  গ্রুপে হাসি,মজা খুনসুটি লেগেই আছে। প্রীতি আর কোয়েলের কাছে ওদের পুরানো রোমান্সের  গল্প শুনে শুনে আমাদের মনেও প্রেম করার একটা বাসনা জেগে উঠছিল ধীরে ধীরে।  আমরা ঠিক করলাম এবার একটা প্রেম করা দরকার।
Valobasar Golpo
Valobasar Golpo
Valobasar Golpo
চারিদিকে  কলেজ জুড়ে সবাই প্রেমের জোয়ারে ভাসছে আর আমরা পাঁচজন কিনা  শুকনো মুখে বসে থাকবো!  নাহ্ এটা হয় না,এ ভীষণ  অন্যায় !  যেমন ভাবা তেমন কাজ।রুবিনা আর কোয়েল ফেসবুকে অপরিচিত ছেলেদের সাথে ধীরে ধীরে হাই-হ্যালো দিয়ে  শুরু করে পটিয়ে ফেলল দুটো ছেলেকে। বাকি পড়ে রইলাম আমি,প্রীতি আর মৃন্ময়ী।  আমাদের বক্তব্য আমরা কলেজের ছেলেদের সাথে প্রেম করব,ওসব লং  ডিসটেন্স প্রেমে ঠিক জমবে না আমাদের।  কলেজ ক্যাম্পাসে চুটিয়ে প্রেম করতে চাই।  ধীরে ধীরে আমি পড়াশোনা থেকে সরে আসছিলাম। দেবী  সরস্বতীকে প্রায় ভুলতেই বসেছি। উনার বদলে এখন শ্রীকৃষ্ণ আর কামদেবের  নাম জপছি। এই রকমই এক মন উড়ুউড়ু দিনে আমাদের ক্লাস নিতে এল এম.ডি-র  এক দাদা।  নাম শৌণক সরকার ।কালো,লম্বা হাইটের,বয়স আঠাশের মেডিসিন ডিপার্টমেন্টের যুবক।  শৌণকদার  প্রথম ক্লাসেই আমি বোল্ড আউট হয়ে গেলাম। উফ্,শৌণকদা কি ভালো পড়ায় ! শুধু দাদার সাথে কথা বলবো বলে উত্তর জানা সত্ত্বেও খুব সহজ একটা প্রশ্ন করলাম।শৌণক দা খুব সুন্দর করে হেসে উত্তর দিলো।

