WRONG NUMBER

WRONG NUMBER

বিয়েবাড়িতে দেখা

(রীতিমতো জোর করেই বিয়েবাড়িতে যেতে হলো সোমনাথ কে বাবামায়ের সাথে,সেখানে তার জন্য অপেক্ষা করছিল ছোটবেলায় হারিয়ে যাওয়া এক অজানা মুখ, কি হয় জানতে পড়ুন ….)

ঘুম ভাঙলো সোমনাথের,তখনও চাদরটা মাথা পর্যন্ত মুরি দিয়ে আপাদমস্তক ঢেকে রেখেছে,একটু আগে হাল্কা বৃষ্টি হয়েছে,তাই ঘুমটা বেশ মন্দ হয়নি,তার উপর আজকে আবার university এর এক্সাম শেষ হলো,তাই ওঠার কোনো ব্যাস্ততা দেখালো  না সে,university থেকে এসে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েছিল সে,ভেবেছিল ওঠার পর হয় কোনো মুভি দেখবে নাহলে pubg খেলবে।শুয়ে শুয়ে সে ঠিক করার চেষ্টা করছে যে সে ঠিক কী করবে ,এমন সময় মায়ের গলা শুনতে পায় সে
,মা বলে ওঠে”সোম এবার তাড়াতাড়ি উঠে পর,নাহলে দেরি হয়ে যাবে!” ।সোমনাথ ভাবলো “মা কী জানে না যে আজকে তার এক্সাম শেষ হয়ে গেছে?”, চিৎকার করে এই কথাটি বলতে যাচ্ছিল সে,এমন সময় মায়ের কণ্ঠে আবার শুনতে পায় “তাড়াতাড়ি উঠে রেডি হয়ে নে ,বাবা চলে এসেছে”, ভুরু কুঁচকে ভাবতে শুরু করলো সে “মা,বাবা কোথাও যাচ্ছে নাকি?,আর সেও কী তাদের সাথে যাচ্ছে নাকী?” একটু ভাবতেই কথাটা মনে পরে গেল, “ও, মা বলছিল আজকে ওনার কলিগ রত্না aunty এর মেয়ের বিয়ে আছে,তাই তাদের যেতে হবে”,এক মিনিটের জন্য সোমনাথের মনটা যেন বিষাদে ভরে ওঠে,তার এত সব প্লানিং সব ভণ্ডুল হয়ে গেল।সে মাকে অনেক বার বলেছিলো যে “মা ,তুমি আর বাবা যাও না,আমি গিয়ে কী করবো?”,যদিও এইসব বলাই বৃথা হয়েছে তার ,কারণ মা তার কোনো কথায় শোনেনি, বরং উল্টে বলেছে “রত্না aunty তোকে যেতে বলেছে অবশ্যই,উনি তোকে দেখতে চান ,তোকে কতদিন দেখেনি বলছিল,তাছাড়া ওনার মেয়ের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে ওনাকে এখন কে দেখবে বল,ওনার তো আর কোনো ছেলেও নেই”,সোমনাথ এটা বুঝে উঠতে পারেনি যে ওর যাওয়ার সাথে রত্না aunty এর দেখাশোনার যে কি সম্পর্ক? । যা হোক, এতকিছুর পর সোমনাথের আর কোনো জারিজুরি খাটেনি।এরকম বিয়েবাড়িতে তার না যাবার একটা কারণ হলো,সাধারণত চেনাসোনা কেউ থাকে না তার বয়সী,মা তার বান্ধবীদের সাথে ভিড়ে যায়,বাবা তাদের হাসবেন্ড দের সাথে,বেচারা সে একা পরে থাকে ,কোম্পানি দেয়ার মতো কেউ কে পায় না সে,বড় নিঃসঙ্গ ও অসহায়ের মতো মনে হয় তার। সে ভাবলো “যাবো ঠিকই তবে কিছুটা সময় পর গাড়িতে ফিরে এসে pubg খেলবো”, এই ভেবে সে জামা প্যান্ট পরে রেডি হয়ে যায়। বাইরে বেরিয়ে আসে সে দেখে মা বাবা তার জন্য অপেক্ষা করছে,তারপর  তারা গাড়ি  করে বিয়েবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