Valobasar Golpo – Premar Golpo

আর সাথে সাথে  আমার মনে বেজে উঠলো প্রেমের ঘন্টা। ডিসাইড করলাম  প্রেম যদি করতেই হয় তবে এই দাদার সাথেই করবো। সেদিন সারা ক্লাসরুম জুড়ে মেয়েরা শৌণক দার দিকে কেমন যেন মন্ত্রমুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল। আমার বাকি দুই বান্ধবীরও একই অবস্থা।  ক্লাস শেষে দেখলাম ওরাও দাদার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।  না ওদের আর বলিনি যে  আমি শৌণক দার প্রেমে পড়েছি। আমার কেমন যেন ভয় হল।  এই প্রথম মনে হল ওরা আমার থেকে শৌণকদাকে  কেড়ে নিতে পারে,কেননা ওরা যথেষ্ট সুন্দরী।  তাই আর দেরি না করে সেদিন বিকালে ক্লাস থেকে ফিরে চুপিচুপি ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়ে দিলাম দাদার একাউন্টে।  কিন্তু রিকুয়েস্ট পাঠাতে গিয়ে দেখলাম শৌণক দা অলরেডি মৃন্ময়ীর ফ্রেন্ডলিস্টে বিরাজমান।  মনের সন্দেহটা আরো দৃঢ় হলো।  রিকুয়েস্ট পাঠিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম কখন নোটিফিকেশন আসে একসেপ্ট-এর।
https://youtu.be/C8ZxmBcARVA
আধাঘন্টার মধ্যেই ফেবুতে নোটিফিকেশন এল। ব্যাস আর দেরি না করে মেসেঞ্জারে  মেসেজ করলাম “হাই”।  হার্টবিট বেড়ে গেলো যখন দেখলাম শৌণক দাও অনলাইন আছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই রিপ্লাই এলো -“হ্যালো” ।  আমি লিখলাম -“আমি সেকেন্ড ইয়ারের রুপা, তোমাকে আজই মেডিসিনের  ক্লাসে কোশ্চেন জিজ্ঞাসা করেছিলাম। চিনতে পারছো ?”  দাদাও হাসির ইমোজি সেন্ড করে উত্তর জানালো হ্যাঁ সে আমাকে চিনতে পেরেছে। এমনি করে কথা বলতে বলতে ধীরে ধীরে বেশ জমে উঠলো আমাদের বন্ধুত্বটা। দুজনে সাবলীল হয়ে গেলাম খুব  অল্পদিনেই। ধীরে ধীরে  হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার আদান-প্রদানও হয়ে গেল। আমি হেব্বি খুশি। গোবিন্দের উদ্দেশ্যে বলেছি যে- “হে গোবিন্দ যদি শৌণকদাকে  আমি আমার বয়ফ্রেন্ড হিসেবে পাই তবে তোমাকে গোবিন্দভোগ চালের পায়েস রান্না করে খাওয়াবো।”   আজকাল সময় পেলেই বিজি থাকি চ্যাটিং-এ।  দেখলাম মৃন্ময়ী আর প্রীতি যে যার লাইফে বিজি। ওদের আর বেশি খোঁচালাম না ভাবলাম আগে প্রেমটা একটু জমিয়ে নিই  তারপরে ওদের সারপ্রাইজ দিয়ে জানাবো রিলেশনের কথা তখন না হয় ওদের লাইফের কথাও শোনা যাবে। কিছুদিনের মধ্যেই  শৌণকদাকে  প্রপোজ করে দিলাম।



Valobasar Golpo

দাদাও আমার প্রপোজাল একসেপ্ট করে নিলো। আমাদের প্রেমালাপ বেশ জমে উঠলো।  ফার্স্ট ডেট-এ শৌণক  আমাকে নলবন ডাকলো।বেশ সেজেগুজে নলবন চলে গেলাম নির্ধারিত দিনে। তারপর কিছুক্ষণ গল্প হল। আমার খুব লজ্জা লাগছিল। শৌণকদা  একসময় আমার ঠোঁটে ঠোঁট মিশিয়ে দিল। আমিও এই প্রথম কোন পুরুষালী উষ্ণ ঠোঁটের  ছোঁয়ায় হারিয়ে ফেললাম নিজেকে।  ডুবিয়ে দিলাম আমার ঠোঁট। চুম্বন পর্ব শেষে আমি আবারও লজ্জা পেয়ে যাচ্ছি দেখে শৌণক আমার হেজিটেশন দুর করতে আমাকে নিয়ে গেল একটা  রেস্টুরেন্টে। যাওয়ার পথে অনেক কথা হল ।
ও বলল যে আমাদের প্রেমের ছয় মাসের এনিভার্সারিতে  ও আমাকে নিয়ে ফটো দেবে ফেবুতে।এখন যেন আমাদের রিলেশনের কথা আমি পাবলিক না করি। আমিও ভাবলাম ঠিকই তো বলছে,যে ছেলের জন্য এত মেয়ে পাগল তার সাথে আমি প্রেম করছি জানতে পেরে যদি সবাই কাঠি করে আমাদের প্রেমটাকেই ভেঙে দেয় !  তারচেয়ে ও যা বলছে সেটাই শোনা ভালো। রেস্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়া সেরে আমরা যে যার হোস্টেলে ফিরে এলাম আলাদা আলাদাভাবে যাতে কেউ সন্দেহ না করে। এমনি করেই মাস তিনেক কেটে গেল। উষ্ণ চুম্বন থেকে শুরু করে আমাদের প্রেমটা এখন নলবনের ঝোপের আড়ালে ওই বাকি কাপলদের মত বায়োলজি প্রাক্টিক্যাল ক্লাস করতে শুরু করেছে।
Valobasar Golpo



বেশ চলছিল এভাবেই।  হঠাৎ একদিন মৃন্ময়ীর  রুমে যেতে দেখি ও চ্যাটিং করছে কারো সাথে। চুপচাপ পেছন থেকে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম,মৃন্ময়ী আমাকে দেখতে না পেয়ে একমনে চ্যাটিং করছিলো। দেখলাম অনেক   চুমুর ইমোজি পাঠাচ্ছে। এবার চেপে ধরলাম ওকে, জানতে চাইলাম যে কে এই ব্যক্তি যাকে ও এই সমস্ত ইমোজি সেন্ড করছে।  কে সেই  ব্যক্তি যে কিনা আমাদের  হবু জিজু !  কিছুতেই বলবে না ও, আর আমিও নাছোড়বান্দা ছাড়বো না কিছুতেই।শেষে মৃন্ময়ীর হার আর আমার জিত হল।  বেশ আগ্রহের সঙ্গে চ্যাটিং ঘাটতে গিয়ে দেখলাম এই নাম্বারটা আমার চেনা।  এই নাম্বারটা আর কারো নয় এটা শৌণকের নাম্বার ! আমার মাথায় যেন বাজ পড়লো,আমি চোখে অন্ধকার দেখলাম ।
জল বেরিয়ে আসতে লাগল  চোখ ফেটে ।আমাকে কাঁদতে দেখে ও তো হতভম্ব হয়ে গেল। সব কথা খুলে বললাম ওকে। জানালাম আমাদের প্রেমের কথা, নলবনের  কথা।  আমার মুখে সব কাহিনী শুনে ওরও চোখে জল।  তবুও বলল-” না আমি বিশ্বাস করি না তুই মিথ্যাও বলতে পারিস প্রমাণ দেখা আমাকে ।”  তখন বাধ্য হয়েই আমি আমাদের চ্যাটিং গুলো মৃন্ময়ীকে দেখালাম।  মৃন্ময়ী সবকিছু শিওর হয়ে রাগে দুঃখে অপমানে কাঁদতে লাগলো।   দুজনে মিলে ঠিক করতে পারছিলাম না কিভাবে শাস্তি দেবো শৌণককে।  তাই সব কথা খুলে বললাম আমাদের আর এক বান্ধবী প্রীতিকে। এই প্রথম  সারাক্ষণ হাসতে থাকা মেয়েটির মুখে অন্ধকার নেমে এলো।   ও যা জানালো তাতে আমাদের মাথায় আরো বড়সড় বাজ পড়লো।