আধঘণ্টা চলার পর, তাদের গাড়ি টা আস্তে হয়,ফোনের থেকে চোখ তুলে দেখে সে চারিদিকে নানা রঙের আলোয় উদ্ভাসিত,বিয়েবাড়িতে ঢোকার  সময়টা সোমনাথের সব থেকে ভালো লাগে,কেমন যেন একটা নবাবি নবাবি ভাব থাকে,যা হোক তাদের কালো রঙের টয়োটা গাড়ি টা একটা ফাঁকা জায়গায় পার্ক করে সোমনাথের বাবা, তারপর মা-বাবা নেমে পরে,অগত্যা সোমনাথ ও নেমে পরে।এবার অস্বস্তিটা টের পেতে শুরু করে,মা বাবার পিছন পিছন সে ঢোকে  ভিতরে, চোখ তুলে দেখে লজ টার নাম সম্বন্ধ ভিলা। ঢুকতে না ঢুকতেই একজনের সাথে তার বাবা কথোপকথনে জড়িয়ে পরে, সোমনাথ ভাবলো সেখানে দাঁড়িয়ে পরবে, কিন্তু তার মা তার হাত ধরে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়,কিছুদূর যেতেই দেখে একজন বর ও একজন বউ দুটো সিংহাসনে বসে আছে,সোমনাথ শুনলো বিয়ে নাকি হয়ে গেছে গোধূলি লগ্নে,সে ভাবলো ,যা তাহলে এখন কী খাওয়ার জন্য আসা শুধু।যা হোক তার মা এগিয়ে গিয়ে গিফটের প্যাকেট টা তুলে দিলো সদ্য বিবাহিত মেয়েটার হাতে,তারপর কিছু বার্তা লাপ হলো ওনাদের মধ্যে,অদূর থেকে দাঁড়িয়ে এসব লক্ষ করছিল ,এমন সময় সোমনাথ দেখে তার মা তাকে কাছে ডাকছে,সে গেলে তার মা  রত্না aunty কে উদ্দেশ্য করে বলে”আমাদের সমু কখন থেকে বলছে রত্না aunty কোথায়?”,সোমনাথ তো হাঁ করে দাঁড়িয়ে থাকে,সে এসে থেকে একটা কথা পর্যন্ত বলেনি,যা হোক প্রাথমিক বিস্বয় কাটিয়ে একটা নমস্কার করে রত্না aunty কে,রত্না aunty তাঁকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কাঁদতে শুরু করে,বলতে থাকে “এখন তুই তো আমার ছেলে,এই বুড়ো মেয়েটাকে একটু দেখবি তো বাবা?”,কী বলবে বুঝতে পারলো না সোমনাথ,এমন সময় তার মা সহ অনেক মহিলা এগিয়ে আসে ,নানা কথা বলে শান্ত করতে থাকে মহিলাকে, সেখান থেকে একটু বিষন্ন মনে বেরিয়ে আসে সে, কিছু পকরা আর কফি খায় ,তারপর আর করার মতো বিশেষ কিছু থাকে না তার,গাড়িতে ফিরে যাবে কিনা ভাবছে এমন সময় পিছনে টোকা পরে,পিছন ফিরতেই সে দেখে একটা মেয়ে  দাঁড়িয়ে আছে,মেয়েটা রোগা ছিম ছাম শরীর,লেহেঙ্গা পড়েছে,চোখে আইলনা, ঠোঁটে পিঙ্ক colour এর লিপস্টিক,হাতে একটা সরু চেইন এর ঘড়ি,উচ্চতায় প্রায় তারই সমান,অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে তার দিকে,অদ্ভুত মায়াময় লাগছে তার মুখ টা।