  Love Story in Bengali

  ইদানিং নাকি প্রীতির সাথে
ভিডিও-চ্যাটিং করে শৌণক।  বুঝলাম কত বড় ফাঁদে আমরা জড়িয়ে পড়েছি তিন বান্ধবী। আর সাথে সাথে এটাও বুঝলাম যে শৌণক একটা আস্ত ঠকবাজ।  বুঝলাম শৌণক এর মত ছেলেরা শুধুমাত্র আমার মতো রূপা কিম্বা মৃণ্ময়ী  নয় হাজার হাজার এরকম রুপা-মৃন্ময়ীর সঙ্গে ও সুযোগ পেলে নলবন গিয়ে বায়োলজি প্রাক্টিক্যাল ক্লাস করে  আর প্রীতির মত মেয়েদের সাথে সুযোগ পেলে দুষ্টু ভিডিও চ্যাটিং করে। তিন বান্ধবী মিলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলাম এই ধূর্ত, ঠকবাজ শৌণক কে আমরা শাস্তি দেবোই। প্লান হলো শৌণককে  আমি  ডাকবো  নলবনে  আর তারপর  কিছুক্ষণ মধুর আলাপ করে  ওর আসল রূপ সামনে আনবো।
 ঠিক হল ঐদিন  আগে থেকেই মৃন্ময়ী  আর প্রীতি পৌঁছে যাবে নলবনে।ওরা কোথাও একটা লুকিয়ে থাকবে ।  আমি ওদের  মেসেজ  করে দিলেই ওরা এসে উপস্থিত হবে সামনে। তখন দেখবো শৌণক কি বলে !  আর আগে থেকে জানিয়ে রেখেছিলাম  বাকি দুই বান্ধবী কোয়েল আর রুবিনাকেও।  ওরাও আসবে ওই দিন ওদের পরিচিত বন্ধুদের সাথে নিয়ে যাতে আচ্ছা করে পেটানো যায় শৌণককে। আমরা আমাদের কলেজের দু-চারজন শুভাকাঙ্ক্ষী ছেলে বন্ধুদেরও জানিয়েছি ঘটনাটা। ওরাও আসবে সেই দিন। সবাই মিলে শৌণকের গণধোলাই হবে।   আসলে কি জানেন তো এই শৌণকদের মত  ছেলেদের আচ্ছা করে গণধোলাই দেওয়া উচিত যাতে এরা ভবিষ্যতে এভাবে অনেকগুলো মেয়ের জীবন নিয়ে খেলতে না পারে।
Valobasar Golpo

  চিন্তা করবেন না পাঠক-পাঠিকাগণ শৌণককে  গণধোলাই অবশ্যই দেওয়া হবে।   এই ছিল আমার আর  আমার দুই বান্ধবীর প্রেমের কাহিনী। এটাকে ঠিক প্রেম না বলে আপনারা ফাঁদও বলতে পারেন।  আসলে আমরা তিনজন বান্ধবী একসাথে একটা ফাঁদে পা দিয়েছিলাম । যাকে বলে প্রেমের ফাঁদ।  আপনাদের উদ্দেশ্যে আমার একটাই কথা প্রেম করবেন করুন চুটিয়ে প্রেম করুন কিন্তু তার আগে শিওর হয়ে নেবেন ছেলেটা বা মেয়েটা সত্যিই ভালো তো ?  আপনাকে ঠকাচ্ছে না তো ??
———-(সমাপ্ত)——–

বন্ধ্যত্ব – এক অভিশপ্ত নারীর গাথা

 এম ওয়াসিক আলি

Valobasar Golpo
Valobasar Golpo
যুগ যুগ ধরে আমরা শুনে আসছি – মেয়ে মাত্রই পরধন। প্রাকৃতিক নিয়মে যার
জন্ম, লালন-পালন, শিক্ষা দীক্ষা সব কিছুই পিতৃকুলে। কিন্তু বিয়ের পরই সব
কিছু ছেড়ে ছুড়ে স্বামীর হাত ধরে গৃহ ত্যাগ। বিবাহ–মেয়েদের জীবনের চরম
সত্য। মা-বাবা জন্মের পর থেকেই মেয়েকে আগলে রাখেন পাখির বাচ্চার মতো আর
সেই মেয়ে একদিন কোকিলের বাচ্চার মত সব মায়া মমতা ত্যাগ পরগৃহে চলে যায় ।
একদিন হঠাৎ করেই ২৪ বছরের অনিতার বিবাহ খুব ধুম ধামের সাথে সুসম্পন্ন হল।
বাড়ি সুদ্ধ সকল লোক জনকে কাঁদিয়ে, নিজে বিনা অশ্রু বর্ষণ করে হাসতে হাসতে
শ্বশুর বাড়ি পৌঁছে গেল। উপস্থিত সমস্ত আত্মীয়স্বজন অবাক হয়েছিল অনিতার
এহেন আচরণে। সকলেই অবাক! কারও কিছুই বোধগম্য হল না।পাত্র অনিতার কলেজের সিনিয়র। কলেজের সোনালি দিনগুলিতে অনিমেষকে লুকিয়ে
লুকিয়ে দেখত। ভালোলাগা ছিল, কিন্তু প্রেম? না সে কোনও দিনই ভাবে নি সে
বিষয়ে। কিন্তু অনিমেষ কলেজ জীবনে কোনও দিনই অনিতাকে লক্ষ করে নি। ভাগ্যের
কি খেল!সেই ভালোলাগার পাত্রের সাথেই রীতিমতো দেখাশোনা করেই বিয়ে
সুসম্পন্ন হল। অনিতা খুব খুশী।




 

Bengali Sad story

অনিতা কথাগুলো প্রথম দিকে কাউকে জানায় নি, বিয়ের প্রায় মাস খানেক পরে
সমস্ত ঘটনাবলি গুলো জেনে অনিমেষ খুব হেসেছিল এবং অনিমেষই অনিতার বাপের
বাড়িতে সকলের সামনে হাঁড়ি ভেঙেছিল। অনিতার খুব রাগ হচ্ছিল, কেনই বা বোকার
মত সব কিছু অনিমেষকে বলতে গেল।বিয়ের পর হাসতে খেলতে তিন তিনটি বছর অতিক্রান্ত হল। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে
ভালোবাসার কোনও খামতি ছিল না। একদিন সমাজের অলিখিত নিয়মে তারা মহা ফাঁফরে
পড়ে গেল।
https://youtu.be/LV87jhr8hw4

অতি বাস্তব প্রশ্নের সম্মুখীন। বাচ্চা-কাচ্চা কবে হবে বৌমা?

আমি কি নাতিপুতির মুখ না দেখেই কি চলে যাবো? ইত্যাদি ইত্যাদি…।

বিষয়টি নিয়ে তারা সেভাবে কিছুই ভাবে নি সুতরাং উভয়েই ভেবে দেখল এটাই
বাচ্চা নেবার সব থেকে উপযুক্ত বয়স। সন্তানকে লালন পালন করার লোকের অভাব
হবে না। সাতপাঁচ আর না ভেবে সম্মিলিত ভাবে বাচ্চার নেওয়ার সিদ্ধান্তে
নিল।

 




 

Valobasar Golpo

ইতিমধ্যে অফিসে অনিমেষের প্রমোশন হয়েছে, এখন সে অফিসের বস। কাজের পরিধিও
এক লাফে অনেকখানি বেড়ে গেছে, ব্যস্ততাও বেড়েছে ।

কিন্তু তারপরও পরবর্তী ২ বছরের মধ্যে অনিতার গর্ভে সন্তানের দেখা নেই।
বেশ কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে কাটছিল। সমাজ, পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের তীক্ষ্ণ
প্রশ্ন বানে অনিতার হৃদয় ছিন্ন ভিন্ন । সে বুঝতে পারছে কেমন যেন খিটখিটে
স্বভাবের হয়ে যাচ্ছে, ছোট খাটো বিষয়ে রেগে যাচ্ছে।

অনিতার মনে বারবার একটা প্রশ্ন জাগে, সে কি একাকী দায়ী সন্তান না
জন্মানোর জন্য? কই অনিমেষকে কে তো কোন রকমের প্রশ্নের সামনা সামনি হতে হয়
না। শাশুড়ি তো একবার ছেলেকে জিজ্ঞাসা করার সাহস পান না। অথচ কোনও কিছুই
তার কাছে লুকিয়ে নেই। ইদানীং আর রাতে ঠিক মত ঘুম আসে না, মাঝে মাঝে সারা
রাত জেগেই কেটে যায়। এই বিষয়ে অনিমেষের সাথে আলোচনা করার কথা প্রায়ই
ভাবে,যদি কোনও Psychologistকে দেখানোর প্রয়োজন হয়। অন্তত: ওষুধ পত্র গিলে
যদি ঘুম আসে।

কিন্তু সকালের নিত্য ব্যস্ততা আর দের রাত করে ফেরা অনিমেষের মুখের দিকে
চেয়ে কিছুই বুঝে উঠতে পারে না বলবে কি না? হয়তো সে সন্তানের সুখ থেকে
বঞ্চিত থেকেই যাবে, কি জানি অদৃষ্টে কি লেখা আছে ?