মেয়েটা উত্তেজিত হয়ে হেসে বলে ” কী রে কেমন আছিস?”,প্রশ্নটা এমন ভাবে করে সে যেন সেটা বহু প্রতীক্ষিত ছিল। সন্বিত ফিরে পেয়ে সোমনাথ বলে “হুম,ভালো আছি,আপনি কেমন আছেন?”,মেয়েটা কথাটা শুনে একটু অবাক হয়, তারপর হঠাৎই  একটা চাটি মারে সোমনাথের মাথায় ,অভিযোগের সুরে বলে “এই তুই আমাকে আপনি কেন বলছিস রে?”, সোমনাথ আমতা আমতা করে বলে ” না ,মানে..”,এমন সময় মেয়েটা বলে একটু দাঁড়া আমি আসছি,এই বলে মেয়েটা একটু এগিয়ে যায়,সোমনাথ ভাবতে শুরু করে কে হতে পারে?,খুব গভীর ভাবনাচিন্তা করার পরও সে  কিছুই বুঝতে পারে না,এমন সময় মেয়েটা ফিরে আসে দুটো কফি হাতে,একটা সোমনাথের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে ” নে ধর”,সোমনাথ হেসে বলে” না আমি দুটো নিয়েছি আর ..”,মেয়েটা বলে ” চুপচাপ ধর,নাহলে আরেকটা চাটি খাবি”,ভ্যাবাচাকা খেয়ে সোমনাথ কফি টা মেয়েটার হাত থেকে নেয়,মেয়েটা বলে ” চল ওই ফাঁকা জায়গাটায় দাড়াই, অনেক কথা আছে”,মেয়েটা যে তার সাথে দেখা করে বেশ আনন্দিত ও উত্তেজিত তা সোমনাথ বুঝতে পারে,কিন্তু সে কিছুতেই মনে করতে পারে  না মেয়েটার কথা,খুব রাগ হয় নিজের উপর।কথাবাত্রা আরো কিছুটা এগোয় তার আগেই সোমনাথ বলে ” ইয়ে মানে আমি না ঠিক আপনাকে ,সরি তোমাকে চিনতে পারছি না”,মেয়েটা একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে সোমনাথের মুখের দিকে ,তারপর তার হাতটা ধরে খুব কাছে টেনে নেয় সসমনাথকে,সোমনাথের চোখে চোখ রেখে বলে “দেখ তো ভালো করে ,এখনো কী চিনতে পারছিস না?”,মেয়েটার মুখের এত কাছে তার মুখ যে সোমনাথের heart beat বেড়ে ওঠে,সে লক্ষ করতে থাকে মেয়েটার মুখের দিকে,তার টানাটানা চোখ,নিখুঁত গাল, সরু ঠোঁট এসব সত্যি কী আগে কোনোদিন দেখেছে?,বুঝতে পারে না সোমনাথ, পিছনে সরে আসে ,খুব খারাপ লাগে তাঁর নিজের উপর,তাঁর মাথা তো ছোটবেলা থেকেই ভালো, ভুলে যাওয়ার প্রশ্নই নেই,এমন সময় এক ভদ্রমহিলা তাদের দিকে এগিয়ে আসে,তাদের উদ্দেশ্য করে বলে “কী তোমাদের কথাবাত্রা কেমন চলছে,(তারপর মেয়েটাকে দেখিয়ে সোমনাথ কে বলে) ও তো আসবে না বলছিল তারপর যখন বললাম সোমনাথ আসছে তখন তো এক পায়ে রাজি”,মেয়েটার দিকে তাকিয়ে দেখলো মেয়েটার উত্তেজনাময় হাসিটা মিলিয়ে এসেছে,মেয়েটা এগিয়ে যায়,ভদ্রমহিলার দিকে তাকিয়ে থাকে সোমনাথ,মুখটা চেনা চেনা লাগছে,হটাৎ কপালের তিল টা দেখে মনে পড়ে মধু aunty, ছোট বেলায় মধু aunty আর তার মেয়ে শ্রী তাদের বাড়ি আস্ত প্রায়সই,তারপর মধু aunty এর অন্যত্র কোথাও বদলি হয়ে যায় ,তারপর আর যোগাযোগ নেই,মাথায় বিদ্যুৎ খেলে গেল তার “ও ওটা তারমানে শ্রী”,মধু aunty কে প্রনাম করে সে এগিয়ে গেল,খুঁজতে লাগলো শ্রী কে,দেখলো শ্রী একজায়গায় দাঁড়িয়ে কয়েকটা মেয়ের সাথে কথা বলছে,সে ইতস্তত করে এগিয়ে গেল তাদের দিকে কাছে গিয়ে বলল” হাই শ্রী”, শ্রী তখন অন্য দিকে পা বাড়িয়েছে ,সোমনাথ নিঃসঙ্কোচে শ্রী এর হাত টা চেপে ধরলো,সে জানে এটা সে করতে পারে,ছোটবেলায় তারা একসাথে কত খেলেছে,কখনো সোমনাথের প্রিয় ক্রিকেট আবার কখনো বা শ্রী এর পুতুল খেলা,খেলার সময় সোমনাথের পুতুল টা হতো শ্রী এর পুতুল টার স্বামী,অগত্যা সমস্ত ফাই ফরমাস খাটতে হতো সোমনাথ কে শ্রী এর। শ্রী বলে ” হাত টা ছাড়, ভুলে যখন গেছিস আর মনে করার দরকার নেই,আমি বেকার এসব কথাবাত্রা মনে গুছিয়ে রেখেছি”,সোমনাথ তখন শ্রী এর হাত ধরে তাকে টেনে এনেছে এক পাশে ,আপত্তি করে বলে “মোটেই না,আমি কিছুই ভুলে যায়নি,শুধু তুই কত মোটা ছিলিস আর এখন অতটা স্লিম হয়ে গেছিস ,তাই তোকে চিনতে পারিনি।”,শ্রী এর রাগ তাও যেন ভাঙে না সে বলে”আমি তো তোকে এক দেখতেই চিনতে পেরেছি”,সোমনাথ হাতজোড় করে বলে”ভুল হয়ে গেছে মা,এবার ক্ষমা দিন”,শ্রী মনে করে সোমনাথ ছোট বেলাতেও এরকম করতো ভুল হয়ে গেলে,সে বলে “তারপর বল এখন কী করছিস?,girlfriend তো নিশ্চই বানিয়েছিস,তাই আর অন্য কাউকে চিনতে পারছিস না”,সোমনাথ বলে “এখন msc করছি ফিজিক্স, আর গার্লফ্রেইএন্ড না,তবে ছোটবেলায় …”,থেমে যায় সোমনাথ ।শ্রী বলে “ছোটবেলায় কী?”,সোমনাথ হেসে বলে “না কিছু না”,তুই কী করছিস বল”? শ্রী বলে “না ,বিশেষ কিছু নয়,মেডিক্যাল দিয়েছিলাম হয়ে গেছে,এখন তাই করছি আর কী”,সোমনাথ বলে “ও future ডক্টর ম্যাম, তাহলে তো ভালোই ডাক্তারি খরচটা বেঁচে যাবে”,শ্রী বলে “মনে পড়ে,ছোট বেলায় তুই পুতুল খেলবি না বলে পেটের যন্ত্রণার ভান করতিস ,আর আমি ডক্টর সেজে তোর রোগ সারাতাম”,সোমনাথ হেসে বলে “হুম তা আর মনে থাকবে না,এই দ্দাঁড়া দাঁড়া,তাই বলে কী তুই মেডিক্যালে ভর্তি হলি নাকি?”,শ্রী কিছু বলে না,শুধু একটু হাসে,সোমনাথ অবাক হয়ে ভাবে ছোটবেলার এইসমস্ত কথাগুলো কে কী শ্রী এতো সিরিয়াসলি নিয়েছিল যে এখনো সেগুলো মেনে চলে?,তার মনে পড়ে ছোটবেলায় শ্রী এর কথা “তুই আর আমি সবসময় একসাথে থাকবো,তুই হবি আমার বর আর আমি তোর বউ,আমরা একসাথে অফিসে যাবো,খেলবো, “,সোমনাথের শুধু মনে পরে ও বলতো “ধুর বড় হলে কেউ আবার খেলে নাকি,?”,শ্রী অভিমান করে বলতো “কেউ খেলে না তো তাতে কী?,আমার খেলবো”,নিজের অজান্তেই হাতটা যেন সে শ্রীর হাতটাকে শক্ত করে ধরলো,বললো “আমিও তো বলেছিলাম যে তুই সবসময় আমার সাথে থাকবি”,শ্রী বলে “আচ্ছা এতদিন কী করে ছিলাম”,সোমনাথ হেসে বলে এই যে “শ্রী সোমনাথ বেনার্জী”, তারপর দুজনেই হেসে ওঠে।শুরু হয় নতুন পথচলা……

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 1   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।