 




 

Valobasar Golpo

অনিমেষ অফিস বেরোনোর পর কাজ কর্ম আর সে রকম থাকে না, শ্বশুর শাশুড়ি
দুপুরের আগে আর কিছুই মুখে দেন না। এই সময়টা অনিতাকে কুঁকড়ে কুঁকড়ে খায়,
শুধ ভাবতে থাকে বাঁঝ(সন্তানহীনতা) অপবাদ নিয়ে কি সে পৃথিবী থেকে চলে
যাবে? বিবাহিতার শূন্য কোল বর্তমান যুগে এক মহা অভিশাপ কথাটা সে খুব ভাল
করে বুঝতে পারে।

সন্তান স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার এক মজবুত সেতুবন্ধন, দাম্পত্য সম্পর্ক
তাতে পূর্ণতা পায়। কিন্তু বন্ধ্যত্বকে বলা হয় দাম্পত্য জীবনের অভিশাপ ।
কোন দম্পতির শখ হয় না শিশু সন্তানের হাসি দেখার? কিন্তু বহু চেষ্টার পরেও
অনিতা অনিমেষকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে পারে নি।

অনিমেষের এতো ভয়ের কারণ কি?

তার কি কোনও সমস্যা আছে?




 

valobasar golpo sad
কিছুতেই বুঝতে পারে না। অন্তত: একবার ডাক্তারের কাছে গেলেই সমস্যার
সমাধান সম্ভব। এভাবেই ১০ বছর কেটে গেল, আশ্চর্য অনিমেষের দিক থেকে কোনও
রকমের সহযোগিতা পেল না। বাড়ি থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে একটা Infertility
ক্লিনিক খুলেছে, ডাক্তার পাড়ারই এক কাকু, ক্লিনিক খুব রমরমিয়ে চলছে।
ব্যয়বহুল চিকিৎসা । একজন পরিচিতের কাছে শুনেছে সে চিকিৎসা খুব কষ্টের,
তবুও সন্তানের আশায় সে বিষ পান করতেও রাজি। তা ছাড়া দত্তক নেওয়ার
ব্যাপারেও চিন্তা ভাবনা করতে পারে, কিন্তু আজকাল সবকিছুতেই অনিমেষের
অনীহা!অনিতা এখন শুধুমাত্র চমৎকারের অপেক্ষায়। একমাত্র ভগবানই সহায়। তাঁর কৃপা
ও আশীর্বাদে যদি সন্তানের সুখ পায়।
Valobasar Golpo



কিন্তু তার জীবনে আমূল পরিবর্তন আসবে? একটি নবজাতকের কান্নার অর্থ কি, সে
মূল্যায়ন করা তার মতো বাঁঝের (?) দ্বারা সম্ভব? সে জানে নবজাতকের কান্না
মায়ের মুখে স্বর্গীয় হাসি ফোটাতে পারে তা নিজের চোখে না দেখলে বা গভীরে
অনুভব না করলে তার সঠিক মূল্যায়ন করা যায় না।

অনেকক্ষণ হল অনিতা বিছানায়, মাঝ রাত পেরিয়ে রাতের চাঁদের জৌলুষ ক্রমশই
ফিকে। এখনও অনিতার দুচোখে ঘুমের দেখা নেই, কখন যে আসবে সেও জানে না !

ভেজা বালিশটা পাশে রেখে অনিতা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। পাশে উচ্চসুরে অনিমেষের
নাসিকা গর্জন চলছে।

———-(সমাপ্ত)——–